Gallery

রেসিপিঃ ফুলকপি রান্না (যে ফুলে মালা গাঁথা হয় না)


কয়েকদিন আগে আমার ছেলে, আমার রান্না টেষ্টারকে জিজ্ঞেস করলাম, এমন একটা ফুলের নাম বল যে ফুল দিয়ে মালা গেঁথে কারো গলায় পরালে মেরে তক্কতা বানিয়ে দেবে কিন্তু রান্না করে খাওয়ালে খুশীতে গলায় জড়িয়ে ধরবে! আমাকে অবাক করে সে বলে দিল, ফুলকপি। আসলে ছেলে বড় হয়ে যাচ্ছে! মাথার ঘিলু বাড়ছে। আপনি বলুন, ভাবুন, কথা ঠিক কিনা। ভাল করে ফুল কপি রান্না করে খাওয়ালে কোন বাঙ্গালী/বাংলাদেশী ভাই/বোন খাবে না! আমি নিশ্চিত এমন কেহ পাওয়া যাবে না! মাননীয় শেখ হাসিনা থেকে বিরোধীদলীয় নেত্রী মাননীয় খালেদা জিয়া, সবাই শীতকালে ফুল কপি দিয়ে রান্না করা তরকারী খান, খাবেন এবং খেয়ে যাবেনই!

ফুলকপি নিয়ে আমার অনেক অনেক মজার মজার হাসি ঠাট্টা আছে। একদিন না ভেঙ্গে গোটা ফুল কপি রান্না করে ফেলতে চাইছিলাম! আমার ব্যাটারী রান্না করতে দেন নাই, তিনি যুক্তি দেখান, লোকে তোমাকে বাঙ্গাল বলবে! আমি তো খাঁটি বাঙ্গালই! তবে আমি এখনো আশা ছাড়ি নাই, যথা যত রেসিপি চিন্তা করছি এবং আশা করি একদিন পুরা (না ভেঙ্গে, কেটে) একটা বড় ফুলকপি রান্না করে আপনাদের সামনে হাজির করবো!

আজ চলুন দেখে ফেলি, ফুল কপি ও নুতন আলুর রান্না। টাকি ভর্তা বানিয়ে বেছে যাওয়া কয়েকটা টাকি মাছের মাথা গুঁড়িয়ে ঝোল বানিয়ে এই রান্না করা হয়েছে। খেতে ও দেখতে বেশ চমৎকার হয়েছিল। তবে আমি মনে করি এই শীতের সময়ের  সবজি হিসাবে বাজারে ফুল কপির দাম সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে। মাঝারী একটা ফুল কপির দাম পঞ্চাশ টাকা/ষাট টাকা, যা মেনে নিতে কষ্ট হয়।

উপকরণঃ
– ফুল কপি (বড় ফুল কপি ছিল, আমি অর্ধেকের বেশী নিয়েছিলাম এবং কয়েকটা ডাটাও নিয়েছিলাম)
– নুতন আলু (চারটে মাঝারি সাইজ)
– টাকি মাছের মাথা তিনটা (আপনারা যে কোন মাছের টুকরা বা মাথা ব্যবহার করতে পারেন)
– হলুদ গুড়া (পনে এক চা চামচ)
– লাল মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে, হাফ কিংবা এক চা চামচ, ফুল কপিতে লাল মরিচ কম দেয়া ভাল, বেশি দিলে রং নষ্ট হয়ে পড়বে)
– রসুন বাটা বা কুচি (এক চা চামচ)
– আদা পেষ্ট বা বাটা (হাফ চা চামচ, অনেকে এটা দেন না, আমি দিতে চাই ঝোলকে আর স্বাদ করে তুলতে)
– দুইটা মাঝারী পেঁয়াজ কুচি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (ঝাল বুঝে)
– লবন (পরিমান মত)
– তেল ও পানি
– কিছু ধনিয়া পাতা কুচি
– এক চিমটি জিরা গুড়া (জিরা ভেজে গুড়া, এটা শেষে উপরে ছিটিয়ে দিতে পারেন, ঘ্রান ভাল লাগবে)

প্রনালীঃ

সামান্য হলুদ লবন পানিতে একে একে আলু, ফুল কপি ও ফুল কপির ডাটা (যা এখানে দেখানো হয় নাই) ভাপিয়ে নিন, যদিও আগে ধুয়ে নিয়েছেন। লক্ষ রাখবেন যেন, বেশি নরম না হয়ে যায়। এই হাল্কা সিদ্বটা এই জন্য যে, সব্জিকে নরম করে নেয়া এবং কোন কেমিক্যাল (!) থাকলে তা নষ্ট করে ফেলা। হা হা হা… আসলে আমি এই ধরনের রান্নায় সবজি একটু সিদ্ব করে পানি ফেলে দেই, যদিও এটা না করলেও চলে।


তেল গরম করে লবন ও পানি যোগে সব মশলা দিয়ে ভাল করে কষিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন। (এই ঝোল আমি আপনাদের অনেক বার দেখিয়েছি, আশা করি এখন সবাই পারবেন)


ঝোলে টাকি মাছের মাথা গুলো দিন এবং আরো কষিয়ে নিন। প্রয়োজনে হাফ কাপ পানি দিন।


তেল উঠে গেলে প্রথমে হাল্কা সিদ্ব করা আলু এবং ফুল কপির ডাটা (অনেকে এই ডাটা খেতে পছন্দ করেন) গুলো দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


এবার হাল্কা সিদ্ব করে নেয়া ফুল কপি গুলো দিন। এবং এক/দেড় কাপ পানি দিয়ে ফুল কপি গুলোর গায়ে গায়ে করে দিন।


বেশী নাড়া ছাড়া করার দরকার নেই। সোজা ঢাকনা দিয়ে মিনিট পনরর জন্য হাল্কা আঁচে রেখে দিন।


ঝোল কমে ফুল কপি নেতে গিয়ে এমন একটা অবস্থায় এসে যাবে। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন না হলে ওকে বলুন।


এবার ধনিয়া পাতার কুচি ছিটিয়ে দিন।


জিরা গুড়াও ছিটিয়ে দিন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। একটা ফুল কপির তোড়াও ভাঙ্গে নাই!


আপনিই বলুন এমন ফুল কপি রান্না পেলে কে না খাবে?


একই দিনে, একই সময়ে যদি থাকে নুতন আলু দিয়ে আলু ভর্তা! বলেন কি করবেন?

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি এই রান্নাটা আপনাদের ভাল লেগেছে এবং নিজেরা রান্না করে দেখবেন। নিজে রান্না করে অন্যকে খাওয়ানোর মত আনন্দ আর একটাও নেই বলে আমার মনে হয়।

17 responses to “রেসিপিঃ ফুলকপি রান্না (যে ফুলে মালা গাঁথা হয় না)

  1. ফুলকপির তরকারী কুম্ভকর্ণের ভিষন প্রিয়। তাই এটা বেশী রান্না হয়। আর ভাজিটা আমার পছন্দের, তাই ভাজিও চলে।
    এতো দামের তরকারীর ডাটা ফেলতেও তো কষ্ট হয়। ডাটাগুলো গরম পানিতে অল্প ভাপিয়ে আশ ছাড়িয়ে আলু, সিম যোগে শুটকি রান্না করে খেয়ে দেখবেন।

    আমার আম্মা আস্ত ফুলকপি রোস্ট করতেন।
    আস্ত ফুলকপি গোড়া থেকে কেটে শুধু কপিটাই নিবেন। বেশী পানিতে লবন দিয়ে ঘন্টা খানেক ভিজিয়ে রাখবেন। ( পোকা-মাকড় থাকলে বেরিয়ে যাবে) তারপর একটি চওড়া হাড়ীতে এমন ভাবে পানি দিবেন যাতে আস্ত ফুলকপিটা ডুবে। সেই পানিতে পরিমান মত লবন, আদাবাটা, রসুন বাটা ও হলুদ দিয়ে ফুলটা সিদ্ধ করবেন। বেশী সিদ্ধ যাতে না হয় খেয়াল করবেন। আধ সেদ্ধ হলে নামিয়ে পানি ঝরিয়ে নিবেন। ২টা ডিম ভেঙ্গে ভালো করে বিট করে নিবেন, অল্প গোলমরিচের গুড়ো, অল্প লবন, মরিচ গুড়ো দিয়ে ভালো করে বিট করে নিবেন। এবার একটি বড় থালায় ফুলকপিটা রেখে তার উপর আস্তে আস্তে ডিমের মিশ্রনটি ঢেলে দিবেন। খেয়াল করবেন যেন ফুলকপির সব জায়গায় ডিমের মিশ্রন মিশে।
    চওড়া কড়াইতে ডুবো তেল গরম করে সাবধানে আস্তে করে ফুলকপিটি দিয়ে অল্প আঁচে ভাজবেন। এক দিক হালকা লালচে হয়ে গেলে ২টি চামচ দিয়ে সাবধানে কপিটি উল্টিয়ে দিবেন। পুরোটা লালচে করে ভেজে তুলে উপরে পেঁয়াজের বেরেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করবেন। ইচ্ছে হলে কিসমিস, বাদামও ছড়িয়ে দিতে পারেন।

    Like

  2. আমার পছন্দের একটা রেসিপি দেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

    Like

  3. Looking good one day i’ll try Insha Allah. ..

    Like

    • ধন্যবাদ জহির ভাই।
      খুবই সহজ রান্না। আশা করি আপনি রান্না করে সবাইকে চমকে দেবেন। রান্না করে প্রিয়জনদের খাওয়ানো যে কত আনন্দের ব্যাপার এটা একবার বুঝলে আর কি বাকই থাকে।

      শুভেচ্ছা এবং আশা করি সাথে থাকবেন। মাঝে মাঝে কমেন্ট করার জন্য অনুরোধ থাকল।

      Like

  4. in EUROPE they cook hole cauliflower with cheese ,cauliflower soup ,we try hole cauliflower bake with bangladeshi masala…..test good too,but best carry is ur’s…(.fish-cauliflower-potato-tomato-corianda leave’s )best.my amma is the best cook in the world.what ever she cook,it become haven’s food….miss her (she lives in bangladesh),vaia ur cooking is very good too…easy n quick..thanks – anjuman

    Like

    • ধন্যবাদ বোন আঞ্জুমান।
      আপনার কমেন্ট পড়ে বেশ ভাল লাগল। হা, আমি রান্না সহজ করে দেখাতে চাই। বেশি মিক্স এবং কঠিন রান্না গুলোতে আমি যেতে চাই না। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে রান্নায় আগ্রহী করে তোলা। আমি নিজেও এখনো শিখছি। এদিকে রান্না আসলে এমন একটা প্যাক্টিক্যাল ব্যাপার যে, যে যত বেশী রান্না করবে সে তত বেশী ভাল করবে। প্রথম বারের চেয়ে দ্বিতীয় বার ভাল হবেই। প্রথম বারে সমস্যা হলে পরের বারে তা সংশোধন করা যায়।

      আর আমাদের মায়েরা ছোট বেলা থেকে রান্না করে আসতেন বলে তাদের হাতের খাবার চমৎকার স্বাদের হত বা হয়। অনেক কারন বলা যেতে পারে। আগে মায়েরা তাদের মায়েদের কাছ থেকে রান্না শিখে নিতেন। সুস্বাদু এবং ভাল খাবারের কম্বিনেশন জানতেন, পরিমান শিখে নিতেন। এখন আর সেই দিন নাই।

      এখন কে শিখাবে কাকে। মায়ের সময় নেই, মেয়ের নেই! আর বাকী থাকে বাবা! হা হা হা, বাবারা কি রান্না করবে? এমন সব বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

      কত মজাদার খাবার রান্নার অভাবে হারিয়ে যেতে বসে্বাসেন।

      দুনিয়ার সব মায়ের হাতের খাবার সেরা হয় সব সময়েই। কারন ছোট বেলা থেকেই আমরা বা আমাদের মুখ মায়ের হাতের খাবারের সাথে একটা সখ্যতাইয় বেড়ে উঠে। আপনি আপনার মাকে খুব ভালবাসেন বলে জানতে পারলাম। আপনার মাকে আমাদের সালাম জানাবেন।

      উনার সহয কোন রান্নার রেসিপি জানা থাকলে আমাদের জানান, আমরাও চেষ্টা করি, শিখে নেই।

      শুভেচ্ছা আপনাদের সবার জন্য। পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল থাকুন।

      Like

  5. l will send ur salam to my amma.my hasbend love food,me too,after get married so young n came in ireland with in 3 month’s,didn’t get chance to learn cooking properly….l use to call amma n ask for recipe …just call her n tell about ur blog…she laugh .yes she is my world n always will be…thanks …regards to ur wife too.bye

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। কমেন্টটার উত্তর সময় মত দিতে পারি নাই বলে দুঃখিত। আজ চোখে পড়ল। সময় এবং ওয়ার্ডপ্রেস এর লিমিটেশনের জন্য যখন বেশী কমেন্ট পড়ে তখন কিছু কমেন্ট চোখে পড়ে না। আশা করি মনে কিছু নিবেন না।

      আপনার আম্মার প্রতি আমাদের সালাম থাকল।

      কেমন দিন কাটাচ্ছেন? সুযোগ থাকলে দুলাভাইকে নিয়ে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ান। দুইদিনের দুনিয়া!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s