Gallery

রেসিপিঃ শুঁটকী ও কাঁঠালের বিচি


কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। কে বা কারা কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসাবে আমাদের জাতির উপর ঘোষনা ও নির্বাচন করেছিলেন, আমি ওনাদের নাম গুলো জানতে চাই। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা তাদের জানাতে চাই। আমি মনে করি, ওনাদের নির্বাচন ছিল মেধাবী, সঠিক এবং অত্যন্ত তাতপর্য পুর্ন।

কাঁঠাল আমাদের দেশের যে কেন অঞ্চলে ফলে। বাড়ী আঙ্গিনা সহ যে কোন জায়গাতে কাঁঠাল চারা লাগালেই এক সময় বিরাট গাছে পরিনত হয়। কাঁঠাল গাছের প্রতিটি অংশই কাজে লাগে। কাঁঠালের পাতা ছাগলের জনপ্রিয় খাদ্য, কাঁঠাল পাতা মুখের সামনে ঝুলিয়ে কোরবানী’র সময় আমরা ছাগলকে অনেক দূর নিয়ে যাই। কাঁঠালের কাঠ সহজে শুকায় এবং ওজনে হালকা ও দেখতে সুন্দর। জালানী হিসাবেও ভাল চলে। কাঁঠালের গাছ, ফলের নানা দিক নিয়ে কথা বললে সাগরের পানি যদি কালি হয় তবু আমার মনে হয় শেষ করা যাবে না।


প্রথমে একটা ছোট গল্প বলি। আমার এক দুস্ট মিষ্ট বন্ধু দিলু রোড়ের বাসিন্দা জাকারিয়া জিতু। একদিন বেইলী রোডে আড্ডা মারছি – আড্ডার ফাকে আমাদের বলে, বলতো – খেজুর, হুজুর আর কাঁঠালের মাঝে কি পার্থক্য? আমরা বার/চোদ্দ জন কনো উত্তর দিতে পারিনি। পরে ও আমাদের জানালো – খেজুরের এক বিচি, হুজুরের দুই বিচি আর কাঁঠালের বহু বিচি! (কাঁঠালের বিচি দিয়েই আজকের রেসিপি!)

কাঁঠালের বিচি নিয়ে গতকাল রাতে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। আজ রেসিপিতে তা আপনাদের দেখাবো বলে ইচ্ছা পোষণ করছি। আশাকরি আপনাদেরও ভাল লাগবে।আমার দাদু ছোটবেলায় এমন একটা রান্না করতেন তবে আমরা তা খেতে চাইতাম না! তার রেসিপিটা আজ আর কোথায়ও পাওয়া যাবে না, আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসীব করুন!

প্রস্তুত প্রণালীঃ (রেসিপিটা অনুমান থেকে করা হয়েছে। তবে আগেই বলি বেশ মজাদার হয়েছিল। আর আপনারাতো জানেন, মজা না হলে রেসিপি আমার পোষ্ট হয় না!)

ছবি ১ – কড়াইতে তেল নিয়ে তাতে পেঁয়াজ ও লবণ দিয়ে ভাল করে ভেজে নিন।


ছবি ২ – দুই চামচ রসুন বাটা, পণে এক চামচ হলুদ, এক চামচ গুড়া মরিচ (দেখে শুনে), এক চিমটা জিরা ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ ও এক কাপ পানি দিয়ে একটা ঝোল বানিয়ে নিন। (যারা আমার রেসিপি দেখেন তারা বিষয়টা দ্রুত বুঝে যাবেন)


ছবি ৩ – আগেই দেড় কাপের মত কাঁঠালের বিচি চিলে ছোট ছোট করে কেটে নিন এবং পানিতে ভাল করে সিদ্ব করে নিন। ঝোলে তেল ভেসে উঠলে কাঁঠালের কাঁটা বিচি গুলো দিয়ে দিন।


ছবি ৪ – এমন মাখা মাখা একটা অবস্থা এসে যাবে।


ছবি ৫ – আরো এক কাপ পানি দিয়ে কড়াই ঢেকে রাখুন। যতক্ষণ না কাঁঠালের বিচি ভাল করে সিদ্ব হয়ে নরম হয়ে যায়।


ছবি ৬ – কিছু শুঁটকী মাছ আগেই ভাল করে ধুয়ে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। কাঁঠালের বিচি গুলো নরম হয়ে গেলে উক্ত শুঁটকী মাছ দিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ৭ – ফাইন্যাল লবণ দেখুন। এবং হালকা ঝালে রেখে দিন যাতে পানি শুকিয়ে যায়।


ছবি ৮ – ঠিক এমন হয়ে গেলে চলবে।


ছবি ৯ – ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১০ – আমি নিশ্চিন্ত, খেয়ে বলবেনই ওয়াও!

যাই হোক কাঁঠাল নিয়ে আমার অনেক গবেষনা আছে! আমি নিজে একজন নিবেদিত কাঁঠাল প্রেমিক! কাঁঠাল নিয়ে আমার আরো লেখা ও ছবি দেখতে চাইলে উল্লেখিত লিঙ্ক গুলোতে ক্লিক করতে পারেন।
* কাঁঠালঃ আমাদের জাতীয় ফল।
* ছবি ব্লগঃ কাঁঠাল

Advertisements

22 responses to “রেসিপিঃ শুঁটকী ও কাঁঠালের বিচি

  1. আরে ভাই, রাখেন তো আপনার কাঁঠালের বিচি আর শুটকি!! আমার মাথা এদিকে বিচিবিচি হয়ে যাচ্ছে!! আর নিজে যাচ্ছি শুটকি হয়ে!!! কী এক ব্লগ বানিয়ে দিলেন, সব ফেলেছি ওলট-পালট করে! যান, এখনি যেয়ে দেখে আসেন। কী দুরবস্থা হয়েছে সেটার!!
    মাথা আমার পুরো খারাপ এখন!
    ফিরছি আবার মিনিট দশেক পরে!! পড়বো তখন এই পোষ্ট।

    Like

  2. comment na korle o Udarji bhai apnar blog niyomito dekhi. kathaler bichi darun try korte hobe. dhonnobad apnake onek porishrom kore post deyar jonno.

    Like

    • ধন্যবাদ সাদাকালো ভাই,
      কমেন্ট করাটা জরুরী নয়। সাথে আছেন, এটাই আমার চাওয়া। আপনারা চট্রগ্রামের মানুষ, শুঁটকী বেশ পছন্দ করেন এটা আমি জানি। আমি ২ বছর চট্রগ্রামে ছিলাম, অনেক ধরনের শুঁটকী খেয়েছি। কিছুদিন আগে বেড়াতে গিয়েও অনেক শুঁটকী কিনেছি।

      একদিন সন্ধ্যায় বেইলী রোডে আড্ডা দিতে আসুন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. মা রান্না করেছিলেন কিছু দিন আগে। 🙂

    Like

  4. Apnar recipe khub interesting.Ami kathal khub bhalobashi. Achha ei shuntki machh byapare aro kichhu jodi bolen bhalo hoy.Kiki dhoroner hoy ebong aro ki ranna kora jay?
    Apnar blogti bhalo laglo, abaro porbo nishchoi. Nomoshkar.

    Like

    • Thank you very much Brother. ha ha ha…

      শুঁটকী নিয়ে বেশি আলোচনা করলে লোকে আবার কি বলবে! শুঁটকী বিশেষজ্ঞ না তো! আমি এক সময় তেমন শুঁটকী খেতাম না, এখন বেশ পছন্দ করি। আমি ভাল শুঁটকী রান্না শিখেও ফেলেছি।

      হা সামনে আরো শুঁটকীর রেসিপি দিবো। আশা করি সাথে থাকবেন।

      আপনাকেও শুভেচ্ছা।

      Like

  5. আমরা দুজনেই কাঠাল প্রজা নই, তাই বিচি কিনে খেতে হয়। 😛
    স্বপ্ন তে কাঠাল বিচি পাওয়া যায়। তবে রান্না করলে আমি ও আমার সাহায্যকারিনীই খাই। শুটকি দিয়ে খুবই ভালো লাগে।
    আমি ঝিঙ্গা আর কাঠাল বিচি চিংড়ি দিয়েও রান্না করি।

    আমার মেয়ে কাঠালের গন্ধ নাকে গেলে ১০০ হাত দূরে থাকে। কিন্তু কাঠালের বিচির হালুয়া করে দারুন মজার!!!

    @ হুদা ভাই, আমার ব্লগের অবস্থাও খুব খারাপ। কিছুই বুঝিনা। সেদিন আপনার ব্লগে গিয়ে লাইক দিতে পেরেছি। কিন্তু মন্তব্য করতে পারলাম না কেনো?

    Like

  6. আপনার রিপ্লাই র জন্যে ধন্যবাদ। আমি কিন্তু ব্রাদার নই; সিস্টার। হাহাহা!

    Like

  7. এই রেসিপি তে কোন শুঁটকি মাছ ব্যবহার করেছেন?

    Like

  8. রেসিপিটা পড়ে আর ছবি দেখে তো মনে হচ্ছে দারুন একটি খাবার। কিন্তু একটাই সমস্যা!!
    শুটকী পছন্দ করি অনেক, কিন্তু কাঁঠাল বা তার কোনো জিনিসই যে পছন্দের নয় !!!

    যাই হোক, শুভেচ্ছা রইল অনেক সাহাদাত ভাই।

    Like

  9. কাঁঠালের বিচি আমার খুব পছন্দ। ফেনীর বাসায় কাঁঠালের বিচির নানারকম রান্না হতো। শুটকি দিয়ে রান্না, শুটকি দিয়ে ভর্তা, মাছ ভেঙে দিয়ে বিচি আর পাট শাক/ চিচিঙ্গা…ইত্যাদি। কেউ কেউ কচি মুরগির ঝোল করে কাঁঠালের বিচি দিয়ে। আর বিচির হালুয়া বা বরফি তো আছেই। তবে আজকাল এসব রেসিপি কম দেখি।
    মাঝে মাঝে দেখা যায় কাঁঠালের বিচি সহজে সেদ্ধ হতে চায় না, সেক্ষেত্রে কি করতে পারি বলবেন?

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s