Gallery

রেসিপিঃ মিষ্টি কুমড়ার ঝোল (গ্রামীন সাধারন রান্না)


[আজ আমার কম্পিউটারে উইন্ডোজ ৮ ইন্সটল করে নিলাম। এই পোষ্ট উইন্ডোজ ৮ এ প্রথম পোষ্ট হবে। আমার কাছে উইন্ডোজ ৮ ভালই লাগছে। অভ্র বেশ ভাল কাজ করছে। আমি আনন্দিত। আরো ঝকঝকে, আরো ফকফকে সবকিছু। নুতন কিছু আমি সব সময় ভাল পাই। স্বাগতম।]

আপনারা অনেকে আমার কাজকারবার দেখে বলে ফেলতে পারেন, ব্রাদার কি না আপনার ফেবারেট! হা, খাওয়া দাওয়ায় সব কিছুই আমার ফেবারেট, আমি খাদ্য রসিক! আমি আসলে বেশী খাই এবং ভাল হলে তো কথাই নাই! তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আর বেশী চলছে না! এখন আর খাবার স্বাদের না হলে মুখে তুলতে পারি না! কি জ্বালা! নিজে রান্না শিখে আরো বেশ খুঁতখুঁতে  হয়ে পড়ছি!

ওই যে উপজেলা শহরের দুই ডাক্তার সাহেবের কথা! একজন এমবিবিএস আর অন্যজন হাতুড়ে! কিন্তু হাতুড়ে ডাক্তার সাহেবের কাছেই লোকজনের বেশী ভীড়। কারন তিনি কাটা ফোড়া সব কিছু করে ফেলেন মনের আনন্দে! রোগীরা সাফল্য পায় কম টাকা খরচ করেই। এদিকে  এমবিবিএস ডাক্তার সাহেব পড়লেন মহা সমস্যায়, তার কাছে রোগী আসে না! এবার তিনি বুদ্দি করে সেই হাতুড়ে ডাক্তার সাহেবের কাছে গেলেন। তাকে মানব শরীরের বেশ কিছু বই পত্র দিয়ে পড়তে বললেন। হাতুড়ে ডাক্তার সাহেব বই গুলো পড়ে দেখে এমনই ভীত হয়ে গেলেন যে, তিনি আর চিকিৎসা করতে পারলেন না! বই পত্রে কত শিরা উপশিরার কথা পড়লেন, তার মনে হল তিনি এতদিন কত মানুষের উপশিরা কেটে ছিলেন! এবং বুঝতে পারলেন, তিনি যেভাবে চিকিৎসা করতেন তা ঠিক ছিল না!

রান্না শিখে আমারও এই দশা। এখন কত রান্নার ভুল ধরি! যেন আমি দুইদিনের বৈরাগী, ভাতকে বলি অন্ন!

চলুন আজ একটা গ্রামীন রান্না দেখি। মিষ্টি কুমড়ার ঝোল। সামান্য মাছের মাথা ভেঙ্গে এই ঝোল রান্না। খুব সহজ ও সাধারন।

প্রনালীঃ

মিষ্টি কুমড়া কেটে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন।


রসুন বাটা দিয়ে কষিয়ে হলুদ ও মরিচ গুড়া দিন এবং সামান্য পানি যোগে ঝোল বানিয়ে নিন।


এবার কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন এবং কয়েকটা মাছের টুকরা বা মাথা দিন (আমরা একটা বড় তেলাপিয়ার মাথা এবং এক টুকরা দিয়েছিলাম)


আরো এক কাপ পানি দিয়ে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন। মাছ নরম হয়ে গেলে ভেঙ্গে ফেলতে পারেন। ব্যস মাছের ঝোল হয়ে গেল।


এবার কুমড়া গুলো দিয়ে দিন। এবং ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন।


এককাপ পানি দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য আবার ঢাকনা দিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেবেন।


মোটামুটি এমন একটা অবস্থায় এসে যাবে।


এবার অন্য একটা হাড়িতে কিছু রসুন কুচি এবং কয়েকটা শুকনা মরিচ ভাজুন। এটা হচ্ছে রসুন বাগার।


কুমড়ার ঝোলে বাগার দিন। ফাইন্যাল লবন দেখুন। ঝোল বলে কিছু ঝোল রাখতেই হবে, না হলে আরো শুকিয়ে নিতে পারেন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


কে খাবে না বলুন!

মিষ্টি কুমড়ার আর একটা রান্না এই লিঙ্কে আছে দেখে নিতে পারেন।
http://wp.me/p1KRVz-jI

শুভেচ্ছা।

9 responses to “রেসিপিঃ মিষ্টি কুমড়ার ঝোল (গ্রামীন সাধারন রান্না)

  1. এই সবুজ মিষ্টি কুমড়াকে সিলেটে বলে আউষা কদু। খেয়াল করে দেখবেন এটা কিন্তু কমলা রঙের মিষ্টি কুমড়া থেকে স্বাদে আলাদা। বেশী সুস্বাদু। এই কুমড়া দিয়ে মাছ, মাংস রান্না করে উপরে ভাজা জিরে ছিটিয়ে দিলে… অপূর্ব!

    নিজে ভালো রান্না করতে জানলে আসলেই যেন তেন রান্না মুখে তোলা দায় হয়ে পড়ে!

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো বোন, আসলেই আমাদের ছোট বেলায় দেখা সেই মিষ্টি কুমড়া আর দেখি না। মিষ্টি কুমড়া গোল এবং লাল হত, গায়ে কোন স্পট থাকত না। দেখি এমন কুমড়া পেলে সাথে সাথেই কিনে নিব।

      হা হা হা…… আমি আসলেই একজন দুইদিনের বৈরাগী! তবে আমার ব্যাটারী স্বীকার করেছেন যে, আমি রান্না করলে তা স্বাদ হয়! আমার বুলেটকে তিনি বলেছেন, তোর বাবা রান্না করে বেশ মন দিয়ে এবং রান্নাঘর থেকে বের হয় না, তাই রান্না বেশ স্বাদের হয়। হা হা হা…।

      আমি ভালবেসেই রান্না করি!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. Apnar ranna dekhe nijer ranna korte iccha hoy.

    Like

  3. Ses porjonto abar khuje ber korlam, leptop et charger nosto r onno leptop amar putro amake dhortei dena, ti phn ei vorsa. Khuje peye anondito sathe mojar sob ranna to avhei.apnake o vabike onek onek dua .

    Like

    • হা হা হা…।। ধন্যবাদ বোন।
      আসলে আমাদের ছেলে মেয়েরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। আমিও বাসায় কম্পিউটার ধরি না। আমার ছেলে বুলেটের দখলে আছে সেটা। তবে ও এখন বুঝে যে, আমি ভাল রান্না করি এবং আমাদের এই রান্না গুলো সারা দুনিয়া থেকে রান্না প্রিয় বন্ধুরা দেখে থাকেন। সেজন্য এখন কিছুটা নমনীয়। তবে আমি বাসায় থাকলে ও বেশী খুশি থাকে যে, আজ ভাল রান্না হবেই, সেটা যে রান্নাই হউক না কেন! হা হা হা…

      আমি রান্না করলে যখন আমার ছেলে খেয়ে বলে ‘বাবা, জাক্কাস’, তখন আর আনন্দের সীমা থাকে না।

      মোবাইল থেকে বলগ দেখা যায় বটে তবে চোখের অবস্থা শেষ হয়ে যাবে। যদিও এই সাইট মোবাইলে বেশ দেখায় তবুও আমি বলব আপনি একটা নোট প্যাড বা ৭ ইঞ্চির ট্যাব কিনে নিতে পারেন। সারাঘর ওয়াই ফাই করে নিতে পারেন (অফশনাল)। বেশ আনন্দ পাবেন। এদিকে আমি নিশ্চিত ভাগিনা আপনার ট্যাব নিয়ে নেবে! গেইমিং ডিভাইস হিসাবে এগুলো অসাধারন। আর আপনি কম্পিউটার পেয়ে যাবেনই!

      ভাল থাকুন বোন। শুভেচ্ছা এবং মাঝে মাঝে কমেন্ট করবেন। আপনাদের কমেন্ট আমাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেয়। আমরা আবার রান্নায় নেমে পড়ি।

      Like

    • ধন্যবাদ বোন, আমিও আপনাকে ফলো করে নিলাম। আপনার কমেন্ট পেলে আমরা ধন্য হব। মাঝে মাঝে আপনি আপনার ব্লগে আপনার ভালবাসার কথা গুলোও লিখে ফেলুন, দেখবেন একদিন অনেক কিছু দাঁড়িয়ে যাবে। ভাল লাগবে।

      কবিতায় আগ্রহ থাকলে, চালিয়ে যেতে পারেন। ইস, আমি যদি কবিতা লিখতে পারতাম! হা হা হা।।

      শুভেচ্ছা এবং আপনাকে নিয়মিত দেখার ইচ্ছায় আছি। আমাদের ভুল হলে আশা করি তা ধরিয়ে দেবেন।

      Like

  4. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s