গ্যালারি

রেসিপিঃ চিচিঙ্গা জিঙ্গা মিক্স (সাথে বর্তমান সব্জি বাজার দর পরিক্রমা)


আজ সকালে সব্জি বাজারে গিয়ে মোটামুটি অজ্ঞান হবার দশা। বেঁচে আসছি, সোবাহানাল্লাহ! বাজারের সব্জির দাম দেখে বার বার অবাক হচ্ছিলাম! এই দেশের কি হবে মালিক! এই দেশে তুমি আর কত কি দেখাবে! হা, যা বলছিলাম। বাজারের এখন আর কেজি ৪০ টাকার নীচে কোন সব্জি নেই! মাত্র কয়েকটা সবজির মুল্য কেজি ৪০ টাকা আর বাকী সব ৬০, ৮০, ১০০ এবং ১২০ টাকা! চিচিংগা (যা অনেকে দেখতেই পারে না) তা হচ্ছে কেজি ৪০ টাকা। জিঙ্গা চাইলো কেজি ৬০ টাকা! কচুর লতি কেজি ৫০ টাকা! আমি সব চেয়ে বেশি অবাক হলাম বরবটি কেজি চাইলো ১২০ টাকা! একদাম! নিলে নেন, না নিলে নাই!

বাজার ঘুরে যখন আমার মাথা ঘুরছিলো তখন সব্জি মানে লতাপাতার দোকানের দিকে যাই! ওমা একি গত সপ্তাহে যে শাকের মুটি ছিল ৪/৫ টাকা তা আজ চাইছে ১৫ টাকা (পরে একদাম চাইলো ১২ টাকা! মুলা শাক, পালং শাক, কচুর শাক যে কোন শাকের মুটির দাম ১২ টাকার নীচে নয়! (আজ মাছ এবং মুরগীর বাজারে যাই নাই! সেখানে তো আগুন অনেক আগে থেকেই!)


ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ই-কৃষি

আসলে আমার মনে হয় দেশে কোন আইনের শাসন আর নেই! নেই কোন নৈতিকতা, যার যা খুশি করছে, যে যেভাবেই হোক টাকা রুজি করছে, যার যা ভেজাল মিশানোর মিশাচ্ছে। টাকা রুজিই আসল কথা! আমাদের মত মানুষদের কি হবে বা হচ্ছে ভেবে কুল পাচ্ছি না!

যাক, ইয়া আল্লাহ। এই ব্লগ পোষ্টে তোমার করুনা চেয়ে গেলাম। টাকা না দাও, দরকার নাই কিন্তু কোন দুরারোগ্য অসুখ দিয়ো না। ভেজাল খাবার গুলো পেটে তোমার কুদরতি দিয়ে খাঁটি করে দাও! আমিন।

দোহাই রেসিপি প্রিয় পাঠক/পাঠিকা বন্ধুগন, আপনারা হাসবেন না। যারা আমার মত নিয়মিত পরিবারের জন্য বাজার করেন, এক হাতে সংসারের খরচপাতি করেন তারা নিশ্চয় বুঝবেন বা বুঝতে পারছেন, কত ধানে কত চাল! আর কত কম বাজার করবো! বলতে গেলে প্রায় সব কিছুতো ছেড়েই দিয়েছি, আর কত নিজকে গুটিয়ে চলব!

সে যাই হোক, রেসিপি ব্লগে রেসিপি ছাড়া আর কি আলোচনা করা চলে! আমি ভাল সব্জি রান্না করতে পারি এটা তো আপনারা আগেই জেনেছেন। আমাকে চিচিঙ্গা সম্রাট বলা হয় এটা পুরানো ব্যাপার। গত কয়েকদিন আগে আমার প্রিয় চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা মিশিয়ে আমাদের পরিবার গুলোতে যে সাধারন রান্না করা হয় তা করেছিলাম। আপনাদের তা দেখিয়ে দিতে চাই, দেখুন কত সহজ এবং কত মজাদার। অনেকে চিচিঙ্গা ঝিঙ্গা খেতে চান না, তাদের একবার রান্না করে খেয়ে দেখতে অনুরোধ জানিয়ে গেলাম।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

প্রথমে চিচিঙ্গা এবং ঝিঙ্গাকে লম্বা টুকরা করে কেটে সামান্য লবন পানিতে সিদ্ব করে নিন। বেশী গলিয়ে নেবেন না। চিচিঙ্গা এবং ঝিঙ্গা আলাদা আলাদা করে সিদ্ব করুন এবং তুলে পানি ঝরিয়ে নিন।


এবার আলাদা কড়াইতে তেল গরম করে একটা ঝোল বানানোর প্রস্তুতি নিন। হাফ কাপ পেঁয়াজ কুচি বা বাটা, এক চামচ রসুন বাটা, সামান্য জিরা গুড়া, সামান্য হলুদ, সামান্য লাল মরিচ গুড়া, কয়েকটা কাঁচা মরিচ, পরিমান মত লবন এবং কয়েকটা চিংড়ী মাছ (দিলে স্বাদ বাড়ে) দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন। এমন ঝোল আমি অনেকবার দেখিয়েছি আপনাদের, চাইলে পুরানো সব্জি রেসিপি পোষ্ট গুলো দেখে নিতে পারেন।


ভাল করে কষিয়ে নিন। তেল উঠে আসলে এবং একটা চমৎকার ঘ্রান বের হলে সিদ্ব করে রাখা সব্জি দিন। প্রথমে আমি ঝিঙ্গা দিয়েছি।


এর পর চিচিঙ্গা দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষন পর এক কাপ গরম পানি দিয়ে, ঢাকনা দিয়ে মিনিট দশেক আগুনের তেজ  বাড়িয়ে গরম করুন।


এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন। না লাগলে ওকে বলুন। দুই একটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন, দেখার সৌন্দর্য বাড়বে।


ঝোল কি পরিমান রাখবেন তা আপনার ইচ্ছা। আমি এই সব তরকারী রান্নার ঝোল একটু বেশী রাখি, রুটি দিয়ে খাই বলে! ঝোল কমাতে ঢাকনা উঠিয়ে তেজ বাড়িয়ে দিতে পারেন। তবে লক্ষ রাখতে হবে যেন চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা যেন বেশী গলে কাদা কাদা না হয়ে যায়। সব্জি গুলো একটা মাখামাখি অবস্থায় থাকতে হবে।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


কি আপনিই বলুন। এমন মজার সব্জি এবং রুটি পেলে কার না খেতে ইচ্ছা করবে!

সবাইকে চিচিঙ্গা ঝিঙ্গা মিক্স শুভেচ্ছা। যারা চিচিঙ্গা ঝিঙ্গা খেতে চান না, তাদের অনুরোধ একবার এমন করে রান্না করে খেয়ে দেখতে পারেন। আমি নিশ্চিত, ভাল লাগবেই।

Advertisements

22 responses to “রেসিপিঃ চিচিঙ্গা জিঙ্গা মিক্স (সাথে বর্তমান সব্জি বাজার দর পরিক্রমা)

  1. চমৎকার একটা রেসিপি দিয়েছেন। ছবি দেখেই খেতে ইচ্ছা হচ্ছে। আপনার ছবি গুলো দেখেই নিজে রান্না করতে ইচ্ছা জাগে।

    Like

    • ধন্যবাদ খালেদ ভাই।
      যে কোন সব্জি রান্নার ছবি গুলো আমি আরো বেশি যত্ন করে ছবি তুলে থাকি। আপনার ভাল লাগার জন্য বেশ খুশি হয়েছি।
      আশা করি রান্না করে দেখবেন। এর চেয়ে আর সহজ রান্না হয় না! হা হা হা।।
      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. আজ আবার চিচিঙ্গা!! সাথে আবার ঝিঙে? ঝিঙে তো তো মুখে তুলা যায়, দুটো মেশালে কী হবে তা আল্লাহ মালুম! ঠিক আছে, বলছেন যখন, একদিন না-হয় ট্রাই করে দেখবো!

    শীতের সবজি না উঠা পর্যন্ত দাম আরও বাড়বে মনে হয়। এ দেশে সবাই লুটেপুটে খাচ্ছে, খুচরা সবজি ব্যবসায়ীদের আর দোষ কী? যত দোষ, আমরা যারা বাজার করে খাই তাদের-বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দিলেই তাদের মুরোদ শেষ! (কিছু না খেয়ে যদি বেঁচে থাকা যেত!)

    [শব্দনীড়ে যেয়ে দেখুন। জুলিয়ান ভাই তো ‘বিদায়’ বলে কেটে পড়েছেন। খালিদ উমর ভাই ‘যাই যাই’ করছেন-কয়েকজনের অনুরোধে ভুগছেন দ্বিধায়।]

    Like

    • হা হা হা… সাধারন ব্লগ গুলোর যা অবস্থা।
      জুলি দা কেন এমন করলেন, বুঝতে পারছি না! খালিদ ভাইও কেন এমন করছেন বুঝতে পারছি না।
      হা, আমি দেখেছি। কারন বুঝতে পারছি না।

      সবাই মুখে তালা দিয়েছে!

      Like

      • ব্লগিং বোধহয় ছাড়তেই হবে!

        Like

        • কি যে বলেন হুদা ভাই। ব্লগিং ছাড়বেন কেন? সময় কাটাবেন কি করে? আপনি আপনার মত করে লিখে যান। কে কি করল তা ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

          হা হা হা………

          Like

          • আচ্ছা, আছি আপাততঃ। কত দিন আর ভাল লাগবে বলতে পারছি না। কিছুই লিখতে পারছি না কেন যেন। পোস্ট পড়তে যেয়েও মনটা কেমন যেন উড়ুউড়ু করে। আগের সেই (চতুর্মাত্রিকে মত) আনন্দ আর এখন পাই না ব্লগিং করে। আমার ব্লগ জীবন শুরু হয়েছিল আমরা বন্ধু দিয়ে। সেখানেও বেশ আনন্দেই ছিলাম। এখন ভেবে পাই না, কেন যে চুপিচুপি সে ব্লগ ছেড়ে দিলাম! ভুলে যাই অনেক কিছু, কিছুতেই নিকট অতীতকে স্মরণ করতে পারি না।

            Like

            • হুদা ভাই, এক জীবনে কত কিছু ঘটে! ব্লগের লেখকরা হাতের আঙ্গুলের মত! এক এক জনের ভাবনা চিন্তা এক এক রকম! সবার সাথে মিলে আগে চলতে চেষ্টা করতাম, এখন অভিজ্ঞতায় বুঝি, এটা অসম্ভব ব্যাপার। কিছু কিছু বেয়াদপ (যারা অন্যকে মোটেই সন্মান করে না) পেয়ে যাবেন, যাদের কারনে এই চমৎকার সময় আপনার কাছে দুঃসময় মনে হবে।

              এত চিন্তা করে লাভ লেই। আপনার ভাল লাগার উপর সব কিছু নির্ভর করবে। আপনি আপনার মত করেই এগিয়ে যান। আপনার যেখানে খুশি লিখুন।

              পিছনে ফিরে দেখার দরকার নেই।

              শুভেচ্ছা।

              Like

  3. বাজারে আগুন লাগায় আপনার মত আমিও অনেক চিন্তিত। কারন বাজার করে, রান্না করে পরিবারের পছন্দ মত পরিবেশন করতে তো আমাকেই হয়। এখন পছন্দ বাদ দিয়েছি। গতকাল কচুর মুখি কিনলাম ২৫ টাকা কেজি। কুম্ভকর্ণ না খেলেও আমি ও আমার সাহায্যকারিনী দুজন তো খাবো। আধ কেজি বেগুন কিনলাম ২০ টাকা, করলা ১ কেজি ৪০ টাকা, ডিমের হালি ৪২ টাকা। ভাগ্যিস ঘরে ছোট বাচ্চা নেই। থাকলে খরচ আরো কত যে বাড়তো। ছোট নাতনিটি সারাদিন আমার কাছেই থাকে, তাই তার জন্য পাঙ্গাস, রুই এধরনের বড় মাছ রাখতে হয়। এদেশে মধ্যবিত্ত শব্দটি উঠে গিয়েছে বহুকাল আগে। জানিনা আমরা কোন গোত্রে আছি। নিম্ন বলতেও পারছিনা, কারন আল্লাহ পাক ৩ বেলা পেট পুরে খেতে দিচ্ছেন। দেশের অবস্থা নিয়ে আমি পুরাই হতাশ!

    রান্নার পোস্টে রান্না নিয়ে কিছুই না বলে এক গাদা কাদুনি গেয়ে গেলাম। কি করবো? কারো কাছে তো বলতে হবে! সুতরাং এই ভাই ছাড়া গতি নেই।
    ভালো থাকবেন।

    Like

    • খুলনায় মোটামুটি সস্তায় বাজার করা যায়। এখন দেখছি এখানেও তাই! উপরে যে কটা আইটেম উল্লেখ করেছে শুধু করল্লা বাদে একই দাম (করল্লা কিনেছি আজ ২০ টাকা কেজি)।
      যে কোন পোস্টে এখন এমন কাঁদুনি গাওয়া ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসে না।
      আমরা এখন উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কোনটাই নই, বিত্তহীন হলেই যেন ভালো হতো!

      Like

      • হুদা ভাই, আসলে সারা দেশের অবস্থাই মোটামুটি এক, এক চিত্র! ভাবলে শরীরের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে।

        মনে হয় প্রায় সব কিছু থেকেই বঞ্চিত হয়ে পড়ছি। এখন আর আগের মত নেই কিছুই। দিনের পর দিন সব কিছুতেই উন্নতি হয় কিন্তু আমাদের প্রিয় দেশের অবস্থা ক্যান্সারের রোগীর মত, দিনের পর দিন, স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ছে যেন!

        তাও লিখে যান। কেউ না পড়ুক, কেউ না জানুক, একদিন মাটি খুঁড়ে সত্য বের হবেই!

        শুভেচ্ছা।

        Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো ভাই।
      আপনার সাথে কথা বলে এই জন্য ভাল লাগে, আপনি বিষয় গুলো নিজ চোখে দেখেন, ভালকে ভাল, মন্দকে মন্দ বলেন।

      আমি আপনার মত পুরাই হতাশ। আমার বাসা ভাড়া কম না হলে, আমাকে গ্রামের বাড়ী চলে যেতে হত অনেক আগেই (আমি অবশ্য চলেই যেতে চাই)।

      আমিও গল্প বলে মন হালকা করি! হা হা হা…।

      আপনার জন্যো শুভ কামনা।

      Like

  4. রসালো আর সুস্বাদু রান্না।
    ছবি দেখেই তো লোভ বেড়ে গেলো।

    Like

  5. দামের ব্যাপারে একেবারে ঠিক কথা বলেছেন। আমিও এখন রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি- বউয়ের কাছে টাকা ধার করতে হচ্ছে!

    Like

  6. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ চিচিঙ্গা পটল মিক্স (আমার ফেবারেট) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s