Gallery

রেসিপিঃ ঝাল গরুর গোসত রান্না (‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’ ফেবারেট)


পরিবারে খাদ্য ব্যবস্থাপনা একটা কঠিন কাজ। পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ জন হলেও যে কষ্ট ৪০ জন হলেও সেই কষ্ট! প্রত্যেক মানুষের মুখের স্বাদ আলাদা এবং মনের/শরীরের চাহিদাও আলাদা। আপনি যদি এই ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত হয়ে থাকেন তবে বুঝতে পারবেন। হাতে কিছু বা মাথায় কিছু নিয়ে রান্নাঘরে গেলেই দেখবেন চোখে ভেসে উঠবে, এ এটা খায় না সে সেটা খায় না। সুতারাং আপনি যখন রান্না করবেন তখন দেখা যাবে এই রান্না সে খাবেই না, তাই তার জন্য আবার অন্য কিছু ভাবতে হয় বা করতে হবে। আমাদের পরিবার গুলো হচ্ছেই এমন।

অবশ্য এর প্রধান কারন আমাদের দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা। দেশে এখনো কোন জাতীয় খাবার ঠিক করা হয় নাই (হলে আমার জানা নেই) বলে আমরা সবাই আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দের খাবারকেই প্রধ্যান্য দেই। হা হা হা… পৃথিবীর অনেক দেশের জাতীয় খাবার আছে, আপনি যেখানে যাবেন সেই খাবার পাবেনই। ছোট বেলা থেকে সেই খাবার দেখে দেখে সবাই সেই খাবারকে গ্রহন করার জন্য তৈরী হয়ে থাকে। আমাদের সমস্যার অন্ত নেই। পরিবারে এটাও একটা সমস্যা! আমাদের এক বছরের পোলাও নিজের পছন্দ চিনে! হা হা হা…

পরিবারের আর্থিক স্বছলতার উপর নির্ভর করে যিনি এই ব্যবস্থাপনা করে থাকেন তিনি হচ্ছেন ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’। এখন কথা হচ্ছে এই ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’ কি করে এমন ব্যবস্থাপনা করে থাকেন। বিষয়টা আমরা যত সহজভাবে চিন্তা করছি আসলে তা নয়, বেশ কঠিন। প্রতি ওয়াক্তে ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’কে মাথা খাটাতে হয়। আমি রান্না যখন জানতাম না তখন আমিও ভাবতাম এটা সহজ কাজ, এখন বুঝি, কত ধানে কত চাল! সারাদিন মনে হয় শুধু খাদ্য চিন্তা!
– সকালের নাস্তা
– বেলা এগারটায় হালকা কিছু
– দুপুরের খাবার
– বিকালের নাস্তা
– সন্ধ্যায় কিছু
– রাতের খাবার
এইতো হচ্ছে সারাদিনের সাধারন অফিশিয়াল ব্যাপার! এর ফাঁকে ফাঁকে এসেও শিশুরা বলে, ‘কি খাব, কি খাব’ ‘খুদা লাগছে’ ‘আমি এটা খাব, ওটা খাব’ ইত্যাদি। ঘরে এটা থাকলে বলে ওটা চাই। ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’ কি যে ধৈর্য তা বলে বুঝানো কষ্ট কর। সালাম যেই সব ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’দের যারা এমন কষ্ট স্বীকার করে পরিবার ধরে রাখেন, বড় করেন কিন্তু শেষ বয়সেও তিনি তার প্রতিদান পান না। ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’দের আমি এই ভেবে সন্মান জানাই। আমি নিজে এই পারিবারিক প্রত্রিয়ায় যুক্ত না হলে ব্যাপারটা বুঝতেই পারতাম না। প্লিজ, আপনারা যারা এই ব্লগ পড়ছেন তাদের এই বিষয়টা ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই।

চলুন আজ সেই সব ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’দের একটা পছন্দের খাবার রান্না করি। এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি এই সব ‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’রা ঝাল বেশি পছন্দ করেন কিন্তু শুধু নিজের কথা ভেবে তা করেন না। (তবে ঝাল সব সময়ে এড়িয়ে চলা উচিত, ঝালের শেষ ভাল নয়)

উপকরনঃ

– গরুর গোসতঃ এক কেজি, হাড্ডি গুড্ডি সহ। (ছবিটা গোসত কাটার পর, ধোয়ার আগে)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ হাফ কাপের কম
– রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ
– আদা বাটাঃ দেড় টেবিল চামচ
– দারুচিনিঃ ২ সেমি, ২/৩ টুকরা
– এলাচিঃ ৩/৪ টা
– লাল মরিচ গুড়াঃ পরিমানের চেয়ে একটু বেশী (হা হা হা, ঝাল বেশী বলেই ঝাল গোসত বলছি)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– লবন পরিমান মত
– তেলঃ এক কাপের কম
– পানি (পরিমান মত)
– তিনটে মাঝারি পেঁয়াজ কুঁচি (বেরেস্তার জন্য)

প্রনালীঃ

তেল গরম করে তাতে প্রথমে গরম মশলা (এলাচি, দারুচিনি) দিন। এর পর একে একে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা দিয়ে ভাজি। লবন দিতে ভুলে গেলে চলবে না!


এবার হলুদ ও মরিচ গুড়া। সাথে হাফ কাপ পানি।


ব্যস হয়ে গেল ঝোল। ভাল করে ভেঁজে কষিয়ে নিন। এক সময় তেল উপরে উঠিয়ে নিন।


ঝোল হয়ে গেলে এবার গোসত দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন


মধ্যম আঁচে আরামসে ঢাকনা দিয়ে ১৫/২০ মিনিট পার করে দিন। গোসত থেকে পানি বের হয়ে যাবে এবং গোসত সিদ্ব হতে থাকবে।


এটা মাঝামাঝির একটা ছবি। গোসত এখনো ভাল করে নরম হয় নাই। প্রয়োজনে আরো দুইকাপ গরম পানি দিতে পারেন এবং মধ্যম আঁচে আরো রেখে দিন, মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেবেন। (সিরিয়ালে বা অন্য কাজে ভুলে গেলে খবর আছে!)


গোসত মজে যাবেই। এবার পেঁয়াজ কুঁচি ভেঁজে (বেরেস্তা) গোসতের উপর ছিটিয়ে দিন।


আরো কিছু সময় জ্বাল দিন এবং চুলা বন্ধ করে ঢাকনা দিয়ে রেখে দিন। তবে এই পর্যায়ে ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলতে পারেন।


কিছুক্ষন পর ঢাকনা উন্টালে এমন অবস্থায় পেয়ে যাবেন। ব্যস হয়ে গেল।

আপনি ভেবে বসে থাকবেন না যে, যিনি আপনার জন্য রান্না করেন তিনি আপনার জন্য রান্না করে দিতে বাধ্য, এটা ভুল চিন্তা। তিনি আসলে আপনাকে ভালবাসেন বলেই আপনার জন্য রান্না করেন, তিনি আসলে আপনাকে দয়া করেন। তাই যিনি রান্না করেন তাকে বেশী সন্মান করুন, তার চাহিদার দিকে খেয়াল রাখুন।

খাইয়েও যে কারো জীবন নষ্ট করে দেয়া যায়, এটা নিয়ে আর একদিন গল্প করবো। রান্নায় মশলাপাতি এদিক সেদিক করে কি করে জীবন শেষ করে দেয়া যায়, সেটা অন্যদিন আলোচনা করা যাবে। আজ এখানেই।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

17 responses to “রেসিপিঃ ঝাল গরুর গোসত রান্না (‘মা’ বা ‘গৃহকর্ত্রী’ ফেবারেট)

  1. this is my all time feb curry . boiled rice or paratha…… l can eat until my nose ….. 🙂

    Like

  2. this is my all time feb curry . boiled rice or paratha…… l can eat until my nose ….. 🙂 anjuman

    Like

  3. sorry , forget to mansion ur writing on my comment …. every day few time l visit this page….only to read ur writing…….anjuman

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। গল্প করতে আমারো ভাল লাগে। আসলে এই গল্প গুলো আমাদের ভেবে দেখা দরকার। আমার জন্য যিনি রান্না করেন, তিনি কি আমাকে দয়া করেন না, তিনি কি আমাকে ভালবাসেন না! রান্না কি তার ইচ্ছার ব্যাপার নয়। জোর করে কি কাউকে দিয়ে রান্না করা যায়…।। কত কি আছে। হা, এই সব নিয়ে আমারো লিখার ইচ্ছা আছে। আশা করি সাথে থাকবেন। শুভেচ্ছা।

      Like

  4. Jhal-jhal rannar kotha shunle-e jibE pani ashe kintu ami jhal ekebare-e khete pari na. KhulnaR BK Roy roadE Shilpi apa’r ranna mangsher kotha konodin vulbo na. marattok shad r chokh jurano…speciality holo eta ranna hoy nere nere ebong pani na dia…oshim dhoirjer bepar…amr ek porichito chhoto vai achhe, or goru ranna-o oshadharon…kom aache dhakna aata/moyda dia aatkano thake…

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। আসলে সব কিছুই আমাদের শরীর। আমাদের শরীর এক সময় একটা কিছু সইতে পারে। সব সময় সব কিছু সইতে পারে না। ঝাল এক সময় খাওয়া যায় বটে কিন্তু এটা সব সময়েই শরীরের সমস্যা তৈরী করে। হ্যাঁ বোন, রান্নায় যারা ধৈর্য দেখায় তারাই ভাল রান্না করতে পারে। ছোট ভাইয়ের জন্য শুভেচ্ছা থাকল, কম আঁচে প্রচুর সময় নিয়ে এই রান্নার কথা শুনে লোভ লাগছে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. আমি কি পড়তে ভুল করলাম? আলুটা কোন স্টেইজে গিয়ে দিলেন?

    Like

    • ধন্যবাদ আনোয়ার ভাই,
      আমরা এই রেসিপিতে আলু দেই নাই। শেষ ছবিটা দেখে হয়ত আপনি আলু ভাবছেন। না, সে গুলো মাংশের চর্বির টুকরা।
      শুভেচ্ছা। আশা করছি মাঝে মাঝে এসে আমাদের দেখে যাবেন।

      Like

  6. Facebook id shate jodi Add kora gale valo hoto.

    Like

  7. উদরাজী ভাই আছেন কেমন? আমি আপনার সাইটে আসি খুব নিয়মিতই, কিন্তু চাকরী পড়াশোনার ফাঁকে আর কমেন্ট করা হয়ে ওঠে না। নতুন ভাতিজা ব্যালটের আগমনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা….

    এই রান্নাটা কয়েকদিন আগে করেছি, খেতে দারুণ হয়েছে! আমি গরুর মাংস ঠিক মত রাঁধতে পারিনা, কি জানি ক্যারাব্যারা লেগে যায় প্রতিবার, আর এই রান্নাটা চেটেপুটে খেয়ে আমার স্ত্রী বলেছেন, যাক তুমি তাহলে গরুর মাংসও ঠিক মত পারলে! আমি বললাম, থ্যাংকস টু উদরাজী ভাই এন্ড হিজ ব্লগ 🙂

    আমি কিন্তু আপনার সব ব্লগই নিয়মিত পড়ি, আপনার লেখার ধারা অব্যাহত থাকুক, এই আশা করি।

    Like

    • ধন্যবাদ রনি ভাই।
      আপনি ব্যস্ত আছে সেটা আমি বুঝতে পারি। আগে জীবন গড়ে নিন। আমার লেখা গুলো থাকবে, পরেও পড়ে নিলে চলবে।

      আপনি নিজেও ভাল রান্না করেন সেটা আমি আগেও দেখেছি এবং জানি।

      যাই হোক, গরুর গোসত ভাল রান্না করে প্রশংসা পেয়েছেন (স্ত্রীরা কিন্তু সহজে কিছু বলেন না) বা মুখের কথা বের করতে পেরেছেন, এটাই সার্থকতা! (আমার স্ত্রীও পাশে বসে আছেন, এই লেখাটা তিনিও পড়ছেন)

      আপনাদের ভালবাসাই আমাদের পাথেয়।

      আপনারা শুভেচ্ছা নিন এবং ভাল থাকুন।

      Like

  8. আচ্ছা ভাইয়া আমি notice করলাম আপনি আপনার রান্নায় তেজপাতা use করেন না। কেন জানতে পারি?

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      আগের রান্না গুলোতে তেজপাতার ব্যবহার দেখিয়েছি, বিশেষ করে পোলাও, গোশত রান্নায় অনেক দেখিয়েছি। এখন আর আমার কাছে তেজপাতার কোন বিশেষ গুরুত্ব মিলে না! হা হা হা। আসলে কখনো ভুলে, কখনো না থাকার কারনে!

      তবে আমি মনে করি, ঘরোয়া রান্নায় চাইলে বা না থাকলে অনেক কিছুই এড়িয়েও ভাল রান্না করা যায়। আর এদিকে আমি যেহেতু প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাই বোনদের জন্য রান্না করি, তাই আমি সহজ রান্না গুলো দেখাতে চাই বেশি, যাতে অন্তত তারা আগ্রহ নিয়ে রান্না শুরু করেন। পরে নিজেই জেনে নিজেই কত কি মশলা পাতি দেবেন বা দেবেনে!

      কোন এক পোষ্টে এক বোন লিখেছিলেন, উনার আম্মা আমার রেসিপি গুলো খুব বেশি পছন্দ করেন কারন আমি সব সময়ে বলি, না থাকলে নাই! মানে রান্না চলবেই।

      আশা করি বুঝাতে পেরেছি।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  9. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s