Gallery

রেসিপিঃ গরুর জিহবা ভুনা (ছোট সোনামণিদের জন্য)


আমার ছেলে কয়েকদিন ধরে বলে আসছে, গরুর জিহবার গোশতের ভুনা খাবে। আমি নিজেও কত বছর এই জিহবা ভুনা খাই নাই তা ভাবছিলাম! আসলে বাজার থেকে আলাদা ভাবে গরুর জিহবা কেনা হয় না। আবার চোখেও পড়ে না! পড়লেও ভাবি এটা সাফ করে রান্নার উপযোগী কে করবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। গত কয়েকদিন আগে এমনি হঠাত কসাইয়ের দোকানে ঝুলানো গরুর জিহবা চোখে পড়ে গেল! আর ঠেকায় কে! ছেলের কথা মনে করে কিনে ফেললাম, সাথে আমার লোভও ছিল! এদিকে আমার ব্যাটারী অনেকদিন আগে বলে রাখছেন গরুর মাথার মগজ পেলে কিনে নিতে। তা পেলাম না, জিহবা নিয়ে বাসায় ফিরলাম দোয়া কালাম পড়তে পড়তে! আমার ব্যাটারী হাসি মুখে মেনে নিলেন এবং বললেন, চল রান্না করি!

একটু গরু বিষয়ক গল্প হয়ে যাক। গরু আসলে আমাদের মানব জীবনের প্রিয় বন্ধু। সারা পৃথিবীতেই আলাদাভাবে গরুর সন্মান করা হয়। কি কাজে না লাগে এই গরু! যাই হোক, শিল্পেও শিল্পীদের কাছে গরু বেশ জনপ্রিয়। উপরের আঁকা ছবি দেখুন। প্রিয় গরু ডেইজী! ১৮৮০ সালের আঁকা। শিল্পীর নাম জানি না। তবে সংগ্রহকারীর লেখা খুব পরিস্কার – “I love my “Daisy” the cow painting, she is painted on old barn wood…I think the artist did a fantastic job, she hangs in my kitchen. This was my most expensive….$5.99, to me it was a great find!” মাত্র ৫.৯৯ ডলারের গরু এখন কত হবে ধারনা করতে পারবেন! ১৮৮০ থেকে ২০১২ সাল!  গরু বিষয়ক আমার একটা চিত্রকল্প এখানে দেখতে পারেন – শিল্পভাবনাঃ গরু বিষয়ক চিত্রকল্প

সে যাই হোক, গরু নিয়ে রেসিপি পোষ্টে বেশি কথা না বলাই ভাল! চলুন, আমার ছেলের জন্য গরুর জিহবা রান্না দেখে ফেলি। আপনাদের মন চাইলে এই ভাবে রান্না করে খেয়ে মনের ইচ্ছা পুরন করতে পারেন। তবে একটা ব্যাপার বলি, শিশুদের ছোট বেলায় যা খাওয়াবেন তারা বড় হয়ে তা তা ই খাবে! শিশুদের না খাওয়ালে বড় হয়ে তারা আর তা খাবে না! এটাই বাস্তব…। তাই আমি মনে করি, শিশু বয়সেই সব কিছুর স্বাদের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া দরকার। আমার ছেলে অবশ্য আমার মতই সর্বভুক। যা পায় তা খায়, তবে সব শিশুর মত সবজি খাওয়াতে হয় চেপে ধরে!


গরুর জিহবা ভাল করে সিদ্ব করে পরিষ্কার করতে হয়। জিহবার উপরের একটা স্তর উঠিয়ে নিতে হয়। তার পর কিউব করে কেটে নিন।


মশলা পাতি সাধারন। তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন এবং গরম মশলা (এলাচি, দারুচিনি) ও কিছু লবণ দিয়ে দিন।


রসুন বাটা দুই চামচ, আদা বাটা এক চামচ, এক চিমটা জিরা গুড়া, এক চামচ হলুদ গুড়া, পরিমাণ মত লাল মরিচ গুড়া (শিশুদের জন্য রান্নায় কখনো ঝাল বেশী দেয়া উচিত নয়) দিন।


ভাল করে মিশিয়ে কষিয়ে নিন এবং তেল উঠে যাবে।


জিহব্বার গোশত গুলো দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে আগুনের আঁচ বাড়িয়ে দিন।


কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে পারেন।


এক কাপ গরম পানি (পরিমাণটা নির্ভর করবে গোশত কেমন শক্ত) দিয়ে ঢাকনা দিয়ে টিভি দেখতে বসে পড়তে পারেন। মিনিট ৩০ তো লাগবেই! মাঝে মাঝে এসে দেখে যেতে ভুলবেন না, নাড়িয়ে দিলে ভাল। কড়াইয়ের তলায় যেন না লাগে! ফাইন্যাল লবণ দেখুন! লাগলে দিন…। ঝোল শুকিয়ে গা গা করে নিন এবং লক্ষ রাখবেন, গোশত যেন নরম হয়।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে পড়ুন। শিশুদের খেতে উৎসাহ দিন। আলাদা করে জিহব্বার টুকরা গুলো ওদের পাতে দিন। খেয়ে কেমন মজা পায় দেখুন।


আহ, মজাদার! আসলে এটা নুতন রান্না বলা যাবে না। আমাদের ঘরে থাকা মশলা দিয়েই সাধারন রান্না। বৈচিত্র্য শুধু গরুর জিহবার গোশত।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

14 responses to “রেসিপিঃ গরুর জিহবা ভুনা (ছোট সোনামণিদের জন্য)

  1. আমার সবচেয়ে পছন্দের খাবারগুলোর একটি। 🙂
    আচ্ছা ভাইয়া, জিহ্বার ওপরের অংশ যে আপনি তুলেছেন তা কি কেটে তুলেছেন?
    গ্রামের বাড়িতে অবশ্য পুরো জিহ্বাটাকে আগুনে পুড়িয়ে তারপর ওপরের চামড়াটা তোলা হয়। তারপর রান্না।

    Like

    • ধন্যবাদ জামি, দুইভাবে কাজটা করা যেতে পারে… সিদ্ব করে কিংবা পুড়িয়ে জিহবার উপরের চামড়া তুলে ফেলা হয়। আমরা সিদ্ব করে ছিলাম এবং তার পর ভাল করে চামড়া তুলে পরিষ্কার করেছিলাম।

      পরিশ্রমের কাজ…

      Like

  2. যে রেসিপি পড়ে জিহবায় জল আসে যায়, সেটাকেই আমি মনে করি সেরা। এটা পড়ে ঐ ঘটনা ঘটেছে!

    Like

  3. গরুর জিহবা ভুনা খেতে নাকি দারুন। কিন্তু কোরবানীর সময় নিয়ত করি জিহবা রান্না করবো। কিন্তু ঐ বিভৎস জিহবা দেখে আর রুচি হয়না। কেউ যদি এরকম করে পরিস্কার করে দিতো তবে হয়তো চোখ মুখ বুজে খেয়ে নিতাম। :p

    Like

  4. অনেক ভালো পাইলাম। সাহাদাত ভাই, মনসুরা আপু আপনাদের সাইট।
    অনেক ধন্যবাদ।

    Like

  5. একদম মনের মতো একটি পোস্ট।
    যে একবারও এই ডিশটি পরখ করে দেখেনি, সে জানবেনা কি মিস করছে।
    দারুন এই রেসিপির জন্য ধন্যবাদ রইল সাহাদাত ভাই।

    Like

  6. সবুজ মোহাইমিনুল

    ভাই গরুর জিহবা কখনো খাই নি তবে আপনার রেসিপির কথা মনে থাকবে
    একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে – বাসায় আপনি রান্না করেন নাকি ভাবী ?

    Like

    • ধন্যবাদ সবুজ ভাই। আমি মাঝে মাঝে রান্না করি। তবে এখনো শিখছি।

      তবে ভাবছি ছুটির দিনের পুরা রান্নায় দ্বায়িত্ব আমি নিয়ে নিব। এতে তিনি একদিন সপ্তাহিক ছুটি পাবেন…।

      পৃথিবীর সেরা ১০ টি বিষয়ের একটি হচ্ছে রান্না, আমাদের সকলের রান্না জানা উচিত। আমার প্রবাস জীবনের প্রায় সাড়ে নয় বছরে রান্না জানতাম না বলে কত কি আবোল তাবোল খেয়েছি! এমন কি কত বেলা না খেয়েও থেকেছি। এখন ভাবি রান্নার মত কাজটা পারলে কতই না সুখের হত সেই জীবন!

      রান্নাতে শুধু আনন্দ না, স্ত্রীর সাথে রান্নাঘরে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো যায়। এতে সংসার আরো সুখের হয়।

      তবে স্ত্রীর সাথে রান্নাঘরে টিকে থাকা বেশ কষ্টকর। আমার স্ত্রী আবশ্য আমার ব্যাপারটা বুঝে গেছেন এবং তিনি আমাকে রান্নাঘরে পেলে খুশি হন। আমি রান্নাঘরে না যেতে চাইলে তিনিই আমাকে ডেকে নেন। দুইজনে মিলে দ্রুত কাজ শেষ করে ফেলি।

      আমার আর একটা আনন্দ, আমার ছেলে যখন আমার রান্না খেয়ে বলে, ভাল হয়েছে, তখন আর আনন্দ ধরে না। পিতা হিসাবে বেশ মনে হয়।

      আশা করছি, আগামীতে আমার রান্না খেয়ে আমার আম্মা (তিনি প্রবাসী) চমকে উঠবেন! সে জন্য তৈরী হচ্ছি।

      শুভেচ্ছা আপনাকে।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s