গ্যালারি

রেসিপিঃ লাউ পাতার ভর্তা (একটা কমপ্লিকেটেড ভর্তা)


রেসিপি লিখতে গিয়ে প্রায় ভাবি, কত কথাই না মনে পড়ে! প্রতিটা রেসিপির রান্না এবং ছবি তুলতে গিয়ে কত গল্প জমা হয়ে যায়! আমাদের এক মেরিকান বন্ধুর রান্না নিয়ে কিছু যুক্তির কথা বলি। সে একদিন  আড্ডায় বলেছিল, কেন সে রান্না করে না! কারন ‘রান্না করতে লাগে দেড় ঘন্টা আর খেতে লাগে মাত্র পাঁচ মিনিট’! মানে সময় বাঁচাতে সে রান্না করে না। আরো বলেছিল, হোটেলে গিয়ে যে রান্নায় বেশী সময় লাগে সেটার ওয়ার্ডার সে দেয় না! মানে যা রান্না থাকে বা রেডিমেট পাওয়া যায় সেটাই কিনে খায়!

আসলে দুনিয়া বড় বিচিত্র জায়গা! এই বিচিত্র জায়গাতে আমরা মানুষরাও কম বিচিত্র নয়! নানান যুক্তি তর্কে আমরা সবাই রাজা/রানী! সে যাই হোক, এক ব্যাপারে দুনিয়ার সব বাঙ্গালী এক, তা হচ্ছে খেতে বসে ভর্তা দেখলে! আমি রেসিপি পোষ্ট দিতে গিয়ে এটা বার বার বুঝতে পারছি। আমাদের সব রেসিপি পোষ্টের হিট দেখে এটা প্রমান হয়। ভর্তার রেসিপির পোষ্ট গুলোতে হিট দেখে আমাদেরও ভাল লাগে।

চলুন আজ একটা ভর্তার রেসিপি দেখি। বাজার থেকে লাউ পাতা/ডগা কিনলে এবং ঘরে চ্যাপা শুঁটকী থাকলে আপনাকে ঠেকাবে কে? লাউ পাতার ভর্তা! তবে আমার দৃষ্টিতে এই ভর্তা বানানো একটু কঠিন বা কাজ একটু বেশী!   আগেই বলে নেই, এই ভর্তা বানিয়েছেন আমার ব্যাটারী এবং আমি সহযোগী হিসাবে ছিলাম।

উপকরন ও প্রনালীঃ

কয়েকটা লাউপাতা, কিছু পেঁয়াজ কুচি, কয়েকটা কাঁচা মরিচ, লবন পরিমানমত, চ্যাপা শুঁটকী, একটা রসুন। পরিমান দেখে অনুমান করতে পারেন, কাঁচা মরিচে ঝাল দেখে নেবেন, কারন ঝাল বেশী হলে খেতে পারবেন না।


লাউ পাতা ছাড়া সব কিছু হামান দিস্তায় থেঁতে নিন।


ভাল করে থেঁতে নিন।


লাউ পাতায় এভাবে কিছু থেঁতানো ভেজষ নিন।


এভাবে ভাঁজ করুন।


খিলি পানের মত করে সাজিয়ে নিন। মাঝে একটা কাঠি দিয়ে আটকে দিতে পারেন।


একটা হাড়িতে কিছু পানি গরম করুন এবং পানির উপরে ঝাচে লাউ পাতা রেখে ভাল করে ভাপিয়ে নিন।


ভাল করে ভাপানোর পর এমন দেখাবে।


এবার পাটা পুতায় ভাল করে মিহি করে বেঁটে নিন এবং মিশিয়ে নিন। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন।


ব্যস, হয়ে গেল লাউ পাতার ভর্তা। গরম ভাতের সাথে আমি নিশ্চিত এক প্লেট মেরে দেবেন, কোন কথা ছাড়াই!

আশা করছি, ভর্তাটা জটিল হলেও বানিয়ে দেখবেন, ভাল লাগবে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

18 responses to “রেসিপিঃ লাউ পাতার ভর্তা (একটা কমপ্লিকেটেড ভর্তা)

  1. আজ রাতেই আমরা বানিয়েছি। আমি এমন কোন রেসিপি পোষ্ট করি না, যা খেতে আমার নিজের ভাল লাগে না কিংবা স্বাদ হয় না। অনেক রান্না বাদ পড়ছে, অনেক সময় নষ্ট হয়েছে এবং আরো হবে। হা হা হা…। প্লিজ টেষ্ট ইট!

    Like

  2. প্রসেসটা ভালো লেগেছে একটু অন্যরকম বলে। তবে প্রথমে টাইটেল দেখে বুঝিনি যে এখানে চ্যাপা শুঁটকী থাকতে পারে। ধন্যবাদ আপনাদের দু’জনকেই।

    Like

    • ধন্যবাদ।
      আসলে শুঁটকী বা মাছ ছাড়া ভর্তা জমে উঠে না। শুঁটকীর ঘ্রান নাকে মুখে লাগে বলে খেতে আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়। হা হা হা…

      আপনি কি শুঁটকী পছন্দ করেন না? ভর্তার চাপ্টারে বেশ কিছু ভর্তা আছে যেখানে শুঁটকী বা মাছ ব্যবহার করা হয় নাই। নিরামিষ ভর্তা। দেখে আসতে পারেন।

      শুভেচ্ছা থাকল।

      Like

      • ধন্যবাদ, উদরাজী ভাই।
        এটা ঠিকই ধরেছেন যে শুঁটকি আমার ফেভারেট না। তবে আমার বাসায় আবার শুঁটকির সেইরকম কদর রয়েছে। তাই শুঁটকির প্রচলনও আছে বৈকি। শুঁটকি আমাদের বাড়িতে প্রধানতঃ আলাদা রান্না হয়। আবার ভর্তারও কমতি নেই। তবে সবসময়ই নতুন কিছু রান্নার চেষ্টায় থাকা।
        আর খাবারের ব্যাপারে কমেন্ট ইত্যাদিতে আমরা দু’জনে একসাথে পার্টিসিপেট করি, যদিও কমেন্টটা আমার প্রোফাইল থেকেই যাচ্ছে। হে হে…
        ধন্যবাদ।
        -শরীফ।

        Like

        • ধন্যবাদ শরীফ ভাই। আপনার নাম জানতে পেরে খুশি হলাম। শুঁটকী মাছের ভক্ত হলেন আমাদের দেশের মেয়েরা/মায়েরা। আমার জানা মত বেশীর ভাগ মায়েরা/মেয়েরা শুঁটকী পছন্দ করেন। তবে শুঁটকী কেনায় একটু সতর্ক হতে হবে। শুঁটকীতে শুনেছি ভেজাল মিশায় বেশী।

          আপনার কাজ দেখতে আপনার ব্লগে যাচ্ছি।

          শুভেচ্ছা। কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে এসে দেখে যাবেন। ভাবী আমাদের এই রেসিপি ব্লগ দেখেন জেনে খুশী হলাম। আপনার এই কমেন্ট আমার ব্যাটারী আমার পাশে বসেই পড়ছেন। হা হা হা…

          Like

          • শুঁটকীর ভেজাল আমিও শুনেছি। চট্টগ্রামে শুঁটকির মার্কেটে যাওয়ার সময় অনেকদিন আগে সেটা জেনেছিলাম। বিবেক কোথায় পালিয়েছে আমাদের সেটা খুঁজে পাওয়া মুসকিল!

            যাই হোক, পার্সোনাল লেভেলে কানেক্ট করতে পেরে ভালো লাগছে, উদরাজী ভাই, আর ভাবী। ভালো থাকবেন। আরও কথা হবে। 🙂

            Like

  3. বেশ ঝামেলা আছে 🙂 তবে ট্রাই করলে পারা যাবে

    Like

    • ধন্যবাদ কবি ভাই। মাঝে মাঝে এসে আমার এই রেসিপি ব্লগ আপনি দেখেন এটা ভেবে গর্বে বুক ফুলে যাচ্ছে।

      মেরিকায় আপনি নিজে রান্না করেন না হোটেলেই চালিয়ে যাচ্ছেন?

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. অদ্ভুত কিছু রান্না করতে আমার জুড়ি নেই। একবার আমি কচি লাউ পাতা ভাপিয়ে পাটায় মিহি করে পিষে মাংসের মসলা দিয়ে ভুনা করেছিলাম। খেতে মনে হচ্ছিলো মগজ ভুনা খাচ্ছি।
    আমি শুটকি তেলে ভেজে ভুনা করে লাউ পাতায় মুড়িয়ে অল্প তেলে এ পিঠ ও পিঠ ভালো করে মচমচে করে ভেজে নেই। এটাও খেতে সুস্বাদু।

    দুটো রেসিপি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো আপা। আমি জানি আপনি রান্না নিয়ে কেমন এক্সপেরিমেন্ট করেন। যারা ভাল রান্না করতে পারেন তাদের মনে একটা আলাদা জোর জমে যায় ফলে তারা যে কোন কিছু দিয়েই একটা কম্ভিনেশন তৈরী করতে পারেন, আপনি সেই দলের। রান্নায় আপনার জুড়ি নেই।

      আপনার রান্না দুটো আমার রেসিপি খাতায় উঠিয়ে নিলাম। সময় পেলে এবং সব কিছু হাতের কাছে পেলেই রান্না শুরু হবে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. এক দফা এক দাবী …

    কাঁঠালের বিচির ভর্তার মিনিমাম ৩ টা রেসিপি চাই। মিনিমাম ৩ টা। এই সিজনে প্রতিদিন আমার প্রিয় ভর্তাটা খেতে চাই।

    Like

  6. চাঁপা শুটকির যে কোন রান্নাই বেশ ভাল লাগে, আমাদের অঞ্চলের মানুষ একটু ঝাল বেশি পছন্দ করে, সেক্ষেত্রে এই ধরনের আইটেম খুব জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা রাখছি ।

    Like

    • ধন্যবাদ তামিম ভাই।
      বাংলাদেশের মানুষ আসলে ভর্তাকে খুবই পছন্দ করেন। আমি ভাবছি আপনার গ্রামের বাড়ী চট্রগ্রাম এলাকায়। এই এলাকার মানুষ শুঁটকী এবং ঝাল খুব পছন্দ করেন (আমি দুই বছর এই এলাকায় ছিলাম)।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  7. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s