গ্যালারি

রেসিপিঃ সাজনে ডাটা (আমার মায়ের হাতের রান্না)


গত কয়েকদিন ধরে আমার আম্মা আমাদের বাসায় আছেন এটা আনন্দের। তিনি এখন আর রান্নাঘরে প্রবেশ করেন না বা আমরাই আর এটা হতে দেই না। আল্লাহর রহমতে তিনি বেশ আছেন এটাই আমাদের জন্য আনন্দের। আগামী মাসের ৯ তারিখে তিনি আবার প্রবাসী হয়ে যাবেন। গতকাল রাতে বাসায় ফিরার সময় বাজারে সাজনে ডাটা দেখে আমি হাফ কেজি কিনে নিয়ে এসেছিলাম। মাথায় ঘুরছিলো ডাল দিয়ে রান্না করব। কিন্তু আমার ব্যাটারী জানালেন ডাল দিতে তো প্রায় রান্না হয়, অন্য কিছু করো।

আমি আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম, সাজনে ডাটা দিয়ে আর কি রান্না করা যেতে পারে। তিনি জানালেন, আলু টমেটো দিয়ে সাধারন সব্জির মত করেও রান্না করা যেতে পারে। আমি আর একটু উৎসাহী হয়ে বললাম, আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি আপনি একটু রান্না চড়িয়ে দেবেন। হা, তিনি রাজী হয়ে গেলেন। আমার মনের আনন্দ, অনেকদিন পর মায়ের হাতের রান্না খাব।

আমরা সব কিছু রেডী করে উনাকে রান্নাঘরে নিয়ে গেলাম। উনাকে পূর্ন স্বাধীনতা দিয়ে আমি পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলাম মাত্র। উনার রান্নার ধারাবাহিকতা গুলো আমি ভাল করে খেয়াল করলাম।

উপকরনঃ

– সাজনে ডাটা, হাফ কেজি
– আলু মাঝারি তিনটে (লম্বা করে কাটা)
– টেমেটো, মাঝারি দুইটা
– কয়েকটা চিংড়ি মাছ (ছোট করে কাটা)
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুটো
– রসুন বাটা, এক টেবিল চামচ
– কাঁচা মরিচ, দুইটা
– লাল মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– লবন, পরিমান মত
– তেল, পরিমান মত
– পানি

প্রনালীঃ

কড়াই গরম হলে পেঁয়াজ কুঁচি দিয়ে তাতে তেল দেন এবং নাড়াতে থাকেন। (আমরা সাধারণত আগে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি দেই। আমি জিজ্ঞেস করতেই হাসলেন, বললেন, ব্যাপার না)


পেঁয়াজ কুঁচি গুলো হলদে হয়ে এলে তাতে টমেটো দিয়ে দিলেন।


তার পর রসুন বাটা, লবন এবং চিংড়ি মাছ দিলেন।


সাথে দিলেন গুড়া লাল মরিচ এবং হলুদ গুড়া।


সামান্য কষিয়ে নিয়ে এক কাপ পানি দিলেন। (আমি ঝোলের রং দেখে অবাক, কি সুন্দর!) এই ঝোল কষিয়ে নিলেন এবং তেল উপরে উঠে গেল।


এবার সাজনে ডাটা এবং আলু গুলো দিয়ে দিলেন এবং ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিলেন।


আবারো কষিয়ে ঠিক এমন অবস্থায় নিয়ে এলেন। (কিছু সময়ের জন্য ঢাকনাও দিলেন)


আমাকে দুটো কাঁচা মরিচ কেটে দিতে বললেন। তিনি আরো দুই কাপ পানি দিয়ে ঢাকনা দিতে বললেন।


কিছুক্ষন পর এমন অবস্থায় এসে গেল। (তিনি কাঁচা ধনিয়া পাতা আছে কি না জানতে চাইলেন, না বলাতে বললেন ‘আচ্ছা’) এবং ফাইন্যাল লবন দেখলেন, সামান্য এক চিমটি লবন দিলেন।  আমাকে বললেন মিনিট ৫ পরে যেন চুলা বন্ধ করে দেই। খাবার জন্য প্রস্তুত হয়েছে।


আমি বাটিতে ঢেলে নিলাম। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


বিশ্বাস করুন, একেই বলে রান্না, একেই বলে রং, একেই বলে স্বাদ। আজ দুপুরে আমি শুধু এই তরকারী দিয়েই খেয়েছি।

পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি সালাম। (মা দের নিয়ে আমার অনেক লেখার আছে, সময় নিয়ে লিখবো।)

(এত দ্রুত রেসিপি দেয়া এটাই প্রথম, ঘন্টা খানেক আগে রান্না এবং খাওয়া, আপনাদের দেখিয়ে দেয়া।)

Advertisements

11 responses to “রেসিপিঃ সাজনে ডাটা (আমার মায়ের হাতের রান্না)

  1. salam to aunty …..awesome colour…. they r real cook ……pry to ALLAH give her hayat .then we learn more….anjuman

    Like

  2. আন্টিকে সালাম জানাইয়েন। উনাদের রান্নায় নাড়ানাড়ির মধ্যেও একটা বিষয় আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় টেস্ট সেখান থেকে আসে!!

    আমাদের এলাকায় সজনে রান্নার চল খুব একটা নেই। তবে ইদানিং ছোট মাছ বা ডাল দিয়ে বাসায় রান্না হচ্ছে। ভালোই লাগে।

    Like

  3. সজনে ডাটা আগুনে পুড়িয়ে ভেতরের সব বের করে ডাল দিয়ে রান্না করা যায় (বাগার দিতে হবে)। আর ছোট ছোট যে আলু পাওয়া যায়, সেগুলো সেদ্ধ করে আধা ভেঙে সজনে ডাটার সাথে রান্না করা যায়।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। সজনে ডাটা আগুনে পুড়িয়ে রান্নার কথা জেনে ভাল লাগল। একই জিনিষ দিয়ে কত কি করা যায়। সজনে এখন একটা ভাল তরকারী হিসাবে দাঁড়িয়ে গেছে, এটা আমার কাছে ভাল লাগে। শহরের মানুষ আগে এটা খেত না এখন খাচ্ছে এটা বেশ ভাল লাগে।

      চান্স পেলে আবারো এই সিজনে কয়েকবার সাজনে খেতে চেষ্টা করব। শুভেচ্ছা।

      Like

  4. আর সজনে পাতা তো আমার খুবই প্রিয়। এই পাতা মসুরের ডাল, কাটা ছাড়ানো মাছ দিয়ে রান্না ও একটু টেলে কুচিয়ে পেঁয়াজ, মরিচ, সরিষার তেল দিয়ে ভর্তা…কতদিন যে খাই না!

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। হা, কতদিন সাজনে পাতা খাই নাই। এই জীবনে কয়েকবার খেয়েছিলাম। স্বাদ এখনো মনে আছে, গ্রামে গেলে মনে থাকে না, থাকলেই এবার আবার সেই স্বাদ নিয়ে আসবো। আমাদের বাড়ির উঠানে একটা বড় সাজনে গাছ ছিল।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. Bhai aj prothom apnar rannar ei page ta dekhchi………khub bhalo lagche…….apnar mayer hater ei sojne data amake nostalgic kore tuleche……sojne data amar khub priyo ekta khabar but ekhon ar khete pai na karon ami baire thaki tia pai na……..jai hok apni sojne data ar alu r sathe sorshe bata diye chocchori korte paren…..ektu jhal jhal ar vuna hobe……jhol thakbe na……khete besh bhalo….try korte paren. dhonnobad

    Like

    • ধন্যবাদ রানা ভাই,
      আপনার কমেন্টের জন্য শুভেচ্ছা জানাছি। হ্যাঁ, মায়েরা আমাদের শিখিয়ে থাকেন কি করে খাবার খেতে হয়। ছোট বেলার খাবার গুলো কিছুতেই ভুলে থাকা যায় না।

      সাজনে দিয়ে আপনি যেভাবে রান্নার কথা বললেন, নোটে তুলে রাখলাম। সাঞ্জে দিন আসছে, পেলে আবার আপনার মত করেই রান্না করবো।

      শুভেচ্ছা আবারো। আশা করছি মাঝে মাঝে আমাদের দেখে যাবেন।

      Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s