Gallery

অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীর ও আমার কিছু কথা


সচলায়তনে আমি তেমন আসতে পারি না বা আসা হয় না। আজ রাতে কি মনে করে হঠাত সচলায়তনে আসলাম এবং এসে চমকে উঠলাম। আমার একজন প্রিয় মানুষ সিদ্দিকা কবীরকে নিয়ে ব্যানার করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে মনে কষ্ট নিয়ে আছি আজ অনেক দিন তবুও মনটা কেমন খুশি হয়ে উঠল। আমি বাংলা ব্লগের অনেক ব্লগের সদস্য হলেও কোথায়ও তাকে নিয়ে এমন ধরনের ব্যানার হয়েছে তা এই প্রথম দেখলাম (খুব কম কথাই হয়েছে ব্লগে)। যারা আমাকে জানেন না তাদের বলি আমি নিজে রেসিপি নিয়ে লিখি এবং নিজ হাতে রান্না করতে ভালবাসি। তবে আমার এই রান্না শেখা এবং রেসিপি দেয়ার পিছনে যে মুখটা বার বার ভেসে উঠে তিনি আমাদের শ্রদ্বেয় অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীর।


তিনি আমার রান্না শেখার অনুপ্রেরণা। বহু বছর আগে থেকে আমি উনাকে এনটিভিতে রান্না অনুষ্ঠানে দেখতাম। তবে উনাকে জানতাম আরো অনেক আগে থেকে। আমার ছোট বোন হোম ইকনমিক্সের ছাত্রী থাকায় উনার কথা আমাদের পরিবারে আলোচনা হত। উনার ‘রান্না খাদ্য পুষ্টি’ বইটা আমাদের পরিবারে কবে থেকে ছিল, তা আমার মনে নাই! দেখেই আসছি। এই বইয়ের প্রতিটা পাতা আমাদের জানা। কয়েক বছর আগে তার ৬০ পর্বের সিডি কিনি। আমি ও আমার স্ত্রী কত মাঝ রাতে এই সিডি চালিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দেখেছি! রান্না নিয়ে সারা জীবন পরিশ্রম করেছেন। বাংলাদেশে রান্নায়/রেসিপিতে এমন মানুষ আর আসবে বলে আমার মনে হয় না।


আমার রান্নাঘরে যাবার পথেই বই/সিডি গুলো থাকত, নুতন কিছু রান্নায় আমরা তার বই দেখতামই, বিশেষ করে মশলা কি কি ব্যবহার করা যায় দেখতে। তার মৃত্যু সংবাদে চোখে পানি এল। মনে হল, এক প্রিয় মা’কে হারালাম।

গত রোজার ঈদের আগের দিন বা তার আগের রাতে তার বই দেখে আমরা একটা রান্না করেছিলাম (পরে সেটা রেসিপি আকারে ব্লগে দেয়া হয়েছিল এবং একজন ব্লগারকে তা দিয়ে উৎসাহিত করা কয়েছিল) চলুন সেই রান্না দেখে আসি এবং  সাথে কথা বলি (তাকে স্মরন করি)। আমি সাধারণত খাসির গোসত কিনি না (দাম এবং চর্বির জন্য) তবুও ঈদ বলে কিনেছিলাম। বাসায় নিয়ে আসায় আমার স্ত্রী বললেন, খাসীর গোসত দিয়ে কি রান্না করবে। আমি কিছু না বলেই ‘রান্না খাদ্য পুষ্টি’ বই বের করি এবং পছন্দ হয়ে যায় ‘খাসীর গোসতের কালিয়া’ রান্না। আমরা লেগে পড়ি।

উপকরণঃ
– খাসীর গোসতঃ দেড় কেজি
– পেঁয়াজ কুচিঃ হাফ কাপ
– আদা বাটাঃ ১ টেবিল চামচ
– রসূন বাটাঃ ১ টেবিল চামচ
– হলুদ গুড়াঃ ১ চা চামচ
– মরিচ গুড়াঃ ১ চা চামচ (আমরা একটু বেশী দিয়েছিলাম)
– জিরা বাটাঃ ১ চা চামচ
– ধনিয়া বাটাঃ ১ চা চামচ
– গোল মরিচ গুড়াঃ সামান্য
– দারুচিনিঃ ৩ টুকরা
– এলাচিঃ ৩/৪ টা
– তেজ পাতাঃ ২ টা
– লবনঃ পরিমান মত
– তেলঃ হাফ কাপ

(শ্রদ্বেয় অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীর তার বইতে ঠিক এইভাবে উপকরণ দিয়ে দেন, যা যে কোন ব্যক্তির পক্ষে বুঝা সহজ এবং সাধারন। তার পুরা বই পড়লে বুঝা যায়, রান্না আসলেই কত সহজ। তার রেসিপিতে চাপিয়ে দেয়া কথা থাকত না, ইচ্ছা হলে আপনি কি কি এবং কোথায় বদলাতে পারবেন তাও তিনি আলোচনা করেছেন।)

প্রনালীঃ (প্রনালীতে যদিও তার বইতে ছবি নেই কিন্তু ধাপ গুলো এমন সুন্দর করে দেয়া যে, আপনি চাইলে এমন করেই রান্না করে ফেলতে পারবেন, যেমন আমরা রান্না করে ফেলেছি। এখানে একটু বলি, আমরা ছবি তোলার জন্য সামান্য কিছু পরিবর্তন করেছি কিন্তু তার মুল রেসিপি থেকে দূরে চলে যাই নাই।)


ভাল করে খাসীর গোসত ধুয়ে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি, আদা, রসূন, এলাচি, দারচিনি, লবন (পরিমান মত) ও তেজ পাতা দিয়ে ভাল করে কষিয়ে ফেলুন।


রং অনেকটা এমন হবে, মানে তেল উঠে আসবে উপরে।


এবার বাকি সব মশলা দিয়ে হাফ কাপ পানি দিয়ে ভাল করে ঝোল বানিয়ে গরম করুন।


কিছুক্ষন পর খাসীর গোসত ঢেলে দিন।


ঢাকনা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন, যতক্ষন না গোসত মজে যায়। অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হয় না, যদি না মজে তবে আবারো গরম হাফ কাপ পানি দিতে পারেন। খাসীর গোসতের উপর নির্ভর করবে কতক্ষন সময় লাগবে! মিনিট ৩০ লাগতে পারে কিংবা তারও বেশী। আপনি চাইলে একটা টিভি সিরিয়াল দেখে আসতে পারেন। কিন্তু…।


ভুলে গেলে চলবে না, আপনার চুলায় এখনো খাসীর গোসতের কালিয়া আছে এবং তা শেষ পর্যায়ে আছে। এবার লবন চেক করে নিন। হলে ওকে বলে, হালকা দমে রেখে মিনিট পাঁচেক রেখে ঝোল শুকিয়ে নিন।


ব্যস, হয়ে গেল ‘খাসীর গোসতের কালিয়া’। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। (রান্না খুব স্বাদের হয়েছিল)

(শ্রদ্বেয় অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীরের আত্মার শান্তি কামনা করি। তিনি চিরদিন আমাদের ভালবাসার উৎস হয়ে থাকবেন। তার স্থান আমাদের হৃদয়ের মন্দিরে। রান্না নিয়ে স্ত্রীর সাথে রান্নাঘরে সময় কাটাতে যেয়ে যে সুখ পাই তার অংশীদার তিনিও, তার বই না থাকলে হয়ত আমরা রান্নায় কোন আলোচনাই করতে পারতাম না, মন চাইলে নুতন কোন রান্না নিয়ে ভাবতে পারতাম না। কি কি মশলা দিলে কেমন ঘ্রান বের হবে তা হয়ত জানতে পারতাম না।)

(এই লেখাটা সচলায়তনের জন্য লিখেছিলাম। দেখা যাক প্রকাশ হয় কি না)

Advertisements

4 responses to “অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীর ও আমার কিছু কথা

  1. রেসিপিটা ভাল লাগলো।
    এর থেকেও ভাল লাগলো একজন বিখ্যাত রন্ধণশিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী।
    শুভকামনা রইল সাহাদাত ভাই। আপনার ব্লগটি চমৎকার লাগছে। নিয়মিত আসবো এখানে।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s