গ্যালারি

রেসিপিঃ ফুলকপি গোসত (১২-১২-১২ স্বরনে, কৌতুক ফ্রী আছে!)


আজ ১২-১২-১২! গতকাল রাতে মনে মনে সিদ্বান্ত নিয়েছিলাম, মোটামুটি তিনটে রান্নার রেসিপি দিব। কিন্তু অফিসে আসতে যানযটে পড়ে প্রচুর সময় নষ্ট করে আর সারাদিন কম্পিউটার /নেটের চেহারা দেখি নাই। আজকের ঢাকা শহরের যানযট আমার কাছে সেরা যানযট মনে হয়েছে। রামপুরা থেকে সাইন্সল্যাব আসতে প্রায় আড়াই ঘন্টা লেগেছিল। হেঁটে আসলেও আরো তাড়াতাড়ি হত বলে এখন মনে হয়। কি কষ্টে বাসে সময় কাটালাম! আহ…। চাকুরী হারাবার ভয়ে ছিলাম সারাপথ! ভাগ্য ভাল আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজ আমাকে খুঁজে দেখেন নাই!

যাই হোক সবই আমাদের সাধারন মানুষের কোপাল। আমাদের কোপাল ভিজিয়া যায় নয়নের জলে! আজ্ঞে হাঁ মশাই, এই কৌতুকটা জানেন আপনারা! এক কবি কবিতা লিখিয়াছিলেন –

‘কপোল ভিজিয়া গেল নয়নের জলে’

তখন উপস্থিত লোকজন হায় হায় ছি ছি করিয়া উঠিল। কবি একি লিখিলেন! নয়নের জলে কি করে কোপাল ভিজিয়া যাইতে পারে! চোখের জল কপালে যাবে কি করে! তখন কবি হাসতে লাগলেন এবং এই কবিতার লাইনের সাথে আর একটা লাইন জুড়ে দিলেন –

কপোল ভিজিয়া গেল নয়নের জলে,
ঠ্যাং দুটো বাঁধা ছিল হিজলের ডালে।

উপস্থিত এখন সবাই চুপ করে গেলেন। হিজল গাছে ঠ্যাং বাধা থাকলে চোখের জল কোপালে না উঠে কি পারে! আসলে আমাদের ঢাকা শহরবাসীদের অবস্থা এখন এমনই। আমাদের ঠ্যাং দুটো হাসিনা খালেদা হিজল গাছের ডালে বেঁধে রেখেছেন। আমরা যত ভালবেসেই তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম এখন তারা তাদের রুপ দেখাচ্ছে আমাদের। আমি অপেক্ষায় আছি, হয়ত আর কিছুদিন পর আমাদের চোখই তারা উপড়ে ফেলবে! চোখ না থাকলে জল আসবে কি করে! কোপাল আর আমাদের ভিজাতে হবে না!

যাই হোক, আমাদের মনে অনেক দুঃখ, এই দুই মহিলার জন্য আমাদের করুণা ছাড়া আর কি করতে পারি। ঝাগড়া ছাড়া এরা আর কিছু শিখে নাই! এদের দুইজনকে আমার রান্নাঘরে নিয়ে আসতে পারলে কিছু শিক্ষা দিতে পারতাম, কি করে দেশের উন্নতি করা যায় তার একটা ক্লাস নিতে পারলে হয়ত এদের  কিছুটা পরিবর্তন হত!

যাক, রেসিপি পাঠক পাঠিকা হয়ত একটু বেজার হয়ে পড়ছেন। আমি ক্ষ্মমাপ্রার্থী, আসলে আর পারছি না। এরা আমাদের দেশের উন্নতি তো দুরের কথা আমাদের শত বছরের পিছনে ঠেলে দিচ্ছি প্রতিদিন। আমাদের সোনালী ভবিষ্যৎ এরা নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা আমাদের পরবর্তী জেনারেশনের কাছে কি জবাব দিব? আজকে যে শিশুটা এই দেশে জন্ম নিচ্ছে তাকে আমরা কি দিয়ে যাব?

যাক, মনের অবস্থা ভাল নয়। মনে হচ্ছে রাস্তায় নেমে প্রান খুলে কিছু গালাগাল করি। ভদ্র ছেলে বলে তাও করতে পারি না! যাক, ওদের মাথা ওরা খাক, ওরা একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেই।  আমরা বরঞ্চ আজ এই সুন্দর তারিখের দিনে একটা রেসিপি দেখি। আমাদের অন্যান্য রেসিপির মত এটাও সাধারন রেসিপি। চলুন দেখে ফেলি। গরুর গোসত দিয়ে ফুলকপি রান্না। আশা করি সব্বার ভাল লাগবে। যারা গরুর গোসত পছন্দ করেন না, তারা মুরগীর গোসত নিয়ে রান্না করে দেখতে পারেন এবং মনে হচ্ছে সে রান্নাও ভাল হবে।

উপকরনঃ
– গরুর গোসত হাফ কেজি হাড্ডি ছাড়া (আপনি চাইলে মুরগীর গোসত নিতে পারেন, যারা গরু গোসত খাবেন না, তাদের জন্য)
– ফুল কপি ছোট সাইজ একটা
– পেঁয়াজ কুঁচি হাফ কাপ
– গুড়া মরিচ – ১ চামচ (ঝাল বুঝে)
– গুড়া হলুদ – ১ চা চামচ
– সামান্য রসুন বাটা  ২ চা চামচ
– আদা বাটা বা পেষ্ট ১ টেবিল চামচ
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া
– গরম মশলা (এলাচি ৪ টা, দারুচিনি ৩ টুকরা)
– পরিমান মত লবন/ পানি
– পরিমান মত তেল
– হাফ চা চামচ চিনি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– ভাজা জিরা গুড়া হাফ চা চামচ (আস্ত জিরা ভেজে গুড়া করে নেয়া)

প্রনালীঃ

ফুলকপি সামান্য লবন দিয়ে হালকা সিদ্ব করে নিন।


গরুর গোসত সামান্য লবন এবং হলুদ দিয়ে সিদ্ব করে পানি ঝরিয়ে পাতলা করে কেটে নিন। (গোসতের এই প্রসেস একদিন দেখিয়ে দেব, গোশত সংরক্ষণে এটা একটা উপকারী পোষ্ট হতে পারে)


তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজতে থাকুন। এবং ভাজা পেঁয়াজে জিরা গুড়া ছাড়া বাকী সব মশলা দিয়ে দিন এবং এক কাপ পানি যোগে ভাল করে কষিয়ে তেল উপরে উঠিয়ে নিন।


অনেকটা এমন হয়ে দাঁড়াবে। আপনার এই ঝোল যত স্বাদ এবং রং ভাল হবে তরকারীও তত স্বাদের হবে।


ঝোলে তেল উঠে গেলে প্রথমে গোসত দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে দুই কাপ পানি দিয়ে দিন।


এবার হালকা আঁচে মিনিট ত্রিশেক ঢাকনা দিয়ে রেখে দিন। হাফ চা চামচ চিনি দিয়ে দিন (চিনি না দিলেও কিছু যায় আসবে না!)


ঝোল কমে এলে এবং গোসত নরম হয়ে গেলে এবার ফুল কপি গুলো দিয়ে দিন।


ঝোল কম হলে আরো কিছু গরম পানি আপনার ইচ্ছানুযায়ী দিতে পারেন এবং আবারো ঢাকনা দিয়ে কিছুক্ষন রাখুন। মাঝে মাঝে উলটে পাল্টে দিন। এবং সুযোগে ফাইন্যাল লবণ দেখে নিন। লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন।


কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিলে মন্দ হবে না। কিন্তু এবার হচ্ছে ফাইন্যাল খেলা! আস্ত জিরা ভেজে গুড়া করে সেই জিরা গুড়া তরকারীর উপর ছিটিয়ে দিন এবং মিশিয়ে নিন। চুলা বন্ধ করে দিন। তেল উঠে আসার জন্য অপেক্ষা করুন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। দেখে কেমন লাগছে বলুন।


বিশ্বাস করুন আর নাই করুন। চ্রম! শুধু ঝোল খেয়েই আমি টাস্কিত! আর আমার রান্না টেষ্টার কি বলেছিল! হাঁ হাঁ হাঁ, আসলে এবার সে এই রান্না খেয়ে আর কোন কথাই বলতে পারে নাই! আমি বারবার জিজ্ঞেস করতে সে হঠাত বলল, এই রান্নার প্রসংশা করতে তার কাছে তেমন কোন ‘শব্দ’ নেই!

এবার বুঝে নিন আপনার ১২-১২-১২ রান্না! প্লিজ রান্না করুন এবং মজা করে সবাইকে নিয়ে আনন্দ করুন, ভাল থাকুন। দুই দিনের দুনিয়া!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

24 responses to “রেসিপিঃ ফুলকপি গোসত (১২-১২-১২ স্বরনে, কৌতুক ফ্রী আছে!)

  1. ফুলকপি দিয়ে গোস্ত আমার শ্বশুর আব্বার খুব পছন্দ ছিলো। তাই এটা আমি অনেক রান্না করেছি। খেতে খুব ভালো লাগে।
    ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়ার মানুষ রান্না শেষে ভাজা জিরার গুড়ো ছিটিয়ে দেন। এটাও মায়ের কাছ থেকে শিখেছি। বড় মাছে ( ইলিশ ছাড়া) এভাবেই জিরার গুড়ো ছিটাই।

    ভাই, দুই মহিলার জ্বালায় তো জীবন অতিষ্ট।
    আমার অভিজ্ঞতা লিখেছি আমার ব্লগে।

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো আপা। উত্তর দিতে দেরী হয়ে গেল।

      জিরা গুড়া এভাবে দিলে স্বাদ বেড়ে যায় অনেক গুন। ভাল ঝোল রান্নায় জিরা গুড়া অনেক ভাল ফল দেয়।

      আপনার অভিজ্ঞতা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। এটা অনেকটা বিশ্বজিতের মত ঘটনা।

      ভাল থাকুন এবং সর্তক হয়ে চলুন। এ ছাড়া আর কি উপায় আছে?

      Like

  2. আপনার রেসিপি আপারে পড়ে শুনালাম।

    মিটিমিটি হাসতেছিল। কেন?

    জিগেশ করি নাই। দেখি রেঁধে খাওয়ায় কিনা।

    Like

  3. কপালের আর দোষ কি? ঠ্যাং যে বাঁধা আছে হিজলের ডালে!

    আপনার আড়াই ঘন্টার জার্নি এখন প্রায় সকলেরই নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। একটা সাইকেল কিনে নেন। কষ্ট কমে যাবে অনেক। শরীর আর স্বাস্থ্য দুটোই তরতাজা থাকবে।

    ফুলকপি আর গরুর গোশ – দুটোই প্রিয় অতি প্রিয়। তাই পছন্দ করলাম এই রেসিপি। খেতে হবে, এবং তা অতিসত্ত্বর।

    Like

  4. সাহাদাত ভাই, রান্নার রেসিপিগুলো কি আপনার নাকি ভাবীর?

    Like

    • ধন্যবাদ মারুফ ভাই। আমাদের দুইজনের। আমি এখনো শিখছি, রান্নার ব্যাপারে আমাদের দুইজনের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়ে গেছে। কাজ ভাগাভাগি করে করি। অনেক সময় দুই চুলাতেই একসাথে রান্না চলে।

      তবে আলোচনার মাধ্যমেই রেসিপি ঠিক করা হয়। আমি ভুল করলে তিনিতো আছেন আবার তিনি কিছু করতে চাইলে আমি বাঁধা দেই না।

      কিছু রান্না/রেসিপি আছে যা আমি একাই করে ফেলি এবং চেষ্টা চালাই ভাল কিছু করার।

      দুনিয়াতে শেখার শেষ নাই। সেরের উপর সোয়া সের আছে!

      Like

  5. এর মধ্যে মটরসুটি আর নতুন আলু দিলে আরও চমৎকার হবে।

    Like

  6. কপোল মানে কপাল নয় !! কপোল = গাল (cheek) যা নয়নের জলে যে কোনো টাইমেই ভিজে যেতে পারে !! 🙂

    Like

    • হা হা হা…। তা হলে আপনি বলতে চান কি! ঠ্যাং ডালে বাঁধতে চান না!

      বানান ভুল হয়েছে (আমি ভাল বানান জানি না বলে প্রায়ই দুঃখ প্রকাশ করি)।

      ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

      Like

      • নীলাকাশ ঠিকই ধরেছেন। কপোল এমনিতেই নয়নের জলে ভিজতে পারে। ঠ্যাং যদি হিজলের ডালে বেঁধে মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়, তা হলে কপাল ভিজবে নয়নের জলে। কাজেই আপনার উদ্ধৃতির ‘কপোল’কে অবশ্যই এডিট করে ‘কপাল’ করতে হবে।
        পয়ারটি সে ক্ষেত্রে হবেঃ
        কপাল ভিজিয়া গেল নয়নের জলে,
        ঠ্যাং দুটো বাঁধা ছিল হিজলের ডালে।
        মূল আদি গল্পে অবশ্য কপোলই বলা হয়েছে। সেখানে গল্পের পরবর্তী অংশে কপোল অর্থ জিজ্ঞাসা করলে কপাল বলে জানানো হয় এবং সে ভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। আপনার গল্পে কিন্তু তা করা হয়নি। কাজেই — — —

        Like

        • হা হা হা… আপনারা ঠিক ধরেছেন দুইজন। আমি বানানের ব্যাপারে ভাল জানি না। শিখছি, যেমন এটা শিখে নিলাম।

          এমন কবিতা কি কোথায়ও লেখা হয়েছিল কি না জানি না, আমি বন্ধুদের কোন এক আড্ডায় এটা শুনেছিলাম বলে মনে আছে।

          কপাল করে দিলেই ভাল হবে দেখছি…।

          শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ আপনাদের দুইজনকেই।

          Like

  7. ধন্যবাদ। সামান্য লবন এবং হলুদ দিয়ে সিদ্ব করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে-এটা কি মুরগীর ক্ষেত্রেও?

    Like

  8. ফুলকপি দিয়ে গরু? গরুর সাথে আলু ছাড়া অন্যকিছু দিতে মন চায় না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে একদিন ফুলকপি দিয়ে ট্রাই করে দেখা যেতে পারে।
    লক্ষ্মীপুরেও জিরার গুড়া দেয়। ওখানে আরেকটা বিষয় দেখেছি, সেটা হলো: সব গরম মসলা টেলে গুড়া করে রাখে। কলিজা ভুনা, গরুর ভুড়ি বা হাঁসের মাংস টাইপের কারি বাটিতে বাড়ার পর এই গুড়া ছিটিয়ে দেয়।

    Like

    • বোন, আমিও অনেক রান্না বা কম্বিনেশন আগে মেনে নিতে চাইতাম না। এখন নিজে রান্না করতে গিয়ে সব মানি। যে কোন কম্বিনেশনই হউক, স্বাদ ও রং হচ্ছে আসল কথা! এই রান্নাটা আমার একটা এক্সপেরিমেন্ট। আমি নুতন নুতন কম্বিনেশন দিয়ে খেয়ে ও রান্না করে দেখতে চাই।

      আজকাল রান্না করাটা আমার একটা শখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে বাসায় ফিরে গিয়ে রান্না করে খাই!

      বাটিতে জিরার গুড়া ছিটিয়ে দেয়া আমিও দেখেছি কিন্তু তখন বুঝতে পারতাম না কি দিত। এখন বুঝি। জিরার ঘ্রান খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।

      মাঝে মাঝে ভিন্নতা আনুন। আমি এই ভিন্নতার জন্য বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছি! হা হা হা…।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  9. ভিন্নতা নিয়ে গল্প শোনাবো একদিন। আমাদের দুইজনের সংসারে নানান ধরনের অদ্ভুত রান্না আমরা করি। এটার সাথে ওটা, ওটার সাথে এটা কতরকম এক্সপেরিমেন্ট যে করি…। সেদিন করলাম ছুরি শুটকি দিয়ে ঝাল ঝাল খিচুড়ি।

    Like

  10. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s