Gallery

আড্ডাঃ লেখক/ব্লগার আলী মাহমেদ (আখাউড়ায়), পর্ব-২


আড্ডাঃ লেখক/ব্লগার আলী মাহমেদ (আখাউড়ায়), পর্ব-১। আলী মাহমেদ ভাইকে নিয়ে আসলে তেমন কথা চলে না। এদিকে কথার বিপদ আছে, কথা যখন লেখার আকার হয়ে যায় তখন বিপদ আরো বেড়ে যায়। আলী মাহমেদ ভাইয়ের সাথে কি কি বিষয়ে কথা হয়েছিল তা লিখে আমিও বিপদে পড়তে চাই না! হা হা হা…।

অন্যদিকে ছবি কথা বলে। ছবির বিপদ কম। ছবির প্রমান এখন আদালতেও গ্রহন করা হয়!  এডিট করা না হলে একটা ছবি সব তথ্যই বলে দিতে পারে। তাই এই ২য় পর্বেও আমার ছবি কথা বলবে, আমি চুপ থাকতে চাই।


বাংলাদেশে এখনো কারো কাছে আদি বাল্যশিক্ষা আছে এটা আমার ধারনার বাইরে ছিল। আলী মাহমেদ ভাইয়ের সংগ্রহ দেখে তাই অবাক না হয়ে পারা যায় না।


ঠিক সন্ধ্যার সামান্য আগে (যাকে গৌধুলী বলা হয়) গাছ গাছালির ঘেরা আলী ভাইদের বাড়ী আপনাকে একটা আলাদা  জগতে নিয়ে যেতে পারে। বাড়ীর সামনে প্রচুর গাছ পালা। আলী ভাই নিজ হাতে অনেক গাছ লাগিয়েছেন, তবে স্বীকার করে নিয়েছেন, গাছ পালাকে খুব একটা বেশি সময় দিতে পারেন নাই। আলী ভাইয়ের গাছপালার সংগ্রহ দেখেও যে কেহ থমকে যাবে। বিশেষ করে মশলা জাতীয় গাছের সমারোহ দেখে আমার আনন্দ অনেকগুন বেড়ে গিয়েছিল। আমি রান্না প্রিয় মানুষ, আমার কাছে মশলাপাতির দুনিয়ার সেরা! ইস, এমন কাঁচা দারুচিনি, কাঁচা তেজপাতা দিয়ে যদি রান্না করে খেতে পারতাম!


এটা বাসা না বাড়ী বলব! তবে ভিতরটা যাদুঘর এতে সন্দেহ নেই! প্রমান গত পর্বে দিয়ে দিয়েছি!


আমি ভাল গাছ পালা চিনি না, নাম জানলেও অনেকক্ষণ মনে রাখতে পারি না। নারিকেল গাছ পেঁচিয়ে উঠে ও নেমে যাওয়া এই পাতাবাহার দেখে যে কেহই আনন্দ পাবে।


এক এক জায়গায় এক এক ধরনের গাছ বা ফল বিখ্যাত। আখাউড়ার বিলম্ব লেবুও দুনিয়ার বিখ্যাত। সিলেটের প্রতিটা লোকজন যেমন সাতকড়া খেতে পছন্দ করে আখাউড়ার লোকজনও বিলম্ব লেবু খেতে পছন্দ করে। ইতিমধ্যে আমিও এই গাছের ফলে বিরাট ভক্ত হয়ে পড়ছি।


নাম মনে করতে পারছি না। সম্ববত এলাচি গাছ হবে।


দারুচিনি গাছ। সামান্য ভেঙ্গে পকেটে পুরেছিলাম, সামান্য ছাল দাতে চিবিয়েছিলাম। বিশ্বাস করেন এখনো সেই ঘ্রান পাচ্ছি।


নাম মনে করতে পারছি না।


তেজপাতা গাছ। আসলে অন্ধকার নেমে আসায় পুরা গাছ পালাগুলো ঘুরে দেখা হয় নাই। এই গাছ গুলো দেখতে আমাকে আবারো আলী মাহমেদ ভাইয়ের বাড়ী যেতে হবে।


একেই বলে ইজি চেয়ার! চাইলে আপনি এই ইজি চেয়ারে কিছুটা সময় রেষ্ট নিতে পারেন। তবে এটা কত বছরের পুরানো তা জানা গেলে আরাম করতে আরো আরাম লাগত।


আলী মাহমেদ ভাইয়ের অনেক ধৈর্য্য! মাহমেদ ভাইয়ের আঁকা বিখ্যাত লোকদের মুখের প্রোর্টেট দেখে সত্যি অবাক হতে হয়।


জীবনটাই যখন নিলামে! ক্রেতা পাওয়া গেল কিনা জানা হয় নাই। এত কম সময়ের আড্ডায় কি আর এত জানা যায়!


কি করে লিখেন! এখন তথ্য প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল যুগ। ডাইরেক্ট কি প্যাড টু নেট সার্ভার!


এতক্ষন নিশ্চয় আপনারা যারা আমার এই দুই পর্ব আড্ডা পড়েছেন বা দেখেছেন তারা নিশ্চয় আমার হাতে তোলা আলী মাহমেদ ভাইকে দেখতে চাইবেন, দি ইয়ং ম্যান। দুনিয়ার কোন আশাই অপূর্ন থাকে না। আপনাদের তো নয়ই! (আলো মাহমেদ ভাই মাফ করে দিয়েন, আমি আপনার ব্লগ দেখেছি অনেক বার, সেখানে আপনার ছবি আছে)।

তবে বিশ্বাস করেন রেসিপি প্রিয় পাঠক/পাঠিকা বন্ধুগন, ছবি তুলব এই কথা বলতেই আমার সাহস হচ্ছিলো না। প্রথম আড্ডায় এমনিতেই তিনি আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন। আশা করি আগামীতে এই জয়যাত্রা চালু থাকবে, কারন আমাকে আখাউড়া  যেতেই হবে, বার বার, হাজার বার! আখাউড়া যে আমার শশুরবাড়ী মধুররররর হাড়ি!

(আলী মাহমেদ ভাই, যদি কোন ভুল হয়ে থাকে ক্ষমা চাই। আপনি সময়ের সাহসী মানুষ, এগিয়ে চলুন। ভাল থাকুন। আশাকরি আগামীতে আবারো আড্ডা দেয়ার কিছু সময় দেবেন।)

Advertisements

9 responses to “আড্ডাঃ লেখক/ব্লগার আলী মাহমেদ (আখাউড়ায়), পর্ব-২

  1. একজন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।
    নারকেল গাছ পেঁচিয়ে উঠেছে যে গাছ, সেটাকে ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামে চিনি।
    এলাচি গাছ বলেছেন যেটাকে সেটা সম্ভবতঃ অন্য কোন গাছ।
    চমৎকার পোস্ট!

    Like

    • হুদা ভাই, গাছ পালা আমি কম চিনি। হা, মানিপ্লান্ট ই বটে।
      এলাচি গাছ যেখানে ছিল সেটা আমি আলী ভাইয়ের মুখে শুনেছি। তবে সন্ধ্যা নামার কারনে সব কিছু ভাল করে খেয়াল করতে পারি নাই। আরো প্রচুর গাছ পালা ছিল সেখানে।

      আপনার সাথে খুলনা গিয়েও এমন একটা পোষ্ট লিখতে চাই।

      শুভেচ্ছা।

      Like

      • খুলনা থেকে ফিরে অবশ্যই পোস্ট লিখবেন। তবে এমন পোস্ট লেখার সুযোগ হবে না। আমার বাড়ী, বিরান বাড়ী। নিজে থাকি না। গাছপালা যা করেছিলাম, সব অযত্ন-অবহেলায় শেষ হয়ে গেছে। যে সব গাছ বিনা যত্নে এখন পর্যন্ত আছে তাদের অবস্থাও করুণ। আপনি যখন যাবেন, ততদিনে তাদেরও আয়ু ফুরিয়ে আসবে।
        একাকী জীবন কেম্ন কাটাচ্ছেন?

        Like

  2. দারুচিনি আর তেজপাতা গাছ সিলেটে অনেক বেশী চোখে পড়ে। আমার ঘরের জানালা দিয়ে পাশের প্লটে একটি দারুচিনি গাছের নতুন লাল টকটকে পাতা প্রায়ই নজরে পড়ে। গাছ পালায় ঘেরা, ও এমন দূর্লভ সংগ্রহে ভরা বাড়ী ও বাড়ীর মালিকের কথা জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো।

    Like

    • প্রিয় রান্নাতো আপা, আসলে না দেখলে বিশ্বাস করা মুস্কিল। আমি ভেবেছিলাম, তিনি আমাদের মতই যান্ত্রিক মানুষ এবং আমাদের মতই জোবন যাপন করেন। কিন্তু আড্ডা দিয়ে দেখলাম, তিনি আমাদের ছেয়ে ভিন্ন এবং উচুতে অবস্থান নিয়েছেন।

      তিনি সারা জীবন আখাউড়াতেই কাটিয়ে দিতে চান এবং সেখানে থেকেই এই দুনিয়া ছেড়ে যেতে চান। এমন ভাবতে পারে কয়জন।

      সাধারণত একটু গ্রামের বাড়ী যেতে চাই না, সেখানে এমন একটা ছোট শহরকে ভালবেসে তিনি শহরের মান বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

      আমি তার জন্য সব সময় দোয়া করি এবং আগামীতে আবারো আড্ডা দিতে চাই।

      শেষের কথা তো বলি নাই, উনাদের বাড়ীর পিছনে বা পাশে বিরাট লেকের মত আছে। চাঁদনী রাতে আমরা তিনজন সেই লেকের উপরে একটা ছোট ব্রীজ দাঁড়িয়ে রাতের সৌন্দর্য্য দেখেছিলাম। হালকা কুয়াশা ছিল!

      বুঝেন অবস্থা।

      শুভেচ্ছা আপা।

      Like

  3. পিংব্যাকঃ তিমি মাছের ঝোল এবং… | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  4. রামসুন্দর বসাকের “আদি বাল্যশিক্ষা” এবং মদনমোহন তর্কালঙ্কারের “শিশু শিক্ষা” এখন আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন কি ইন্টারনেট সার্চে ও পাওয়া যায় না । ভাই, ইতিহাস আর আমাদের ঐতিহ্যের স্বার্থে দুটি বই এখনই স্ক্যান করে নেটে ছড়িয়ে দিন । না হলে এই অমুল্য সম্পদ সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্ম কিছুই জানবে না। প্লিজ ভাই…..

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s