গ্যালারি

রেসিপিঃ শসা রান্না (চিংড়ী মাছ দিয়ে)


চিংড়ী দিয়ে শসা রান্না আমার একটা প্রিয় আইটেম। শসা রান্না এখনো আমাদের বাংলাদেশের সকল পরিবার মেনে নিতে পারেন নাই! আমাদের পরিবারেও শসা রান্না বেশী দিনের ব্যাপার নয়। আমরা শুধু ছোট বেলায় দেখেছি, বড় বড় শসা দিয়ে এক ধরনের মোরব্বা বানানো হত। বেশ সুস্বাদু হত সেই মোরব্বা, বড় এবং সোনালী শসা পেলে আমিও একদিন বানাবো। যাই হোক, বড় শসা রান্না এবং শসার ঘ্রাণ আমার কাছে বেশ ভা লাগে…

চলুন আজ এই চমৎকার রান্না দেখি। আসলে এই রোজার দিনে সন্ধ্যা রাতের খাবারে এই ধরনের খাবার অনেক ভাল লাগে…। আজকাল অনেক পরিবারের রোজায় ইফতারে আর বেশী ভাজা ভুজা করা হয় না, ডাইরেক্ট একশন! মানে, এমন কিছু সবজি টাইপ রান্না হয় সাথে থাকে রুটি কিংবা তেহরি টাইপ কিছু!  খেজুর দিয়ে রোজা ভেঙ্গে শরবত পান এবং তার পর পেট পুরে এমন শক্ত খাবার। আমি বাসায় থাকলে এমনি করে থাকি… ভাজিভুজি খেয়ে ভাল লাগে না…।

রেসিপি পরিমাণঃ (পরিমাণ অনুমান করে দেয়া হয়েছে)
– হাফ কেজি শসা।
–  কয়েকটা চিংড়ী মাছ (বড় চিংড়ী কেটে ছোট করে নিয়েছি)
– হাফ  কাপ পেঁয়াজ কুচি
– দুই চামচ রসুন বাটা (সামান্য বেশি হলে ভাল)
– হাফ চামচ  লাল মরিচ (ঝাল দেখে)
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– বিলাতি বা দেশী ধনিয়া পাতা
– সামান্য চিনি
– পরিমাণ মত লবণ
– পরিমাণ মত তেল/ পানি

প্রস্তুত প্রণালীঃ

যত বড় শসা তত মজা!


শসা আপনার ইচ্ছা মত কেটে (তরকারী কাটার নানান নাম ধাম আছে। নোয়াখালী, জাপানি, বরিশালী সহ নানান নাম, সময় মত জানাবো!) সিদ্ব করে পানি ঝরিয়ে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি এবং চিংড়ী মাছ দিয়ে সামান্য লবণ দিয়ে ভাল করে ভেজে নিন।


এবার রসুন বাটা বা গ্রাইন্ড করে দিয়ে দিন।


ভাজা হয়ে গেলে এবার হলুদ এবং মরিচ গুড়া দিন এবং আবারো ভাজতে দিন।


চমৎকার একটা ঝোল হয়ে যাবে। কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।


তেল উঠে আসলে এবার শসা দিয়ে দিন।


এক কাপ গরম বা সাধারন পানি দিয়ে দিতে পারেন।  এবার সামান্য চিনি দিন।


ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১৫ জ্বাল দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে পারেন। ফাইন্যাল লবণ দেখুন, লাগলে দিন। নামানোর আগে ধনিয়া পাতা ছিটিয়ে দিন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


অসাধারণ স্বাদ। গরম চিকন চাউলের ভাতের সাথে কোন জুড়ি নেই।


আহ, কি ঘ্রাণ। রুটির সাথেও বেশ জমে!

Advertisements

12 responses to “রেসিপিঃ শসা রান্না (চিংড়ী মাছ দিয়ে)

  1. কচি শশা কচকচ করে খেতেই বেশি মজা! বাজারে আর কিছুই না পেলে বেশ বয়স্ক শশা এনে এভাবে রান্না করে খাওয়া হয়। এই যাকে বলে কোন মতে দিন গুজরান!!

    Like

  2. পছন্দের একটি খাবার। এই রান্নাটি বেশি পছন্দ করে থাকি মনে হয় ঝোলের জন্য, কারণ ঝোলটি অতিরিক্ত রকমের স্বাদ হয়। গরম ভাত, এই শসার তরকারি আর হাতে কাঁচা মরিচ……. পুরোই অমৃত!

    চমৎকার একটি পোস্ট দিয়েছেন সাহাদাত ভাই।

    Like

  3. এই জিনিসটা আমার খুব পছন্দ হইছে।
    অটঃ উদরাজী ভাই, একটা কথা লিখি। আমি আগে কখনো ভাবি নাই, রেসিপি ব্লগ আমি কখনো পড়বো। অথচ এখন—-।
    এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আপনার লেখার গুণ এবং ব্লগ সাজানোটা। অসম্ভব ভালো লাগছে আপনার ব্লগটাকে।

    Like

    • ধন্যবাদ নিয়াজ ভাই। আপনার অনুপ্রেরনা আমার চিরকালের পাথেয় হয়ে থাকবে। আমি আসলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে রেসিপি লিখতে শুরু করি তার কাছে এখনো যেতে পারি নাই।

      ফেইসবুকে আমি নিজে আর একটু প্রচারণা চালাতে পারলে বেশ হত অথচ মাসের পর মাস আমি ফেইসবুকে যাই না!

      আশাকরি আগামীতেও সাথে থাকবেন…

      শুভেচ্ছা…

      Like

  4. ফারুক হোসেন, ঢাকা

    সাহাদাত ভাই, আপনার শসা রান্নার শেষ ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে এখুনি বসে পড়ি। চমৎকার ছবি ও বর্ননা। চলুক…।

    ধন্যবাদ আপনাকে ও ভাবীকে। আপনাদের প্রচেষ্টা সফল হউক।

    Like

  5. আহা-হা! পোস্ট টি দেখেই নাকে দারুন গন্ধ পাচ্ছি! রাঁধতেই হবে! আচ্ছা, এই রান্নাটাই সেই ধাঁধাঁর রান্না কি?

    Like

  6. ও দাদা, করেছেন কি? শসা দিয়ে রান্না? জীবনে খাইনি? আপনি আর বৌদি পারেন বটে। খালি এমন এমন রান্না করে চমকে দিয়ে বোকা বানিয়ে দেন। এটা কত্তেই হচ্চে, মা কেও ফোন করে রেসিপি বলি।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s