Gallery

রেসিপিঃ ডাইল করলা (ডালের সাথে করলা)


ডাল না ডাইল! যাই হোক আমাদের বানান দেখার প্রিয় মানুষ ব্লগার নাজমুল হুদা ভাই আমার কোন এক পোষ্টের কমেন্টে লিখেছেন ডাইল (ছোট মামাকে আমরা ডাইল বলতাম, আবার জিজ্ঞেস করবেন না, ছোট মামা কি! উত্তর দিতে পারব না!)। আমি জানতাম ডাল! আমার জানায় অনেক ভুল আছে। গত কাল রাতে বাসায় আমরা দুটো আইটেম করেছিলাম, একটা হচ্ছে ‘ডাইল করলা’ মানে ডালে করলা দিয়ে রান্না আর একটা হচ্ছে ‘মাছে সাতকরা’। দুটো খাবারই বেশ মজাদার হয়েছিল।

ডাইল করলা আমি প্রথম খাই আমার এক বন্ধুর বাসায়। আমার বন্ধু মা রান্না করেছিলেন। এখনো স্বাদের কথা মনে আছে। তবে আমার আম্মা এটা কখনো রান্না করেছেন বলে আমি মনে করতে পারি না। মানে এই খাবার রান্না আমাদের বাসায় কখনো করা হত না। আলাদা ডাল রান্না হত এবং করলা ভাজি। ডালের সাথে আমি কখনো কখনো কাঁচা আমের টুকরা দেখেছি অন্য কিছু নয়।

যাই হোক ডাল নিয়েও আমি অনেক রেসিপি লিখেছি। আমি নিজ হাতে এখন ভাল ডাল রান্না করতে পারি। তবে এখনো ডাল রান্না করতে গেলে কেমন যেন হিবিজিবি লাগে। কিন্তু ডাল ছাড়াতো আমাদের চলেই না!

চলুন, রেসিপি প্রিয় পাঠক/পাঠিকা বন্ধুরা, আজ দেখে ফেলি কি করে ডালে করলা দিয়ে রান্না করা যায়। খুব সহজ। পানি পানের মত।

প্রণালীঃ

সাইজ মত করলা কেটে সামান্য লবন যোগে সিদ্ব করে পানি ঝরিয়ে নিন।


এবার একটা সাধারন ঝোল! কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে হাফ কাপ পেঁয়াজ কুচি দিন। ভেজে হলুদ হয়ে গেলে তাতে এক কাপ পানি, এক চামচ রসুন, সামান্য হলুদ গুড়া ও মরিচ গুড়া দিয়ে ভাল করে কষিয়ে কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন। লাগলে আরো  পানি দিয়ে নিন। ব্যস ঝোল হয়ে গেল।


এবার ভিজিয়ে রাখা পনে এক কাপ মুশরী ডাল দিন। ভাল করে মিশিয়ে আরো দুই কাপ পানি দিয়ে দিন।


ডাল নরম হবার জন্য কিছুক্ষন ডেকে রাখুন।


ডাল নরম হয়ে গেলে ঘুটনী দিয়ে ডাল গুলোকে মিশিয়ে দিন।


এবার ডালে সিদ্ব করা করলা দিয়ে দিন।


আরো এক কাপ পানি দিয়ে আবারো ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১৫ রাখুন। করলা সফট হয়ে পড়বে।


এবার রসুন মরিচ বাগার দিন (একটা অন্য কড়াইতে তেল গরম করে তাতে একটা রসুন ও কয়েকটা শুকনা মরিচ ভেজে হলুদ করে ফেলুন, এটাই বাগার)


এবার বাগার গুলো ডালে ঢেলে দিন। এই কাজ সাবধানে করতে হবে, যেন হাতে বা শরীরে চিটকা না পড়ে।


মিশিয়ে ভাল করে আবারো জ্বাল দিন। শেষের দিকে ফাইন্যাল লবণ দেখে নিবেন। লাগলে দেবেন, না লাগলে ওকে!


ব্যস হয়ে গেল ডাইল করলা।


কি খেতে মন চায়!

ডাল বিষয়ক আমার আরো রেসিপি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

10 responses to “রেসিপিঃ ডাইল করলা (ডালের সাথে করলা)

  1. দারুণ আইডিয়া, বানিয়ে দেখবো শীঘ্রই। ধন্যবাদ! আজ অনেকদিন পর কাঁচা আম দিয়ে ডাল বানিয়ে খেয়েছি, টক স্বাদটা ডালের সাথে ভালই যায়। আপনার লেখা দেখে মনে হচ্ছে, তিতা স্বাদটাও ভালো জমবে…..

    Like

    • রনি ভাই, আমি আগে একটু ব্যতিক্রম খাবার দেখলেই ক্যাঁৎ করে উঠতাম! হা হা হা… এখন দেখি রান্নার উপরই সব কিছু। রান্না ভাল হলে, ময়মশলা ঠিক মত পড়লে যে কোন খাবারই জমে উঠতে পারে।

      ডালে করলা এটা আমার কাছেও অদ্ভুত ঠেকত, কিন্তু খাবার পর মনে হয়েছে – অমৃত! গরম ভাতে করলা মেখে মুখে পুরার মজাই আলাদা। একদিন রান্না করে দেখতে পারেন। আবার আমার মত ভক্ত বলে যাবেন না কিন্তু!

      আসলে সব সময় একই ধরনের খাবার খেতে ভাল লাগে না, তবে এই বিষয়ে মনকে একটু উদার হতে হবে মাত্র! মন থেকে মনে নিলে যে কোন খাবারই খাওয়া যেতে পারে।

      তবে কিছু মানুষ আছে যারা খাবারের এই পরিবর্তন/পরিমার্জন কিছুতেই মেনে নিতে চান না! আমি আপনার মাধ্যমে তাদের অনুরোধ করি – খাবার খাবারই! কষ্ট করে খেয়ে দেখুন। যারা রান্না করে তাদের উৎসাহ দিন। নিজেও রান্নাঘরে প্রবেশ করুন। দেখবেন দুনিয়া আরো কত সুন্দর।

      আপনাকে শুভেচ্ছা। আপনার মত বন্ধুদের উৎসাহ না পেলে আমি রেসিপি লিখতে পারতাম না।

      Like

  2. ডাল বানানটাও এখানে অশুদ্ধ মনে করি না। তবে পড়বার সময় কেউ যদি আবার ‘গাছের ডাল’ অর্থে পড়ে বসেন, তাই মাঝখানে একটা ‘ই’ বসিয়ে ডাইল বানিয়েছিলাম।
    করল্লা ভাঁজি ছাড়াও অন্য অনেক ভাবে খাওয়া হয়। করল্লা ভর্তা তো খুবই মজার একটা খাবার। এমন কী একেবারে কাঁচা করল্লা সরু করে কেটে (কুচিয়ে) সালাদের মত করেও খেতে অনেকে বেশ পছন্দ করেন। আমার কাছেও বেশ ভালোই লেগেছিল। তবে যারা তিতা বলে করল্লা এড়িয়ে চলেন, তাদের কাছে কোনটাই ভালো লাগবে না। প্রায় প্রতি দিন দুপুরেই করল্লা থাকেই আমার বাসায়।

    Like

  3. ডাল-করলা!!
    অদ্ভুত রেসিপি! সত্যি বলছি, কখনও শুনিনি!!
    একবার চেষ্টা করতে হবে তাহলে।

    Like

  4. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ ডাইল করলা (ডালের সাথে করলা) | OntoreBangladesh

  5. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ করলা ভাজি (এত সহজ!) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s