Gallery

রেসিপিঃ সবজি সমূহ ও চিংড়ী


প্রতি বেলায় রান্নার হিসাব নিকাশ রাখা, কোন বেলায় কি করা হবে, কার কি পছন্দ এবং সেই মত তৈরী করে পরিবেশন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তবে এই অসাধ্য কাজটি আমাদের মায়েরা, বোনেরা, স্ত্রীরা ও মেয়েরা আমাদের করে দেন বলে আমরা বুঝতে পারি না। আমরা অনেকেই মনে করি পাচ্ছি তো! কিংবা আরো কিছু নিষ্ঠুর আছেন যারা মনে করেন, এটা তাদের দ্বায়িত্ব, তারাই করবে। আসলে বিষয়টা একটু সহজ করে দেখা দরকার। খাবার যেহেতু নিজস্ব ব্যাপার এবং অন্যের ভাগের খাবার যেহেতু আমরা খেতে পারি না, তাই আমি মনে করি, আমাদের সবার রান্না জানাও দরকার। আরো সুন্দর করে বললে বলা যায়, আমি যেহেতু আমার জন্য খাই, তাই আমাকে রান্না করাও দরকার। যাই হোক, রান্না না পারলেও তাদের রান্নার জন্য একটা আলাদা সন্মান/কদর করা দরকার।

বাসায় এমন এমন সময় এসে যায়, যখন সব কিছুই অল্প অল্প পরিমাণে থাকে! মিশিয়ে কিছু একটা করতে হয়। আবার এই মিশানোর কম্বিনেশন ভাল না হলে সবাই খেতেই চাইবে না! শক্ত আর নরম শাক সবজী মিশানোতে আরো বেশী খেয়াল রাখতে হয়। গত কয়েকদিন আগে এমনি একটা রান্না দেখলাম আমার ব্যাটারী করছেন। কয়েকপদের সবজি ছিল, কিছু চিংড়ী মাছ ছিল। তিনি যা বানিয়েছেন, তা না পুরাপুরি চাইনিজ, না ছিল দেশী। তবে বেশ মজাদার হয়েছিল। চলুন দেখে ফেলি।

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ (উপকরণের অনুমান আপনি নিজেও করে নিতে পারেন)
– কিছু চিংড়ী মাছ
– বেশ কয়েক পদের সবজি (বরবটি, টমেটো, কাপ্সিকাম, পেঁয়াজ ইত্যাদি)
– মশলাঃ সামান্য আদা, রসুন, হলুদ গুড়া, মরিচ গুড়া, টমেটো পেস্ট ও এক চা চামচ চিনি (আলাদা বাটিতে মিশিয়ে নিয়েছিলেন)
– বিলাতি ধনিয়া পাতা
– লবণ (স্বাদ মত)
– পরিমাণ মত তেল/পানি

প্রণালীঃ (ছবির ধারাবাহিকতা দেখেই আশা করি আপনারা বুঝে যাবেন)

সাজিয়ে সব কিছু!


চিংড়ী গুলোকে গরম তেলে ভাজি।


প্রথমে পেঁয়াজ ও টমেটো (সফট ভেজিটেবল গুলো আগে)


মশলা গুলো দিয়ে দিলেন।


ক্যাপ্সিকাম…


বরবটি গুলো শক্ত বলে অন্য কড়াইতে হালকা তেলে একটু ভেজে নরম করে এখানে দিয়ে দিলেন।


শেষের আগে বিলাতি ধনিয়া (আজকাল বাজারে বেশ পাওয়া যাচ্ছে)। ফাইন্যাল লবণ দেখা।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


চমৎকার! দেখলেই খেতে ইচ্ছা হবে।

রান্না আসলেই একটা বিরাট শিল্প। এই শিল্পে শিল্পীর বুদ্দিমাত্তা যত বেশি, ততই তিনি সফল। হাতের চোঁয়াতেই যে কোন খাবারই হয়ে উঠতে পারে, অসাধারণ। আমাদের প্রতিটা ঘরে ঘরে এমন বুদ্দিমাত্তার শিল্পী আছেন বলেই আমরা বেঁচে আছি, বেঁচে থাকি।

শুধু রান্নার কারনেই আমাদের সবার উচিত আমাদের মায়েদের, বোনদের, স্ত্রী ও মেয়েদের আরো অধিক ভালবাসা দেয়া এবং তাদের প্রতি আলাদা খেয়াল রাখা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

10 responses to “রেসিপিঃ সবজি সমূহ ও চিংড়ী

  1. দেখতে খুব ভাল লাগছে, অনেক্ টা Chinese রান্নার মত। আশা করি আরও অনেক পাবো in future. আমি আবার বিদেশে যাচ্ছি, অনেক উপকার হবে এই সব রান্নার Item এ। নিজে রান্না করে খেতে হবে আবার। Thanks a lot and have a good day….

    Like

    • ধন্যবাদ ব্রাদার।
      চাইনিজ রান্না গুলোতে যে ধরনের সস ব্যবহার করা হত এখানে তা করা হয় নাই। আবার পুরা দেশিও বলা যায় না!

      বিদেশ যাচ্ছেন জেনে ভাল লাগল। নিজে রান্না করে খেতেই হবে নতুবা জাংক ফুড! আমিও রান্না জানতাম না বলে কত কি খেয়েছি! আবার কত বেলা না খেয়েও থেকেছি! শুধু বিস্কুট খেয়েও দিন পার করেছি কত!

      যদি রান্না জানতাম, তবে এমন করতে হত না।

      আশা করি সাথে থাকবেন। যে কোন বিষয়ে জানতে চাইলে খোলামনে লিখুন, আমি না পারলেও অনেকে আছে যারা সঠিক উত্তর বলে দিবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. বরবটি বাদ দেওয়া যায় না?

    Like

  3. দারুন!
    চমৎকার এক ডিশ!
    কি ফ্রায়েড রাইস, পোলাও, খিঁচুড়ি বা ভাত, সবকিছু দিয়েই এই ডিশটি দারুনভাবে খাওয়া চলে।

    Like

  4. যাই হোক, রান্না না পারলেও তাদের রান্নার জন্য একটা আলাদা সন্মান/কদর করা দরকার।

    রান্নাতো ভাই, আপনি প্রায়ই এই কথাগুলো বলেন। আহারে! আপনার মত করে যদি সব পুরুষ ভাবতো।

    রান্নাটা দারুন হয়েছে। ইদানিং চিংড়ি(ছোট) পাচ্ছিনা।

    সেদিন কচুশাক রান্না করেছিলাম। নামানোর আগে কয়েক টুকরো ইলিশ ভেজে কাটা বেছে উপরে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। এতো সুস্বাদু হয়েছিলো যে কি বলবো। আমি শুধু ঐটা দিয়েই ভাত খেয়েছিলাম। মেয়েকেও পাঠিয়েছিলাম। তারাও খেয়ে অভিভুত!

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আমি আসলে রান্না করতে গিয়ে এই বিষয়টা রিয়েলাইজ করছি আরো বেশী করে। একটা পরিবারের জন্য রান্না করা এবং তার হিসাব নিকাশ রাখা এটা সত্যি বিরাট কাজ। প্রতি বেলা, প্রতিটা সদস্যের দিকে খেয়াল রাখা এটা সহজ কাজ নয়। আমি বুঝে গেছি… রান্নায় আমি আমার পরিবারের আরো দ্বায়িত্ব নিতে চাই। আমি আরো রান্না শিখতে চাই।

      কচুশাক – আহ! গতকাল বাজারে দেখেছিলাম, কিনতে সাহস হয় নাই! কচুশাক, শিম বিচি এবং ইলিশ মাছের টুকরা ভেঙ্গে – আমার প্রিয় খাবার। আমি এটা আমার মায়ের হাতের খেতে চাই, মরার দিনের আগের খাবার হিসাবে!

      আপনার হাতের রান্না ভাল না হয়ে পারে না। আপনি নাড়িয়ে দিলেও ভাল হবে, এতে আমি কোন সন্দেহ পোষণ করি না।

      শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন। কুম্ভভাই কেমন আছেন?

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s