Gallery

রেসিপিঃ চিংড়ি ভর্তা (সাধারন)


নেটে বা অনলাইনে আমি সব সময়েই কিছু মানুষ দেখি যারা সব সময়েই যে কোন ভাল কাজকে খারাপ হিসাবে প্রমান করার জন্য লেগে পড়ে। কেহ ভাল করতে চাইলে, তাকে কি করে নামিয়ে বা তার কৃষ্টি বের করে তাকে নাজেহাল করা যায় তাতে লেগে থাকে। উৎসাহ বা সত্য স্বীকারে অনেকেই দূর্বল। আমি আমার ব্যাপারেও এটা লক্ষ্য করি। আমি নানান ব্লগে নানান বিষয়ে লিখে থাকি কিন্ত রেসিপি লিখা এবং এই সাইট পরিচালনা আমার কাছে বিশেষ ব্যাপার। কিন্তু অনেকে মনে করেন (এরা আমার পরিচিত বা নেট বন্ধু) আমি কেন রান্না করি এবং রেসিপি দেই? এবং আরো দুঃখের কথা হচ্ছে, এরা মনে করে রান্না হচ্ছে মেয়েদের কাজ, ছেলেরা কেন রান্না করবে? গতকাল এই বিষয়ে ফেইসবুকে একটা ব্যাখ্যা দিয়েছি।

আমাকে রেসিপি পোষ্ট লিখতে দেখে বা আমার ফেইসবুক ওয়ালে রেসিপির লিঙ্ক দেখে অনেকে কোপাল কুঁচকাতে পারেন। আমার রেসিপি পোষ্ট গুলো ফেলনা নয়। প্রতিটা রেসিপি লিখতে আমি যে পরিমান কষ্ট এবং রান্না করতে শ্রম দেই তা অনেকে ভাবতেও পারছেন না। আমার রেসিপি লিখার উদ্দেশ্য ফান নয়, মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে (প্রবাসী এবং ব্যাচেলরদের) রান্নার কথা জানানো।

বাংলাভাষার মাধ্যমে নুতন রান্নাকারী এবং পুরানোদের আমাদের বাংলাদেশী রান্না মনে করিয়ে দেয়াই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। আমি এক সময় দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম, রান্না না জানার কারনে কত দিন, কত রাত না খেয়ে কিংবা আবোল তাবোল খেয়ে ঘুমিয়েছি তার ইয়োত্তা নেই, অথচ হাতের কাছে সবই ছিল। আমার কাছে সেই দিন গুলো পরিস্কার! তাই আমি নিজে এখন রান্নাঘরে যাই এবং চেষ্টা করি (স্ত্রীকে সাহায্য করে করেই সব শিখে নিচ্ছি)। তবে এখনো আমারো শেখার অনেক বাকী।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টা রান্নার রেসিপি জমা করে ফেলেছি, আশা আছে ১০০০টি রেসিপি দেয়ার। আমাদের খাবারের কোন কিছুই বাদ দিতে চাই না। ছেলেদের রান্না জানাটা আমি মনে করি অতীব জরুরী। রান্না হচ্ছে ভালবাসার অপর নাম। রান্না করে প্রিয়জনদের মুখে তুলে দেয়ার চেয়ে আনন্দ এই দুনিয়াতে আর নেই।

আশা করছি এই ব্যাখার পর এই ধরনের মানষিকতার বন্ধুরা একটু সজাগ হবেন এবং নিজদের মধ্যে থেকে এই দ্বন্দ তুলে ঝেড়ে ফেলে দেবেন। ভাল কাজকে আমাদের সবার এপ্রিসিয়েট করা উচিত। নেটে সবাই কবিতা, গল্প, কৌতুক কিংবা রাজনীতি নিয়ে আঁতেল মার্কা লেখা লিখবে এটা ভাবা উচিত নয়। যার যা ইচ্ছা বা যার যা চিন্তা ভাবনা তা নিয়েই সে লিখবে। কখনোই কারো উচিত হবে না, কাউকে আটকে দেয়ার জন্য কিছু করা। এই হীন্যমন্যতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত। আপনারা যারা আমার সাথে আছেন, আশা করি আমার সাথে একমত হবেন।

যাই হোক, আমার কাজ আমি করেই যাব। চলুন আজ একটা সহজ ভর্তা দেখি। কি আছে এই দুনিয়ায়? খাওয়া আর শোয়া (!) ছাড়া! আজ মরলে কালই দুই দিন! হা হা হা…

উপকরনঃ
– কিছু ছোট চিংড়ি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– পেঁয়াজ কুচি
– ধনিয়া পাতা
– লবন (পরিমান মত)
– সামান্য তেল

প্রনালীঃ

চিংড়ি মাছ অনেকদিন ফ্রীজে থাকলে স্বাদ শেষ হয়ে যায়।


সামান্য তেলে চিংড়ি গুলো ভেঁজে নিন।


সামান্য তেলে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি, ধনিয়া ভেঁজে নিন। চিংড়ি গুলো পরিস্কার করে নিন। সাথে নিন লবন। ব্যস।


একে একে সব কিছু পাটায় বেঁটে নিতে হবে। চিংড়ি।


কাঁচা মরিচ। পেঁয়াজ কুচি (ছবিতে নেই)


ধনিয়া পাতা। ফাঁকে ফাঁকে সামান্য লবন।


সব কিছু বেঁটে নিন।


ভাল করে মেখে নিন। ফাইন্যাল লবন দেখুন।


ব্যস হয়ে গেল চিংড়ি ভর্তা। কত সহজ এবং সাধারন। ভর্তা আমাদের খাবার দাবারের একটা বিশেষ স্থান দখল করে আছে, জুড়ি মেলা ভার।

কৃতজ্ঞতায়ঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

11 responses to “রেসিপিঃ চিংড়ি ভর্তা (সাধারন)

  1. ফেইসবুকে আমার দেয়া স্ট্যাটাস এ বন্ধুরা বেশ কিছু কমেন্ট দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই সব বন্ধুদের।

    Like

  2. রান্নাতো ভাই, আপনার কাজ আপনি করে যান।
    কিছু মানুষের অভ্যাসই হচ্ছে মানুষের পিছনে লাগা। তাদের কাজ তারা করুক, আপনার কাজ আপনি করবেন। ” বৃক্ষ তোমার নাম কি? ফলে পরিচয়”। কিছুদিন আগে আমার একটি ষ্ট্যাটাসি নিয়ে এমন হইচই হলো মনে হচ্ছিলো আমার ও গেছেই যারা সেটা পড়েছে তাদের সবারই জাত চলে গিয়েছিলো।
    আমরা নিজেদের শিক্ষিত দাবী করি। এই কি শিক্ষিতের নমুনা?
    ভালো থাকবেন।

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো বোন।
      আপনারা আছেন বলেই সাহস বেশী পাই। বোন, আপনার অনুপ্রেরনা আমি কখনোই ভুলবো না। আপনি আমাকে সব সময়েই সার্পোট দিয়ে যাচ্ছেন। আমি কৃতজ্ঞ। বোন, আমিও মনে করি, আমাদের পরিচয় হচ্ছে লেখালেখি দিয়ে, লিখেই আমাদের প্রমান করতে হবে আমরা কে কি চাই বা পারি।
      আপনার সেই সাহসী স্ট্যাটাস দেখে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম। আমরা ছেলেরা যা মুখে বলতে পারি না আপনি তা দেখিয়েছেন। সত্যকে সত্য বলার সাহস না থাকলে আমরা মানুষ আর কি? অন্ধ ভক্ত হয়ে জীবন পার করার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল।
      আপনিও ভাল থাকুন।

      Like

  3. pora chingri r vorta ta chorom lage 😀

    Like

  4. জিভে হল চলে এলো রে 😛

    Like

  5. onnnnnnnneeeeeeeeekkkkkkk sondore ranna………………giv dea pani cola aca ca………………………………

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      এই তো আমাদের খাবার। এইসব খাবার দেখে জিবে পানি না এলে চলে কি করে। ছোট বেলায় দেখে ও খেয়ে আসা খাবার গুলো দেখে জিবে জল আসেই। যাই হোক, আজকাল এই ধরনের খাবার গুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. তন্দুরী চিকেন খুজতে গিয়ে আপনাকে পেলাম। তারপর দুইদিন সব বাদ।নেটে বসলেই উদারজী রান্নাঘর। আমার মা চিংড়ি টা সিদ্ধ করে নেয়।

    Like

    • ধন্যবাদ রং পেন্সিল ভাই।
      আপনার কমেন্ট পড়ে খুশি হলাম। বাংলায় নেটে আমাদের যে কোন খাবারের নাম লিখে সার্চ করলে গুগল আমাকেই দেখিয়ে দেয় এবং সেই চেষ্টাই আমি করছি। নেটে এ যাবত আমার প্রায় ৪৫০ টা রেসিপি আছে এবং সব গুলো এমন ডিটেইলস! আমাদের প্রবাসী ব্যচেলর এবং মেসে থাকা ভাই বোনদের কাজে আসতে পারছি বলে আনন্দিত হই।

      আপনার আম্মা যেটা করেন সেটাও ভাল। রান্নার কত রুপ। আপনার আম্মাকে আমাদের সালাম দিবেন।

      শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।

      Like

  7. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s