গ্যালারি

হরতাল, সকালের নাস্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা


আমরা যারা ঢাকাতে আছি, তাদের আবার সকাল আর বিকাল! চাকুরীসহ ব্যবসা বানিজ্য যাই করুন না কেন, আমাদের তেমন সময় কোথায়? ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ, বাজারঘাট ও বিদ্যুৎপানি বিল দিয়ে সময় কোথায়? বিশেষ করে যানজটে আমাদের যে সময় নষ্ট করছে তার দায় কাকে জানাব? আমার অফিসে আসতে মিনিট ১৫ লাগার কথা (মাঝে মাঝে রাতে এই সময়েই আমি ফিরে যাই) কিন্তু সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা বা তারও বেশী। রামপুরা থেকে সাইন্সল্যাব। প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টা চারেক যদি এই ভাবে অপচয় করি, তবে আর সময় কোথায়?

আমার মত অনেকে সময় মত খেতেও পারেন না। সকালের নাস্তা অনেকের কাছে স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসে আমি অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি তারা অফিসে এসে নাস্তা করেন, এত সকালে গোসল গা ধুয়ে শুধু এক গ্লাস পানি খেয়েই বের হয়ে পড়েন। অফিসে এসে, যদি কিছু সময় পান তবে খান নতুবা একবারে দুপুরের খাবার!

আমাদের বর্তমান সরকার প্রধান বলেন, দেশের মানুষ নাকি এখন চার বেলা খান। আমি বলি, ম্যাডাম সেইম, সেইম! শুধু একবার জনতার কাতারের এসে দেখেন, একবার গন মানুষের কাতারে এসে দাঁড়ান, দেখেন তারা কি খাচ্ছে, না উপবাস থাকছে! আমাদের মত মাঝারি বেতনের লোকেরা এখন না পারি কাউকে বলতে না পরি সইতে! লজ্জা ও লোকভয়ে আমাদের অবস্থা এখন দিশেহারা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং যবন যাপনের ব্যয় কত তা একবার দেখে যান। প্রতি বেলাই এখন আমাদের এক তরকারী দিয়েই খেয়ে উঠতে হচ্ছে। বাজারে এমন কোন তরকারী নেই যার মূল্য ৩০ টাকার কম!

আসলে কত কথা বলব, কাকে বলব? অনেক কথাতো লজ্জায় আজকাল আর প্রিয় সঙ্গী স্ত্রীকেও বলতে পারছি না! মাঝে মাঝে মনে হয়, মরে গেলেই বাঁচি! যাক, যা বলছিলাম, সকালের নাস্তা! আমিও কদাচিৎ বাসায় সকালের নাস্তা খেয়ে বের হতে পারি। আজ হরতাল বলে অফিসে দেরী করে বের হব বলে ভাবছিলাম! তাই সকালের নাস্তার একটা সুযোগ পেলাম। গ্রীষ্মের ছুটিতে স্ত্রী শশুরবাড়ীতে বেড়াতে যাবার কারনে নিজেই সব কিছু বানালাম! চলুন শেয়ার করি…।


পয়ত্রিশ টাকায় একটা ব্রেড কিনে আনি।


খোলায় এদিক সেদিক উলটা পালটা করে শেকে নিলাম।


গোটা পাঁচ পিস! (দুপুরের চাপ কমে যাবে!)


একটা ডিম পেঁয়াজ মরিচ দিয়ে ভাজি! অন্য চুলায় চা বানিয়ে ফেললাম! সকালের নাস্তায় চা না হলে কি জমে!


নাস্তা করতে বসে পড়া।


হরতাল চলছে। কিছুক্ষণ আগে নানা কাটখড় পুড়িয়ে অফিসে এসে বসলাম। আজ দুপুরের খাবার মিস হবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত!

মনে মনে বলি, হায় হাসিনা, হায় খালেদা!

Advertisements

16 responses to “হরতাল, সকালের নাস্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা

  1. হুমম, আজ আর দেখি রেসিপি নয়। হতাশার কথাই উঠে এলো পোস্টে। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত অনুভূতির শেয়ার মন্দ হয়না কিন্তু।

    শুভকামনা রইল সাহাদাত ভাই।

    Like

    • দাইফ ভাই, কথা সত্য। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঘোড়া আর সামলাতে পারছি না! আমি শুধু ভাবি যারা এই ঢাকা শহরে ১০ হাজারের নীচে বেতন পায় তারা কি করে বেঁচে আছে? তারা কি খাচ্ছে?

      আমার অফিসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা/কর্মচারী আছে, প্রায় তিন হাজারেরই বেতন ১০ হাজারের নীচে। তা কি করে ছেলেমেয়ে স্কুলে পাঠায়, ঢাকায় বাসা ভাড়া করে থাকে, তিন বেলা খেতে পারে? সবই কি কুদরত!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. নাগরিক ব্লগের জন্য লেখাটা খাবার দাবারের সাথে যুক্ত বলে এখানে এনে রাখলাম। নাগরিক ব্লগের লিঙ্কে যেয়ে কমেন্ট দেখতে পারেন……
    http://www.nagorikblog.com/node/8429

    Like

  3. কি আর বলবো বলুন। আমাদের সমাজ ব্যবস্থাই যেন এমনভাবে দিনকে দিন পরিণত হচ্ছে যেন যাদের টাকা আছে তাদেরকেই রাখা হবে। বাকিদের ছুঁড়ে ফেলা হবে।

    Like

    • তাইতো দেখছি দাইফ ভাই। আজ থেকে ২০ বছর আগেও একটা শিশুকে দেখে কত কি কল্পনা করা যেত। এই শিশুটি হয়ত একদিন রাষ্ট্রনায়ক হবে! কিন্তু এখন, আমিতো আমাদের শিশুদের কোন ভবিষ্যতই দেখি না।

      মধ্যবিত্ত পরিবারের (কথা মনের সান্তনার জন্য বললাম) শিশু গুলোও বেড়ে উঠছে অবহেলায়। ভাল স্কুলে ও যেতে পারছে না।

      দুঃখজনক ব্যাপার।

      Like

  4. আমাদের বর্তমান সরকার প্রধান বলেন, দেশের মানুষ নাকি এখন চার বেলা খান। আমি বলি, ম্যাডাম সেইম, সেইম! শুধু একবার জনতার কাতারের এসে দেখেন, একবার গন মানুষের কাতারে এসে দাঁড়ান, দেখেন তারা কি খাচ্ছে, না উপবাস থাকছে! আমাদের মত মাঝারি বেতনের লোকেরা এখন না পারি কাউকে বলতে না পরি সইতে! লজ্জা ও লোকভয়ে আমাদের অবস্থা এখন দিশেহারা। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং যবন যাপনের ব্যয় কত তা একবার দেখে যান। প্রতি বেলাই এখন আমাদের এক তরকারী দিয়েই খেয়ে উঠতে হচ্ছে। বাজারে এমন কোন তরকারী নেই যার মূল্য ৩০ টাকার কম!

    ঠিক বলেছেন ভাই। উনারা যদি একদিন সাধারন মানুষের কাতারে দাড়াতেন তবে বুঝতেন। উনারা তো আর আপনার আমার মত বাজার করেন না, নিজেরা রান্নাও করেন না। রাতে ঘুমাতে গেলে মাথায় চিন্তা আসে কাল কি রান্না করে পরিবারের সামনে দিবো। আর অসুখ বিসুখ তো লেগেই আছে। ডাক্তারের কাছে যাওয়া মানেই এক মাসের সংসার খরচ নিয়ে টান দেয়া।
    আমরা কি আর মানুষ? 😦

    Like

  5. পয়ত্রিশ টাকার একটা ব্রেড । অবাক হলাম । দিল্লিতে এটা একটু সস্তা অবশ্যই । তবে জানজট , পলিউশন , জনতার ভীড় , যাতায়াতে সময় নস্ট এসব আছে । এগুলো আসলে গ্লোবাল প্রবলেম হয়ে দাডিয়েছে । ভালো থাকবেন। আপনার ব্লগ ও রান্না দুটিই চমত্কার।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আমি মনে করি আমাদের এখানে এখন প্রধান সমস্যা দ্রব্যমূল্য। গতকাল ফার্মের মুরগীর কেজি দেখলাম ১৭০ টাকা! পুরাই অবিশ্বাস্য। গতকাল বিকেলে আমার এক সরকারী চাকুরে বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো, সে বলল বন্ধু বাজারে যেতেই এখন ভয় পাই। ইনকাম, চাহিদা এবং দ্রব্যমূল্যের কোন সামাঞ্জস্য নেই।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. সত্যি দাদা, ৩৫ টাকায় একটা ব্রেড শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছি আমার এখানে তো ১২-১৫ টাকায় পাওয়া যায়। তবে জানজট, পপুলেশন এবং পলিউশান কিন্তু সমান টক্কর দিচ্ছে। তবু ভালো থাকুন, আর কি বলি।

    Like

  7. Bhai
    Salam Niben. Ami kokhonoi kono website dheke ba karo likha pore kokhonoi comment di nai. kano jani apner site ta dheke na likhe thakte parlam na. aajkai prothom apner site ta dekhlam. khub khub bhalo legeche.. beshi valo legeche apni amader moto sadharon manusher kotha mone rekhe sohojlobhbho upokoron diye bibhinno ranna korechen…apnake onek dhonnobad ai rokom ak ta site er jonno…..

    Like

    • ধনব্যাদ বোন।
      আপনার কমেন্ট পড়ে মন আনন্দে ভরে গেল। বোন, আমাদের রেসিপির টার্গেট গ্রুপ হল প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাই বোন বন্ধু, যারা রান্না শিখতে চান বা আগ্রহী।

      আপনার কমেন্ট পড়ে বুঝতে পারলাম, আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় এখনো সঠিক পথেই আছি।

      আশা করছি, মাঝে মাঝে আমাদের এসে দেখে যাবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

      • Apake & apnake salam…babuder jonno doa roilo..
        Bhai apnakeo Dhhonnobad…
        asha kori nai apni reply korben. Anek Valo laglo..majhe majhe kano ami ekhon protidin (except fri & sat) dekhar chesta kori…ekta request korbo….amar egaro masher ekta choto babu ache..majhe majhe bujte parina take ki khawabo ..kotobar khawabo..kokhon konta khawabo…jodi kokhono free thaken tohole amake ektu poramorsho diye shahajjo korben…birokto korlam bole rag korlen na to….

        Like

        • ধন্যবাদ বোন।
          শিশু খাবারের জন্য দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে নানা প্রকারের চার্ট আছে। সেই চার্ট অনুসারে বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে শিশুদের গোর্থ দেখে খাবার দিতে হয়। (আপনি কোন ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন) তবে আমরা একটা শিশু বড় করেছি এবং আমাদের ২য় শিশুটির বয়স এখন ৯ মাস। আমরা অভিজ্ঞতা থেকে আপনাকে কিছু বলতে পারি মাত্র। ১১ মাসের শিশুকে প্রতিদিন নিম্মের খাবার গুলো খাওয়াতে পারেন। যা একবার খাওয়াবেন তা সেই দিনে আর খাওয়াবেন না। এবং খেয়াল রাখবেন যে খাবারটা খেলে পেট খারাপ বা পাতলা পায়খানা হচ্ছে, সেই খাবারটা খাওয়াবেন না। তবে যে কোন খাবার প্রথমে খাওয়ালে একটু সমস্যা হতে পারে, ভয়ের কিছু নাই। প্রতিদিন অবশ্যই একটা করে কলা খাওয়াবেন।

          – ডিম
          – দুধ
          – কলা
          – মধু
          – নানান প্রকারের ফল
          – খিচুড়ি (নরম), এটা দুপুরের দিকে গোসল করিয়ে খাওয়ালে ভাল।
          – কাঁটা ছাড়া মাছ (বড় মাছের টুকরা, ঝাল না দিয়ে রান্না করে)
          – চিকেন (ঝাল কম দিয়ে, নরম করে)
          – পোলাউ চালের ভাত, নরম করে
          – নানান প্রকারের হালুয়া

          * চিনি/ লবন কম খাওয়াবেন।

          এছাড়া এই লিঙ্কে গিয়ে আরো ভাল আইডিয়া নিতে পারেন। You can offer your baby a variety of foods with different textures. Here are some healthy options you may like to try:

          http://www.babycenter.in/a9146/baby-food-by-age-nine-to-12-months#ixzz3B3Ugvgxr

          বেবী সেন্টারের তথ্য গুলো আপনাকে ভাল আইডিয়া দিবে।

          শুভেচ্ছা।

          – নানান ফল

          Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s