Gallery

পুঁটি মাছ ভাজি


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ৩১ অক্টোবর ২০১১, ১২:০১ পূর্বাহ্ন)

পুঁটি মাছ ভাজি। আমাদের বাঙ্গালীদের একটা প্রিয় খাবার। বাঙ্গালীদের উৎসবে/পবনে পুঁটি মাছের ভাজি করা হয় বলে জানি। এদিকে পুঁটি মাছে কাঁটা বেশী বলে সাধারন রান্না করে অনেকে খেতে চান না। গলায় কাঁটা ফুটবে বলে অনেকে আবার পুঁটি মাছকে ভয় পান। পুঁটি মাছ ছোট হলেও দেখতে খুবই সুন্দর। পুঁটিমাছ ধরে খাচিতে রাখলে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। রুপার পাতের মত তবে ভীষন অল্প প্রান। ডাঙ্গায় উঠলেই প্রান শেষ – হয়ত এজন্যই লোকে বলে অল্প প্রান = পুঁটি মাছ। পুঁটি মাছের প্রান নিয়ে কিছুতেই টিকে থাকা যায় না!

ঢাকায় এখন মাৎস্য আড় গুলোতে অনেক পুঁটি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। চারদিকে পানি শুকিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। গত কিছুদিন আগে আমিও মতিঝিল এলাকা থেকে অনেক পুঁটি মাছ কিনেছি। বাসায় ভাজি আর খাই! এই নিয়ে তিন দিন পুঁটিমাছ খেলাম (লোভ জানিবেন না!)। আজ দুপুরে ভাজি করার সময় আপনাদের কথা মনে পড়ল, তাই ছবি তুলে ফেললাম। চলুন বন্ধুরা, দেখি। কি করে পুঁটি মাছ ভাজি করা হয়। এত সহজ রান্না দুনিয়াতে আর হতে পারে না। প্রথমেই একটা রান্নার সর্তকতা বলে নেই, যে কোন মাছ ভাজির সময় ভাজি পাত্র/চুলার থেকে একটু দূরে থাকবেন। ভাজির সময়, মাছে পানি থাকলে শব্দ করে ফুটে তার ছিটা আপনার গায়ে/চোখে পড়তে পারে। তাতে আপনার সমূহ ক্ষতি হতে পারে। সুতারাং সাবধান থাকবেন। দূর থেকে, হাত বাড়িয়ে।


পুঁটিমাছ ভাল করে ধুয়ে নিন (লবন দিয়ে ভাল করে ডলে)


সামান্য লবন, এক চিমটা হলুদ, এক চিমটা মরিচ গুড়া ও এক চিমটা ধনিয়া গুড়া দিয়ে ভাল করে মেখে কিছুক্ষন রেখে দিন। মশলা মাছে লাগুক। হাতের কাছে লেবু থাকলে, কয়েক ফোঁটা দিতে পারেন। স্বাদ বেড়ে যাবে!


একটা কড়াইতে কিছু তেল গরম করুন। তেল গরম হয়ে গেলে মশলা মাখানো পুঁটিমাছ গুলো তেলে ভাজুন। এপিট ওপিট করে, যাতে লেগে না যায়। এই পর্যায়ে বেশী ভেজে ফেলবেন না। ভাজি হয়ে গেলে পুঁটিমাছ গুলো একটা বাটিতে তুলে রাখুন।

[যে কোন মাছ ভাজির সময় ভাজি পাত্র/চুলার থেকে একটু দূরে থাকবেন। ভাজির সময়, মাছে পানি থাকলে শব্দ করে ফুটে তার ছিটা আপনার গায়ে/চোখে পড়তে পারে। তাতে আপনার সমূহ ক্ষতি হতে পারে। সুতারাং সাবধান থাকবেন। দূর থেকে, হাত বাড়িয়ে।]


এবার উক্ত ভাজির কড়াইয়ে কিছু পেঁয়াজ কুচি ও কয়েকটা শুকনা মরিচ ভাজুন (শুকনা মরিচ না থাকলে কাঁচা মরিচ দুইফালি করে দিতে পারেন, আপনার ইচ্ছা)। মোটামুটি পেঁয়াজ কুচি নরম করে ফেলুন। শুকনা মরিচের দিকে খেয়াল রাখবেন, বেশী ভাজলে ঘ্রানে হাচি কাশি শুরু হতে পারে।


এবার পেঁয়াজ মরিচ ভাজিতে, বাটিতে রাখা পুঁটি মাছ গুলো দিয়ে দিন এবং উল্টা পাল্টা করে ভাল করে আপনার মত করে ভেজে পরিবেশনের জন্য রেডী করুন।


ব্যস হয়ে গেল পুঁটি মাছ ভাজি! মুখে পুরে চিবিয়ে খান। তবে শিশুদের পুঁটি মাছ দিতে সাবধান। বড়রা কাঁটা চিবিয়ে খেতে পারলেও ছোটরা পারবে না। উপরন্তু কাঁটা লেগে গেলে, দুনিয়াদারী এক করে ফেলবে! যদি খেতে চায়, আপনি নিজে কাটা বেঁছে বেঁছে কিছু দিতে পারেন।

(বিঃ দ্রঃ এই পোষ্টটা কিছু সময়ের জন্য প্রথম পাতায় থাকবে। আজ অন্য আরো দুইটা রেসিপি আছে। পোষ্ট রেডী হলে এটা নিজ পাতায় নিয়ে যাব। প্রথম পাতায় আমার একটাই পোষ্ট রাখব – “জিওল মাছ দিয়ে লাউ শাক রান্না”।)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s