Gallery

রেসিপিঃ মাছ ও শুটকীর ঝোল (কি পেলাম তোমায় ভালবেসে!)


রুইমাছ আমার প্রিয় মাছের একটা। এই রুই মাছ আমি জীবনে অনেক অনেক কিনেছি এবং অনেক বড় বড়। তবে এখন আর তেমন কেনা হয় না, একে দাম বেশী তার উপর বড় রুই মাছে নাকি ফরমালিন থাকেই থাকে। এই ফরমালিন তথা খাদ্যে ভেজালের কথা শুনলে মনে হয় ওদের (ভেজালকারীদের) নিজ হাতে ফাঁসি দেই! ওরা মানুষের সন্তান হতে পারে না, যারা খাদ্যে ভেজাল মিশায় তারা কখনো মানুষের সন্তান নয়। সামান্য কিছু টাকার জন্য যারা এমন কাজ করতে পারে তাদের কাদের মোল্লার আগেই ফাঁসি হয়ে যাওয়া উচিত। এই সব ভেজাল খেয়ে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেলবো, নিজে হারিয়ে যাব এটা কিছুতেই হতে পারে না। একটা পরিবারে একজনের ক্যান্সার বা জটিল রোগ মানে হচ্ছে, সারা পরিবার শেষ হয়ে যাওয়া। সেই পরিবারের অবস্থা একবার চিন্তা করে দেখুন। এটা চলতে দেয়া যায় না, এই সব ভেজালকারীদের ফাঁসি দিতেই হবে!

আমাদের সবাইকে ভেজালের বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে। নুতন প্রজম্মের উত্থানে এই সব ভেজালকারীদের জন্য আমাদের এখুনি বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিতে হবে, এরা খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে একটা জাতি নষ্ট করে দিচ্ছে, এদের জন্য ফাঁসির ব্যবস্থা করুন। (আমি মনে করি, সরকার চাইলে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ মাত্র কয়েকদিনের ব্যাপার)

খাদ্য নিয়ে আসলে আমার মনে অনেক দুঃখ আছে। এমনিতে আমরা দরিদ্র জাতি হিসাবে অনেক কিছু না দেখে, না খেয়েই এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাই! তার উপর সামান্য যা কিছু খাই, তা ভেজাল মুক্ত হবে না কেন? কেন? কেন? ভেজাল মুক্ত হতেই হবে। ভেজাল দেখলেই প্রতিরোধ করুন, ভেজাল নিয়ে দোকানীদের বলুন, যেন তারা ভেজাল পন্য না বিক্রি করে। (সরকারকে আমি ধিকার দেই, জাতির জন্য সামান্য এটুকু করতে যারা পারছে না!)

ভেজাল নিয়ে ভাবতে গিয়ে মনের অবস্থা চরম করে ফেলেছি। রাগে ক্ষোভে এখন মনে হয় এই ভেজালকারীদের এবং তাদের পৃষ্টপোষকদের এখুনি ফাঁসি দিয়ে দেই! সে যাই হোক, চলুন আজ একটা মজাদার মাছের ঝোল রান্না দেখি। এই রান্নাটা আমার আম্মা প্রায়ই করতেন। মাছ ও শুটকী মিশিয়ে, ঝোল বেশী থাকত এবং সেই ঝোলে ভাতের রং হত উজ্জ্বল হলুদ, এখনো সব চোখের সামনে! এইতো সেদিনের কথা!


কাজ শুরু! রুইমাছের পেটির টুকরা এভাবে ছোট করে কেটে নিয়ে লবন দিয়ে ধুয়ে রাখুন।

উপকরণঃ (সাধারন রান্নাই বটে) 
– এক কাপ রুই মাছ, ছোট করে কাটা (শুধু ঝোলের উপর চাপ পড়বে!)
– একটা লইট্যা মাছ (ছোট পিস করে কেটে ভাল করে ধুয়ে নিন)
– পেঁয়াজ কুঁচি (হাফ কাপের কম)
– হাফ চা চামচ হলুদ গুড়া
– হাফ চা চামচ মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে)
– এক চা চামচ রসুন বাটা
– হাফ চা চামচ আদা বাটা
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– কিছু ধনিয়া পাতা কুঁচি
– পরিমান মত লবন
– পরিমান মত পানি
– পরিমান মত তেল

প্রনালীঃ

রান্নার পাতিলে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি সামান্য লবন যোগে ভাজুন। এর পর একে একে আদা রসুন ও কাঁচা মরিচ দিন এবং ভাজুন। মোটামুটি পেঁয়াজ গলতে শুরু করলে হাফ কাপ পানি দিন এবং কষান।


এবার হলুদ ও মরিচের গুড়া দিন এবং মিশিয়ে কষান।


আরো এক কাপ পানি দিন এবং লইট্যা শুঁটকীটা (পিস করে রাখা) দিয়ে দিন। কিছুক্ষন ঢাকনা দিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিন। একটা ঘ্রানে ঘর ভেসে উঠবে, হা হা হা… হা আপনার ঝোল হয়ে গেল। এখনে শুঁটকী মাছ পুরাই মিশিয়ে ফেলতে পারেন। এটা হচ্ছে মুল ঝোল।


এবার রুই মাছের ছোট পিস গুলো দিয়ে দিন।


আরো এক কাপ পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন মিনিট ২০ এর জন্য। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে পারেন।


যেহেতু ঝোল রান্না, তাই ঝোল বেশী কমাতে পারবেন না। মাছ নরম হয়ে যাবে এবং ঝোল দেখেই বুঝতে পারবেন। এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। ধনিয়া পাতার কুঁচি দিয়ে মিনিট দুয়েকের মধ্যেই নামিয়ে ফেলুন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। মাছ শুঁটকীর ঝোল।


আমি নিশ্চিন্ত এই ঝোল একবার খেলে বার বার খেতে চাইবেন। অসাধারন ঘ্রান এবং অসাধারন স্বাদ। (পরিবেশন করবেন গরম গরম ভাতের সাথে) হোয়াট এ কম্বিনেশন! প্লিজ একবার চেষ্টা করে দেখুন।

জীবনে কত কি খেলেন, এই মাছ শুঁটকীর স্বাদ নিন। আমি নিশ্চিত, আপনার প্রিয়জন আপনার হাতের এই রান্না খেয়ে বলবেনই, ভালবেসে জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি! হা হা হা…

(লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে বলি, মাছ রান্নায় আমাকে এখন আপনারা ছোট খাট ওস্তাদ বলতে পারেন! হা হা হা…)

শুভেচ্ছা সবাইকে। ভাল থাকুন।

Advertisements

10 responses to “রেসিপিঃ মাছ ও শুটকীর ঝোল (কি পেলাম তোমায় ভালবেসে!)

  1. l never eat shutki n fish together …..my husband don’t like smell of shutki that much……..but thinking to cook for me only….treating myself…….colour of ur carry always soooooo tempting ….. 🙂 …… anjuman

    Like

  2. এটা অসাধারন রান্না!
    সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষ শুটকি আর মাছ দিয়ে রান্না করে। আমিও যখন শুটকি(চ্যাপা/সিদল) দিয়ে কচুর লতি, মিষ্টি কুমড়া বা অন্য সব্জী দিয়ে শুটকি রান্না করি তখন তাতে মাছের মাথা, কাটা কিংবা কয়েক টুকরা মাছ দেই। বিশেষ করে ইলিশ বা ছোট চিংড়ি। আর অবশ্যই বোম্বাই মরিচ কেটে শুটকির তরকারীতে দেই।:p

    Like

  3. apu l have some frozen bombai chilli ….l will try…thanks…..anjuman

    Like

  4. নুরুল ইসলাম তালুকদার

    ফাটাফাটি লাগছে। ঝোলের রং চমৎকার। আমরাও মাছ শুঁটকী মিশিয়ে রান্না করি।

    Like

    • ধন্যবাদ ইসলাম ভাই, আমার জানা মতে চট্রগ্রাম বিভাগের প্রায় সকল মানুষ (এটা আমি আদি চট্রগ্রাম বিভাগের কথা বলছি!) মাছ শুঁটকী মিশিয়ে রান্না করে খেতে পছন্দ করে। হা হা হা… সত্য কিনা জানাবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. আমি চট্টগ্রাম এর মেয়ে এবং আমার আব্বা টাকি মাছ দিয়ে ছুরি শুঁটকি
    রান্না করতেন ভাবি বাবার বাড়িতে গেলে।অনেক মজা হত অনেক মিস করি।আবার কখন যে খাব

    Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  7. কখনও খাইনি মাছ শুটকি … ট্রাই করবো কিনা ভাবছি।

    Liked by 1 person

    • আরে বলেন কি বোন।
      মাছ শুঁটকীর রান্না একবার খেলে বার বার খাবেন। কারন অসাধারন একটা স্বাদ হয় এবং ঝোলের ঘ্রান মনে আলাদা আনন্দ এনে দেয়। আপনি একদিন এই রান্নাটা করে দেখুন, মজা না পেলে পুরো রান্নার খ্রচাপাতির টাকা আমি ফেরত দেব! হা হা হা…

      শুভেচ্ছা। প্লিজ, ট্রাই করুন!

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s