Gallery

রেসিপিঃ চাল কুমড়া ও আলু ভুনা (চিংড়ী যোগে)


বাজারে গেলে কিছু তরকারী চোখে পড়েই! তার মধ্যে একটা হল চাল কুমড়া। আমি চাল কুমড়া বেশ পছন্দ করি। কিন্তু আমার বাসায় অন্য কেহ এটা পছন্দ করে না, তাই ভয়ে ভয়ে কিনি। তবে রান্না হলে সবাই বেশ মজা করেই খেয়ে নেন। চাল কুমড়া দিয়ে ভাজি, ভুনা, ভর্তা এবং ডাল দিয়ে রান্না সহ অনেক কিছু করা যায়। আমার কাছে সব কিছুই ভাল লাগে তবে বেশী ভাল লাগে, চাল কুমড়ার এবং মুশরী ডালের রান্না।

ইতিপূর্বে আপনাদের এই রান্না দেখিয়েছি কি না ঠিক না খুঁজে বের করে বলতে হবে। তবে কিছুক্ষন আগে নেটে একটা মজার ঘটনা ঘটে গেল। চাল কুমড়ার রান্নার রেসিপি লিখব বলে স্থির করে নেটে চাল কুমড়ার ছবি খুঁজছিলাম, গুগলে চাল কুমড়া লিখে সার্চ করে ভাবছিলাম রান্নার আগে একটা চাল কুমড়ার ছবি দেব। হা, এমন একটা ছবি পেয়ে গেলাম! ছবিটা আমার পছন্দ হল। ছবিটা একটা ফোরামে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু ছবির ইনফোতে দেখি এটা আমারই তোলা ছবি! হাসব না কাদব বুঝে উঠতে পারছি না। নিজের তোলা ছবি নিজেই চিন্তে পারছি না! আসলে নেটে আমার রেসিপি বিষয়ে এত ছবি তোলা জমা হয়ে উঠছে যে, নিজেরই এখন ভুল হয়ে যায়! হা হা হা…

যাই হোক, ছবি এবং আমার রেসিপি যেখানেই ব্যবহার হউক, আমার নাম ছাড়া অন্য নামেও প্রকাশিত হউক, তাতে কিছু আসে যায় না। আমি খুশি, আমি খুশি এবং আমি খুশি! বাংলায় রেসিপি সারা বিশ্বের সব বাঙ্গালী/বাংলাদেশী জেনে যাক, এটাই আমার চাওয়া।

(নেটে বাংলা লিখতে পারছি, এই খুশিতেই আমি অধীর। অভ্র এবং অভ্র টীম, মেহেদী হাসান খানকে যদি এক বেলা নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াতে পারতাম, তবে আরো খুশি হতাম। তাদের জন্যই আমার এই বাংলা লিখার পথ চলা।)

চলুন, চাল কুমড়া ও আলু চিংড়ী মাছ দিয়ে ভুনা দেখি। সহজ এবং সাধারন, চাইলেই আপনিও রান্না করে স্বাদ দেখতে পারেন।

উপকরনঃ
– মাঝারি সাইজের চাল কুমড়ার অর্ধেক
– কয়েকটা নুতন আলু
– কয়েকটা চিংডী/ ছোট হলে আরো কয়েকটা(পরিমানটা আপনি নিজে নির্ধারন করুন)
– পেঁয়াজ কুঁচি – মাঝারী সাইজের দুটো
– আদা বাটা – হাফ টেবিল চামচ
– রসুন বাটা – এক টেবিল চামচ
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া
– পরিমান মত লাল মরিচ গুড়া
– এক চিমটি জিরা গুড়া
– পরিমান মত লবন
– পরিমান মত তেল/ পানি
– ধনিয়া পাতার কুঁচি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ

প্রনালীঃ

চাল কুমড়া ও আলু এভাবে কেটে ভাপিয়ে নিন (সামান্য লবন পানিতে হালকা সিদ্ব করে নিন)


তেল গরম করে লবন যোগে পেঁয়াজ ভেজে তাতে আদা রসুন দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। সামান্য পানি দিতে ভুলবেন না।


এবার মরিচ, হলুদ ও জিরা দিয়ে দিন। ভাল করে নাড়িয়ে নিন।


তেল উঠে আসলে কয়েকটা চিংড়ী মাছ দিয়ে দিন, কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন এবং নাড়াতে থাকুন।


তেল উঠে এলে এবার হাফ সিদ্ব চাল কুমড়া এবং আলু দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


দেড় কাপ পানি দিন এবং মিনিট পনর ঢাকনা দিয়ে হালকা আঁচে রাখুন।


মাঝে মাঝে দেখতে ভুলবেন না, নাডিয়ে দেবেন।


ঝোল কেমন রাখবেন তা আপনার ইচ্ছা। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। সব কিছু ঠিক থাকলে ধনিয়া কুঁচি ছিটিয়ে দিন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


এমন তরকারী হলে আর কি চাই! গরম ভাত কিংবা রুটি, সব কিছুর সাথেই চলবে।

রেসিপি পাঠক/পাঠিকা, আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা। এত সহজ রান্না কেন রান্না করবেন না! একবার রান্না করেই দেখুন, কত আনন্দ এই পৃথিবীতে!

Advertisements

7 responses to “রেসিপিঃ চাল কুমড়া ও আলু ভুনা (চিংড়ী যোগে)

  1. অসাধারণ! ইশ্, কতদিন চাল কুমড়া খাই না। চিংড়ি দিয়ে রান্না, নারকেল বাটা, ঘন দুধে চাল কুমড়া কিংবা মোরব্বা।
    ভাইয়া, আলু তো মহাচোর! তরকারির স্বাদটুকু খেয়ে নিজে সুস্বাদু হয়ে বসে থাকে। আদা বাটা দিয়ে কখনো খাইনি।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      আমরা অনেক সময়েই আদা দেই না বা দিতে চাই না (আদা না দিলেও স্বাদ হবে)। আমি এখানে সামান্য ব্যবহার করেছি যেহেতু চিংড়ী মাছ আছে। মাছের সাথে সামান্য আদা অনেক সময় স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। আমি সব সময়েই ঝোল স্বাদ করে রান্না করতে চাই।

      আলু সব মিক্স সব্জিতেই দেয়া হয়ে থাকে। আমি এড়াতে চাই। আমার ব্যাটারী আবার আলু লাভার, তিনি সব কিছুতেই আলু দিতে চান। আমি প্রত্যেক তরকারী বা মাছের স্বাদ আলাদা করে নিতে চাই। হা হা হা…

      চাল কুমড়া আর ডালের রেসিপি আসছে!

      শুভেচ্ছা বোন।

      Like

  2. কচি চালকুমড়ো আমারও প্রিয়। তবে ঘরে শুধু আমিই খাই। চালকুমড়ো দিয়ে চিংড়ি, ইলিশের মাথা আমি করে থাকি। তবে বেশী পছন্দ করি চালকুমড়ো ভাজি।
    চালকুমড়ো গ্রেটারে গ্রেট করে নিবেন। কড়াইতে তেল দিয়ে এক চিমটি কালিজিরা ছেড়ে চালকুমড়ো কুচি ও কয়েকটা কাঁচামরিচ ও লবন দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢেকে দিবেন। ভাজি সিদ্ধ হয়ে গেলে চুলার আঁচ বাড়িয়ে ঢাকনা সরিয়ে পানি শুখিয়ে নামিয়ে নিবেন। এই ভাজিতে শুধু তেল, কালিজিরা ও কাঁচামরিচ ছাড়া কোনো মসলা ব্যাবহার করিনা।
    খুবই সুস্বাদু ভাজি হয়।

    Like

  3. All vegetable from Bangladesh r so expensive here…..still we try to enjoy them…this recipe is best for chal qomra…..all food is so healthy here……so try to buy there veg first….but still have craving for Bangladeshi food…..now l start too cook foreign veg deshi style ……Bangladeshi fresh veg from bazar first thing in morning at home ……still have in my memory…….salam to u n ur family……anjuman….:)

    Like

    • ধন্যবাদ বোন আঞ্জুমান।
      “now l start too cook foreign veg deshi style…।” হা হা হা… এটা আমি মনে করি একটা কাজের কাজ হচ্ছে। ভিনদেশী সব্জির দেশী ব্যবহার।
      এখন আমরা প্রতিদিন বাজার করতে পারি না, আমি আমার বাবাকে দেখেছি তিনিও প্রতিদিন সকালে নিজ হাতে বাজার করতেন। তবে আমি এখন থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু সবজি খাবো বলে মনস্থির করছি (ডাক্তার নির্দেশ)। শাক সবজি না খেলে বয়স কালে পাস্তাতে হয়, নানান রোগ পেয়ে বসে।
      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s