গ্যালারি

ভেটকী মাছ রান্না (জন্মদিনের শুভেচ্ছা)


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১২, ৮:৫৪ অপরাহ্ন)

আর কয়েক ঘন্টা পরেই ১২ইং ফাল্গুন তথা ২৪শে ফেব্রুয়ারী। আমাদের হুদা ভাইয়ের জন্মদিন। হুদা ভাইয়ের জন্ম দিনের শুভেচ্ছা আমি আগেই জানিয়ে দিচ্ছি, শুভ জন্মদিন এবং শুভকামনা। আগামী কাল সারাদিন যেহেতু আমি কম্পিউটার হাতের কাছে পাব না তাই ফেইসবুক স্টাইলে আগেই বা অগ্রীম শুভেচ্ছা। হুদা ভাইয়ের এই জন্ম দিনে বেশী কথা চলে না! গত বছর হুদা ভাইয়ের জন্মদিনে আমি অঙ্ক তথা বয়স বের করার উপর আলোকপাত করেছিলাম। এই বছর আর তেমন কোন বিষয়ে না যাওয়াই ভাল। অঙ্ক সবার জন্য এই দুনিয়াতে আসে নাই। সবার জন্য দুনিয়াতে যে বিষয়টা এসেছে তা হচ্ছে, খাদ্য! অঙ্ক না পারলেও চলে কিন্তু খাদ্য না খেলে দুনিয়াতেই বেঁচে থাকার সম্ভবনাই থাকে না! তাই দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে হলে সবার আগে চাই ‘খাদ্য’। খাদ্যকে এই জন্য হয়ত মানুষের মৌলিক অধিকারের সর্ব প্রথমে রাখা হয়েছে!


হুদা ভাইয়ের জন্মদিনে কি খাদ্য পরিবেশন (আমার কাছে রেসিপি ছাড়া আর কিছু নাই) করলে আমাদের হুদা ভাই ভাল খেতে ও আনন্দ পাবেন! আজ সকাল থেকে ভাবছিলাম। দুনিয়াতে যত মুস্কিল তত আছান! আমার পাশে খুলনার একজন ভদ্রলোক বসেন, অনেকটা হুদা ভাইয়ের মতই নরম গোছের মানুষ। তিনি জানালেন খুলনা অঞ্চলের মানুষ খুলনার আঞ্চলিক মাছ খেতে ভাল বাসেন। মাছ ভাত নাকি খুলনাঞ্চলের লোকদের প্রিয় খাবার। বেশ কিছু খুলনার স্থানীয় মাছের নাম বলে গেলেন, আমি সেই সময়ে রেকর্ড করতে পারি নাই! তবে যে মাছের নামটা আমার মনে গেধে গিয়েছিল তা হচ্ছে, ভেটকী মাছ! দেশের অনেকে হয়ত ভেটকী মাছ বললে চিন্তে পারবেন না, এই মাছের সাধু নাম হচ্ছে কোরাল মাছ। খুলনার মাছ বাজারে এই মাছ সব সময়ই পাওয়া যায়। ভরা মৌসুমে এই ভেটকী মাছ থাকে তেলতেলে!


শিশুরাও এই ভেটকী মাছ খেতে আপত্তি করে না। আমার নিজেরো এই ভেটকী মাছ খুব পছন্দের মাছ। আমি অনেক অনেক বার এই ভেটকী মাছ বাজার থেকে কিনেছি এবং বাসায়/হোটেলে বহুবার খেয়েছি। কাঁটা কম, পুষ্ট মাছের রোয়া মুখে দিলেই, আহ! পরপারে বেহেস্তে গেলে, এই ভেটকী মাছের নাম বলব, মালিক ভেটকী মাছের কাবাব দিন! যে কয়টা মাছের কাবাব ভাল হয় তার মধ্যে ভেটকী অনেক এগিয়ে আছে (ভেটকীর কাবাবের রেসিপি আর একদিন দেয়া যাবে)। কিন্তু কথা হচ্ছে ভেটকী মাছ দিয়ে কি না রান্না করা যায়। খুব হালকা করে সামান্য ঝোল সহ রান্না করলেও দারুন। চলুন দেখা যাক, কি করে আমরা ভেটকী মাছের সাধারন রান্না করতে পারি, আমাদের হুদা ভাইয়ের জন্মদিনে।


ইচ্ছানুযায়ী পিস করে নিন। হালকা লবন পানিতে ভাল করে ধুয়ে নিন। (ভেটকী বা কোরাল মাছ আমার কাছে মনে হল বেশ দামী মাছ, মাছে আগুন!)


মশলা পাতিঃ তেল, পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, সামান্য আদা বাটা, সরিষা বাটা (না থাকলে নাই), মরিচ, হলুদ, লবন, কাচা মরিচ ও সামান্য জিরা গুড়া। তেল গরম করে পরিমান মত উপরের মশলা দিয়ে ভাল করে ভেজে নিন (তেল উঠে আসবে), এই সময় সামান্য লবন দিয়ে দেবেন। মশলার অনুপাত মেনে চুলন। মাছের পরিমানের উপর নির্ভর করবে।


মাছ দিয়ে দিন।


ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন। মাছ নাড়াতে সাবধানতা অবশ্যক। নীচ থেকে উপরে। মাছ বেশী নাড়ালে ভেঙ্গে যায়। কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন।


এক কাপ গরম পানি দিয়ে ঢাকনা সহযোগে মিনিট বিশেক হালকা আঁচে গরম করুন। মাঝে এসে ঝোল দেখে যেতে পারেন। আপনার ইচ্ছানুযায়ী ঝোল রাখুন। ফাইনাল লবন দেখুন। লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’। (ধনিয়া পাতা থাকলে দিন, স্বাদ বাড়বে)


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাতের সাথে জমবে বেশ।


কি বলেন হুদা ভাই, আর কিছু লাগবে? নাকি এই ভেটকী দিয়েই এই বেলা পার করবেন?


আজ সকালে আপাকে নিয়ে বইমেলা দেখে এসেছেন জেনে খুব ভাল লাগল, কিন্তু কথা হচ্ছে শুধু বইমেলা কিংবা টিএসসি কেন! দুপুরে কোন নামী হোটেলে খেলে কি আরো ভাল হত না!

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ। মেনি হ্যাপি রিটার্ন্স অফ দ্যা ডে। আপনার পরিবারের সকলের প্রতি শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন আজীবন। মাছে ও ভাতে!

Advertisements

5 responses to “ভেটকী মাছ রান্না (জন্মদিনের শুভেচ্ছা)

  1. very nice bloging thank you for it.my dear plase tell me how can i create a beautiful blog site of wordpress.com

    Like

    • ধন্যবাদ রুবেল ভাই।

      আমি আপনাকে এই বিষয়ে একটা মেইল পাঠাচ্ছি। বর্তমান বিশ্বে ওয়ার্ডপ্রেস খুব জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে। এখন নিজেই নিজের সাইটের সবকিছু। আগামীতে মোবাইলের মত সবার হয়ত একটা করে ওয়ার্ড প্রেস ব্লগ থাকবে। ব্লগস্পট ভাল হলেও ততটা ফ্রেন্ডলী নয়।

      আপনি এই লিঙ্কে গিয়ে একটা একাউন্ট করুন এবং এখুনি সাইট বানিয়ে ফেলুন।
      http://www.wordpress.com

      বাকী কাজ খুব সোজা। প্রায় সকল ট্যামপ্লেট আছে, যা দিয়ে সহজে এমন ব্লগ বানিয়ে ফেলা যাবে। সাইট বানিয়ে পোষ্ট দিয়ে আমাকে লিঙ্ক দিন, আমিও দেখে আসব। মাঝে মাঝে কমেন্ট করব।

      ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

      Like

    • ধন্যবাদ মঞ্জুর হাসান ভাই। আশা করি সাথে থাকবেন সব সময়। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের সাধারণ খাবার গুলো নেটে তুলে দেয়া মাত্র, সাথে কিছু গল্প করা।

      আপনারা আমাকে পছন্দ করেন বলে আমি অনেক অনেক আনন্দিত।

      শুভেচ্ছা থাকল।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s