গ্যালারি

রেসিপিঃ কাঁচা টমেটো এবং মুশরী ডাল


কাঁচা টমেটো এবং মুশরী ডাল দিয়ে এই রান্নাটা আমরা আমাদের গ্রামের বাড়ীতে অনেক খেয়েছি। আমার দাদী থেকে আমার আম্মা এই কম্বিনেশনের রান্না অনেক করেছেন। পরর্বতীতে শহরে বসবাস শুরু করলেও আমার আম্মা এই রান্নাটা ভুলেন নাই। বছরে দুই একবারতো হবেই, আমার বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন এবং সব কিছু তাজা, আমি আমার পিতাকে কাঁচা টেমেটো কিনতে দেখেছি! গ্রামের বাড়ীতে আমাদের টেমেটো ক্ষেত ছিল, ছিল পুকুরের চিংড়ী মাছ এবং এক সময়ে মুশরী ডালের চাষাবাদও করা হত (এখন আর চাষাবাদ নেই, সবাই শিক্ষিত হয়ে গেছি!)। মানে এই রান্নার জন্য বলতে গেলে বাজারে যেতেই হত না। আমাদের সংসারে এই রান্না বলতে গেলে হয় না। গত কয়েকদিন আগে বাজারে কাঁচা টেমেটো চোখে পড়লে কিনে নিয়ে আসি এবং রান্নায় লেগে যাই।

আধুনিক ছেলে মেয়েরা এই রান্না খেতে চাইবে না বলেই আমার ধারনা। ডালের সাথে কাঁচা টেমেটোর কম্বিনেশনটা ওদের কাছে ভাল ঠেকবে বলে মনে হয় না। ওরা ডাল মানেই পাতলা ডাল জানে? হা হা হা…। শিশুকালে যা খাবে তাই মনে থাকবে, শিশুকালে না খেলে মনে রাখবে কি!

যাক দেশের যা অবস্থা এখন তাতে বেশি কথা বললে মাথা ধরে যাবে! আমি আবার কারো মাথা ধরাতে চাই না। হা হা হা…।  চলুন রান্না দেখে ফেলি। কাঁচা টমেটো এবং মুশরী ডাল রান্না।

উপকরণঃ
– ৬/৭টা মাঝারি কাঁচা টমেটো
– এক কাপ চেয়ে কম মুশরী ডাল (যে কোন ডাল ঘন্টা দুয়েক বা তারো বেশী সময় ভিজিয়ে রাখা উত্তম)
– ছোট চিংড়ী (এক মুষ্টি, এটা শুধু স্বাদ বাড়ানোর জন্য, না থাকলে নাই, ছাড়াও রান্না স্বাদের হবে)
– হলুদ গুড়া (হাফ চা চামচ)
– লাল মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে, হাফ কিংবা এক চা চামচ)
– রসুন বাটা বা কুচি (এক চা চামচ)
– আদা বাটা (সামান্য)
– তিনটে মাঝারী পেঁয়াজ কুচি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (ঝাল বুঝে)
– ধনিয়া পাতা কুঁচি
– লবন (পরিমান মত)
– তেল ও পানি

প্রনালীঃ

টমেটো আগে ধুয়ে এভাবে কেটে রাখুন।


একটা হাড়িতে তেল গরম করে লবন যোগে পেঁয়াজ কুচি এবং ছোট চিংড়ী গুলো (আপনি চাইলে যে কোন চিংড়ী মাছ দিতে পারেন) ভাজুন।


এক কাপ পানি দিয়ে নিন এবং আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ গুড়া দিয়ে এবার ঝোল বানিয়ে নিন।


কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন। কষিয়ে ঝোলের উপর তেল উঠিয়ে ফেলুন। এমন দেখাবে নিশ্চয়।


এবার কাঁচা কাটা টমেটো দিয়ে দিন।


পানিতে ভিজিয়ে রাখা ডাল তুলে দিন। (যে কোন ডাল ঘন্টা দুয়েক বা তারো বেশি সময় ভিজিয়ে রাখা ভাল। আগের দিনে সারা রাত ভিজিয়ে রাখা হত)


ভাল করে মিশিয়ে নিন এবং নাড়ুন।


এবার এক কাপ বা তারো বেশি পানি দিয়ে নিন।


ঢাকনা দিয়ে মিনিট ২০ জ্বাল দিন। মাঝে মাঝে ঢাকনা উলটে দেখে নিন।


এবার কাঁচা ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন এবং ফাইন্যাল লবন দেখুন।  ডাল নরম/গলে গেল কিনা দেখে নিন, সব ডাল গলবে না, মাঝামাঝি একটা অবস্থায় রেখে দিন।


ঝোল কেমন রাখবেন তা আপনি নিধারন করুন।


নিন পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত! গরম ভাত কিংবা রুটির সাথে খেয়েই দেখুন না! আমি নিশ্চিত, আপনি ভুলতে পারবেন না।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

9 responses to “রেসিপিঃ কাঁচা টমেটো এবং মুশরী ডাল

  1. আমি এই ডাল রান্না করি শুধু ডাল আর টমেটো দিয়ে একটু পাতলা করে। চিংড়ী দিয়ে টমেটো ডাল এই প্রথম দেখলাম। একদিন ট্রাই করে দেখতে হবে কেমন লাগে। আপনার রেসিপির ছবে দেখেতো মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে।

    Like

  2. আমি এই ডাল রান্না করি শুধু ডাল আর টমেটো দিয়ে একটু পাতলা করে। চিংড়ী দিয়ে টমেটো ডাল এই প্রথম দেখলাম। একদিন ট্রাই করে দেখতে হবে কেমন লাগে। আপনার রেসিপির ছবি দেখেতো মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। তবে আমার একটা প্রশ্ন ডালে কি গুড়া মরিচ দিতেই হবে? সাধারনত দেখতাম আমাদের মাকে ডাল,ভাজি,সব্জি এসবে গুড়া মরিচ দেন না।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। আপনার কমেন্ট দেখে বুঝতে পারছি, আপনি রান্নায় বেশ মনোযোগী। আপনাকে অভিনন্দন জানাই।

      ডালে কি গুড়া মরিচ দিতেই হবে? না, সাধারণত ডাল রান্নায় মরিচ গুড়া দেয়া হয় না, এতে রান্না ডালের রং নষ্ট হয়ে যায়। তবে এখানে আমি যেহেতু ডালকে তরকারী (ভাল শব্দ পাচ্ছি না) হিসাবে ব্যবহার করছি তাই মরিচ গুড়া দিয়েছি। তবে অনুপাতে অনেক কম, সেজন্য রং বেশী পালটায় নাই।

      আপনার আম্মা যেভাবে রান্না করতেন সেটাই আমাদের অরিজিন্যাল রান্না। আমরা অনেক জায়গাতে বেশ পরিবর্তন করে ফেলেছি। আগে মায়েরা যে কোন ডাল রান্নায় কমের পক্ষে ৪/৫ ঘন্টা বা তারও বেশি সময় ভিজিয়ে রাখতেন। এখন আমাদের সেই সময় কোথায়।

      আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

      Like

  3. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s