Gallery

মাছের জুরা (যে কোন মাছ দিয়ে)


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ২৮ অক্টোবর ২০১১, ১:১৬ অপরাহ্ন)

দুলাভাই নিয়মিত বাজার করেন। চেষ্টা করেন বাজারের সেরা মাছ, মাংস, সব্জী, তরুতরকারী কিনে বাসায় ফেরার। কিন্তু না সে ভাগ্য কি দুলাভাইয়ের আছে? মাছ বাজারের চিরচেনা বিষু কি দুলাভাইয়ের সেই মনের কথা বুঝবে? সে তো চাইবেই তার নরম হয়ে যাওয়া মাছ বিক্রি করে বাড়ী চলে যেতে! এদিকে দুলাভাই বাসায় এসে আপার মুখের কথা শুনে পাগল হয়ে যাবার যোগাড়! আহ বেচারার জীবন! ঘরে বাইরে শান্তি নাই! মনে মনে ভাবেন, ‘আমি একা! কেন যে বিবাহ করলাম!’।

আবার বিছানায় হেলান দিয়ে টিভি দেখতে দেখেতে চিন্তা করেন, কাল বাজারে গিয়ে বিষুকে দুই গালে দুই চড় বসিয়ে দেবেন! যা আছে কপালে! টাকা নিলি, তার উপর এত দিন তোর কাছ থেকে মাছ কিনি, তোর তো একটা কান্ডজ্ঞান থাকা দরকার! তোর তো জানা দরকার, লোকটা বাসায় গিয়ে আজ্রাইলের হাতে পড়বে!

কিন্তু তা কি আর হয়! বিষুরা বাজারে মাছ বিক্রি করেই চলে। দেখা হলেই আবার বলে, স্যার এই বড়টা দেবো! এমনি হাজারো দুলাভাই, আফাদের কাছে বাসায় এসে নির্যাতিত হন! এ এক জ্বালা দুলাভাইদের! আবার দেখে এনেও বাসায় এসে শুনতে হয়, পচা!‍ পাঁচটা আপেলের মাঝে কি করে দোকানী একটা পচা দিয়ে দেয়! সর্বত্রই এভাবেই চলে দুলাভাইদের জীবন, দিনের পর দিন! এক সময় দুলাভাইরা হয়ে যান কুম্ভকর্ন! এ কান দিয়ে শুনে ওই কান দিয়ে বের করে দেন! যতদিন বেঁচে থাকা যায় আর কি! মনে হয় মাছ ভেঁজে উল্টা করতে পারেন না! আসলে তা নয়! এই সমাজের সাথে আর কত লড়বেন – ঘরে বাইরে, অফিস আদালতে!

যাই হোক আমার আজকের প্রচেষ্টা/রেসিপি সেই সকল আপাদের জন্য, যাদের বাসায় এমন একজন কুম্ভকর্ন আছেন! যিনি মানুষ ভাল কিন্তু ঘরে বাইরে হেরেই যাচ্ছেন! চলুন দেখা যাক, কি করে আমরা একটু নরম হয়ে যাওয়া যে কোন মাছকে রান্নার উপযোগী করে বেশ সুস্বাদু করে তুলতে পারি। অনেকে আগে থেকেই জানতে পারেন – এই রান্নাকে বলা হয় ‘জুরা’! রুই, কাতলা, মৃগা সহ তেলাপিয়া দিয়েও বানাতে পারেন। অনেকদিন ফ্রীজে পড়ে থাকা মাছ দিয়েও এই রান্নাটা ভাল হয়। কাঁটা মুক্ত বলে ছোট ছেলে মেয়েরাও ভাতের সাথে মেখে খায়।


মাছের মাথা ও লেজ কেটে লেবু পানিতে সামান্য লবন দিয়ে কিছুক্ষন সিদ্ব করুন। বেশী সিদ্ব নয়, কাঁটা বাঁচার মত হলেই চলবে। প্লেটে নিয়ে কাঁটা বেঁচে ফেলুন।


একটা বাটিতে জমিয়ে নিন। কাঁটা দিয়ে কুম্ভকর্ন ভাইকে ভয় দেখান! প্লিজ, কুম্ভকর্ন ভাই মুখ খুলে না হাসা পর্যন্ত চালিয়ে যান!


বাকী রান্না সাধারন মাছের রান্নার মত। কড়াইতে তেল ঢালুন। পেঁয়াজ কষিয়ে, রসূন, মরিচ, হলুদ (পরিমান মত) ও সামান্য লবন দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন।


কষিয়ে তেল উপরে নিয়ে আনুন। পুড়ে ফেলবেন না! এই সময় কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।


এবার জুরা মাছ ঢেলে দিন। হালকা আছে জ্বাল দিন।


লাগলে সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল চালিয়ে যেতে থাকুন।


লবন দেখুন। লাগলে দিন। ঘরের আঙ্গিনা থেকে কয়েকটা লেবু পাতা এনে ছড়িয়ে দিন। ঘ্রান ভাল লাগবে। লেবু পাতা না থাকলে আর একটু লেবুর রস দিয়ে দিন। মিনিট পনর ঢেকে রেখে হালকা আঁচে দিন।


ব্যস হয়ে গেল। ধনিয়া পাতা থাকলে উপরে ছড়িয়ে দিন (আমাদের সেদিন ছিল না)! সুস্বাদু খাবার মাছের জুরা! আমার কাছে অসাধারণ লাগে! আমি তাজা মাছ দিয়েও আমার ব্যাটারীকে করতে বলি! তবে বেশী ভাল লাগে তেলাপিয়া মাছের জুরা! তেলাপিয়া মাছের দাম কম, মনের মত ‘জুরা’ বানিয়ে দেখতে পারেন।

আপা, দুলাভাইদের বকাজকা করবেন না! মনে রাখবেন, তারা আপনার জন্য সব কিছু ‘বেষ্ট দি বেষ্ট’ ই আনতে চান। কিন্তু দুনিয়া তাদের মত করে চলে না! দুলাভাইদের বাঁচিয়ে রাখুন, এতে আপনারই লাভ, আপনারই সন্মান বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

Advertisements

2 responses to “মাছের জুরা (যে কোন মাছ দিয়ে)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s