গ্যালারি

ভালোলাগা ব্যক্তিত্বঃ ৩ (লেখকঃ ফজলে হাসান জামি)


চতুরে এই লেখাটা জামি লিখেছেন। আমি লোভ না সামলাতে পেরে এখানে এনে রাখছি। পোষ্টের পুরা কৃতিত্ব ফজলে হাসান জামি’র। ধন্যবাদ জামি।

ভালোলাগা ব্যক্তিত্বঃ ৩ (লেখকঃ ফজলে হাসান জামি)

লিখেছেনঃ ফজলে হাসান জামি (তারিখঃ ২৪ জানুয়ারি ২০১২, ৪:৩৮ অপরাহ্ন)

আমাদের এই চতুর্মাত্রিকে একজন ঘরজামাই আছেন। আজ শোনাবো সেই ঘরজামাই মশাইয়ের গল্প।

গল্পটা এরকম,
চতুর্মাত্রিক সাহেবের আছে রাজকন্যার মত দেখতে এক মেয়ে। সেই রাজকন্যাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বিয়ে করে ফেললেন এক মহারথী ব্লগার। বিয়ে করলেন ভালো কথা, কিন্তু সেই মহারথী ব্লগার ভাবনায় পড়ে গেলেন। এই রাজপ্রাসাদ ছেড়ে অন্য কোথাও গেলেতো রাজার এত এত আদর-যত্ন পাবেন না। তাই যেই ভাবনা সেই কাজ। থেকে গেলেন রাজপ্রাসাদে, চতুর্মাত্রিকের রাজপরিবারের সাথে, ঘরজামাই হয়ে। এ ব্যপারে মহারথী ব্লগারের মতামত, “চতুর এখন শশুর বাড়ীর মত হয়েছে। ঝাটিয়ে বিদায় না করলে থাকব আজীবন, ঘরজামাই হয়ে!”

জামাই মশায়ের রান্নার হাত ছিলো বেশ। বিয়ের কিছুদিন পরের কথা, রাজাকে একদিন শখের বশে ঘরজামাই মশাই রান্না করে খাওয়ালেন ‘তন্দুরি চিকেন’। তারপর আর পায় কে, জামাইয়ের রান্না করা খাবার রাজার এতবেশি ভালো লাগলো যে তিনি খুশি হয়ে জামাইকে রাজপ্রাসাদের প্রতিদিনের রান্নার দায়িত্বই দিয়ে দিলেন। সেই থেকে বেচারা জামাইবাবু চতুর্মাত্রিক রাজপরিবারের জন্য করে চলেছেন মজার মজার সব রান্না।

এই ঘরজামাই আর কেউ নন। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধার পাত্র, সাহাদাত উদরাজী ভাই। এইরে আবার ক্ষুধা লেগে গেল। কি করবো বলেন এই নামটা দেখলে, পড়লে, শুনলে, লিখলেই আমার নিজেকে কেমন যেন অভুক্ত মনে হয়, মনে হয় কতদিন না খেয়ে আছি।

আচ্ছা গল্পে আসি আবার, খুব সুখে শান্তিতেই দিন কাটছিলো আমাদের রাঁধক মশাইয়ের। কিন্তু দিনে দিনে তিনি স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেন, ঠিক মোবাইল যেমন ব্যাটারীর উপর নির্ভরশীল তেমনিভাবে। কিছুদিনের মধ্যেই, প্রত্যাশারও দ্রুততম সময়ে, অনেকটা বুলেট গতিতে জন্ম নিল এক ফুটফুটে রাজ দৌহিত্র। এইসব আকস্মিক ঘটনা অবলোকন করে ঘরজামাই মশায় রাজকন্যাকে ব্যাটারী আর রাজ দৌহিত্র কে বুলেট নামে ডাকতে শুরু করেছিলেন। সেই থেকে শুরু। (ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া)

এবার একটু ব্লগের কথায় আসি। খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায় যখন কোন বিয়ে বাড়ি বা রেস্টুরেন্টের পাশ দিয়ে হেঁটে যান, কেমন লাগে তখন? নাকে এসে লাগে পোলাউ-বিরিয়ানীর ম ম গন্ধ, আর সাথে সাথেই আপনার ক্ষুধা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ঠিক একইভাবে অনেক ব্লগারের এখন ব্লগে এলেই ক্ষুধা বেড়ে যায় কয়েক শত গুণ। ক্ষুধার ব্যপারে এক বিশিষ্ট ব্লগারের মতামত, “আজকে প্রতিজ্ঞা ছিল ব্লগে ঢুকবো না। ভাব্লাম আচ্ছা শুধু কে কে লেখা দিলো দেখি । আপনারটা দেখে আর শুনে পড়া শুরু করে শেষ করে ফেললাম। এম্নিতেই ক্ষুধা ছিল। আর এখন তো জিভে জল চলে আসলো”। এতো গেল ক্ষুধার কথা। শোনা যায় এখন গুগলে নাকি রেসিপি লিখে সার্চ দিলে সরাসরি চতুর্মাত্রিকে নিয়ে আসে। সবই ঐ রাঁধক-রাঁধিকাদের গুণে। এর অনেকটাই বিশিষ্ট ঘরজামাই রাঁধকেরও প্রাপ্য।

কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমীর চেয়ারম্যান(কেদারা মানব) এর সাথে কথা হচ্ছিলো। তিনিও নাকি রোজ চতুর্মাত্রিকে অন্তত একবার ঢুঁ মেরে যান। আজ কি রেসিপি আছে দেখার জন্য। মাঝে মাঝে নাকি উনাকেই রান্না করতে হয় তাই। কথা প্রসঙ্গে আমি জানতে চাইলাম, রান্নার সমার্থক শব্দ কি হতে পারে? তাঁর সাফ জবাব, “এখানে ভাবনার কোন অবকাশ নেই, এটা নির্দ্বিধায় সাহাদাত উদরাজী লিখে দিতে পারো। আমি ভাবছি বাংলা ডিকশনারীর আগামী ২০১২ এডিশানে রান্নার সমার্থক শব্দ হিসেবে এটা যোগ করে দিব”।

আমাদের এই বিশিষ্ট, মহারথী ব্লগারের পোস্টের ব্যপারে বলতে গেলে বলতে হয় রীতিমত ট্রাফিক জ্যাম লেগে যায় তাঁর প্রতিটি পোস্টে। এ ব্যপারে সাধারণ ব্লগারদের মতামত, “আমার এক বন্ধু, যিনি চতুরে খুবই জনপ্রিয়। পোস্ট মারলেই এক/দেড়শ কমেন্ট পড়ে”, “সাহাদাত ভাই, সুপার, বাম্পার, হিট, জ-ট-টি-ল, ক-ঠ-ঠি-ন, পোস্ট!!!” ট্রাফিক জ্যামের এই অবস্থা দেখে চতুর্মাত্রিক কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুধুমাত্র সাহাদাত ভাইয়ের পোস্টের জন্য তাঁরা ট্রাফিক কন্ট্রোলার নিয়োগ করবেন। এটা হবে ইতিহাসের প্রথম ব্লগ ট্রাফিক কন্ট্রোলার নিয়োগ।

আসুন এবার অন্যরকম কিছু কথামালা/গল্প দেখি।(দয়া করে কথাগুলোয় কেউ সাহাদাত উদরাজী ভাইয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা খুঁজতে যাবেন না)। আমাদের দুই বিশিষ্ট ব্লগারের সংলাপ,

১ম জনঃ “আমার এক বন্ধু, যিনি চতুরে খুবই জনপ্রিয়। পোস্ট মারলেই এক/দেড়শ কমেন্ট পড়ে। (তার নাম বলবো না, শেষে ‘সত্য’ প্রকাশের দায়ে না বিপদে পড়ি) তিনি অফিসে গেছেন। সেদিন ছিল মাইনে পাওয়ার দিন । মাইনে পেয়েই বন্ধুটি ঠিক করলেন যে তিনি একেবারে উইকএন্ড পার্টি শেষ করে তবে বাড়ি ফিরবেন। যথারীতি শনিবার রাতে বাড়ি ফিরে তিনি দেখলেন যে স্ত্রী রেগে বোম হয়ে আছে। বাড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই প্রশ্ন ” তোমার কেমন লাগবে যদি তুমি আমাকে তিন-চার দিন দেখতে না পাও ?”
স্ত্রীর কাছে কিছুতেই হারবেন না বলে মনস্থ করা বন্ধুটি বললেন ” আমার কোন প্রবলেম হবে না”।
রোববার কেটে গেল তিনি বউকে দেখতে পেলেন না, এমন কি একমাত্র ছেলেকেও না…”।

১ম জন দ্বিতীয় জনের কাছে এ ব্যপারে জানতে চাইলে
২য় জনঃ “আমার ব্যাটারী/বুলেট আখাউড়া গেছে!”
বউ-বাচ্চার চিন্তায় ২য় জনের অবস্থা, ১ম জনের ভাষ্যে,
১ম জনঃ “অবিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে উদরাজী এখন থারটি ফার্স্ট খাইয়া খালি বাসায় বেহুস হইয়া পইড়া আছে। আগামী তিনদিন তাঁর চতুরে উঁকি দেয়ার কোন সম্ভাবনা নাই”
মাঝে একদিন ১ম জন ২য় জনের কি খবর জানতে চাইলে,
২য় জনঃ “এখনো আসে নাই। আরো কয়েকদিন আছি এইরাম!”

অতঃপর, কাটিয়া গেল আরো কয়েকটা বিষণ্ণ দিন,

সোমবার

মঙ্গলবার,

বুধবারও কেটে গেল, তিনি বউ-ছেলেকে দেখতে পেলেন না।

অবশেষে পরবর্তী বৃহস্পতিবার তিনি তাঁর ফুলে ঢোল হওয়া দুটি চোখের মধ্যে একটি কোনরকমে খুলে তার স্ত্রীকে দেখতে পেলেন…।
গল্প বা কথামালাটি এখানেই সমাপ্ত।

আচ্ছা আসুন আবার সাহাদাত ভাইয়ের কথায় ফিরে আসি। সামনেই বইমেলা। আমাদের চতুর্মাত্রিকের অনেক বিশিষ্ট ব্লগারের বই প্রকাশিত হচ্ছে। পাশাপাশি মহারথী ব্লগার উদ রাজী ভাইয়ের কয়েকটা বইও আছে। নিচে নাম লিখে দিলাম। অবশ্যই কিনে পড়বেন (আমি কোন কমিশন পাবোনা এখান থেকে)

১। বিশ্ব শেফ সম্মেলনে উদরাজী ভাইয়ের দেওয়া ভাষণ গু (ব্লু রিবন)লা নিয়া “পুড়ে যায় বেগুন তাওয়ায়”
২। ‘আমার রেসিপি লেখার ইতিবৃত্ত এবং
ব্যাটারি যেভাবে আমাকে রিচার্জ করে’
লিখেছেনঃ রেসিপি সম্রাট এবং বিশিষ্ট রন্ধন শিল্পী সাহাদাত উদরাজী
বইগুলো কিনে নিজেকে সংসার জীবনে আরো পারদর্শী করে তুলতে পারেন সবাই। হেলায় এ সুযোগ হারাবেন না।

সংক্ষেপে ব্লগার সাহাদাত উদরাজী ভাই……

নামঃ সাহাদাত উদরাজী
চতুরবাসীর দেয়া নামঃ শহীদ হব রান্না ঘরে, রেসিপি উদরাজী, রেসিপি সম্রাট
শখঃ রান্না করা
স্বপ্নঃ আন্তর্জাতিক রন্ধন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়া
ভালোলাগেঃ চতুরবাসীকে খাবারের লোভ দেখাতে
পছন্দের স্থানঃ চতুর্মাত্রিক
অপছন্দের স্থানঃ বলতে অনাগ্রহ ছিল
ভালোবাসেনঃ ব্যাটারী ও বুলেট কে
ট্রেডমার্কঃ রেসিপি পোস্ট

ভালো থাক আমাদের সবার প্রিয় সাহাদাত উদরাজী ভাই। আসুন সবাই সমস্বরে বলি,
“বেঁচে থাক আমাদের সাহাদাত উদরাজী ভাই
নতুন কোন রেসিপির সাথে নতুন কোন রান্নায়”।

সাহাদাত উদরাজী ভাইয়ের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করে আজ এ পর্যন্ত।

* বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই ঈশান মাহমুদ ভাইকে, সাহাদাত ভাইয়ের এলবাম থেকে ছবিটি সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য।
*(লিখাটির মূল উদ্দেশ্য হাস্যরস মাত্র। লিখার উপাদান বিভিন্ন পোস্ট থেকে সংগৃহীত)

[চতুরের ব্লগারদের কমেন্ট গুলো সেখানে যেয়ে দেখে আসতে পারেন]

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s