গ্যালারি

রেসিপিঃ কচুর ডগা ভুনা


কচুর তরকারী রান্না দেখলে এক সময় এক লাফে পালিয়ে যেতাম! আর এখন কচুর নানান তরকারী নিজে হাতে রান্না করে খাই। বেশ আনন্দ পাই এমন সব খাবার খেতে পারলে। মাছ মাংশের চেয়ে এখন এই ধরনের তরকারী বেশী আপন মনে হয়। এই ধরনের তরকারী খেলে পড়ন্ত বয়সে শরীর নানান রোগ থেকে মুক্ত থাকে, থাকা যায় বলেই কি ভাল লাগে!

গতকাল সকালে ডাঃ বিকাশ (একজন মেধাবী সৎ মানুষ) সাহেব এর সাথে কথা হচ্ছিলো। তিনি মোটামুটি জানালেন প্রতিদিন কিছু না কিছু শাক সব্জি খেতেই হবে। পাশাপাশি লেবুর রস, তুলশী পাতার রস, কালোজিরা, রসুন এবং মধু খেতে হবে প্রতিদিন! বয়স বাড়ে আর মাথা ঘুরায়! রোগ বালাই থেকে বাঁচতে হলে ভেজাল মিশাতে পারে না বা এখনো দরকার মনে করে না এমন শাক সব্জি খেতে হবেই! কচু সব্জি এমন একটা তরকারী যাতে ভেজালকারীরা এখনো ভেজাল মিশাচ্ছে না! হা হা হা…

চলুন আজ কচুর ডগা ভুনা দেখি। বড় কাট কচুর ডগা রান্না। নরম অংশের কাট টুকুও নিতে পারেন। শক্ত কচুর কাট দিয়ে আর একদিন গরুর গোসত রান্না দেখিয়ে দেব ।

প্রণালীঃ
১
বাজার থেকে কচু কিনে হাতে নিয়ে বাসায় ফিরতে এখন আর লজ্জা পাই না!

১
কচুর ডগা (ডগা ছাড়া অন্য নাম থাকতে পারে, আমার জানা নেই) নিন। খোসা ছড়িয়ে ধুয়ে সামান্য লবণ দিয়ে ভাল করে সিদ্ব করুন। গলে যাবার আগে নামিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।

১
পানি ঝরিয়ে গুটনি দিয়ে ডগা গুলো মিশিয়ে নিন। যতদুর পারা যায়।

১
কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবণ যোগে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন।

১
এক চা চামচ রসুন বাটা এবং কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।

১হাফ চামচ হলুদ এবং প্রয়োজন মত লাল মরিচ গুড়া দিন।

১
ভাল করে মশলা কষিয়ে তেল উঠে গেলে তাতে গলানো কচুর ডগা গুলো দিয়ে দিন।

১
এবার ভাল করে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে মিনিট বিশেক রাখুন। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে পারেন।

১
দুঃখিত বন্ধুরা, আমি একটু তেল বেশী দিয়ে ছিলাম (যা উচিত হয় নাই, অনুমানে ভুল ছিল)।

১
ফাইন্যাল লবণ দেখুন। লাগলে দিন। না লাগলে ওকে বলুন। এই পর্যায়ে সামান্য লেবুর রস কিংবা তেতুল দিয়ে দিতে পারেন, গলা ধরবে না। আমি লেবুর রস দিয়ে ছিলাম।

১
প্রয়োজনে আরো ভেজে নিতে পারেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন, কড়াইতে যেন না লেগে যায়! বার বার নাড়াতে হবে। মনের মত হলে নামিয়ে নিন।

১
ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাতের সাথে জুড়ি মেলা ভার।

Advertisements

15 responses to “রেসিপিঃ কচুর ডগা ভুনা

  1. কচুর ঔষধি গুন অনেক। লেখার ইচ্ছা ছিল, বস্ত্যতায় ভুলে গিয়েছি। কচুর অন্য একটা আইটেম আছে তাতে লিখে দেব ভাবছি।

    Like

  2. কচু যদি ভালো জাতের হয় তবে পাতার শাক বা ডাগোর শাক কোনটাতেই তেঁতুল/লেবু দেওয়া লাগে না; ঘুটনি দিয়ে ঘুটতেও হয় না- খুন্তি বা চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া দিতে দিতে এমনিতেই গলে যায়! খুলনাতে খুব ভালো কচু পাওয়া যায়-যদি আসেন খাওয়াবো।
    [সতর্কতাঃ কচু বা কচুর শাক কিনতে সাদা শার্ট-প্যান্ট পরে যাবেন না। স্থায়ী দাগ লেগে চিত্র-বিচিত্র হয়ে যাবে!]

    Like

    • হা হা হা…। হুদা ভাই কচুতে নাকি প্রচুর ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম সহ নানান ধরনের আমাদের শরীরের উপকারী দ্রব্য পাওয়া যায়। হা, আপনি ঠিক বলেছেন। ভাল কচু চমৎকার। আমাদের বাড়িতে প্রচুর ছোট কচু আছে, যার শাক আমি নিজ হাতে তুলে আনি। এবার রান্না শিখেছি নিজে রান্না করব।

      কচুর কষ!

      Like

  3. এটাকে শোলা কচু, মুড়া কচু, পানি কচু বলে।
    কয়েক টুকরো ইলিশ মাছ ভেজে কাটা বেছে নামানোর আগে উপরে ছড়িয়ে দিলে আরো জমতো।

    এটার নিচের দিক আমি চাক চাক করে কেটে হলুদ লবন দিয়ে আধ সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে বেসনে ডুবিয়ে মচমচে ভাজি করি। তবে বেশী ভালো লাগে এটার ঝিরি ঝিরি করে কাটা ভাজা।
    আলু ভাজির মতো মিহি করে কুচিয়ে হলুদ, লবন দিয়ে ভালো করে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে চিপে নিবেন। কড়াইতে তেল দিয়ে ( তেল একটু বেশী লাগে) কয়েকটা শুখনা মরিচ, এক চিমটি আস্ত জিরা ফোড়ন দিয়ে পিয়াজ, রসুন, আদা কুচি দিয়ে অল্প ভেজে কচু দিয়ে ভালো করে ভাজা ভাজা করে নামিয়ে পরিবেশন করবেন। আমি নিশ্চিত শুধু এই কচুর মুড়া ভাজি দিয়ে তৃপ্তির সাথে ভাত খেয়ে উঠতে পারবেন। 🙂

    Like

  4. কচু মোটামুটি পছন্দ করি তবে সেভাবে নয়। কচু শাক আবার অনেক পছন্দের। শরীর খারাপ নিয়ে শুয়ে শুয়ে আপ্নার পোস্ট পড়লাম প্রিয় সাহাদাত ভাই।

    Like

    • দাইফ ভাই, আপনার আবার কি হল? শরীর খারাপ মানে! জ্বর বা অন্য কিছু। আশা করি বিস্তারিত জানাবেন। যদি কোন হেল্প লাগে জানাবেন।

      আমি শরীর অসুস্থ্যতা নিরাময় কেন্দ্রে কাজ করি। যে কোন সাহায্য/পরামর্শ দিতে পারি।

      কচু শাক আমারো প্রিয় তবে এখন আলোচনা নয়। আগে আপনি সুস্থ্য হয়ে যান।

      শুভেচ্ছা।

      Like

      • অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় সাহাদাত ভাই।
        এখন পুরোপুরিই সুস্থ আমি আপনাদের দোয়াতে। একটু জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছিলো বুকে। একন সব সেড়ে গিয়েছে। আর আপনি তো আছেনই।

        শুভেচ্ছা জানবেন ভাই।

        Like

  5. আপনার রেসিপির সবচেয়ে ভাল পাওয়া হচ্ছে সুরঞ্জনা আপার ফ্রি টিপস। উনার কচুর মুড়া ভাজি আমার মাও রান্না করতেন। সেই স্বাদ এখন ও মুখে লেগে আছে। কতদিন মায়ের হাতের রান্না খাইনা। সুরঞ্জনা আপার এই কচুর মুড়া ভাজি আমার রান্না করার ইচ্ছে আছে। খালি কচু কোথায় পাওয়া যায় তাই খুজতে হবে। আপনার কচু ভুনাটাও ভাল হয়েছে। কিন্তু এই কচু শাক আরো মোলায়েম হয় আমার দেখা মত।যদিও কখনও রান্না করিনি, আমার মা রান্না করেছেন আর আমি খেয়েছি হা হা হা। তাই কমেন্ট করতে দোষ নাই হা হা হা। ইলিশ মাছে মাথা অথবা মটর, আস্ত সীমের বিচি সিদ্ব দিয়েও এই কচুর শাক খাওয়া যায়।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হা, আমার রান্নাতো বোন না থাকলে এবং সার্পোট না দিলে আমি হয়ত ভেসে যেতাম। আমিও উনার অভিজ্ঞতা এবং টিপস পছন্দ করি এবং মাথা পেতে মেনে নেই। বড় বোনের মত তিনি আমাদের সাহায্য করে যাচ্ছেন বলে আমরা উনার কাচ্ছে কৃতজ্ঞ।

      কচুর শাকের কথা বলে জিবে জল এনে দিলেন। আমি কচুর শাক বেশ পছন্দ করি। গ্রামের বাড়ী গেলে খুঁজে ফিরি।

      আর অন্নান্য খাবারের কথা যা লিখেছেন! জিবে জল এসেই গেল। আসলে আমাদের অনেক খাবার হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানেরা হয়ত আগামীতে এমন সব খাবারের নাম যাদুঘরে খুঁজবে।

      শুভেচ্ছা আপনাকে। পুরানো রান্না খুঁজে দেখার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা আবারো।

      Like

    • ধন্যবাদ জাভেদ ভাই।
      আপনার কমেন্ট দেখে আমরা আনন্দিত। আপনি হয়ত মোবাইল থেকে আমাদের ব্লগ দেখেন বলে আমাদের মনে হচ্ছে। আপনার কমেন্ট গুলো ছোট এবং ইংরেজী দেখে আমাদের এটা মনে হচ্ছে। ব্যাপার না, আপনি আমাদের সাইট দেখেন এবং কমেন্ট করেন এটা আমাদের আনন্দ করার জন্য যথেষ্ট।
      আপনি ভাল থাকুন এবং কমেন্ট করতে ভুলবেন না।
      শুভেচ্ছা আপনি ও আপনার পরিবারের জন্য।

      Like

  6. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ কচুর শাক ভাঁজি (খেলে ভুলতে পারবেন না!) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s