Gallery

রেসিপিঃ কলিজা রান্না আলু যোগে


কলিজা সাধারণত কেনা হয় না। দোকানে কলিজা দেখে লোভ লাগল এবং কিনে ফেললাম। আমাদের দেশে সাধারণত কোরবানী ঈদের সময় সামান্য কিছু কলিজা খাওয়া হয়। মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো সাধারণত কলিজা তেমন একটা পছন্দ করেন না। আমিও যে বেশি পছন্দ করি তা নয়! আসলে এই সব কেনার অর্থ হচ্ছে আমার ‘বুলেট’কে সকল খাবার খেতে বাধ্য করা এবং শেখানো! ছোট বেলায় এই সব না খেলে আর সারা জীবনে খেতে মন চায় না এবং সুযোগ হয় না। 

 বুলেট শশুরবাড়ী গেলে যদি বলে ‘এটা খাই না ওটা খাই না’ তা হলে শশুরবাড়ীর লোকেরা কি বলবে? হয়ত বুলেটের শাশুড়ি বলবে, পোলার বাপে কিছু খাওয়ানো শিখায় নাই! তখন আপনারা বলেন, আমার মান ইজ্জত কিছু থাকবে? আমি নিজে একজন রান্নাকারী হয়ে আমার ছেলে যদি তার শাশুড়ি থেকে এমন কথা শুনে, তবে আমি যাব কোথায়?

সে যাই হোক, সবই গল্প! বিধাতা জানেন, কোথায় কি হবে? কে তার পুত্রবধু দেখে যাবেন আর কে অকালেই অক্কা! সন্তান নিয়ে আমরা কত আশা করি সব আশা কি সব বাবা মায়ের পূর্ন হয়? আমি নিজেও পিতামাতার জন্য তেমন কি করতে পেরেছি? আমার বাবা (তিনি অনেক বছর আগেই গত হয়েছেন) এবং মার জন্য আমিও তেমন কিছু করতে পারি নাই। এই জীবনের অনেক দুঃখের মধ্যে এটা একটা!

চলুন, দুঃখের কথা না বলি। দুই দিনের এই দুনিয়ায় দুঃখই বেশী। বাংলাদেশীদের দুঃখ এই দুনিয়ার সবার চেয়ে বেশী। হা হা হা… বাবার যেমন দুঃখ, তেমন দুঃখ মায়ের!

উপকরনঃ
– গরুর কলিজাঃ ৭৫০ গ্রাম (গুর্দাও কিছু ছিল)
– পেঁয়াজ কুচিঃ এক কাপ
– রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ
– আদা বাটাঃ দেড় টেবিল চামচ
– টমেটোঃ দুইটা কুচি
– হলুদ গুড়াঃ ১ চা চামচ
– লাল মরিচের গুড়াঃ ১ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– জিরা গুড়াঃ ১ চা চামচ
– গরম মশলাঃ দারুচিনি কয়েক পিস, এলাচি কয়েকটা
– লবনঃ পরিমান মত
– তেলঃ এক কাপের কম
– পানি (পরিমান মত)
– কয়েকটা আলু (ছোট করে কাটা)

প্রনালীঃ
কলিজা প্রিপারেশন  (*)

কেটে ভাল করে ধুয়ে নিন।


সামান্য হলুদ দিয়ে কলিজা সিদ্ব করে (কড়া সিদ্ব নয়) নিন।


পানি ঝরিয়ে নিন, এই হচ্ছে কলিজা রান্নার জন্য প্রিপারেশন। মুল রান্নার জন্য রেডী!

মুল রান্না

প্রথমে হাড়িতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুচি ভাঁজুন, সাথে গরম মশলা দিতে ভুলবেন না। হালকা হলুদ হয়ে গেলে আদা, রসুন দিয়ে আবারো ভাঁজুন। এর পর সামান্য পানি দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন এবং এই ঝোলে মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া এবং জিরা গুড়া দিন। কিছু ক্ষন জ্বাল দিয়ে নিন।


এবার টমেটো কুচি দিন এবং ভাল করে ঝোলে মিশিয়ে নিন।


এবার কলিজা গুলো দিয়ে দিন এবং মিশিয়ে নিন।


এবার এক কাপ বা তার চেয়ে সামান্য বেশি পানি দিয়ে গা গা করে নিন। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে মিনিট ২০ জ্বাল দিন।


আলু দিন।


আবারো এক কাপ পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১৫ জ্বাল দিন (মাঝারি আঁচে)।


এমন দেখাতে সময় নেবে না! এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলুন!


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। চালের রুটি কিংবা চিকন গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন। 

* তাজা কলিজা রান্না করা উচিত। ফ্রীজে বেশী দিন কলিজা রেখে দেয়া উচিত নয়। আর শুরুর দিকে কলিজা সামান্য সিদ্ব করে নেয়ার কারন হলে কলিজা থেকে রক্ত বা দুষিত কিছু থাকলে তা বের করে দেয়া।

সবাইকে শুভেচ্ছা। 

(কলিজা ভুনার আর একটা রেসিপি আগেও দেখানো হয়েছিল। আপনারা যারা শুধু কলিজা রান্না করতে চান তারা উক্ত পোষ্টটা আবারো দেখে নিতে পারেন, রেসিপিঃ কলিজা ভুনা)

9 responses to “রেসিপিঃ কলিজা রান্না আলু যোগে

  1. wow!!!!!!yummy!!!!kolija amar darun lage!!!!!

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা। উত্তর দিতে দেরী হচ্ছে বলে মনে কিছু নিও না। অনেক উত্তর জমে আছে।

      কলিজা সাধারণত খাওয়া হয় না, মাঝে মাঝে মাত্র। তবে বছরে এক দুইদিন অবশ্যই খাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কলিজা তোমার ভাল লাগে শুনে বেশ আনন্দিত হলাম। আসলে ছোট বেলা থেকে যা অভ্যাস করা হয় তাই খেতে পারে সবাই।

      অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

      Like

  2. ভাই আমি রান্না বিষয়ক একটা বই লিখছি। তো আপনার কিছু কিছু রান্না আমার পছন্দ হয়েছে। আমি আমার বই এ আপনার কিছু রান্নার উল্লেখ করতে চাই। অবশ্যই আপনার নাম ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হবে বই এ। বিষয়টিতে আপনার সম্মতি থাকলে জানাবেন প্লীজ। অগ্রিম ধন্যবাদ রইল।

    Like

    • ধন্যবাদ সাইদ ভাই, আবশ্যই আপনি আমাদের রেসিপির কথা এবং রেসিপি আপনার বইতে উল্লেখ করতে পারেন। আমাদের কোন আপত্তি নাই। তবে বেশি খুশি হব যদি আমাদের নামের পাশে লিঙ্ক উল্লেখ করেন। শুভেচ্ছা। বইটার কি নাম এবং প্রকাশ হলে আশা করি আমাদের জানাবেন।

      Like

      • শুনে খুশি হলাম ভাই। বইটা লিখছি ইংরেজিতে। হ্যাঁ আপনার সাইট এর নাম ও লিংক দেওয়ার চেষ্টা করব যদি পাবলিশার এলাউ করে। বইটি পাবলিশ হলে আপনাকে জানাব। আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি অনুমতি দানের জন্য।

        Like

        • আবারো ধন্যবাদ সাইদ ভাই, আমি আপনার বইয়ের সাফল্য কামনা করছি। আপনার বইয়ের সফল প্রচার ও পাঠক প্রিয়তা কামনা করছি।

          শুনে খুশি হলাম, আশা করি আপনার প্রকাশক আপনার কথা মতই কাজ করবে। হা হা হা।। আপনি ভাল থাকুন। আশা করছি, আমরা বইটি অচিরেই দেখতে পাব।

          শুভেচ্ছা।

          Like

  3. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  4. আমার প্রিয় খাবারের মধ্যে কলিজা হচ্ছে অন্যতম
    একটি প্রিয় খাবার। রান্না করার পর খুবই ভালো টেষ্ট হইছে। খেয়ে খুবই মজা পাইছি। অনেক ধন্যবাদ
    সাহাদাত ভাই। অসংখ্য মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালি, যারা নাকি আমার মত বেচালর,তাদের জন্য এই পোস্ট খুবই উপকারে আসবে।।
    আপনি ও আপনার পরিবারের জন্য মঙ্গল কামনা করছি।।।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ আলী ভাই।
      আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা আছি আপনাদের সাথে, আপনারা যারা রান্না শিখতে চান বা প্রয়োজন আছে। হ্যাঁ, আমি এক সময়ে প্রবাসী ছিলাম বলে এটা ভাল বুঝতে পারি।

      আশা করি সাথে থাকবেন, আমরা আসছি আরো আরো নুতন নুতন রান্না নিয়ে।

      শুভেচ্ছা।

      Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s