Gallery

ফালুদা


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ১৬ নভেম্বর ২০১১, ৪:৫৪ অপরাহ্ন)

ফালুদা একটা মজাদার খাবার। ভুরি ভোজন করে মিষ্টি/ফলফলাদি খাওয়া আমাদের সমাজে প্রচলন আছে। বিশেষ করে বাংলা হোটেল গুলোতে খেতে বসলে খাবার শেষ করলে, ওয়েটার এসে (সব সময় নয়, যদি আপনাকে তার মনে ধরে) এমন একটা হাসি দিয়ে বলবে, স্যার আর কিছু লাগবে? ফালুদা, ডিংঙ্কস, চা, কফি? ফালুদার নাম শুনে জিবে জল আসে। আপনি সামান্য পেট ফাঁকা এবং পকেট ফুল থাকলে অর্ডার দিয়ে দেবেন হয়ত। আমিও এমন করি। হোটেলে খেতে বসলে, আগে পকেট দেখি তার পর শুরু। তবে আজকাল আর বেশী হোটেল গুলোতে খাওয়া হয় না, পরিবার পরিজন নিয়েও তেমন একটা হোটেলে খেতে যাই না! ইনকামের সাথে দাম আর কুলিয়ে উঠছে না!

ফালুদা নিয়ে অনেক স্মৃতি আছে। কলেজ লাইফে আমরা বন্ধুরা পুরান ঢাকায় সিনেমা দেখতে যেতাম, সিনেমা শেষে স্টার হোটেলে মাঝে মাঝে কাবাব খেতে যেতাম। সেখানে ফালুদা শেষে থাকতই। মাঝে মাঝে এমন হয়েছে শুধু ফালুদা খেতেই আমরা দল বেঁধে গিয়েছি। মগবাজারে আড্ডা মেরেছি অনেকদিন। মগবাজার মোড়ে থ্রী স্টার হোটেলে চা পান করা একটা রুটিন ছিল। এই হোটেলেও ফালুদা পাওয়া যেত। মাঝে মাঝে মন চাইলে খেতাম। বিবাহের পর আমাদের এলাকায় আবুল হোটেলে স্ত্রী নিয়ে ফালুদা খেয়েছি। আমার ছেলেও ফালুদা পছন্দ করে। কিন্তু আবুল হোটেলে বার পাঁচেক খেয়ে এখন আর খেতে চায় না। মনে হয় বাবার অর্থনীতি বুঝে গেছে!

বছর ছয়/সাতেক আগের কথা। একবার ফালুদা খাওয়াবো বলে মা, স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে পুরান ঢাকার স্টার হোটেলে রাওয়ানা হই। জিপিওর কাছে যেয়ে রিক্সা বন্ধ বলে নেমে হেঁটে সেই স্টার হোটেলে যাই। পুরা পথ আমার ছেলেকে কাঁধে করে নিয়েছিলাম! ব্যাটা হাটবে না, কি আর করা! চিকেন তুন্দরী শেষে যথা রীতি ফালুদার ওর্ডার দেই। খেয়ে আমার পুত্র, পুত্রের মা এবং আমার মা বলে, ভাল লাগে নাই! আমার মনে অবস্থা বুঝুন। আমার স্ত্রীর কথা স্টার থেকে আবুল ভাল!

যাই হোক এবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে ফালুদার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নিজ হাতে ফালুদা বানিয়ে আমাদের সবাইকে পরিবেশন করেছিলেন। (এখানে আমার ছোট ভাই নিয়ে উল্লেখ করি, আমার ছোট ভাই ভাল রান্না করতে পারে। মায়ের সাথে থেকে থেকে সে ভাল রান্নাই শিখে ফেলেছে। ওর অনেক রান্নায় আমি মায়ের হাতের স্বাদ পাই)। চলুন দেখা যাক কি করে, বাসায় ফালুদা তৈরী হল।

উপকরণঃ
– সাগু দানা
– দুধ
– চিনি (পরিমান মত, বেশী দিলে সবাই খেতে চাইবে না, সুতারাং সাবধান)
– কয়েক টুকরা দারুচিনি, কয়েকটা এলাচি
– নুডুলস (এটা ফালুদার জন্য তৈরী, বাজারে পাওয়া যায়)
– জেলী (এটা দুই ফরমেটে পাওয়া যায়। গুড়া কিংবা তরল।)
– নানা পদের ফল (কলা, আপেল, আঙ্গুর, বেদনা ইত্যাদি)
– বরফ কুচি

প্রণালীঃ

সাগু দানা, দুধ, চিনি (পরিমান মত), নুডুলস মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন কাই/পেষ্ট করে ফেলুন। কয়েক টুকরা দারুচিনি ও গোটা তিনেক এলাচি দিতে ভুলবেন না।


ফলফলাদি আপনার মন পছন্দ মত কেটে জমা করে ফেলুন।


এবার বাটিতে ঢেলে ফলাদি মিশিয়ে ফেলুন।


জেলীকে কেটে টুকরা করে রাখুন।


জেলী উপরে ছড়ায়ে দিন। কিছু ফ্রুট কালার বলও ছড়িয়ে দিতে পারেন, যদি থাকে।


ব্যস হয়ে গেল ফালুদা। পরিবেশনের সময় বরফ কুচির ব্যবস্থা করুন।

(বি দ্রঃ এখন ফালুদার মিক্স প্যকেট পাওয়া যায় নানা গ্রোসারিতে। পানিতে গুলে গরম করে শুধু ফল ফলাদি মিক্স করে বরফ কুচি দিয়ে মিশালেই মুহুর্তে ফালুদা বানানো যায়। মেহমান খুশ, আপনিও খুশ!)

কৃতজ্ঞতাঃ নীলুফা ইয়াসমিন জলি

One response to “ফালুদা

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s