গ্যালারি

রেসিপিঃ কলিজা ভুনা


কলিজা ভুনা। নাম শুনেই জিবে জল আসে। অনেকে বেশ পছন্দ করেন কিন্তু আমরা তেমন একটা (বছর এক/দুই বার) পছন্দ করি বলে মনে হয় না। হা হা হা।। পেলে কিন্তু চুরমাচুর করে খাওয়া হয়! বেশ কিছু দিন আগে আমি আমার ব্যাটারীকে কলিজা ভুনা রান্না করার জন্য অনুরোধ করি। তিনি জানালেন, “চাইলে রান্না করা যেতে পারে তবে তোমরা বাপ-বেটারই খেতে হবে, আমি খাব না!” হা, আমি আগে থেকেই জানি তিনি কলিজা রান্না পছন্দ করেন না। আমি যে খুব পছন্দ করি তা নয়, বছরে এক/দুইবার খাওয়া এই আর কি! তবে হোটেলে সকালের নাস্তায় ঢাকার প্রায় সব হোটেলে এই কলিজা ভুনা পাওয়া যায়।

কিছুদিন আগে একদিন চান্স পেয়ে (ছেলেকে স্কুলে দিয়ে, হাতে সাময় থাকায়) হোটেল আল-মদিনায় প্রবেশ করেছিলাম নাস্তা করতে। ওয়েটার জানাল, শুধু কলিজা ভুনা আর পরোটা আছে। আমি চান্স মিস করি নাই। তিনটে পরটা আর এক বাটি কলিজা ভুনা মেরে দিলাম! হোটেলে যাদের সকালের নাস্তা খাবার অভ্যাস আছে তারা নিশ্চয় এই কলিজা ভুনা অনেক অনেক বার খেয়েছেন।

সে যাই হোক, চলুন আজ কলিজা রান্না দেখি। তবে সব মশলা বেটে ব্যবহার করা হয়েছে। রান্নায় ভিন্নতা আনতে সব মশলা/ভেজষ পাটা পুতায় বেটে ফেলা হয়েছিল। আপনারা চাইলে আমাদের সাধারন রান্নার মত করেও রান্না করতে পারেন।

উপকরণঃ
– কলিজাঃ হাফ কেজি (সামান্য বেশি হতে পারে)
– পেঁয়াজ বাটাঃ এক কাপ
– আদা বাটাঃ ২ টেবিল চামচ
– রসূন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ
– জিরা বাটাঃ ১ চা চামচ
– ধনিয়া বাটাঃ ১ চা চামচ
– গোল মরিচ গুড়াঃ এক চিমটি
– দারুচিনিঃ ৩/৪ টুকরা
– এলাচিঃ ৪/৫ টা
– তেজ পাতাঃ ২/৩ টা
– লাল মরিচঃ এক চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চামচের চেয়ে সামান্য কম
– কাঁচা মরিচঃ ঝাল বুঝে পরিমান মত (বাটা)
– লবনঃ পরিমান মত
– তেলঃ হাফ কাপ বা তার বেশী
– গরম পানিঃ প্রয়োজনে লাগলেই দেয়া হবে।

প্রনালীঃ

কলিজা আগে কেনা ছিল। সামান্য সিদ্ব করে পানি ঝরিয়ে ডিপ ফ্রীজে রাখা ছিল বলে কলিজার রং কিছুটা বদলে গেছে। প্রসেসড।


তেল গরম করে লবন যোগে আদা, রসুন, পেঁয়াজ বাটা।


অন্যান্য সব মশলা মিশিয়ে নেয়া হয়েছে। যেহেতু এই মিশ্রন গাড় তাই কষানোর সময় বুদ বুদ গায়ে পড়তে পারে, সতর্কতা জরুরী। আগুনের আঁচে লক্ষ রাখতে হবে।


ব্যস, ঝোল হয়ে গেল। ভাল করে কষিয়ে নিন।


এবার কলিজা দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ঢাকনা দিয়ে মিনিট ত্রিশেক রেখে দিন। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নাড়িয়ে দেবেন। লক্ষ রাখতে হবে, যেন তলায় না লেগে যায়। প্রয়োজনে আরো পানি দিন। কলিজা নরম না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।


শেষ মেষ এমন একটা অবস্থায় এসে দাঁড়াবে। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ‘ওকে’ বলুন। ঝোল চাইলে আরো কমিয়ে নিতে পারেন। আমরা একটু ঝোল রেখেছিলাম।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


রুটি দিয়ে জম্বে বেশ।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

25 responses to “রেসিপিঃ কলিজা ভুনা

  1. কলিজা ভুনা। নাম শুনেই জিবে জল আসে।

    Like

  2. খুব বেশী প্রিয় না হলেও মাঝে মধ্যে খেতে খুব ভালোই লাগে। পরোটা দিয়ে কলিজা ভুনা আসলেই দারুন! আমিও কলিজা সিদ্ধ করে রান্না করি। তাতে তরকারির রঙ কালো হয়না।

    Like

  3. liver curry !!! I love it..more then anything, paratha n this,it can be my breakfast or lunch …..colour of ur curry….woooom,now I have to cook it,vaia thanks for remind me this n for ur recipe ………anjuman

    Like

    • ধন্যবাদ বোন আঞ্জুমান। গতকাল আপনার কথা আমরা আলাপ করছিলাম। আপনার কমেন্ট গুলো আমাদের বেশ আনন্দ দিয়েছে।

      আপনি ভাল রান্না করেন এটা বুঝা যায়। সহজ এবং নাগালের মধ্যে কোন রেসিপি থাকলে আমাদের জানান, আমরাও রান্না করি।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. সাহাদাত ভাই, নমস্কার ! কলিজা ভুনা খেতে ভাল লাগে কিন্তু বানানোর প’রে শক্ত হয়ে যায়। উপায় বাতান… গীতশ্রী

    Like

    • ধন্যবাদ গীতশ্রী আপা।
      বিষয়টা নিয়ে আমরা গতকাল আলাপ করছিলাম। সহজ কোন উত্তর আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হা, এটা ঠিক কলিজা রান্নার পর কিছুটা শক্ত হয়ে যায়। টুকরা গুলো ছোট করবেন এবং গরম গরম (চুলা টু প্লেট) খেয়ে নিবেন। হা হা হা…

      ফ্রীজে রেখে দেয়া হলে রান্নার ঘন্টা দুয়েক আগে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। রান্নার কোন পর্যায়ে ঠান্ডা পানি দেবেন না। কলিজা নরম করে নেয়ার জন্য যদি অতিরিক্ত পানি দিতে হয় তবে তা গরম করে দেবেন।

      তবে বোন দেখা যাক, অন্য কেহ কোন জবাব দিতে পারেন কি না। বিষয়টা মাথায় থাকল, আরো সিনিয়র কাউকে জিজ্ঞেস করে আপনাকে জানাব।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. আগে কলিজা আগ্রহ নিয়ে খেতাম না। হুমায়ূন আহমেদের বইতে ঝাল ঝাল কলিজা ভুনার সাথে ভিনেগারে ডুবানো কাঁচামরিচ-পেঁয়াজ কুচি দিয়ে চিকন চালের সাদা ভাত…এরকম একটা বর্ণনা পড়ার পর মাসে অন্তত একবার মেনুতে কলিজা রাখার চেষ্টা করি।
    আমি কলিজা ভুনা শিখেছি মোবাইলে বড়বোনের কাছ থেকে। আপনার সাথে মিল আছে।
    উদরাজি ভাই, বরাবরের মতোই বেশ যত্ন করে রেসিপি দিয়েছেন। মন দিয়ে পড়লাম।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      “ঝাল ঝাল কলিজা ভুনার সাথে ভিনেগারে ডুবানো কাঁচামরিচ-পেঁয়াজ কুচি দিয়ে চিকন চালের সাদা ভাত…” হুমায়ুন আহমেদ আসলেই একজন জিনিয়াস ছিলেন। তিনি খাদ্য রসিক ছিলেন, এটা জেনেছি।

      খুব কম মশলা দিয়ে কলিজার আর একটা রান্না আছে, একদিন দেখিয়ে দেব। তবে আগে নিজে রান্নাটা করে নেই।

      শুভেচ্ছা আপনাকে।

      Like

  6. when u cook liver to long then it become hard …..that’s why cook masala very long, when it separate from oil then add liver n cook quickly…….here sheaf pan fry liver n serve with gravy …..hope it helps……..anjuman

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। আপনার সাজেশন আমাদের কাজে লাগবে। গ্রীতশ্রী আপার জন্য সহায়ক হবে।

      ১। ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে
      ২। প্রথমেই সিদ্ব করে ফেলতে হবে
      ৩। ঝোল কষিয়ে তেল উঠিয়ে লিভার দিয়ে কম সময়ে রান্না করতে হবে

      ফলে কলিজার রং সুন্দর হবে, নরম হবে।

      শুভেচ্ছা। আরো এই ধরনের টিপস চাই।

      Like

  7. উপরোক্ত মন্তব্যের কথাটিই আমি লিখতে চাইছিলাম। কলিজা, চিংড়ি বেশীক্ষন রান্না করলে শক্ত হয়ে যায়। মশলা ভালো করে কষিয়ে কলিজা দিয়ে ২০ মিনিট রান্না করলেই যথেষ্ট!

    Like

    • আপা আপনার সাথে একমত। তবে কলিজা ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে, রক্ত থাকতে পারবেই না এবং সামান্য সিদ্ব করে পানি ঝরিয়ে মিনিট ২০ রান্না করলেই দেখতে এবং খেতে স্বাদ লাগবে। শক্ত এবং কালো হবে না।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  8. gorur jhura mangsho vaja ta diyen vaia

    Like

  9. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  10. সকালে রান্না করবো। ফ্রিজ থেকে নামিয়ে রেখেছি। নতুন কোনো টিপস এর সাথে? কলিজা কি ভালো করে ধুয়ে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে তারপর রান্না করবো?

    Liked by 1 person

  11. সিদ্ধ করে পানি ফেললে food value চলে যাবে না?

    Liked by 1 person

  12. তেজপাতা, এলাচ গুলো কি পেস্ট করে নিতে হবে?

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s