Gallery

রেসিপিঃ চালতার খাট্টা (চালতার টক/চুকা রান্না, আপনি কখনো খেয়েছে কি!)


বন্ধুরা, আজ আমি আমার পিতার পছন্দের একটা সাধারন রান্না আপনাদের সামনে পেশ করব। তিনি অবশ্য এখন আর এই দুনিয়াতে নেই, আমাদেরও একদিন এই স্বাদের দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। তার প্রিয় এই রান্নাটা খুব সাধারন, খুব সস্তা এবং সহজ রান্না।  আমি ছোট বেলা থেকে দেখেছি আমার বাবা, এই ধরনের রান্না খুব পছন্দ করতেন এবং এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে এবং কানে লাগে, আমার বাবার সেই ফুরুত করে টক খাবার দৃশ্য/শব্দ। আমার আম্মা প্রায়ই পাতলা ডাল, টক রান্না করতেন। কখনো শুধু ডাল, কিংবা টমেটো, কিংবা অন্য কিছু (আরো কত কি দিয়ে টক রান্না করা যায়, এই সময়ে মনে পড়ছে না) দিয়ে টক রান্না করতেন। বাবার অফিস বাসার কাছাকাছি থাকায় এবং দুইবেলা অফিস করতেন বলে তিনি দুপুরে বাসায় আসতেন এবং বিকালে আবার বের হয়ে যেতেন। আমরা বাসায় থাকলে দুপুরে সবাই মিলে একসাথে খেতে বসতাম। আমার চোখে এখনো সেই সব স্পষ্ট। দিন চলে যায়!

যাই হোক, আমাদের গ্রামের বাড়ীতে বেশ কয়েকটা চালতা (জিবে জল আনবেন না! এই নিয়ে আর কি বলব, কত চালতা পচে যায়, কেহ ফিরেও দেখে না! আহ) গাছ আছে। আর এখনই হচ্ছে সময়। কয়েকদিন আগে আম্মা বাড়ী থেকে এলেন, আমার জন্য বেশ কিছু নিয়ে এসেছেন (দেখেই প্রান জুড়ায়, সে গল্প আর একদিন হবে)। আমার ভাগে একটা চালতা পড়েছে! চালতা হাতে নিয়েই আমার বাবার কথা মনে পড়ে গেল। তার ফেবারেট চালতার টকের কথা (অবশ্য কাকতালীয় ভাবে কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধু এই চালতার টকের কথা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলো। সে রাস্তার ধারের একটা দোকানে চালতা দেখে কিনে বাসায় নিয়ে  টক রান্না করিয়ে নিয়েছিল, সেই গল্পও পরে হবে)। তিনি এই রান্না বেশ পছন্দ করতেন।

নিশ্চয়ই আপনাদের আর সইছে না! টকের কথা মনে হলে কার না জিবে জল আসে! চলুন দেরী না করে দেখে ফেলি চালতার খাট্টা (কত নাম যে আছে, কে জানে, নুতন কোন নাম থাকলে জানাতে ভুলবেন না)

রান্নাটা আমি ছোট বেলায় খাবার আইডিয়া থেকে করেছি, আপনারা চাইলে আপনাদের মত করেও রান্না করতে পারেন। আরো কিছু মশলা দিতে পারেন, আরো স্বাদ নিশ্চয় আপনাদের ভাল লাগবে। আমি বেসিক রান্নায় আছি। হা হা হা… চলুন, দেখে ফেলি।

উপকরণ ও প্রনালীঃ (একসাথে)

বাতি (পাকার কাছাকাছি কিন্তু পাকা নয়) চালতা নিন।


মাঝামাঝি কেটে ফেলুন।


তারপর চামড়া খসিয়ে মনের মত করে কিছু টুকরা নিন। মুখে রস নিয়ে দেখুন, কেমন টক বা কেমন কষ, টকের উপর ভিত্তি করে পরিমান নিতে পারেন। এভাবে চালতা গুলো নিয়ে একটা হামানদিস্তা বা পাটা পুতা দিয়ে ভাল করে চেঁছে নিন। চাইলে বা বেশি কষ থাকলে চেঁচার পর সামান্য লবন দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। এতে টক/কষ বেশি হলে কমে যাবে।


তারপর একটা খোলা হাড়ি নিয়ে চালতা দিয়ে হাড়ির কান্দা পর্যন্ত পানি দিন এবং নিন্মের মশলা/ভেজষ দিন।
– দুইটা মাঝারি পেঁয়াজ কুচি
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া
– এক চিমটা মরিচ গুড়া (এটা শুধু রং এর জন্য, কালার কম্বিনেশন মাত্র)
– এক চিমটি আদা কুচি, না হলেও চলবে মনে হয়
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– সামান্য লবন
এবং জ্বাল দিতে থাকুন।


আপনি যতক্ষন না টকে (মাঝে মাঝে টক জিহ্বায় লাগিয়ে, চামচ দিয়ে, সাবধানে) রাজী হবেন, ততক্ষন জ্বাল চলবে। এমনকি পানি কমে গেলে আবার পানি দিতে পারেন।


টক ঠিক লাগলে কিছু ধনিয়া পাতা দিয়ে দিন এবং মোটামুটি রেডী টক চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।


কয়েক চামচ তেলে কিছু রসুন কুচি ভাজুন, রসুন বাগার দিতে হবে।


রসুনের রং হলুদ হয়ে এলে টকের পাতিল থেকে কিছু টক ঢালুন। কাজটা করতে হবে সাবধানে, লক্ষ রাখবেন যাতে হাতে, গায়ে গরম টক (ছিটকা) না লেগে যায়। এই কাজে দরকার হলে অন্য কারো হেল্প নিতে পারেন। আমি আমার ব্যাটারীর হেল্প নিয়েছিলাম।


এবার কড়াইয়ের টক (বাগার দেয়া) পুনরায় পাতিলে ঢালুন এবং কিছুক্ষন মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। সাথে ফাইন্যাল লবন এবং স্বাদ দেখুন। লবন লাগলে দিন, স্বাদ ও টক (চুকা) বাড়াতে আরো জ্বাল দিতে পারেন।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। আমার প্রিয় সোনার দেশের সোনার খাবার, দেখেই প্রান জুড়ায়।


আমি পুরা এক প্লেট ভাত এই টক বা চুকা দিয়ে খেয়ে উঠেছি। মনে হয়েছে, অনেকদিন পর কিছু খেলাম!

আজ আমার বাবা বেঁচে থাকলে আমার এই রান্না দেখে অনেক খুশি হতেন, কারন আমি আমার বাবাকে দেখিছি, সামান্যতেই তিনি অনেক খুশি হতেন। হয়ত আরো খুশি হতেন এই ভেবে যে, তার ছেলে এখন রান্না করতে জানে!

বাবা, ভাল থেকো।

13 responses to “রেসিপিঃ চালতার খাট্টা (চালতার টক/চুকা রান্না, আপনি কখনো খেয়েছে কি!)

  1. একইভাবে কি অন্য কোন ফল দিয়ে এটা করা যায় ভাইয়া? যেমন কাঁচা আম বা জলপাই?

    Like

  2. ঠিক এইভাবে আমার মাও রান্না করেন। তবে আপনি রসুন ফোড়ন দিয়েছেন আর আমার মা দেখছি জিরা ফোড়ন না হয় পাচফোড়ন দিয়ে সম্ভার দিতেন। আর বাকি পদ্বতি একই রকম।

    Like

    • বাগার বা সম্ভার দিলে যে কোন তরকারী আরো স্বাদের হয়ে যায়।
      ধন্যবাদ বোন। পাঁচফোড়ন আমাদের বাসায় আছে, আগামী কোন রান্নায় ব্যবহার করবো।
      আপনার আম্মাকে আমাদের সালাম পৌঁছে দেবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. Bhai, Apnake niya ar para galo na. Apni amader choto belar kotha mone koriya dicchen.

    Like

  4. টক খুব একটা খাই না। তবে… আপনার রেসিপিটা সুন্দর।

    আমাদের চালতা গাছ আছে। প্রতিবছর মিষ্টি আচার বানানো হয়। খেতে ভালো লাগে।
    এবার এই ধরণের কিছু করতে বলব।

    Like

  5. চালতার আচার আমার বেশ প্রিয়। আজ চালতার আরেকটি রেসিপি দেখলাম। হ্যাভ টু ট্রাই ইট!

    Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s