গ্যালারি

রেসিপিঃ ডিম পোস (যে লেখা পড়ে আমি এখনো কাঁদি)


দেখতে দেখতে ব্লগে লেখালেখির অনেক বছর পার হয়ে গেল। অভ্র (অভ্র টীমকে ধন্যবাদ) দিয়ে বাংলা টাইপ শিখে এই সময়ে নানান বাংলা ব্লগে প্রায় হাজার খানেকের বেশী লেখা লিখে ফেলেছি, এখনো লিখছি। আমি মুলত লেখালেখির শুরুতে রেসিপি নিয়ে লিখবো এটা ভাবনা ছিল না। নানান ব্লগে লিখতে যেয়েই দেখলাম, রেসিপি নিয়ে লিখাই উত্তম কাজ হবে, গল্প বলার ছলে যদি রান্নার কথা বলি তবে বেশী ভাল হবে এবং সারা বিশ্বে বাংলাভাষাভাষীদের জন্য এটা একটা চমৎকার কাজ হবে। আর আমার মানুষদের হেল্প করতেই ভাল লাগে, সেজন্য ভার্চুয়ালী যদি হেল্প করা যায় মন্দ কি।

সে জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এ রেসিপির জন্য নিজেই ব্লগ খুলে ফেললাম তবে বিষয়টা নিয়তিই নিধারন করে দিয়েছিল। রেসিপি ব্লগ সাধারণত সব ব্লগে সবাই সহজে নেয় না। ব্লগ গুলোতে কিছু গুনি ব্যক্তি (এরা নিজদের বিশাল আঁতেল ভেবে থাকেন, এরা নিজদের আপডেটেড প্রগতিশীল বলে প্রকাশ করেন কিন্তু ভিতরে ভিতরে এরা এখনো মরা কিংবা গোবরে পড়ে থাকা মানুষ) থাকেন যারা রেসিপি ব্লগ দেখলেই ‘কাই কাই’ করে উঠেন। এই কাই কাই না হলে হয়ত আমার রেসিপির জন্য আলাদা ব্লগ হত না! যাক আমার জন্য বিষয়টা ভালই হয়েছে। এদের জন্যই আমি স্বাধীন হতে পেরেছি! হা হা হা… স্বাধীনভাবে লিখতে পারছি!

বাংলা সামাজিক ব্লগ গুলোকে আমি টিভি চ্যানেলের মত মনে করি। ব্লগের যদি কোন নির্ধারিত বিষয় না থাকে তবে আপনি সেই ব্লগে আপনার ইচ্ছামত যে কোন বিষয় (কিছু বিষয় না লেখাই উত্তম) লিখতে পারেন। এই লিখার বিষয় সভ্য যে কোন বিষয়ই হতে পারে। আমার মতে ‘আপনার দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া যে কোন বিষয় কিংবা আপনার কল্পনা যে দিকে যায় তাই লিখে রাখার নামই হচ্ছে ব্লগিং’।

কি কল্পনা করে লিখতে বসে কোথায় চলে যাচ্ছি! সারাক্ষণ শুধু গল্প করতেই ইচ্ছা হয়! বাজে অভ্যাস!  আমার আজকের কল্পনা ছিল গল্পের ছলে আপনাদের আমার একটা পুরানো লেখা পড়িয়ে দেয়া। যে লেখাটা আমি উন্মোচন ব্লগের একটা ধারাবাহিক লেখায় লিখেছিলাম, জীবনের হাসি কান্না ২৭। কিছু অংশ নিচে তুলে দিলাম, যে লেখাটা পড়ে আমি এখনো কাঁদি।

আমার শশুর আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। বলতে গেলে তিনি আমাকে একাই বিশ্বাস করে তার মেয়েকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। বিবাহের কথাবার্তা চলার সময়ে যখন তার পরিবারের সবাই বেঁকে বসেছিল, তখন তিনি একাই আমার পক্ষে ছিলেন। আজ সকাল থেকে প্রায় সেই ১৫ বছর আগের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে বার বার! অথচ লোকটার জন্য আমি বলতে গেলে তেমন কিছুই করি নাই! (আমি আরো তাকে নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা মনে মনে ভাবতাম, ভাবতাম সেদিন তিনি আমার পক্ষে রাজী না হলেই ভাল হত! ইত্যাদি ইত্যাদি)

মোটামুটি তার মৃত্যু নিশ্চিত (লাইফ সার্পোট ছিল) হয়ে গেলে সবাই যে যার বাসায় চলে যায়, গত কয়েকদিনের ধকলে সবাই বিধ্বস্ত। ঠিক তখুনি তার লাশ হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসার একক দায়িত্ব পড়ে আমার উপর। হাসপাতালে কাজ করার সুবাদে এই জীবনে কম মৃত্যু দেখি নাই, মৃত্যুকে বলতে গেলে তেমন ভয় পাই না। কিন্তু এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। জামাই তার শশুরের লাশ হাসপাতাল থেকে বুঝে নিচ্ছে, একাই!

জামাই শশুর একই গাড়িতে বাসায় ফিরে যাচ্ছি! বিশাল এম্বুলেন্সের ড্রাইভার এবং তার সহকারী সামনের সিটে বসা, একজন গাড়ি চালাছে, অন্যজন পথ দেখাতে ব্যস্ত। ভিতরে সাদা কাপড়ে আবৃত হয়ে ঘুমিয়ে আছেন শশুর, জামাই পাশে বসে ঢাকার রাস্তা দেখছে! এ এক অদ্ভুত দৃশ্য! রাস্তায় কোথায়ও সামান্য যানযট নেই। শীতের সকালের কি এক চমৎকার তাপমাত্রা। এম্বুলেন্স সাইন্সল্যাব হয়ে শাহবাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, বাঁক গুলোতে গাড়িতে কিছুটা টার্ন লাগছে। জামাই হাত দিয়ে স্টেচার ধরে রাখার চেষ্টা করছে!

গ্রীনরোড়ের এই কোনা থেকে রামপুরা যেতে গাড়ির চালক এই পথ ধরল কেন, কে জানে! আবার শাহবাগের মোড়ে এসে হাতের বামে সরাসরি বাংলামটর এসে মগবাজার দিয়ে মৌচাক মার্কেট মোড়ে এসে সরাসরি রামপুরার পথ ধরতে পারে। কিন্তু তা না, হোটেল রপসী বাংলা দিয়ে গাড়ি হাতের ডানে এগুতে থাকে। রমনা পার্ক ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের সামনে দিয়ে সবুজ গাছের ছায়া ঘেরা সকালের ছিমছাম বেইলী রোড দিয়ে শান্তিনগরের দিকে যাত্রা এবং বামে ঘুরে মালিবাগ হয়ে মৌচাক। অবশেষে রামপুরা। কেন এই পথ ঘুরে দেখা! বিচিত্র। লাশবাহী গাড়ির এই চমৎকার রাস্তা ভ্রমন আসলে মনে দাগ কাটবেই যে কারোই।

সে দিন সকালের অনুভূতি আসলে বলে বুঝানো যাবে না। আত্বীয় স্বজন সবাই বলে আমি স্থির, সাহসী এবং দৃঢ়। কিন্তু কাউকে বলতে পারছি না, আজ চারদিন পার হয়ে গেলেও আমি এখনো জামাই শশুরের গাড়িতে ঢাকা ভ্রমন ভুলতে পারছি না! শেষ স্মৃতি কি এমনই!

আজকাল বুঝতে পারছি না, মৃত্যু নিয়ে বেশী ভাবনায় আছি। মাঝে মাঝেই মৃত্যুর কথা মনে পড়ে। দুই দিনের এই দুনিয়া! চির সত্য এই মৃত্যু! কোন ভেজাল নেই! মাঝে মাঝে ভাবি, মৃত্যুই যদি শেষ কথা হয়ে থাকে, তবে এই দুনিয়াতে আসার কি দরকার ছিলো? কেন এই তামাসা? যাক, যার কোন উত্তর নেই! হা হা হা…।।

মরে গেলে তো কথা নেই আর বেঁচে থাকলে, খেয়ে যেতেই হবে! জীবনে আর কি আছে? চলুন আজকে একটা কঠিন কাজ দেখাই। হ্যাঁ, ডিম পোস/পোচ! কাজটা কঠিন বটে! অনেকের ধারনা যে ডিম পোস করা কোন বিষয় নয়! আসলে এটা বিষয়! একটা সুন্দর করে ডিম পোস করতে হলেও অভিজ্ঞতার প্রযোজন, ডিম পোস দেখেই আনাড়ী হাতের কথা বলে দেয়া যায়!

উপকরনঃ
– ডিমঃ ইচ্ছামাফিক (একটা লোক এক বসায় কয়টা ডিম খেতে পারে)
– লবনঃ সামান্য
– তেলঃ সামান্য

প্রনালীঃ

কড়াইতে হালকা তেল গরম করে ডিমটা ভেঙ্গে ছেড়ে দিন। সামান্য লবন ছিটিয়ে দিন।


এক পিট হয়ে গেলে অন্য পিট উল্টে দিন।


দুটো ডিম পোস করতে গিয়ে একটা ডিম ঠিক মত করতে পারি নাই!


খেতে বসলে আপনি কোন ডিমটা নিবেন?

যাবার আগে একটাই বলি, খাবার নিয়ে খুঁত খুঁত না করাই উত্তম। যিনি বাসায় আপনার জন্য খাবার রান্না করছেন তিনি আসলে আপনাকে দয়াই করছেন। তিনি আপনার জন্য খাবার রান্না করতে বাধ্য নন। তিনি আপনাকে ভালবাসেন বলেই আপনার জন্য খাবার রান্না করেন। এটা আপনাকে বুঝতেই হবে। একদিন রান্না পরিকল্পনা, রান্না করা, সবার মনের মত রান্না করা, স্বাদ বুঝা সব মিলিয়ে বিষয়টা করে বা ভেবেই দেখুন না!

দুই দিনের দুনিয়া! ডিম পোসের এই পোষ্টটা অন্য কোন ব্লগে প্রকাশ করলে, আঁতেলরা আমার অবস্থা বারটা বাজিয়ে দিত! হা হা হা…।

সবাইকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন। আপনাদের ভালবাসার জন্যই এখনো টিকে আছি।

Advertisements

15 responses to “রেসিপিঃ ডিম পোস (যে লেখা পড়ে আমি এখনো কাঁদি)

  1. May Allah Jannat your father in law…

    Like

  2. গদ্যটা খুবই ভালো লাগছে।

    আতেঁলদের কথা ভাবলে দুনিয়ায় কিছু করা যাবে না।
    মৃত্যু সুন্দর হোক। ভালো থাকুন।

    Like

    • ধন্যবাদ সুজন ভায়া,
      আঁতেলদের আমি এখন আর পাত্তা দেই না, এক সময় এদের বাজে কমেন্ট পেয়ে মন ভেঙ্গে গিয়েছিল। অনেক ব্লগে আর এখন লিখি না। সেই সব ব্লগে আমার না লেখার কারনে ব্লগ গুলোর দূর্দশা এখন দেখি (নিজকে বড় ব্লগার মনে করছি না, তবে দেখছি অনেকেই বের হয়ে গেছে)! হা হা হা…

      লেখালেখি হচ্ছে আমাদের পরিচয়। লিখেই আমাদের টিকে বা প্রমান করতে হবে। আমি সব সময় সেই চেষ্টা করি।

      ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

      Like

  3. ডিম পোচ!!!!!!!!!!!!!

    আমি কিন্তু কাচা কুসুম খাইতাম।
    এখন কুসুমই খাই না।
    ইদানিং ওজন বেড়ে যাচ্ছে

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা, তোমাদের এখন যা বয়স, তা হচ্চে ডিম খাবার। তোমাদের মত থাকতে আমরা প্রতিদিন ৪/৫টা ডিম খেতাম।

      এই বয়সে মোটা হয়ে যেয় না। কষ্ট পাবে।

      শুভেচ্ছা। কোথায় ভর্তি হবার চেষ্টা করছ। আগে পড়াশুনা।

      Like

  4. আপনার প্রথম লেখাটা আগেই পড়েছিলাম, সত্যিই অদ্ভূত, তাই না!
    ভালো থাকুন, ভাইয়া- আজকাল আসলে ব্লগ লিখে কেনো যেনো খুব একটা আনন্দ পাই না।

    Like

    • ধন্যবাদ নিয়াজ ভাই,
      হা, আমিও আজকাল রেসিপি ছাড়া অন্য কিছু লিখে মজা পাচ্ছি না। মাথায় অনেক বিষয় আসে কিন্তু কোথায় লিখে আবার কি ঘটিয়ে ফেলি তাই ভেবে আর লেখা হয় না। বাংলা ব্লগ গুলোতে এখন তেমন হিট নেই। একটা লেখা ১০/২০ বার পড়া হয়। সামু, আমু, চতু কোথায়ও আকর্ষন আর টানে না। সবাই কেমন জানি থ মেরে আছে। মনে হয় সবাই ভয় পাইছে!

      ভীড়ের মাঝেও আপনি একটি জটিল লেখা লিখে ফেলেছেন। আমি পুরা পড়তে পারি নাই। আবার পড়ব।

      শুভেচ্ছা। সে দিন আপনার সাথে চ্যাট করে এখনো আমি বাকহীন। দুনিয়াতে কেহ সুখে নাই!

      Like

  5. কোথাও তেমন কমেন্ট করা হয় না..তবে পড়ে যাওয়া হয় যতটা পারা যায়..আর গল্পের সাথে রান্নার অসাধারণ মিলের জন্য আমার প্রিয় আপনার পোস্টগুলো..

    এই পোস্টে এসে একটু মন ভারাক্রান্ত…তাই উপস্থিতি জানান না দিয়ে পারলাম না..ভাল থাকবেন ভাই অনেক অনেক…

    Like

    • ধন্যবাদ জাভেদ ভাই,
      আপনার কমেন্ট পেয়ে খুব খুশি হলাম। চতুরে আপনার সহযোগিতার কথা ভুলতে পারি না। সব সময় না হলেও মাঝে মাঝে এসে কমেন্ট করে যাবেন। এটা আমার আবদার!

      কবিতা লিখতে ভুলবেন না। প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখেই যাবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  7. আল্লাহ আপনার শ্বশুরকে জান্নাত নসীব করুন।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s