Gallery

রেসিপিঃ ছোট বাইল্যা মাছ আলু টমেটো রান্না


কিছু দিন আগে মাছ বাজার থেকে ছোট বাইল্যা মাছ কিনেছিলাম। দুইবার রান্না হল এবং দুইবারেই আমি নিজে রান্না করেছি। প্রথমবার শুধু বাইল্যা মাছ সামান্য টমেটো দিয়ে আর ২য় বার আলু এবং টমেটো দিয়ে। দুটো রেসিপি রেকর্ড করেছি। কিন্তু রেকর্ড করার পর কয়েকদিন ধরেই ভাবছি এই ছোট বাইল্যা মাছের রেসিপি দেখানো ঠিক হবে কি না! নেটে বা ব্লগে এই ধরনের রান্না কেহ পছন্দ করবেন কি না! বিষয়টা নিয়ে আমার ব্যাটারীর সাথে আলাপ জমিয়ে নিলাম, এই রেসিপি দেয়া যেতে পারে কি না!

তিনি আমার ছেয়েও এক ডিগ্রী উপরে! বললেন, কেহ কিছু বলতে পারে বলেই তো নানান বাংলা ব্লগ ছেড়ে এখানে ফ্রী ব্লগ খুলেছ! এখানে তোমাকে কে কি বলবে? আমি বলি তার পরও কথা থেকে যায়। রেসিপি ব্লগ এখন অনেকেই পড়ে, বাংলাদেশের এত সাধারন রান্না না দেখালেও চলে! তিনি আরো আমাকে মনে করিয়ে দিলেন, তুমি ১০০০ রান্না দিতে চাও, এই সব রান্না না দিলে এক হাজার পুরাবে কি করে? কথাটা মনে ধরল। আসলেই, এত রান্না কোথায় পাই? তাই যে রান্নাই হউক না এবং সেটা যদি আমাদের বাংলাদেশের/বাঙ্গালীদের রান্না হয় তবে তা আমি প্রকাশ করতেই পারি।

চলুন আজ প্রথম রান্নাটা দেখে ফেলি, ছোট বাইল্যা মাছ আলু টমেটো দিয়ে রান্না।

উপকরন ও প্রনালীঃ

মাছ গুলো কেটে ধুয়ে পরিস্কার করে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি, সামান্য লবন, এক টেবিল চামচ রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে ভাঁজুন। এর পর হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন এবং তাতে সামান্য মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে একটা ঝোল বানিয়ে ফেলুন। (আমি তেল কম দিয়েছি)


এবার ঝোলে আলু দিন।


আলু গুলোকে হাফ সিদ্ব করে ফেলুন।


এবার মাছ গুলো দিয়ে দিন। এখানে লক্ষনীয় যে, মাছ পরে দেয়া হল। কারন এই ধরনের বাইল্যা মাছ নরম মাছ, সহজেই সিদ্ব হয়ে যায়। তাই আলু আগে দেয়া হয়েছে।


ঝোল কম মনে হলে সামান্য পানি দিয়ে ঢেকে দিন, হালকা আঁচে। মাছ বেশী নাড়াছড়া করবেন না। ভেঙ্গে যাবে!


এবার একটা টমেটো কেটে দিতে পারেন। পাতলা স্লাইস বা কুচি করে।


ফাইন্যাল লবন দেখুন। ঝোল কেমন রাখবেন তা আপনি নির্ধারন করুন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। বসে পড়ুন। খুব সাধারন রান্না।

আপনার জন্ম যদি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে হয় তবে নিশ্চয় আপনি কখনো না কখনো খেয়েছেন। আমাদের জেনারেশনের মনে পড়বেই! কিন্তু আমাদের পরবর্তী জেনারেশন হয়ত এমন ছোট মাছ আর চোখেই দেখে না! বাজারে দুষ্পাপ্য এবং সব পরিবার এখন আর এমন রান্না করতে চান না! ছোট মাছের কাটাকাটি করে কে?

Advertisements

17 responses to “রেসিপিঃ ছোট বাইল্যা মাছ আলু টমেটো রান্না

  1. O please post EVERY recipe you record for posting. You don’t know how helpful and informative your posts are for “probashi” new cooks like me! I know almost all types of fish are available here in Bangladeshi grocery stores, but I never even think of buying the fish I don’t know how to cook. Now that you posted this recipe, I’ll definately buy “bailla maach” and try to cook it, maybe next weekend. There are many recipe websites and blogs on the net but I have not found another one like yours which posts recipes for our everyday “torkari”. Please keep posting all types of recipes. Specially from special recipes from different districts of Bangladesh. Thank you again. I, very often visit your blog.

    Like

    • ধন্যবাদ অজ্ঞাত ভাই, আপনার নামটা লিখলে খুশি হতাম। আপনার কমেন্টের উত্তরে একটা বড় কিছু লিখে ছিলাম, হারিয়ে গেছে।
      আমরা আপনার কমেন্ট পড়ে অনেক খুশি হয়েছি। আপনার কমেন্টটা আমরা সংরক্ষণ করেছি।
      আশা করছি সাথে থাকবেন। শুভেচ্ছা।
      http://wp.me/P1KRVz-uR
      উপরের লিঙ্কে আছে।

      Like

      • I am Shadman, a fan of your blog. I am honored that you have archived my comment. Best wishes.

        Like

        • ধন্যবাদ বোন।
          কমেন্টের আগের নাম লিখার একটা ফিল্ড আছে সেখানে একবার নাম লিখে রাখলেই বার বার আর লিখতে হবে না। এতে আমিও সহজে আপনাকে চিন্তে পারব।
          আপনার মন্তব্য গুলো আমাদের বেশ আনন্দিত করে থাকে। আমি এবং ব্যাটারী দুইজনেই আপনার কমেন্ট পড়ে কমসে কম কয়েকবার।

          শুভেচ্ছা নিন।

          Like

  2. via, apner ai ranna ta ami korbo. apni sadharon ranna, special ranna soho sob rannai amader k diben. apnar ai rannar blog thakay amar moto jader rannay agroho asay sobai upokreto hossay.apnar jonno onak doa a suvo kamona thaklo apni jotodin bachay thakben amon ranna amader k diya jaben.

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আসলে মাছ মাংস, ইরানী বিরানিতো কম রান্না করলাম না! আমি মনে করি, আমরা প্রত্যহ যা খাই বা বাসায় যেটা রান্না হয় সেটাই আমাদের প্রিয় খাবার। তবে আপনাদের কমেন্ট পেয়ে এখন লজ্জা ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং আশা করছি যাই রান্না করবো এবং যা এখনো রেসিপি আকারে দেয়া হয় নাই তাই রেকর্ড করে দিয়ে দেব।
      আমাদের রেসিপির টার্গেট গ্রুপ হচ্ছেন যারা রান্না ভালবাসেন, প্রবাসী এবং ব্যচেলস।
      আশা করি আপনিও আমাদের সাথে থাকবেন আজীবন এবং আমাদেরও চেষ্টা থাকবে।
      আপনিও ভাল থাকুন (আপনি কোথায় থাকেন, কি করেন জানালে খুশি হব।)
      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. ki je bolen………………amar birth year 1996…………..kintu amra 4 vai bon e boro macher theke choto mach beshi pochondo kori…………ar amar mao choto mach khubi valo ranna koren…………..ar ammu ei dhoroner choto mach moshola makhiye ranna koren ektu pora pora kore………..boro baila/bele macher dim kheteo valo lage amar

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা,
      আমি খুশি হলাম এই শুনে যে আপনার আম্মা এখনো কষ্ট করে গুড়া মাছ রান্না করেন। ঢাকা শহরে এখনো আপনার মায়ের মত মা আছেন এটা ভেবে শান্তি পাই। সত্য বললে অনেকে রাগ করে ফেলবে। আসলে আমাদের ছেলে মেয়েদের মায়েরা এখন আর এই কষ্ট করতে চান না। ছোট মাছ কাটা, ধোয়া বেশ কষ্টের কাজ আর রান্না ভাল হতে হয়। সেই সময় এবং কষ্ট কে করে।
      যারা এখনো এমন কাজ করেন সেই মায়েদের আমি সালাম করি, ফেরেস্তা ভাবি।
      বড় বাইল্যা মাছের তুলনা হয় না। বাইল্যা মাছের ঝুরা বেশ মজার, দেখি চান্স পেলে দেখাবো। এখনো কত রান্না বাকী আছে।

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

      • akhon mone hocche amar mayer patience asolei onek beshi,6 joner eto boro ekta familyr sob kisu dekhashona koreo airokom osomvob patience er ranna koren.

        gorbe bukta fule uthlo.

        take care

        Like

        • ধন্যবাদ ভাতিজা।
          আপনার মাকে আমাদের সালাম দিবে। আমি আমার অনেক পোষ্টে এই সকল বিষয় লিখেছি। দৈনিক পরিবারের সবার খাবার দাবারের চিন্তা এবং প্লানিং দেখতে সহজ মনে হলেও বেশ কষ্টকর কাজ। এই বিষয়ে আমার এই পোষ্ট পড়ে দেখতে পারো।
          http://wp.me/p1KRVz-Hw
          পরিবারে খাদ্য ব্যবস্থাপনা একটা কঠিন কাজ। পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ জন হলেও যে কষ্ট ৪০ জন হলেও সেই কষ্ট! প্রত্যেক মানুষের মুখের স্বাদ আলাদা এবং মনের/শরীরের চাহিদাও আলাদা। আপনি যদি এই ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত হয়ে থাকেন তবে বুঝতে পারবেন। হাতে কিছু বা মাথায় কিছু নিয়ে রান্নাঘরে গেলেই দেখবেন চোখে ভেসে উঠবে, এ এটা খায় না সে সেটা খায় না। সুতারাং আপনি যখন রান্না করবেন তখন দেখা যাবে এই রান্না সে খাবেই না, তাই তার জন্য আবার অন্য কিছু ভাবতে হয় বা করতে হবে। আমাদের পরিবার গুলো হচ্ছেই এমন।

          শুভেচ্ছা। মাকে সব সময় ভালবেসে যাবে। মায়ের দোয়াই বড় দোয়া।

          Like

  4. বেলে/বাইল্যা মাছ তো এখন বিলুপ্তির পথে। এ মাছের স্বাদ আগামী প্রজন্ম হয়তো পাবেনা। এই মাছ খুব নরম। তাই নাড়াচাড়া না করে রান্না করতে হয়।

    সাভারে আমাদের বাড়ীর সামনেই ছিলো বংশী নদী। জেলেরা বড় বড় বেলে মাছ জালে তুল্লেই আম্মাকে দিয়ে যেতো। আব্বার পছন্দ বিধায় আম্মা সেগুলো বেশী করে পিঁয়াজ দিয়ে দোপেঁয়াজা করতেন।
    আজ আম্মাও নেই, সেই বংশী নদীও শুধু নামেই আছে।

    Like

    • ধন্যবাদ মাই ডিয়ার রান্নাতো আপা।
      আপনার কমেন্ট না দেখলে ভাল লাগে না।

      দেশের সব নদী শেষ! যা আছে দুষনে কোন মাছ আর নাই। সাভারের কোন নদীতে এখন আর কোন মাছ পাওয়া যায় না। নদী বলা ভুল হবে খাল বলতে হবে।

      কেমন আছেন?

      ভাল থাকুন।

      Like

  5. বেলে মাছ আমার আব্বার খুবই পছন্দ আমি বাজার করতে গেলেই এই মাছ কিনি। কিন্তু রাজশাহীর বাজারে এই মাছের যা দাম ! আমার মা এই মাছ রান্না করলে ঝোল রাখেনা এই বার বলতে হবে যেন ঝোল রেখে টমেটো আর আলু দিয়ে রান্না করে। ভাই আমি কিছু দিন আগে সয়া নাগেট দিয়ে নুডলস রান্না করছিলাম আমার বোন নাগেট গুলা বাদ দিয়া শুধু নুডলস গুলা খায়া ফালাইসে। আমি অরে নাগেট খাওয়াইয়্যা তবে ছারুম । বলেন তো কি করে অকে খাওয়নো যায় ?

    Like

    • ধন্যবাদ শিবলী ভাই,
      আপনার আব্বা পছন্দ করেন এই মাছ শুনে খুব খুশি হলাম। আসলে ছোট মাছ এখন আর কেহ খেতে ও রান্না করতে চান না। ঠেকায় না পড়লে কে রান্না করে? হা, এবার এই ভাবে খেতে পারেন। আশা করি ভাল লাগবে।

      সয়ামিট কেন খাবে না! আসলে অনেক/প্রত্যেক এমন কিছু করে থাকেই। আমাদের উচিত হচ্ছে সব কিছু খাওয়া। রান্না ভাল হতে হবে, এটাই আমি বুঝি। যা কিছু রান্না হউক, ভাল হলেই চলবে। এমন মানষিকতা তৈরী করতে হবে।

      ছোট আপাকে বলেন, শশুর বাড়ী গিয়ে এমন বাচাবাছি করলে, শাশূড়ী আম্মা রাগ করবেন! হা হা হা…।

      শুভেচ্ছা। আশা করছি মাঝে মাঝে এসে দেখে যাবেন। খুশি হব। রান্না একটা বিশেষ গুন এটা ছেলেরা জানলে আরো ভাল হয়। রান্না জানুন, নিজকে সকল কাজের কাজী করুন!

      Like

  6. সেদিন মলা মাছের সমান সমান বাইল্যা মাছ কিনেছিলাম। এগুলোকে লবন, আদা, কাঁচা মরিচ বাটা, সামান্য চিনি আর সয়াসস দিয়ে মাখিয়ে রেখেছিলাম। তারপর বিকালে চিকেন ফ্রাইয়ের মিক্স দিয়ে মাখিয়ে ভেজেছিলাম। আমার ছেলে খুব পছন্দ করে খেয়েছে। কাটা সহই খাওয়া যায়। ছোট বাচ্চারা সাধারনত ছোট মাছ খেতে চায়না। ওদের এভাবে ভেজে দিলে মনে খেতে আপত্তি করবেনা। (মাছ না খেতে চাওয়া ছোট বাবুদের মা দের জন্য এই কমেন্ট।)

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আসলে রান্নাটা হচ্ছে একটা বুদ্দির ব্যাপার। আপনি রান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেন বলে বুঝতে পারছি। হ্যাঁ, শিশুদের জন্য নানান খাবারের কথা আমাদের চিন্তা করা উচিত। যেভাবে খেতে চায় সেভাবেই তৈরী করে দেয়া দরকার।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  7. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s