Gallery

রেসিপিঃ কলমি শাক ভাজি (ঝটপট)


এই জগতে সকল প্রাণীর জন্য শাক সবজি বেশ উপকারী খাবার। শাক সবজি না খেলে মানুষ আরো আগে মরে যেত, ষাট বছর কমপ্লিট করতে পারত না! মানুষ আর পশুতে তফাৎ এই টুকু, মানুষ শাক সবজি রান্না করে খায় আর পশু সমাজ ডাইরেক্ট একশান! মানুষ যদি শাক সবজিতে ডাইরেক্ট একশনে যেত তবে…।। আসলে মানুষের দেহ খুব নাজুক, পেটের পাকস্থলীতে এমন শক্তিশালী পাচক নাই যে, কাঁচা শাক সবজি গলিয়ে ফেলবে! রান্না করে শাক সবজিকে আমাদের দেহের বা পাক্স্থলীর জন্য উপযুক্ত করে ফেলা হয়…।

যাক যা বলছিলাম, আমার রান্না শেখার প্রায় বছর খানেক হয়ে যাচ্ছে। আগে শখ করেও রান্নাঘরে যাই নাই আর এখন রাতে রান্নাঘরে না গেলে পেটের ভাত হজম হয় না! এদিকে আমার ব্যাটারিও আমাকে প্রতিদিন রান্নাঘরে দেখতে চান, আমি নাকি বেশ ভাল রান্না করি (যদিও বড় বড় রান্না এখনো ভয় পাই)! আসলে আমরা দুইজনেই রান্না করি, সাথে চলে গল্প! আমার মনে হয় গল্প করার জন্যই আমার ব্যাটারী আমাকে রান্নাঘরে দেখতে চায়! হা হা হা…

শাক সবজির সাধারন রান্নায় আমার পরদর্শিতা দেখে তিনি কয়েকদিন আগে আমার একটা নুতন নাম দিয়েছেন – চিচিঙ্গা সম্রাট! আমি নাকি চিচিঙ্গা এতই ভাল রান্না করি যে, চিচিঙ্গা দিয়েই নাকি খেয়ে উঠা যায়। আমি কিন্তু তা মনে করি না, আমি মনে করি আমি শাক সবজি জাতীয় সকল রান্নায় নিজের যোগ্যতা প্রমান করে যাচ্ছি!  গত কয়েকদিন আগে আবারো কলমি শাক ভাজি করলাম, ঝটপটে। তিনি খেয়ে বললেন, সত্যি তোমার হাতে যাদু আছে! আর আমার ছেলে, ও সব সময়েই এক কাঠি উপরে, প্রায় বলে – বাবা, হোয়াট ইস ইউর টুইস্ট!

আমি সাধারণ ভাবেই রান্না করি। তবে চুলার  ধার ছেড়ে চলে যাই না এবং যত্ন করে রান্নার দিকে খেয়াল রাখি। তেল মশলার পরিমিত ব্যবহার এবং লবনের সঠিক মাত্রা মেনে চলতে চেষ্টা করি। চলুন আজ, কয়েকদিন আগের খুব সাধারন সেই কলমি শাক ভাজি দেখি।  আমার প্রিয় একটা শাক ভাজি।

প্রস্তুত প্রণালীঃ

শাক সবজি ভাল করে বেছে ধুয়ে নিতে হয়। শাক সবজির পাতার উলটা দিকে অনেক সময় নানান পোকা মাকড় থাকে তাই বেশী যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।


সয়াবিন তেল ভাল করে গরম করে তাতে পেয়াক কুচি, রসুন কুচি, কয়েকটা শুকনা মরিচ ও সামান্য লবণ দিয়ে ভাল করে ভেজে নিতে হবে।


ভাল করে ভাজতে হবে, এই ভাজির উপর স্বাদ নির্ভর করবে। পেঁয়াজ ও রসুন গুলো হলুদ হয়ে গেলে তবেই শাক গুলো দিতে হবে।


শাক গুলো ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে (শাক গুলো আপনি হালকা সিদ্ব করেও নিতে পারেন না করলেও নাই) এবং ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১৫ রাখুন। মাঝে মাঝে উলট পালট করে দিন। ফাইন্যাল লবণ দেখুন। ব্যস হয়ে গেল, কলমি শাক ভাজি।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। (শেষ ছবিটা তুলতে ভুলে গেছি! এই ছবিটা আগের এক পোষ্ট থেকে নিয়েছি)

কলমি শাক ভাজি নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে আমার আগের একটা পোষ্ট দেখতে পারেন এই লিঙ্কে – কলমি শাক ভাজি

রান্নাঘরে প্রবেশ করুন, ভালবাসার আরো রং দেখুন।

10 responses to “রেসিপিঃ কলমি শাক ভাজি (ঝটপট)

  1. রান্নাঘরে প্রবেশ করুন, ভালবাসার আরো রং দেখুন।
    দারুন কথা!!!!
    কলমী শাক শাক হিসেবে পছন্দের! সস্তায় ভালো খাদ্য। রোজার দিনে শাক সব্জী, শুধু শাক সব্জীই বা কেন, কোন কিছুই ঠিক মত খাওয়া হচ্ছে না।
    এই রান্না দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে খেতে ভালোই হবে!
    [নিয়াজের ব্লগে কমেন্ট করা যাচ্ছে না। আপনার কমেন্ট আছে, অথচ আমারটা কিছুতেই যায় না।]

    Like

  2. ফারুক হোসেন, ঢাকা

    চমৎকার।

    Like

  3. ভাইয়া কলমি শাক খাইনা বলে আম্মু খুব রাগারাগি করে। তাই…

    Like

    • হা হা হা… খালাম্মার বকাবকির যোক্তিকতা আছে। শাক সবজি না খেলে বয়স ৪০শের উপরে গেলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। পাইলস, কোলন ক্যান্সার থেকে আরো কত কি। এখুনি শাক সবজি খেতে অভ্যাস গড়ে তুলুন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. ভয়ংকর রকমের প্রিয় আমার কলমি শাক!
    এটা হলে আর কিছু লাগেনা। ভাত, গরম ডাল আর কলমী শাক! পুরোই রাজকীয় খানা (আমার মতে)।

    ধন্যবাদ রইল সাহাদাত ভাই এমন চমৎকার পোস্টে জন্য।

    Like

  5. হায়রে! ছোটবেলায় কোনো শাক-সব্জী মা খাওয়াতে পারেন নি। আর এখন নিজের গরজেই খাই। কারো বলা লাগেনা।

    ভালোই তো রান্না করতে করতে দুজনের গল্প-গুজব।
    আমাদের তো একসাথে বসে গল্প করাই হয়না। গল্প করতে বসলেই মিনিট দশেকের ভিতরে সেটা তর্ক, বিতর্কে পরিনত হয়ে যায়।
    তাই গল্পের নাম শুনেই ভয় পাই। :p

    Like

    • হা আপা,
      আমি আমাদের এই গল্প গুজবের দিকটাই বেশ উপভোগ করছি। আগে যে সময় আড্ডা দিয়ে কাটাতাম এখন তা বাসায় দেই তবে একটা সমস্যা হচ্ছে, আমি বাসায় থাকলে ছেলের পড়াশুনা লাটে উঠে! ও আরো বিজ্ঞের মত এসে আমাদের সাথে আড্ডায় জমে থাকে…।

      বিবাহের ১৫ বছরে পড়লাম। তর্ক বিতর্ক করে ক্লান্ত! এখন আর এই সবে নাই! হা হা হা…।

      সত্যি কথা বলি, আমি ঝগড়া একদম সহ্য করতে পারি না। দম বেরিয়ে যেতে চায়! আর ঝাগড়া করতে গেলে যে জারি জুরি মারতে হয় তা করতে গেলে আমার হাসি এসে যায়! তবে অফিসে উলটা, আমার জারি শুনে সবাই বলে আমি নাকি হেভি রাগী!

      আমি মৌনতা পছন্দ করি, আমার ব্যাটারীকে প্রায় বলি, প্লিজ চুপ থাক। কথার পিঠে কথা না বলাই ভাল। দুনিয়াতে কথাই যত অঘটনের মুল।

      আপনি কি বলেন?

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s