Gallery

রেসিপিঃ হাঁসের গ্রিল কাবাব (প্রিয় বন্ধু আদনান রনি ভাইকে)


প্রবাসী আদনান রনি ভাই আমার রেসিপি পোষ্ট গুলোর একজন বিশ্বস্থ পাঠক। রেসিপি লিখে বা ব্লগে লিখে আমি অনেক অনেক ভাল বন্ধু পেয়েছি, রনি ভাই তাদেরই একজন। একটা মানুষের কেমন হতে পারে তা তার কমেন্ট দেখেই বুঝা যায়। একজন মানুষের এক একটা কমেন্টই বলে দেয় তিনি কেমন।  না দেখা মানুষ গুলোর সাথে আমাদের প্রতিদিন এই কমেন্টেই কথা হয়, হয় ভাব বিনিময়, চলে কত কথা! গত কয়েকদিন আগে হাঁসের মাংসের সাধারন রান্নায় রনি ভাইয়ের কমেন্ট দেখুন।

ওহ জিভে পানি চলে আসলো! শীতকালে ঝাল হাঁসের মাংস দিয়ে গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত, কোনো তুলনাই হয় না। এদেশে হাঁসের খুব দাম, ইচ্ছা থাকলেও কিনে খাওয়া হয় নি। এখানে শখ করে হাঁসের আস্ত রোস্ট করে অনেকে, আর সেটা থেকে যে তেল পাত্রে জমা হয়, সেটার খুব কদর। হাঁসের তেল দিয়ে আলু ভাজি করে খেতে নাকি অমৃত! আমি খাইনি অবশ্য।

রনি ভাইয়ের রান্নার প্রতি আগ্রহ আমাকে প্রবল ভাবে টানে, ইস যদি রনি ভাইয়ের সাথে বসে খেতে পারতাম! রনি ভাইয়ের সাথে আমার এখনো দেখা হয় নাই, আমি আশায় আছি, একদিন রনি ভাইয়ের সাথে একটা জমজমাট আড্ডা হবে। হা হা হা… রনি ভাই, হাঁসের তেলে আলু ভাজির কথা আমার কাছে সম্পুর্ন নুতন। আগে জানলে এই চেষ্টাও করে নিতাম!

রনি ভাই, আরো অনেক কথা আছে। আগামীতে কথা চলবে। চলুন আজকের রেসিপি দেখি – হাঁসের গ্রিল কাবাব। এই কাবাবের রেসিপির জন্য আমাদের অন্য রেসিপি প্রিয় বন্ধুরাও অপেক্ষা করছেন।

(প্রথমের হুদা ভাইয়ের কাছে সরি। কারন এই হাঁসেরও চামড়া তুলে নেয়া হয়েছে। আমি জানি হাঁসের চামড়া সহ রান্না করতে হয়, কাবাবেতো চামড়া থাকাই দরকার ছিল। কিন্তু লোম ভাল করে বাছতে না পারায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যারা চামড়া রাখতে পারবেন তারা রেখেই করবেন, খেতে আরো মজা লাগবে এবং কাবাবের শেষে ভাল তেল পাওয়া যাবে এবং তা জমিয়ে আলুভাজিও হয়ে যাবে।)

রেসিপি পরিমাণঃ (পরিমাণ অনুমান করে দেয়া হয়েছে, সামান্য এদিক ওদিকে কি আসে যায়)
– একটা হাঁস
– হাফ কাপ পেঁয়াজ বাটা
– দুই চামচ আদা বাটা
– দুই চামচ রসুন বাটা
– ঝাল বুঝে লাল গুড়া মরিচ
– এক চামচ হলুদ
– গরম মশলা  বাটা (চার/পাঁচটে এলাচি, কয়েক টুকরা দারুচিনি, জয়ত্রী, সামান্য জয়ফল )
– এক চামচ জিরা
– দুই চামচ টমেটো সস
– ২ চামচ ভিনেগার
– এক চামচ চিনি
– এক চামচ কাবাব মশলা (বাজারে প্যাকেটে পাওয়া যায়। এতে রং ও স্বাদ বেড়ে যাবে তবে না থাকলে নাই)
– পরিমাণ মত লবণ
– পরিমাণ মত তেল

প্রস্তুত প্রণালীঃ

হাঁস পরিষ্কার করে নিন। তারপর উপরে উল্লেখিত সব মশলা পাতি দিয়ে (তেল সহ) ভাল করে হাসটি মেখে নিন। লবণ দিতে ভুলবেন না।


হাঁসের ভিতরে বাইরে যেন ভাল করে মশলা লেগে যায়। এভাবে প্রায় ঘণ্টা খানেক রেখে দিতে পারেন। ম্যারিনেটেড। এতে মশলা মাংসে ভাল করে লেগে যাবে। চাইলে কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন।


এবার একটা ফ্রাই প্যানে সামান্য তেল নিয়ে ভাল করে গরম করে হাঁসটিকে হালকা ভেজে নিন। এটা এজন্য যে, এতে হাঁসের মাংস নরম হয়ে যাবে, প্লাস স্বাদ বেড়ে যাবে।


বেশি নয়, এপাশ ওপাশ করে হালকা ভাজি।


এবার হাঁসটিকে ইলেকট্রিক ওভেনের ট্রেতে তুলে দিন।


বেছে যাওয়া মশলা গুলো ফ্রাই প্যানের তেলে দিন এবং সামান্য কষিয়ে হাঁসের উপর বিছিয়ে দিন।


এবার ওভেনে ২০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রটে ওভেনের মাঝামাঝি আধা ঘণ্টার জন্য দিন।


মাঝে মাঝে দেখতে ভুলবেন না।


কেমন পোড়া পোড়া কাবাব বানাবেন এটা আপনার উপর নির্ভর করছে। মিনিট বিশেকে না হলে আরো কিছু ক্ষণ রাখতে পারেন। বার দুয়েক খুলে তেল মশলা কাবাবের উপর দিয়ে দিন।


মাংস নরম হল কি না তা দেখে নিন। ছুরি চামচ দিয়ে দেখতে পারেন। ভিতরে না বাইরে আরো আগুনের আঁচ লাগবে তা দেখে নিতে পারেন। যদি ভিতরে আগুনের আঁচের দরকার হয় তবে ট্রে নামিয়ে দিন। আর উপরে লাগলে ট্রে উপরে উঠিয়ে দিন। এতে সঠিক মাত্রায় কাবাবের চারপাশ নরম হয়ে যাবে।


হাঁসের মাংস একটু শক্ত বলে নিজেই দেখে নিবেন।


ব্যস, হয়ে গেল হাঁসের মাংসের গ্রিল কাবাব। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। বসে পড়ুন। কত সহজ একবার ভেবে দেখেছেন! হা হা হা…

গত কয়েক বছরে দুটো করে হাঁস কোপালে লিখা হয়ে আছে। এই বছরের শেষটা ছিল এটা।  আখাউড়া থেকে পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় হাঁস কিনে বাসায় ফেরা আমার জন্য হালকা কষ্টকর কাজ। কখনো চেষ্টাও করি নাই! যদিও আমি বাজার নিজ হাতে করে থাকি! তবে এবারে হাঁস খেয়ে ভাবছি, এবার আমি নিজেই বাজার থেকে হাঁস কিনবো। আর আখাউড়ার অপেক্ষা নয়! এমন সুস্বাদু খাবার বছরে দুইবার হলে চলবে না, আরো চাই!

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন ও আখাউড়াবাসী গন।

রেসিপিঃ সাধারন হাঁস রান্না (ঝাল)

29 responses to “রেসিপিঃ হাঁসের গ্রিল কাবাব (প্রিয় বন্ধু আদনান রনি ভাইকে)

  1. এই মেঘ এই রোদ্দুর

    দারুনসসসসসসসসসসসসসসস

    Like

  2. ওয়াও!!!!
    দারুন!!!

    ঢাকা থেকে হাস কিনলেও আখাউড়ার স্বাদ পাবেন না। ঢাকার গুলো হবে চিমশে-কাঠি। গ্রামে বা মফস্বলের হাস ঘুরে ফিরে শামুক, গুগলি, ধান, কুড়া খায়। তাই সেগুলোতে চর্বি ও স্বাদ বেশী। বানিজ্যিক ভাবে যারা হাস পালন করে তারা যে খাবার হাসকে খাওয়ায় তাতে হয়তো ফার্মের মুর্গীর মত মোটাতাজা হবে কিন্তু স্বাদ হবেনা।

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো আপা,
      আপনার কথার সাথে একমত। ঢাকা থেকে হাঁস কিনা চলবে না! হা হা হা।। তা হলে কি আবার আখাউড়া রিকোয়েস্ট করব! আবার বেশী বেশী হয়ে যাবে না! আহ…

      আপা, হাঁসের একটা ঘটনা মনে পড়ল। আগের দিনের রাজা বাদশারা নাকি হাঁসের একটা বিশেষ খাবার খেত! গোটা বিশেক পুরুষ হাঁস নিয়ে শুরু হত প্রথম চালান! তার পর একটা জবাই করে টুকরা টুকরা করে অন্য হাঁস দের খাইয়ে দিত, হাঁসরা যেহেতু কাঁচা মাংস খায়! এভাবে শীতের কালে দৈনিক খাবারের পাশাপাশি রোজ একটা করে…।। তার পর যে হাঁসটা সর্বশেষ জীবিত থাকত, তা দিয়ে এক ধরনের বিশেষ রোষ্ট! পেস্তা বাদাম ও ঘি দিয়ে। আহ…

      সেই দিনও নাই, সেই রাজা বাদশাও নাই!

      (আপা, আপনার ব্লগের যে ছবিটা ব্যবহার করেছেন সেটার অরিজিন্যাল ছবিটা কি আমাকে মেইল করতে পারবেন udraji@gmail.com এ)

      Like

  3. দুর্দান্ত এক পোস্ট।
    সত্যি বলতে, রান্নাতে আসলেই আপনার জুড়ি নেই সাহাদাত ভাই। এই হাঁসের কাবাবটা হোটেল রেডিসনের সাবলাইম রেস্টুরেন্টে চমৎকার বানায়। সেখানেরটা ছিলো এতদিন সবথেকে পছন্দের। এখন আপনার রেসিপিটা দেখে নিজেই বানাবো। স্যালুট সাহাদাত ভাই।

    অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানবেন।
    শুভকামনা!

    Like

    • ধন্যবাদ দাইফ ভাই, আমাকে পুরা কৃতিত্ব দেয়া যাবে না। আইডিয়া ও হালকা খাটাখাটুনি আমার। বেশির ভাগ হচ্ছে আমার ব্যাটারী তথা মানসুরা হোসেনের। আমি এখনো শিখছি…। তবে অনেক কিছু এখন পারি। সাধারন সব রান্না মোটামুটি শিখে ফেলেছি… ইস প্রবাসে থাকার সময় যদি রান্না জানতাম…।

      দেশ বিদেশে নানান শ্রেণীর হোটেল রোস্তারায় খেয়েছি বলে হালকা একটু আইডিয়া হয়েছে। খাবার দাবার চিনতে পারি এই আর কি! হা হা হা।।

      আমাদের দেশেই একমাত্র মানুষের খাবারে মানুষ ভেজাল মিশায় এবং উচ্চদামে তা আবার বিক্রি করে। দুঃখজনক। খাবারের দাম সব সময়েই সাধারন মানুষের নাগালে রাখা দরকার।

      আমরা এখন আর হোটেলে খাবারের কথা চিন্তাও করতে পারি না। কদাচিৎ… অথচ বছর পাঁচেক আগেও নিয়মিত নানান হোটেলে ইচ্ছা করেই যেতাম দল বেঁধে বা পরিবার নিয়ে।

      খাবার দাবারে আপনার অভিজ্ঞতা দেখে আমি অভিভুত। শুভেচ্ছা থাকল। তবে অনুরোধ রান্নাটা ভাল করে জেনে নিন, একদিন এটা কাজে লাগবেই।

      Like

      • তাহলে তো ধন্যবাদ রইল ভাবীর প্রতি।

        আর আমিও বেশ ছোট থাকতেই রান্নার প্রতি ঝোঁক। মাঝে মাঝে রান্না করি শখের বশে। খুব একটা খারাপ হয়না মনে হয়, হা হা হা। আর নিত্য নতুন রেসিপির নিরীক্ষা করা তো অভ্যেস। তাই দেখেননা আপনার ব্লগে কচ্ছপের কামড় মেরে বসে থাকি।

        আর এটা সত্যি, আমাদের দেশেই দিনকে দিন খাবারের মান কমছে আর ভেজালের কথা নাই বলি। আর দাম তো বাড়ছেই মনে হয় ক’দিন পর পর। কে দেখবে এসব?

        ধন্যবাদ আবারও প্রিয় সাহাদাত ভাই।

        Like

        • ধন্যবাদ দাইফ ভাই,
          আসলেই আপনি সঠিক বলেছেন।

          তবে এটা ঠিক যে কোন রান্নাই এক একটা ইউনিক রান্না। রান্না নিয়ে এক্সপ্রেরিমেন্ট করা আমারও অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যে কোন ধারাবাহিক রান্না থাকবেই, আমার চেষ্টা থাকে সেটাকেই একটু আলাদা, একটু ভিন্নতা দেয়ার।

          পরিবেশনেও একটু যত্নের ছাপ দিতে চাই।

          আপনাকে শুভেচ্ছা এবং আশা করি আজীবন সাথেই থাকবেন।

          Like

  4. সন্ধ্যা হতে আরও এক ঘন্টা দেরী!! এমন সময়ে হাঁসের গ্রীল!!!

    ঢাকায় হাঁস যারা বিক্রি করে, তার অনেক জায়গায় পরিস্কার করে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

    হাঁসের চামড়াতেই চর্বি! আর যত স্বাদ সবই চর্বিতে!! এর পরে যত কষ্টই হোক, চামড়া কিন্তু ফেলবেন না।

    Like

  5. অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি সাহাদাত উদরাজী ভাই, আমাকে বন্ধু ভেবে এই পোস্টে আমাকে উল্লেখ করেছেন। রান্নায় আমার আগ্রহ অনেকদিনের, তাই আপনার লেখাগুলি চতুরে বেশ আগে থেকেই ফলো করতাম, এখানে এসে তাই খুব ভালো লেগেছে, আর আরো ভালো লাগছে আপনার মত একজন চমৎকার মানুষের বন্ধুত্ব পেয়ে। আগেও বলেছি নিশ্চয়ই, আপনার রান্না ও লেখার ভেতর দিয়ে আমি আমার প্রিয় দেশ আর প্রিয় মানুষদেরকে খুঁজে পাই, বারবার তাই ফিরে আসি আপনার লেখায় 🙂

    হাঁসের রোস্ট দেখে তো আর নিজেকে আর সামলানো যাচ্ছেনা, এতই লোভনীয় হয়েছে! আমিও আপনার জায়গায় থাকলে হয়ত ২জনে মিলেই সাবাড় করে দিতাম,হাহাহা…

    Like

  6. ইলেকট্রিক ও মাইত্রোওয়েভ ওভেনের ফাংশন বিস্তারিত জানা দরকার,

    Like

  7. পরবর্তী হাঁস কী একা খেয়েই ইতিহাসে পরিণত করলেন?

    Like

  8. হাঁস এর মাংসের আরো রেসিপি চাই।

    Like

  9. আদনান রনি ভাই এর কাছে আপনার নাম আর ব্লগের খোজ পেয়েছি। .. সুন্দর গল্পে গল্পে চমত্কার সব রেসিপি দেন আপনি। .. Keep up the good work!

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s