গ্যালারি

রেসিপিঃ আদা, পুদিনা ও লেবু চা (রং চা)


চা নিয়ে আমার অনেক অনেক গবেষনা আছে। আমি চা প্রেমিক। দিনে দুইতিন বার (আগে বহু বার চলত, এখন চালাই না) চা না হলে আমার চলেই না! সকালে বাসা থেকে চা পান করে বের হয়ে আবার রাস্তায় নেমেই চা চলত, এখন বাদ দিয়েছি। তবে অফিস থেকে নেমে কোথায়ও যেতে এখনো মাঝে মাঝে রাস্তার ধারের চা পান করি। আপনারাও নিশ্চয় রাস্তার ধারের চা পান করেছেন! বাঙ্গালী বটে, রাস্তার ধারের চা না পান করলে আপনাকে নিশ্চিত বাঙ্গালী বলা যাবে না। আজকাল অবশ্য বাঙ্গালী মেয়েরাও রাস্তার ধারের চা পান করছেন বলে অনেক বার দেখেছি।

সে যাই হোক, আজ আপনাদের রাস্তার ধারের একটা চমৎকার চা এর রেসিপি দেখিয়ে দেব। যারা একটু ইনোভেটিব আছেন, তারা এমন চা রাস্তার ধারে না পেলেও বাসায় বানিয়ে দেখতে পারেন। খুব সহজ কাজ। এই চা সবাই রাস্তার ধারে বিক্রয় করেন না, কারন পথের ধারের সবাই প্রায় ঠকবাজী করে ব্যবসা করতে চান (জাতীয় চরিত্র হয়ে পড়ছে)!

আজকের এই চা বিক্রেতাকে আমি অনেকদিন ধরেই চিনি, তিনি মাত্র ৫ টাকায় (দুধ চার দামও একই) এই চা বিক্রয় করেন। কোন ফাঁকি দেন না। তার এই চা, অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। আমিও তার জন্য দোয়া করি। এই চা পান করে মানুষ যে হারে পান, সিগারেট টানেন তাতে অবশ্য আমি আবার হতাশ হয়ে যাই, কন্সার নিশ্চিত! যাই হোক, শুধু এমন চা পান করলে, শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকবে।

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
(পরিমান আপনি কাপের সাইজ বা কত কাপ বানাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করবে)
– চা পাতা (লিকার কড়া হলে ভাল)
– আদা কুচি
– পুদিনা পাতা
– লেবু কুচি
– চিনি (চিনি কম ব্যবহার ভাল)
– চরম গরম পানি

প্রণালীঃ

কাপ নিয়ে তাতে পরিমান মত চিনি, আদা কুচি, পুদিনা এবং লেবু কুচি দিয়ে হাফ কাপ চরম গরম পানি দিয়ে সামান্য কিছুক্ষন রাখা হয় (দুই তিন মিনিট তো হবেই, তাড়া না থাকলে আরো কিছুক্ষন রাখলে আরো স্বাদ বের হবে)।


এবার চা পাতা থেকে বানানো কড়া লিকার নিয়ে হাফ কাপ দেয়া হয় এবং চামচ দিয়ে এবার কড়া একটা ঘুর্নি (ভাল শব্দ পাচ্ছি না) দেয়া হয়, ভাল করে মিশানো যাকে বলে।


ব্যস আদা, পুদিনা ও লেবু চা প্রস্তুত। ফু দিয়ে মুখে হুস করে চুমুক দিয়ে দেখুন।

জীবনে অনেক চা খেয়েছেন, এমন চা খেলে আমি নিশ্চিত ভুলতে পারবেন না। আর মাঝে মাঝে মুখে যাবে আদা কুচি (চিবান), পুদিনা পাতা (চিবান), লেবু কুচি (চিবান)। আহ…।

* চা দোকানী তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তাই তার নাম ও লোকেশন প্রকাশ করা হল না।

চা নিয়ে আমার আরো পোষ্ট বা রেসিপি দেখতে নিন্মের লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেন।
মশলাদার চা
গরম গরম চা
ভালবাসার চা শিল্প
তবে মুল লেখা গুলো চতুরে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এবং প্রচুর কমেন্ট পড়েছিল।

Advertisements

13 responses to “রেসিপিঃ আদা, পুদিনা ও লেবু চা (রং চা)

  1. চমৎকার! বহু আগে আমিও চা বানিয়ে খেতাম। বহু বছর আর খাই না। তার উপর কয়েক বছর আগে আমার দোষে গরম চা যখন আমার জুমানার গায়ে পড়ে গিয়েছিলো (ইস্‌ হঠাৎ কি চিৎকারটাই দিলো আর কতো কষ্টই না পেয়েছিলো) তারপর থেকে শুধু অফিসে চা পান করি। বাসায় এক ফোঁটাও চা আর আমি খাই না। 😦

    আপানার এই চা হয়তো বাসায় নয়, অফিসেই বানিয়ে খাবো। 🙂

    আচ্ছা, বাসায় চা খাওয়ার মনের ভিতিটা কেমনে দুর করি?

    Like

    • ধন্যবাদ শিবলী ভাই, আপনার কমেন্ট দেখে অনেক অনেক খুশি হয়েছি। জুমানার ঘটনা আমার আগে জানা ছিল বলে মনে হয়েছে। আমি আমার ছেলেকে রান্নাঘরে যেতে দেখলেই নিষেধ করি, বুঝিয়ে বলি।

      আমি বাসায় শুধু সকালে চা পান করি। ছুটিতে থাকলেও একবেলা।

      আমার জানা নেই, তবে মানুষের মন। জুমানাকেই জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, সে কি বলে? সে যদি বলে, তবে শুরু করতে পারেন।

      ওদের ইউ টিউবের ছবি গুলো আর দেশে দেখা যাচ্ছে না……

      Like

  2. আদা, পুদিনা ও লেবু চা তাহলে পান করিতেই হয় !!!!

    Like

  3. চা কফি কট্টর রকমের পান করা হয় আমার।
    চা বা কফি ছাড়া চলতে পারিনা আমি। প্রতিদিন নয়, ঘন্টার ভেতরই এক দু’ মগ চা বা কফি না হলে (ব্ল্যাক, দুধ চা/কফি আমি কমই খাই) আমি কোনো কাজই করতে পারিনা। আগে আরও অতিরিক্ত ছিলো, ডাক্তার কাজিনের রাগারাগিতে এখন কম। কম হয়েই এই হাল, তাহলে বুঝুন আগে কি পরিমাণ আসক্ত ছিলো আমার।

    আদা, পুদিনা মিশ্রিত চা শরীরের জন্যও অনেক ভাল। মরক্কোর একটি বিখ্যাত চা হলো “আতাই চা”। সেটাও পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি হয়। মরক্কোর উদ্ভাবিত হলেও এটি অনেক দেশেই তৈরি হয়ে থাকে, মনে হয় আপনি তা পানও করেছেন।

    অনেক ভাল লাগলো পোস্টটি প্রিয় সাহাদাত ভাই [ অবশ্য চা/কফি নিয়ে পোস্ট দিলে আমার ভাল লাগবেই] ।

    Like

    • হা হা হা…। দাইফ ভাই, আমিও চা’র পোকা ছিলাম। এখন আর বেশী পান করি না। বিশেষ করে ইচ্ছা করে এড়িয়ে যাই। প্রবাসে কফি বেশী খেয়েছি। এখন দাম বেশী বলে কিনি না! হা হা হা… (আম্মা বিদেশ থেকে একটা কফির বড় কোটা দিয়েছেন কয়েকদিন আগে, সেটা এখন চালাচ্ছি!)

      প্রবাসে অনেক রকমের চা-গাওয়া খেয়েছি। আতাই চা’র কথা এখন আর মনে পড়ছে না। সৌদি গাওয়া আমার প্রিয় পানিয় ছিল। সৌদিদের সাথে এই বিষয়ে আমার মিলত। সৌদি অফিসে চা নিজে বানিয়ে খেতে হত! তা হলে বুঝেন অবস্থা! কেমন চা/কফি পান করতাম!

      কফি নিয়ে একটা পোষ্ট দিব। আমার দিলু রোডের এক বন্ধু জিতু একটা কফি একদিন বানিয়ে খাইয়েছিল (সে হোটেলে কাজ করত), সেটার মত করে এক কাপ কফি বানিয়ে দেখাব একদিন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. মাল্টিভিট চা! ভালোই লাগবে মনে হয়। তবে পুদিনা পাতার গন্ধটা তেমন সহ্য হয় না!

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s