গ্যালারি

রেসিপিঃ তেলাপিয়া বারবি কিউ (মাছটা আমারই ধরা!)


মোটামুটি প্রায় প্রতিদিন আমরা কয়েক বন্ধু বেইলী রোডে আড্ডা দেই, চা খাই! এই আড্ডার বৈচিত্র হচ্ছে, আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে মাছ ধরে যায় আমাদের এক বন্ধু। সেই বন্ধুর পাশে বসে আমরা কত কথা বলি। বেইলী রোডে একটা বড় পুকুর আছে এটা ঢাকায় বসবাসকারী অনেকে জানেন না। নাভানা বেইলী স্টার শপিং কমপ্লেক্স এর পিছনের এই পুকুরের সৌনদর্য্য আপনি না দেখলে বুঝতে পারবেন না। সন্ধ্যার শীতল  বাতাস আমাদের মন জুড়িয়ে দেয় সব সময়েই।

আমাদের মাছ বিশারদ বন্ধু আমাদের প্রায় মাছ ধরতে বলে এমনকি মাছ ধরার ছিপ এবং যাবতীয় ব্যবস্থা সে করে দিতে চায় কিন্তু আমরা অনেকে সেই ধৈর্য দেখাতে পারি না। আমরা পাশে বসেই থাকি, তবে মাঝে মাঝে অনেক চেষ্টা করে থাকে। আমি কয়েকবার মাছ ধরা এটেম নিয়ে আর পারি না। এই ধৈর্য আমার নাই। কিন্তু কয়েকদিন আগে আমার সেই বন্ধুর বাসায় মেহমান আসায় সে উপরে চলে যায় আমি মাছ ধরতে তার চেয়ারে বসি এবং হিট করে ফেলি! আই মিন আমি একটা বড় তেলাপিয়া মাছ বড়শিতে আটকে ফেলি এবং কুলে উঠিয়ে ফেলি। মাছটা আমি আমার সেই বন্ধুকে বলে বাসায় নিয়ে আসি (সেদিন অবশ্য উক্ত বন্ধুর বাসায় আমাদের দাওয়াত ছিল এবং দেরীতে বাসায় ফিরেছিলাম, হাতের মাছ দেখে আমার ব্যাটারী কিছু বলেন নাই! মাছটা ভাল কাজ দিয়েছিল। প্রমান করতে পেরেছিলাম, আমরা শুধু আড্ডাও মারি না, কাজের কাজও করে থাকি।)


তেলাপিয়া এবং আমার মডেল! নিজের ধরা মাছ দিয়ে ফটো সেশন হবে না তো কি হবে!

যাই হোক, এই মাছ রাতে আর রান্না হয় নাই। পরদিন সুযোগ পেয়ে এই তেলাপিয়া দিয়ে কি করা যায় ভাবতেই ব্যাটারী জানালেন, চল তেলাপিয়া দিয়ে বারবি কিউ করি। যেহেতু মাছটা তাজা এবং নিজে ধরেছি তাই একটা ভাল স্বরনীয় রান্না হওয়া দরকার!

চলুন তেলাপিয়ার বারবি কিউ দেখে ফেলি!

উপকরন ও পরিমাণঃ
– একটা তেলাপিয়া মাছ
– এক টেবিল চামচ বারবি কিউ সস
– এক টেবিল চামচ টমেটো সস
– এক চা চামচ ওয়েষ্টার সস
– এক চা চামচ ভিনিগার
– হাফ চা চামচ চিনি
– সামান্য পাপড়িকা (না থাকলে নাই, আমাদের আছে বলে দিয়ে দিয়ে শেষ করছি!)
– পরিমান মত লবন
– পরিমাণ মত তেল

প্রস্তুত প্রণালীঃ

সামান্য তেল যোগে উল্লেখিত সব মশলা মিশিয়ে নিন।


এবার মাছটা মাখিয়ে আধাঘন্টার জন্য মেরিনেটেড করে রেখে দিন।


ফাঁকে চুলা তৈরী করে নিন। শহরে কায়লা চুলা কোথায় পাবেন, তাই বুদ্ধি খাটিয়ে গ্যাসের চুলাকেই কাজে লাগান। শিকে তেল লাগিয়ে গরম করুন।


এবার মাছটা রেখে দিন। সামান্য আঁচে উলটা পালটা করে দিন।


এক পিঠ হয়ে গেলে অন্য পিঠ।


আগুনের ছবি তোলা সহজ কাজ নয়, ক্যামেরার অফশন ঠিক করে নিতে হয়!


এবার একটা পুরানো কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে মাছটা দিয়ে দিন, ঢাকনা দিতে ভুলবেন না। এটা এই জন্য করা হয়েছে যে, গ্যাসের চুলায় মাছটা পুড়ে যাচ্ছিলো কিন্তু মাছের ভিতরটা সিদ্ব হচ্ছিলো না। কয়লার চুলা হলে পুরাই পুড়িয়ে করা যেত।


নিম্ম আঁচে কিছুক্ষনের মধ্যে এমন হয়ে যাবে। ভিতরটা মজে যাবে।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। একটা ডিস বানাতে যে সময় লাগে খেতে তেমন সময় লাগে না!

চমৎকার আয়োজন। মাঝে মাঝে এমন আয়োজন না করলে কি চলে?

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

9 responses to “রেসিপিঃ তেলাপিয়া বারবি কিউ (মাছটা আমারই ধরা!)

  1. তাজা মাছ দিয়ে এই ধরনের রান্নার তুলনা চলে না। দেখেই খেতে লোভ হল। আপনি রেসিপিতে আমার দেখা সেরা ব্লগার। ভাল থাকুন।

    Like

  2. Apner bondhur namta ki jante pari, chana chana mone hoccha.

    Like

  3. এতো বড় তেলাপিয়া মাছ । তেলাপিয়া মাছ ভাজা খেতেই মজা । আপনার মতো করে করে দেখার সুযোগ নেই , কারণ এগুলো যোগার করা ঝামেলার ।

    Like

  4. মডেল মনে হয় মডেল হয়ে খুশি না। যাই হোক শেষে কিন্তু দারুন দেখতে হয়েছে। খেতেও নিশ্চয়ই ভালো হয়ে ছিল।

    Like

  5. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s