Gallery

নান রুটি (সকাল/বিকালের নাস্তায়)


প্রতিদিন সকালে কিংবা বিকালের নাস্তায় অথবা যেকোন রেগুলার সময়ের খাবারে আপনি রুটি খেয়ে যাচ্ছেন। হালকা একটু পরিবর্তন করে আপনি মুখের রুচি অন্য দিকে নিতে পারেন। বাসায় বসে বানাতে পারেন, নান রুটি। বেশ ভাল লাগবে। খেতে মজা, সফট এবং পেটেও থাকবে অনেক সময়! তবে প্রথমে বলে নেই, এই নান রুটি আপনি যে কোন তরকারী দিয়ে খেতে পারেন এবং শর্মা টাইপ কিছু করে রুটির পেটে ভরে স্যান্ডউইচও টাইপ বানাতে পারবেন। সময় বেশী নেই, চলুন রেসিপি দেখে ফেলি।

উপকরনঃ
– ২ কাপ ময়দা
– ২ চা চামচ ইষ্ট (ইষ্ট বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, কুসুম গরম পানিতে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে)
– ২ চা চামচ চিনি
– ২ টেবিল চামচ খাঁটি তেল বা ঘি (ঘি না থাকলে নাই)
– লবণ পরিমাণ মত।
– পানি পরিমাণ মত।

প্রনালী (খুব সহজ)-

একটি পাত্রে পানি গরম দিন (এই পানি থেকে কিছু পানি কাছে লাগবে এবং পানির বাষ্প বা গরম ভাপ কাজে লাগবে) এবং কাই বা খামির বানানোর পাত্রে দুইকাপ ময়দা নিন। মেজারমেন্ট বিষয়ক একটা পোষ্ট এখানে আছে। দেখে নিতে পারেন মেজারিং কাপস এন্ড স্পুনস (রান্নায় জরুরী)


এক চা চামচ ইষ্ট নিন। তবে এর আগে ময়দায় পরিমান মত লবন ও এক চা চামচ চিনি দিয়ে ভাল করে নাড়িয়ে/মিশিয়ে নিন।


ইষ্ট পানিতে গুলে নিয়ে ময়দায় দিয়ে মাখাতে থাকুন এবং গরম পানি দিয়ে দিয়ে খামির বানান। এখানে একটু সাবধানে, যেহেতু চিনি আছে তাই আস্তে আস্তে অল্প অল্প পানি দিয়ে মাখাতে থাকুন। অনেকে এখানে নাকি পাকা চম্পা কলা পেষ্ট করে দেন (আরো স্বাদের আশায়)।


লক্ষ্য রাখবেন খামির যাতে বেশী নরম না হয়ে যায়। খামির হয়ে গেলে এবার তেল (অল্প অল্প করে) দিয়ে আবারো খামির মলে মলে আরো নরম করে নিন।


খামিরকে একটা ধাতব/প্লাস্টিকের পাত্রে কিছুক্ষন রেখে গরম করা পানি পাত্রের উপর দিয়ে দিন (চুলা চালু থাকার দরকার নেই)। পানি থেকে উঠা বাষ্প খামিরের তলায় লাগবে, খামির হালকা গরমে ফুলে উঠবে। ছবিটা ভাল তুলতে পারি নাই। বন্ধ চুলায় গরম পানি, বাষ্প উঠছে তার উপর একটা প্লাস্টিকের পাত্রে খামির দেয়া হয়েছে।


মিনিট বিশেক পর খামির তুলে দেখুন, কি সুন্দর হয়েছে। ফুলে বড় হয়েছে এবং ভাল ঘ্রান বেরুচ্ছে।


রুটি বেলার জন্য খামিরকে ছয় ভাগে ভাগ করুন (ছোট বানাতে চাইলে দুইকাপ ময়দায় আটটি বানাতে পারেন)


রুটি বেলে নিন।


তাওয়া গরম করে সাধারন রুটির মত করে সেঁকে নিন।


তবে ভাল একটা পাতলা কাপড় (পাফ বানিয়ে নিন) দিয়ে চাপ দিয়ে দিয়ে সেঁকে নিন। যাতে রুটির প্রতি অংশে আগুনের আঁচ লাগে।


ব্যস, হয়ে গেল ‘হোম মেইড নান রুটি’!


আপনার পছন্দ সই যে কোন তরকারী নিয়ে বসে যেতে পারেন। আমি নিশ্চিত রুটির তুলনায় অনেক অনেক ভাল লাগবে। মধ্যপ্রাচ্য সহ নানা দেশে এই ধরনের নান রুটি দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।

কৃতজ্ঞতায়ঃ মানসুরা হোসেন

(Photobucket to Google)

Advertisements

33 responses to “নান রুটি (সকাল/বিকালের নাস্তায়)

  1. এই মাত্র আমরা দুজন পড়লাম। 🙂

    Like

  2. ধন্যবাদ শিবলী ভাই। আপনাদের পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা।

    Liked by 1 person

  3. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ ডো/খামির/ময়ান (পিজা, বনরুটি বা নানরুটি বানাতে পারেন খুব সহজেই) ) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  4. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ ডো/খামির/ময়ান (পিজা, বনরুটি বা নানরুটি বানাতে পারেন খুব সহজেই) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  5. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ নান রুটি (গ্রামের বাড়ীতে) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  6. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ চিকেন রোল ও পকেট শর্মা (ছোট সোনামানিদের জন্য) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  7. এত্ত সহজে যে নান বানানো যায় সেইটে জানতুম না, দোকানিরা এত্তকাল ধরে বোকা বানিয়ে এসেছে দেখচি। এবারে আমার একদিন কি ওদের একদিন

    Like

  8. ইষ্ট ? ki. chalu naam ta ki?

    Like

    • ধন্যবাদ স্যাম ওয়ান ভাই, এটা ইষ্ট নামেই পরিচিত। আমাদের দেশের প্রায় সাধারন গ্রোসারীতেই পাওয়া যায়, সবাই চিনে। ৩০ টাকায় এক শিশি এখন পাওয়া যায়। আগে আমরা হাফ কেজির প্যাকেট কিনতাম এখন সেটা পাওয়া যায় না।

      উপজেলা শহর গুলোতেও আমি খুঁজে দেখেছি, পাওয়া যায়।

      আমার মশলাপাতি নিয়ে একটা পেইজ আছে তাতে এর ছবি দেয়া আছে। দেখে নিতে পারেন।

      http://wp.me/P1KRVz-kR
      মশ্লা/ভেজষ চিনুন

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  9. I have visited your site just today&became too much pleasant+benifited.THANKS.Bookmark kore rakhlam.

    Like

  10. দাদা, বাড়ি এসে সব থেকে অরথম এই নান রুটি বানিয়ে সক্কলকে খাইয়ে কুব অবাক করে দিয়েছিলাম। আপনাকে সে কথা জানানো হয়নি। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে গেলাম আজকে। 🙂

    Like

    • হা হা হা… এই তো বোনের মত বোন। আমাদের কবি বোন। সাব্বাস। আমি অনেক অনেক খুশি হয়েছি, আমার নাম বলার দরকার নেই, আমি খুশি শুধু রান্না হলেই। কত মজার ঘটনা ঘটে এই দুনিয়ায়!

      তরুণদের কাছে প্রবীনরা সব সময়েই ভাল রান্না আশা করে! হা হা হা।।

      শুভেচ্ছা। নুতন কবিতা চাই। লিখতে থাকুন।

      Like

      • দাদা, আপনার নাম এখন আমার বাড়িতে সব্বাই জানে, নতুন রকম স্বাদের কিছু রান্না করলেই বলেন, “এ কি আর তুই রেঁধেছিস? সাহাদাত দাদা রেঁধেছেন, আর তুই খালি copy করেছিস”।।
        বুঝুন তাহলে 😀 … একটা আবদার জানাতে এলাম দাদা, আজকে একটি পত্রিকায় পড়লাম এক রান্নার কথা, লেখক আপনার বেড়াতে দেশে গিয়ে খেয়ে খুব প্রশংসা করেছেন, “বাখরখানি”।
        এই বাখরখানি কি করে বানাতে হয় দাদা, যদি বলেন।

        Like

        • ধন্যবাদ কবি বোন। প্রান খুলে হাসলাম! উনাদের বলবেন, কপি করার মাঝেও একটা আলাদা গুন আছে! সবাই কপি করতে পারেন না! রান্না আসলে বিরাট শিল্প। সবাই রান্না জানে বটে, অনেকের রান্না কখনোই স্বাদ হয় না, আবার কারো কিছু রান্না স্বাদ হয়, অন্য গুলো মুখে তোলা যায় না।

          বাখরখানি আগের দিনের রাজা বাদশা জমিদারদের সকালের নাস্তার আইটেম। এখনো ঢাকার কিছু জায়গায় বানানো হয়। বাসায় এই রান্না হয় না। কারন বাখরখানিতে যে চুলা ব্যবহার হয় তা বাড়ীতে নেই। আমি কলকাতা আসলে নিয়ে আসবো আপনার জন্য, বাসায় রান্না করতে কাউকে দেখি নাই। তবুও……

          ছবি নেট থেকে।

          আমি নিজেও রেসিপিটা খুজে দেখবো।

          শুভেচ্ছা বোন।

          Like

  11. ami baniesi tik apni jevabe likesen kinto fole otena roti ki mota kore belte hobe?

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। দেরীতে চোখে পড়ায় উত্তর দিতে দেরী হয়েছে। হা বোন, রুটি মোটা করে বেলতে হবে। এক ইঞ্চির চার ভাগের একভাগ হতেই হবে। আশা করি আর একবার করে দেখবেন এবং সাফল্য আসবেই। এটা শিশুরা খুব পছন্দ করে খাবে। শুভেচ্ছা। আশা করি জানাবেন।

      Like

  12. এই লিঙ্কে ক্লিক করলে লেখকের আসল পরিচয় জানতে পারবেন
    http://forum.banglalibrary.org/viewtopic.php?id=204

    Like

  13. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ চিকেন রোল ও পকেট শর্মা (ছোট সোনামানিদের জন্য) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  14. ভাইয়া, গতকাল বানানোর চেষ্টা করেছিলাম। খামির অনেক বেশি নরম হয়ে গেছিলো ভাপ থেকে নামানর পর। পরে কোনভাবে রক্ষা করেছি হাতে-পিঁড়ি-বেলুনে তেল মেখে নিয়ে। যদিও “নান” হয়ে গেল ছেঁকা পরোটা, তারপরও সবাই মজা করে খেয়েছে 🙂

    পানির একটা আন্দাজ পেলে আমার জন্য ভালো হত। আগামি উইকএন্ডে আবার বানানোর ইচ্ছা আছে। আরেকটা ব্যাপার , “উপকরন”-এ বলেছেন ‘২ চা চামচ ইষ্ট এবং চিনি’, প্রণালী তে কিন্তু ‘১ চা চামচ’ এর কথা বলা।

    আপনাকে এবং ভাবী-কে আনেক ধন্যাবাদ আপনাদের এই ব্যাপক কষ্ট সাধ্য প্রয়াসের জন্য।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। আসলে ২ চামচ ইষ্ট হবে। ইষ্ট এর জন্যই খামির ফুলে উঠে এবং খেতে স্বাদ হয়।

      সরি, যাই হোক। প্রথম বার বানিয়েছেন বলে হয়ত কিছুটা এদিক সেদিক হয়েছে। ব্যাপার না। আগামী বারে সব ঠিক হয়ে যাবে।

      শুভেচ্ছা নিন। আপনারা আমাদের রেসিপি দেখেন বলেই আমরা অনুপ্রাণিত হই। আপনাদের ভালবাসাই আমাদের কাম্য।

      Liked by 1 person

  15. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ চিকেন রোল ও পকেট শর্মা (ছোট সোনামানিদের জন্য) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  16. Hello colleagues, nice piece of writing and good arguments commented here, I am genuinely enjoying by these.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s