গ্যালারি

রেসিপিঃ পাঙ্গাস মাছের ঝোল


বর্তমান বাংলাদেশের বাজারে কম দামে কি মাছ পাওয়া যায়। এই প্রশ্ন যদি আপনাকে করা হয় আপনি হয়ত বলে বসবেন, চাষের পাঙ্গাস। হ্যাঁ, পাঙ্গাস এবং তেলাপিয়াই হচ্ছে এখনকার বাংলাদেশে সব চেয়ে কম দামি মাছ। কম দাম বলে ঠিক বলছি কি না বুঝতে পারছি না। পাঙ্গাস এবং তেলাপিয়া তাজা হলে ১৬০ টাকা কেজির কম নয়! ১৬০-১৭০-১৮০ টাকা দিয়ে ব্ছর তিনেক আগেও রুই মাছের কেজি পাওয়া যেত। আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের দেশের গরীব মানুষ গুলো কি খেয়ে থাকে?

সে যাই হোক, গতকাল বাজারে যেয়ে একটা পাঙ্গাস (তিন কেজির সামান্য কম) ও কিছু চিংড়ি মাছ কিনেছি। এখন অনেক মাছের দিকে তাকাতেও ভয় লাগে! গত কয়েকদিন আগে ব্লগার শিপু ভাইয়ের একটা ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ভাবছিলাম। তিনি লিখেছেন,

খিলগাঁও রেলগেটে নানা রকমের মাছ পাওয়া যায়। বেশিরভাগই দেশি আর টাটকা। বেশ বড় সাইজের শিং মাছ দেখে লোভ লাগলো। ৫/৬শ টাকা হলে ১ কেজি কিনবো ভাবছি। দাম জিগাইলাম—

=মাত্র ১৬০০টাকা কেজি!!!

বৈশাখ চৈত্র মাসের শিং মাছে পোকা হয়!!! গায়ে পোকার ডিম লেগে থাকে। তাই আর কিনলাম না। হুম

মাছ না কিনে আমাদের শিপু ভাই বাজার থেকে ফেরত গিয়েছেন! আমি অবশ্য এখন আর এই ধরনের মাছের দিকে তাকাই না! সে যাই হোক, অনেকদিন পর পাঙ্গাস মাছ কিনেছিলাম। পাঙ্গাস মাছ আমাদের দেশের মেয়েরা পছন্দ না করলেও মেহেনতী ছেলেরা এই পাঙ্গাস বেশ পছন্দ করে! কিছুদিন আগে এক ভাই আমার কাছে পাঙ্গাস মাছের রান্নার রেসিপি ছেয়েছিলেন, তার কথা ভেবে এই পাঙ্গাস মাছ রান্না করছিলাম।

মাছ রান্নায় এখন আমার জুড়ি নেই! আমি বেশ ভাল মাছ রান্না করা শিখে গেছি। মাছ রান্নার দরকার হলেই আমার ব্যাটারী আমাকে ডাক দিচ্ছেন, “শুনছো বুলেটের বাপ, মাছটা রান্না করে দাও”। আমি সাধারণত মাছ না ভেজেই রান্নার পক্ষে, ভেঁজে রান্না করলে মাছের নিদিষ্ট স্বাদ, ঘ্রান থাকে না বলেই আমি মনে করি।

চলুন দেখে ফেলি। পাঙ্গাস মাছের ঝোল!

উপকরনঃ  (সাধারন মাছ রান্না)
– পাঙ্গাস মাছঃ চার টুকরা
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ হাফ কাপ
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– আদা বাটাঃ ১ চা চামচ
– রসুন বাটাঃ ১ টেবিল চামচ
– জিরা গুড়াঃ দুই চিমটি
– কাঁচা মরিচঃ ৩/৪ টা (ঝাল বুঝে)
– লবনঃ পরিমান মত
– তেলঃ সয়াবিন তেল হাফ কাপের চেয়ে কম
– পানিঃ পরিমান মত

(ধনিয়া পাতা ছিল না, থাকলে আরো ভাল হত।)

প্রনালীঃ

কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ ভুনে তাতে কাঁচা মরিচ, আদা, রসুন ও জিরা গুড়া দিয়ে ভাল করে আরো ভেঁজে নিলাম।  ভাঁজা হয়ে গেলে সামান্য বা হাফ কাপ পানি দিলাম।


এবার মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিলাম।


আরো হাফ কাপ পানি দিলাম, ব্যস ঝোল হয়ে গেল। এই ঝোল আরো কিছুক্ষন কষিয়ে নিলাম।


এবার কষানো ঝোলে মাছ গুলো দিয়ে দিলাম। (পাঙ্গাস মাছ পরিস্কারে ঝামেলা কম)


একটু কষানো হলে, আরো কিছু পানি দিয়ে নিলাম। গা গা ঝোলে ভিজিয়ে নেয়া।


এবার ঢাকনা দিয়ে মিনিট ২০ মাধ্যম আঁচে রেখে দিলাম। মাঝে মাঝে মাছ গুলো আলতো ভাবে উল্টিয়ে দিলাম।


ফাইন্যাল লবন দেখি এবং সামান্য লবন লাগবে বলে মনে হল, তা দিলাম এবং জ্বাল কমিয়ে দিলাম।


ব্যস হয়ে গেল গরম গরম পাঙ্গাস মাছের ঝোল।


এটা গরম ভাতের সঙ্গে বেশ ভাল লাগে এবং আমার ছেলে বুলেট এটা খুব পছন্দ করেছে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।  আশা করি, একবার পাঙ্গাস খেয়ে দেখবেন। যারা পাঙ্গাস খেতে চান না তাদের আমি অনুরোধ করবো, মাছটা এতই ফেলনা নয়। স্বাদ করে রান্না করলে, আমি নিশ্চিত খেয়ে আপনাকে বলতেই হবে ‘ওয়াও’।

Advertisements

14 responses to “রেসিপিঃ পাঙ্গাস মাছের ঝোল

  1. আপনার রেসিপি গুলো পড়ে বেশ ভাল লাগে। যদিও সব কটা কখও ট্রাই করা হয় না, তারপরও দেশী রেশিপির প্রয়োজনে আপনার ব্লগ ঘাটাঘাটি করে মজা পাই।
    অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

    Like

    • ধন্যবাদ আজাদ জয় ভাই। কমেন্টের জন্য শুভেচ্ছা।
      আপনারা আমাদের ব্লগ দেখেন এটাই এক ধরনের সার্থকতা। তবে আজকাল অনেকেই (যারা রান্না পছন্দ করেন) রেসিপি দেখে রান্না করেন। বিশেষ করে যারা প্রবাসী এবং ব্যচেলর। নেটে বাংলা এসে যাওয়াতে আমি প্রায় দেখি নুতন নুতন সার্চ লিখে অনেকেই রেসিপি খুঁজেন। প্রতিদিন অনেক নুতন দর্শক পাচ্ছি।

      আবারো শুভেচ্ছা। মাঝে মাঝে দেখে যাবেন। ভাল লাগবে।

      Like

  2. pangash macher gondho amar ekdom valo lage na but ei rannar system ta amar valo legeche.ammu ke ai system e boyal mach ranna korte bolbo

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      আসলে সব মাছেই কিছু না কিছু ঘ্রান (খাবারকে গন্ধ বলতে নেই) থাকে। এটাই মাছের বৈশিষ্ট। প্রত্যেক মাছের এই আলাদা ঘ্রান আছে বলেই মাছের এত প্রকার ভেদ। চাষের পাঙ্গাসে একটু ঘ্রান হয় বটে তবে একটু বেশী কষিয়ে নিলে তা থাকে না।

      হা, বোয়াল কেন যে কোন মাছ এইভাবে রান্না করা যেতে পারে। ভাল লাগবেই, আজ আমি কালিবাউশ মাছ রান্না করেছি। বেশ ভাল লেগেছে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. l love pangash match……. when we go chandpur……always buy big river pangash match…..now here still find big pangash frozen…….don’t know it from river or not………but l try small one , don’t like it…….because. of smell ………ur cooking always best …….it’s true that way of cooking make food testy ……………….thank’s …….anjuman 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ আঞ্জুমান বোন।
      নদীর পাঙ্গাসের স্বাদের তুলনা নেই। চাষের পাঙ্গাসে কিছুটা মাইট্যা ঘ্রান থাকে বটে কিন্তু কখনো কখনো তা থাকে না। আমাদের মাছটা আমি ভেবেছিলাম এমন ঘ্রান পাব কিন্তু রান্নার পর তা ছিল না। পাঙ্গাসের তুলনা নেই। কাটা কম, খেতেও স্বাদ।
      প্রবাসে পাঙ্গাস পাছেন জেনে ভাল লাগলো। তবে তাজা মাছের তুলনা নেই।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

    • আঞ্জুমান আপা, আপনি নিচে আমাদের অন্য এক বোন রশিদা আপার কমেন্ট দেখুন। লবন দিয়ে মাছ ধুয়ে নিলেই কোন ঘ্রান থাকবে না।

      Like

  4. পাঙ্গাস আমি ও আমার ছেলে খুব পছন্দ করি। কুম্ভকর্ণ না খেলেও নিজের জন্য এই মাছ আমি কিনে রান্না করে খাই। খুবই সুস্বাদু রান্না!

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো আপা।
      পাঙ্গাস আসলেই তুলনাহীন একটা মাছ। আমিও পছন্দ করি কিন্তু বাসার কারনে বেশী কিনি না। ভাগিনা দেখছি আমাদের মতই সর্বভূক! শুনে ভাল লাগলো।
      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. অজ্ঞাতকে বলছি, মাছ কেটে ধুয়ে কিছুক্ষণ লেবুর রস মাখিয়ে রেখে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এরপর রান্না করে দেখুন গন্ধ লাগে কি না।
    ভাইয়া, পাঙ্গাস আমার বন্ধু মানুষ মানে বন্ধু মাছ! আমার ৭ দিনের বেশি ফ্রিজে রাখা মাছ ভালো লাগে না। তাই ২ জনের সংসারে বড় মাছ কিনলে বেশ ভোগান্তি। তবে পাঙ্গাস বেশ সুইট। কারণ নানাভাবে এই মাছ খাওয়া যায়। রোজ খেলেও বিরক্ত লাগে না। মাথা দিয়ে মুড়িঘণ্ট করি। লেজ, লেজের পাশের মাছ ঝোল ঝোল রান্না করি। পেটের অংশ ছোট ছোট টুকরা করে চচ্চরি আর বাকি মাছ মানে পিঠের মাছ পেয়াজ-টমেটো দিয়ে ভাজি। আবার কোনোদিন রান্নার জন্য টাইম কম থাকলে বা ক্লান্ত থাকলে মাছের সাথে কোনো সবজি রেন্ধে ফেলি। এতে মাছের কারি এবং সবজি মানে একের ভেতর দুই তরকারি পাওয়া যায়। আর চিকেন ফ্রাই যেভাবে বানায় ঠিক সেভাবে কাঁটা ছাড়া পিঠের দিকের মাছকে ছোট ছোট টুকরা করে ফিশ ফ্রাই করি।
    সব মাছের উপরে পাঙ্গাস সত্য
    তাহার উপরে নাই…

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনার কমেন্ট পড়ে আমিও বলছি,
      সব মাছের উপরে পাঙ্গাস সত্য
      তাহার উপরে নাই…
      হা হা হা…। পাঙ্গাশের উপর মনে হয় আপনি থিসিস লিখতে পারবেন। আপনার ভাতিজা বুলেটও পাঙ্গাস মাছ খুব পছন্দ করে। কি দারুন মিল। ওকে পাঙ্গাস পর পর চারদিন দিলেও খেতে পারবে। না বলবে না!

      আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হল পাঙ্গাস নিয়ে আরো কিছু এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. আমি কোনো রান্না পারি না । আপনাদের কাছে শিখব। এ ব্লগ খুব কাজে লাগবে।

    Like

    • ধন্যবাদ ব্রাদার/সিষ্টার।
      আমরা তো আপনাদের জন্য আছি। আমাদের রেসিপি গুলো নুতনদের জন্যই, যারা রান্না শিখতে চান, যারা আমাদের দেশের সাধারন খাবার গুলো খেতে চান। আমরা চাই, আপনাদের আগ্রহ তৈরী হউক। এবং সাহস বাড়িয়ে একদিন রান্না করেই ফেলুন। দেখুন, কেমন মজাদার হয়।

      রান্না হচ্ছে একটা ভালবাসা, এই ভালবাসার কোন বিকল্প নেই।

      কিছু না বুঝলে আমাদের লিখতে ভুলবেন না, আমরা চেষ্টা করবো উত্তর দিতে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  7. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s