Gallery

মাঝারি মাছ ভাজি


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ৩০ নভেম্বর ২০১১, ৬:১৮ অপরাহ্ন)

শশুরবাড়ীতে জামাইদের ব্যাপার স্যাপারি আলাদা। জামাইরা শশুর বাড়ীতে এলে তাকে একটা আলাদা খাতির যত্ন করা হয়। আমার পরিস্কার মনে আছে আমার বাবা বছরে একবার তার শশুরবাড়ী যেতেন। যাবার আগেই আমার নানার বাড়ীর লোকজন জেনে যেতেন, প্রথম দিন মুরগীর রোষ্ট মার্কা রান্না, দ্বিতীয় দিন ছাগল খাসি পোলাউ/বিরিয়ানী টাইপ এবং তৃতীয় দিন বাড়ীর বড় পুকুরের মাছ (মাছ ধরায় জামাইকেও পুকুরে নামতে হত, জামাই এই দিনে বাজারে যেয়ে ইচ্ছা মত বাজার করে আনত)। আজকাল আমাদের মত জামাইদের দশা দেখলে চোখে পানি আসে! শশুর বাড়ীতে গিয়েও আমাদের শান্তি নাই! হা হা হা।।।

যাই হোক কথা বললে অনেক কথা বলতে হবে! বলতে চাই না। তবে এটা বলি মাত্র, জামাইকে সন্মান করা উচিত! হা হা হা।।। ধরা যাক, হঠাত জামাই এসে গেল এবং তাকে খাইয়ে দিতে হবে। আর আপনার ঘরে ফ্রীজে আছে মাঝারি সাইজের মাছ। যাকে আপনাদের ঢাকায় ‘নলা’ বলে! টুকরা করে রান্না করলে কাটায় জামাইয়ের দশা খারাপ হয়ে পড়বে। আর ব্যাপারটাও ভাল দেখায় না। এমতাবস্থায় আপনি সরাসরি মাছ ভেজে জামাইয়ের পাতে তুলে দিতে পারলে আমি মনে করি জামাই খুশি হবে। জামাই খুশি হলে আপনার মেয়েও খুশি থাকবে! চলুন দেখে আসি, কি করে খুব সহজে মাছ ভাজি করতে পারেন, একশত ভাগ আপনার কাছে থাকা মশলা ব্যবহার করে।


মাছের আশ কেটে ভাল করে লবন মেখে ধুয়ে নিন। লেবু থাকলে পানিতে লেবু চিপেও ধুয়ে নিতে পারেন।


হলুদ (পরিমান মত), মরিচ (পরিমান মত), সামান্য ধনিয়া গুড়া ও এক চিমটি গোল মরিচ ও সামান্য পানি দিয়ে পেষ্ট করে প্লেটে মেখে নিন।


মাছ গুলোতে মেখে দিন।


আধা ঘন্টা বা তার বেশী সময় রেখে দিন যাতে মশলা মাছে ভাল করে লাগে।


বড় কড়াইতে তেল গরম করে মাছ ভাজুন। এ পিট ও পিট করে।


প্রয়োজনে ঢাকনা দিয়েও সামান্য সময় রাখতে পারেন, খুন্তি দিয়ে চাপা চাপা দিয়ে ভাজুন। মাছের ভিতর সিদ্ব হতে হবে।


ব্যস হয়ে গেল মাছ ভাজা। জামাইয়ের পাতের কাছে ঠেলে দিন। একটা চাকু দিয়ে দিবেন, মনে মনে বলবেন ‘কেটে কেটে খা’! জামাই ব্যাটা খুশি না হয়ে পারবে না! ভাল জামাই হলে কেটে টুকরা টুকরা করে সবার পাতে তুলে দিবে। হয়ত আপনাকে চমকে দিতে বলেও ফেলতে পারেন, মা এত বড় মাছ কি করে ভাজলেন! আর জামাইয়ের মুখে ‘মা’ ডাক! আহ।।।।।।।। বড় মধুর!

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s