গ্যালারি

ছবি ব্লগঃ মাৎস্য প্রদর্শনী (আড্ডা পোষ্ট ২ – পিতা পুত্র!)


পিতা হিসাবে ছেলের ছবি তুলতে কে না চায়? তা ছাড়া এখন ছবি তোলার যুগ, খরচা পাতি নেই বললেই চলে! ডিজিটাল ছবির তেমন কোন খরচ নেই। মোবাইলে বা ক্যামেরায় ছবি তুলে সরাসরি কম্পিউটারে রেখে দেয়া যায়। কম্পিউটার পছন্দ না হলে সরাসরি নেটে! ঝামেলা বিহীন, দুনিয়ার যে কোন প্রান্ত থেকে দেখা যায়। খাতা বই পত্রের দরকার নেই! তাই এই সুযোগ কাজে না লাগালে কি করে চলে?

আমার ছেলে দিনের পর দিন বড় হয়ে উঠছে। আমি ওকে মাঝে মাঝেই ছবি তুলতে বলি। কিন্তু ও কিছুতেই ছবি তুলতে পোজ দিতে চায় না। কিন্তু ছবি গুলো তুলে না রাখলেং আমি চা ও বড় হয়ে আবার আমাকে বলতে পারে, আমার ছোটবেলার ছবি কোথায় কিংবা ছোট বেলায় আমি দেখতে কেমন ছিলাম? অন্য দিকে সে যদি বিখ্যাত হয়ে যায় তখন এই ছবি গুলো ওকে আনন্দ দিবেই। আমি যখনই ওকে ছবি তুলতে বলি তখন সে মুখ বাকা করে ফেলে। ধীরস্থির হয়ে কখনো ছবি তুলতে দেয় না! কিন্তু ছোটবেলায় (বয়স যখন এক/দেড়) আমি লক্ষ করি ও মাছ ধরতে খুব পছন্দ করে, যে কোন মাছ হাতে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়। এর পর থেকে আমি বাজার থেকে কোন মাছ আনলে ওকে হাতে ধরিয়ে দিতাম, ও মাছ নিয়ে খেলা করত এবং আমি চান্সে কিছু ছবি তুলে নিতাম। মাছ নিয়ে ওর অনেক ছবি আমার কাছে আছে। তিন বছর বয়সে সে বড় বাইম মাছ নিয়ে খেলা করে আমাকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। ভয়ডর নেই!

তার পর থেকে এটা মোটামুটি একটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়, বড় মাছ আনলেই আমি ওকে একটা বিশেষ জায়গায় দাঁড়িয়ে (ফ্রীজের কাছে) ছবি তুলি। মাছ নিয়ে ছবি তুলতে তার কোন অলস্য নেই, তবে এখন কিছুটা গাইগুই করে, বলে ‘বাবা, তুমি আবার আমাকে নেটে পচাবে না তো?’। আমি হাসি, আরে বেটা নেটে তো তোমার মাছ ধরার ছবিই বেশী। কয়েকদিন আগে ওকে নেটে গুগলে ওকে ওর নাম লিখে সার্চ দিতে বললাম। সার্চ দিয়ে ও আমার উপর মোটামুটি প্রথমে ক্ষেপে গিয়েছিল। মাছ ধরা ছাড়া কোন ছবি নেই, আমি ব্যাখ্যা দিলাম, তুমি কি ভাল ছবি তুলতে আমাকে চান্স দিয়েছো কোনদিন? কিছুটা বুঝতে পেরেছে বলে মনে হল!

সে যাই হোক, নেটে আমি ওকে বুলেট হিসাবে ডেকে থাকি, এইটা ওর ভার্চুয়াল নাম। এই নামটা সে খুব পছন্দ করে। বুলেটের মত তার কাজকারবার বলে আমি এই নাম দিয়েছিলাম। বড় হয়ে উঠছে, আজকাল মাছের চেয়ে বেশি পছন্দ হচ্ছে গিটার! চলুন আরো কিছু ছবি দেখি।


বিরাট এই সুরমা মাছটা কিনেছিলাম আগোরা থেকে।


কার্ফু মাছ! এই ধরনের মাছ দেখতে বেশ,খেতে তেমন মজা নেই।


শোল মাছ, এই ধরনের মাছ ওর খুব প্রিয়। এই ধরনের মাছ নিয়ে সে খেলে সময় কাটাতে পারে।


বোয়াল মাছ। বিরাট এই বোয়াল মাছ দেখে সে খুব খুশী হয়েছিল।


মাথাটা দেখতে সাপের মত। এই মাছের নাম এখন আর আমারো মনে নেই। খুঁজে বের করতে হবে। এই মাছের রেসিপি দিয়েছিলাম।


গ্রাস কাপ। মাছের লেজ উঁচিয়ে ধরে প্রমান করতে চায়, হাতে শক্তি আছে!


বাইম মাছ। এটা ধরা আর অজগর সাপের বাচ্ছা ধরা প্রায় এক কথা!


প্রায় কেজি খানেক ওজনের এই তেলাপিয়া আমার কাছে বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। কারন বেইলী রোডের আমার বন্ধুর পুকুরে এই মাছটা আমি ধরেছিলাম এবং এটা দিয়ে বারবি কিউ বানিয়ে খেয়েছিলাম।


মাছ ধরতে ধরতে একদিন সে আমার কাছে একটা গিটার চেয়ে বসল। এবারের প্রহেলা বৈশাখে তার সেই ইচ্ছা পুরন করে আমি খুশি হলাম। স্কুল থেকে ফিরে এসে গিটার দেখে কেমন খুশি হয়েছিল সেটা আমি ধরে রাখতে ভুলি নাই!

আমাদের বাপ বেটার আড্ডা চলবেই! আপনাদের সবাইকে আমাদের শুভেচ্ছা।
ছবি ব্লগঃ মাৎস্য প্রদর্শনী (আড্ডা পোষ্ট ১ – পিতা পুত্র!)

Advertisements

14 responses to “ছবি ব্লগঃ মাৎস্য প্রদর্শনী (আড্ডা পোষ্ট ২ – পিতা পুত্র!)

  1. উদর,

    যে মাছটার নাম মনে নেই সেটা বাটা মাছ, কোথাও কথাও খসল্লা নামে পরিচিত।

    যেটাকে সিলভার কার্প বলেছো সেটা সিলভার কার্প নয়। গ্রাস কার্পের সাথে মিল আছে।

    সেটাকে কার্ফু বলেছ সেটা মিরর কার্প।

    আমাদের দেশে কার্ফু বলে যে মাছটিকে সেটা অন্য মাছ।

    Like

    • ধন্যবাদ ব্রাদার। আপনার মন্তব্য পেয়ে খুশি হলাম। আমি নামধাম আজকাল আর তেমন মনে রাখতে পারি না। এই দেখি, এই ভুলি। কেমন তালগোল পাকিয়ে ফেলি। সে যাই হোক, নাম গুলো ঠিক করে দিচ্ছি। আপনাকে শুভেচ্ছা। আশা করি মাঝে মাঝে আমাদের রেসিপি গুলো দেখে যাবেন।

      Like

  2. আঙ্কেল,কয়েকটা মাছের নামে ভুল আছে।যেমন প্রথম মাছটা সুরমা না,টুনা(আমিও নিশ্চিত না)।আবার কার্ফু মাছ এই রকম না।

    আপনার ব্লগে প্রথম কমেন্ট দিলাম যদিও এই ব্লগের সাথে আমার অনেক আগে পরিচয়।ভালো থাকবেন।

    Like

  3. ঊদর,

    তামি তোমার ফেইসবুকে দেয়া রেসিপি পড়ি মন দিয়ে। আগে চতুরেও পড়তাম।

    বাইন মাছের রেসিপিটা সোজা। এরপর বাজারে গেলে বাইন মাছ আনবো।

    Like

  4. উদর,

    সুরমা মাছ ঠিকই আছে। টুনাকে বাংলায় বলে সুরমা। এটা সামুদ্রিক মাছ। নুন দিয়ে সেদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে ঊস্টার সস (Worcestershire sause) কেজিতে ১০ ফোঁটা, ফিশ সস ২ টেবিল চামচ,, সয়া সস (kikoman),১ টেবিল চামচ, ওয়েস্টার সস ১ টেবিল চামচ ও কালো গুল মরিচের গুড়ো (সদ্য গুড়ো করা) দিয়ে মাখিয়ে ডিসে সাজিয়ে ঠান্ডা করে তাতে ২ টেবিল চামচ মেওনিজ টপিং দিয়ে ফ্রিজে আরো ঠান্ডা করে পরিবেশন কর।

    টুনা সমুদ্রের স্বাদুতম মাছ গুলোর অন্যতম।

    Like

  5. ছবি ব্লগঃ মাৎস্য প্রদর্শনী (আড্ডা পোষ্ট ২ – পিতা পুত্র!)
    শুধুই তো পুত্রের ছবি দেখছি। পিতার ছবি কই?
    আপনার ছেলেটা অনেক কিউট। এই আন্টির পক্ষ থেকে ওর জন্য রইল অনেক আদর, ভালবাসা ও আশীর্বাদ। অনেক বড় হও বুলেট সোনা। আরেকটা কথা, বুলেটের আসল নাম কি? শুভ কামনা রইল আপনাদের সবার জন্য।

    Like

  6. আপনার ছেলের ছবি দেখে ভাল লাগল। আশা করি সে বড় হয়ে বিখ্যাত হবে।

    Like

  7. ha ha ha… apnar model!

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s