গ্যালারি

সীম আলু ভাজি


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ২৫ নভেম্বর ২০১১, ১:৫৫ অপরাহ্ন)

ছোট বেলায় শীতের সব্জির সময় আমরা সীম আলু ভাজি রুটি দিয়ে সকালের নাস্তা করতাম। প্রতি সপ্তাহে দুই একবার তো থাকতোই! আমার আম্মা এই ভাজি করতেন। বহু বছর পর আম্মাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল উনার কাছ থেকে কিছু রান্না শেখা এবং সময় কাটানো (তাকে খুশি করা)। গত রেসিপিতে আমার মাকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম, সাধারন মুলা রান্না রেসিপিতে। সে দিন মুলা রান্নার সময় হঠাত আমাদের ছোট বেলার সীম আলু ভাজির কথা উঠে যায়। আমি ফ্রীজ হাতিয়ে দেখি কিছু সীম আছে, আছে আলু। আম্মাকে বলতেই তিনি রাজি হয়ে গেলেন। অনেক তরকারী থাকতেও আমি শিখে নেয়ার ইচ্ছায় ওনাকে রাজী করিয়ে ফেললাম। দুটো চুলার পুরাপুরি ফয়দা নিয়েছেন তিনি। কাটা ধোয়া মোছা ও যোগারজাগার আমি করে দিয়েছিলাম মাত্র। তার রান্নার দ্রুততা ও ঝটপট দেখে আমি তাজ্জব হয়েছিলাম। এত দ্রুত তিনি দুটো পদ রান্না করে ছিলেন যে, আমার মনে হয়েছিল বার বার – একেই বলে অভিজ্ঞতা, একেই বলে রান্নার কারিশমা। দুটো রান্নাই মজার ও সুস্বাদু হয়েছিল।

রান্না করার সময় আমরা মশলা পাতি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করি, পাতিলে দেয়ার সময় কত কি ভাবি – হবে তো? পরিমান হল তো? ইত্যাদি। আমি আম্মাকে দেখলাম, ভাবনা ছাড়া তিনি সব কিছু দিয়ে দিলেন? লবন দিতে আমি বলছিলাম, আম্মা বেশী হবে! তিনি বললেন, না এটা ঠিক আছে? খেতে বসে দেখলাম, পুরাই ওকে! না বেশী না কম।


আমার মায়ের প্রথম রান্না আপনারা দেখে ফেলেছেন, আসুন দ্বিতীয় রান্না দেখি। সীম আলু ভাজি, একদম সাধারন রান্না। আমার মনে হয় বর্ননা না দিলেও চলবে। ছবি দেখেই আপনারা বুঝতে পারবেন। তারপরও সব লিখে দিয়ে যাই। এতে কারো নিশ্চয় উপকার হবে আর যারা জানেন তাদেরো আর একবার দেখা হয়ে যাবে।

উপকরনঃ
– সীম (হাফ কেজি, বাজারে এখনো ভাল সীম উঠে নাই)
– আলু (দুইটা, নুতন হলে স্বাদ বাড়বে)
– এক চামচ হলুদ গুড়া
– পেঁয়াজ (তিনটে, ইচ্ছা মত কাটা)
– লবন (পরিমান মত)
– তেল (হাফ কাপের ছেয়ে কম)
– কয়েকটা কাচা মরিচ।

প্রনালীঃ


সীম, আলু, পেঁয়াজ কেটে ভাল করে ধুয়ে নিন।


ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ফেলুন।


কড়াইতে তেল ঢেলে গরম হলে পেঁয়াজ দিয়ে ভাজতে থাকুন।


কিছুক্ষন পর কাটা সীম, আলু দিয়ে দিন।


শুধু হলুদ ও লবন দিয়ে দিন।


ভাল করে নাড়া ছাড়া করে মেখে নিন।


ঢাকনা দিয়ে দিন। মিনিট পনর/বিশেক পর ঢাকনা উঠিয়ে নিন এবং ভাল করে ভাজি হল কিনা দেখে নিন। এখানে একটু লক্ষ্য রাখার বিষয় এই যে, তেল কম হলে কিংবা আগুনের আঁচ বেশী হলে কড়াইতে লেগে বা পুড়ে যাবে। সুতারং একটু ধারে কাছে থাকবেন এবং ইচ্ছামত মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেবেন। এই পর্যায়ে কয়েকটা কাচা মরিচ দিয়ে দিন।


সীম আলু মজে নরম হল কিনা দেখে নিন। ফাইনাল লবন দেখে নিন।


ব্যস হয়ে গেল, সাধারন সীম আলু ভাজি। রুটি নিয়ে বসে পড়ুন। না, গরম ভাতের সাথেও ভাল লাগবে আশা করি।

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s