Gallery

বুলেট আলু (সবার জন্য)


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ১৭ ডিসেম্বর ২০১১, ৬:০৭ অপরাহ্ন)

আমি শুধু রান্না করি বা শিখছি তা নয়। মাঝে মাঝে কিছু কিছু নুতন কাজও করে যেতে চাই (হা হা হা।।।। যদিও দুনিয়াতে আর নুতন বলে কিছু নাই, নুতন আবিস্কার বলে কিছু নাই)। তবুও আমি মনে করি, নুতন নুতন এক্সপেরিমেন্টে যোগ হতে পারে নুতন কিছু, নুতন ভালবাসা। আমাদের দেশ নানা বর্নের, নানা ধর্মের। নানা শ্রেনীর মানুষের বসবাসে আমাদের এই স্বপ্নপুরী, প্রানপ্রিয় বাংলাদেশ।

ধরা যাক, হিন্দু বৌদ্দ খ্রীষ্টান মুসলমান ও আরো নানা ধর্মের সবাইকে এক জায়গায় কোন এককাজে ডাকা হল (ধরা যাক সেখানে নারী পুরুষ, ছেলে মেয়ে, বুড়ো বুড়ী, যুবক যুবতী মানে ‘আবালবৃদ্ববনিতা’ সবাই আছে) এবং তাদের এক বেলা খাওয়াতে হবে। তা আপনি কি করবেন? নানান ধর্মের মানুষকে আলাদা আলাদা রান্না করে খাওয়াবেন! কিংবা কি রান্না করলে কেহ উচ্চবাচ্য না করে খেয়ে উঠবে? (সমস্যাঃ সবাই সব কিছু খায় না, ছেলে খেলে বুড়ো খাবে না, দাঁত নাই বলে) হা, এমন চিন্তা থেকেই আমার আজকের রেসিপি। আমার মনে হয় এই রান্নায় বাংলাদেশের কেহ ‘না’ বলতে পারবে না, গরম ভাত কিংবা রুটির সাথে প্রান ভরে খেয়ে উঠে বলবে – বেশ ভাল লাগল। আমি নিশ্চিত। আগেই বলে নিচ্ছি, এটা আমার নিজস্ব রেসিপি। বানাবেন হাত খুলে, ভালবাসা মিশিয়ে। সবার জন্য, সকলের জন্য। রান্না করা পানির মত সহজ কিন্তু খেতে অসাধারণ স্বাদ।

উপকরনঃ (আমি গোটা চারেক লোকের জন্য বানিয়েছিলাম)
– হাফ কেজি নুতন গোল আলু (আলু খাবে না কে?)
– পেঁয়াজ কুঁচি (এক কাপ)
– রসুন বাটা (দুই চা চামচ)
– আদা (এক চা চামচ)
– জিরা গুড়া (এক চিমটি)
– সরিষা বাটা (এক চা চামচ)
– মরিচ গুড়া (দেখে বুঝে, যেন বেশী ঝাল না হয়)
– হলুদ (হাফ চা চামচ)
– তেল (পরিমান মত)
– লবন (পরিমান মত)
– ধনিয়া পাতা (সামান্য)
– কাঁচা মরিচ (দুই তিনটা)


নুতন আলু নেবেন। সাইজ মত। বেশী ছোট নয় আবার বেশী বড় নয়। চামচ দিয়ে চামড়া ছিলে পরিস্কার করে নিন।


মাঝামাঝি করে আলু কাটুন এবং ফুটানো পানিতে সামান্য লবন সহযোগে ভাল করে সিদ্ব করে নিন।


গরম পানি থেকে নামিয়েই ভাল করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এতে আলুর রং পাকা হবে। তার পর পানি ঝরিয়ে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজের বেরেস্তা বানিয়ে নিন। সামান্য লবনে পেঁয়াজের রং ভাল হবে।


বাচা তেলে কিছু পেঁয়াজ কুঁচি সহ এবার একে একে সব মশলা দিন, লবন দিন এবং ভাল করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল উঠে গেলে বুঝবেন ভাল মশলা কষানো হয়েছে।


এবার চাছে রাখা আলু ঢেলে দিন।


ভাল করে আলু মিশিয়ে আবারো কষান।


পানি (গরম পানি দেবেন, পরিমান আপনার ইচ্ছার উপর, যারা ঝোল বেশী চান তারা বেশী দেবেন) দিয়ে দিন এবং আগুন বাড়িয়ে জ্বাল দিন।


ঝোল আপনার মন মত হলে, পুনরায় লবন দেখে নিন। লাগলে দিন না লাগলে ‘ওকে’ বলুন। এই পর্যায়ে বেরেস্তা দিয়ে দিতে পারেন।


কাঁচা ধনিয়া পাতা ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন।


ব্যস হয়ে গেল সব ধর্ম, সব বর্ন, সব জাতি, নারী পুরুষ এবং আবালবৃদ্ববনিতার জন্য বিশেষ তরকারী।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। বসে পড়ুন। যা যা পছন্দ। এই তরকারী গরম ভাতের সাথেও চলে আবার রুটি, চাপাতি, পরোটার সাথে দারুন।


কথা হচ্ছে, এই রেসিপির কি নাম? হা আমি নাম দিয়েছি, বুলেট আলু। আমার ছেলের নামের সাথে মিলিয়ে। বুলেট আলু খেয়ে আপনি নিজেও বুলেট হয়ে যাবেন!

আমি আশা করি আপনারা রান্নাটা নিজে একবার করে দেখবেন। সব কিছুতো হাতের কাছেই, নুতন আলুতে বাজার এখন ভরপুর, দাম ১৫/২০টাকা কেজি। মোটামুটি হাফ কেজি বুলেট আলু রান্নায় খরচ হতে পারে ২৫/৩০টাকা। চারজন পেট পুরে খেতে পারা যাবে। তবে খেয়ে বলতেই হবে, ইয়েস ইট ইস বুলেট পটেটো! শুভেচ্ছা সবাইকে।

Advertisements

4 responses to “বুলেট আলু (সবার জন্য)

  1. আলুর দমের মতই জিনিসটা।

    ভালো লাগলো।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s