Gallery

রেসিপিঃ সরিষার তেলে ফলি মাছ ভাজি


মনে কষ্ট থাকলে আপনারা কি করেন বা করে থাকেন জানি না। আমার মনে কষ্ট থাকলে আমি রান্না করে ভালবুরা খাই! এ ছাড়া আর কোন উপায় দেখি না! এই বয়সে যাব কোথায়? কারে মনের দুঃখের কথা বলব? গত কয়েক দিন আগে এমনি, বাংলাদেশ এশিয়া কাপে ফাইনালে দুই রানে হারার পর বাজার থেকে কচু এনে গরুর গোসত দিয়ে রান্না করে ছিলাম এবং সাথে ছিল সরিষার তেল দিয়ে ফলা (আঞ্চলিক নাম ফইল্যা) মাছ ভাজি!

ফলি মাছ আমার একটা পছন্দের মাছ। এই মাছ দিয়ে কোপ্তা বানালে মুখে স্বাদ লেগে থাকে বহুদিন! তবে এই মাছ সরিষার তেলে ভাজি করলেও চমৎকার লাগে! আমি বাজারে এই মাছ দেখলে কিনতে চেষ্টা করি এবং বেশীর ভাল সময়ে সরিষার তেলে ভেজে খাই। অনেকে বলে থাকেন, এই মাছে কাঁটা থাকে কিন্তু ভাল করে ভাজি করলে কাঁটার দেখা পাবেন না এবং যে কয়েকটা কাঁটা দেখবেন তা চিবিয়ে চিবিয়ে শেষ করে ফেলবেন, আমার মত! চলুন দেরী না করে রেসিপি দেখে ফেলি। খুবই সাধারন এবং সহজ।


ভাল করে মাছ ধুয়ে নিন।


সামান্য মরিচ গুড়া (মরিচ থেকে সাবধান, পরিমানে সব সময়েই সর্তক থাকতে হবে), সামান্য হলুদ গুড়া, সামান্য জিরা গুড়া ও পরিমান মত লবন দিয়ে ভাল করে মেখে কিছুক্ষনের (মিনিট ৩০ হলে ভাল হয়, মশলা মাছে লাগবে) জন্য রেখে দিন।


কড়াইতে সরিষার তেল নিন, একটু বেশী (ডুবো তেলে ভাজতে পারলে ভাল হত, কিন্তু এত সরিষার তেল কোথায় পাব)। ভাল করে তেল গরম করুন এবং মাছ ছেড়ে দিন।


দুটো করে একসাথে ভাজতে পারেন। কেমন ভাজি করবেন তা আপনি নির্ধারন করবেন। মাছ ভাজি এপিঠ ওপিঠ করতে সাবধান, তেলের চিটা এসে গায়ে পড়তে পারে।


একটা করেও ভাজতে পারেন। তাতে সময় বেশী লাগবে, এই যা!


ভাজি চলার ফাঁকে কিছু পেঁয়াজ কুঁচি এবং কয়েকটা কাঁচা মরিচ কেটে নিন। যখেন শেষ মাছ টা ভাজবেন তার পাশে কড়াইয়ে পেঁয়াজ ও মরিচ গুলো দিয়ে দিন, সামান্য লবন দিন। শেষ মাছের সাথে পেঁয়াজ কুঁচি ও মরিচ হালকা ভাজি চলুক।


শেষের দিকে সব মাছ কড়াইতে দিয়ে স্টার ফ্রাইয়ের মত করে হালকা আঁচে উল্টা পাল্টা করে ভাজি করুন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। এই ফলি মাছ ভাজি আসলেই অত্যান্ত সুস্বাদু।


ছবি দেখে জিবে জল আনার দরকার নেই! একবার নিজে ভাজি করে খেয়ে দেখুন।

18 responses to “রেসিপিঃ সরিষার তেলে ফলি মাছ ভাজি

  1. আহ, জিভে জল এনে দিলেন ভাই। ধন্যবাদ। চেষ্টা করবো বাসায়।

    Like

    • ধন্যবাদ প্রবীর ভাই। আপনার মত ভাল লিখা লিখতে পারলাম কই। আপনার সব লিখাই আমার ভাল লেগেছে, বিশেষ করে কয়লা নিয়ে লিখাটা আমি এখনো ভুলতে পারি না।

      দেখে যাবার জন্য শুভেচ্ছা আবারো। ভাল থাকুন। মাঝে মাঝে রান্না করুন। ভাল লাগবে এবং সময় কাটবে।

      Like

      • আপনি ভাই খুবই অমায়িক, তেমনি আপনার রান্নাও খুব লোভনীয়। এভাবে শুধু ছবি দেখাচ্ছেন। একদিন দেখবেন আসলটাই খেতে হাজির হয়েছি বাসায়।

        লিখতে চেষ্টা করছি মাত্র। কারন ইংরেজীতে কাজ করি বলে বাংলা লিখতে খুব সমস্যা হয়। তবে দোয়া করবেন যাতে বেঁচে থাকতে থাকতেই মনের ঝাঁঝ মিটিয়ে সব কথা খুলে বলতে পারি।

        Like

  2. ছবি দেখিয়ে লোভ লাগিয়ে দিয়েছেন। 😛

    Like

  3. হুমম, প্রথমে লোভ দেখিয়ে শেষ লাইনে সরাসরি আবার বলে দেয়া, যেন নিজেরা রান্না করে নেই। হা হা হা।

    সুস্বাদু পোস্টে সুস্বাদু ধন্যবাদ রইল সাহাদাত ভাই।

    Like

  4. ভাজা জিরার গুড়ো ছিটানো ফলি মাছের ঝোল। আহা যেন অমৃত! তা আলু বেগুন দিয়েই হোক বা আলু টমেট্যো দিয়েই হোক। কাটার ভয় থাকলে শুধু ঝোল দিয়েই ভাত খাওয়া যায়। আমি আর কুম্ভকর্ণ দুজনেই ফলে মাছের ভক্ত।

    Like

  5. falui mach bhaja r recipe pratham dekhlam apnar blog e.. falui mach amar maa ranna koren dhone pata diye jhol (samanya bheje) – tar taste i mukhe lege ache.. ranna to amar besi kora hoyna kintu apnar recipe gulote chabi dekhei kaj chaliye nii 🙂

    Like

  6. তাহলে খাংলা মাছ ই ফলি মাছ!

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s