Gallery

রসুন দিয়ে চিংড়ি


লিখেছেনঃ সাহাদাত উদরাজী (তারিখঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১, ১০:৪২ অপরাহ্ন)

দরজার কড়া নাড়া শুনে এগিয়ে যাই। দরজা খুলেই অবাক হবার পালা। আরে এ যে বাপী হাসান ভাই। ইস কত দিন পর এলেন। আসুন, আসুন। এই বাসায় বাপী হাসান ভাই আগে অনেকবার আসলেও এখন আর তেমন আসেন না। পরিবার পরিজন নিয়ে অন্য শহরে চলে যাবার পর টেলিফোনে মাঝে মাঝে কথা হত মাত্র। আমার এই ব্যাচেলার জীবনে বাপী হাসান ভাই এক মাত্র বন্ধু ছিলেন যার সাথে কথা ও আড্ডা মেরে এই প্রবাসে জীবনে কিছুটা শান্তি পেতাম।

এক রুমের এই বাসায় আমি একাই থাকি। মাঝে মাঝে বন্ধুরা এসে আড্ডা দিয়ে যায়। রাত জেগে তাস খেলে। মাঝে মাঝে জুয়ার টাকা নিয়ে ঝগড়াও হয়। আমি চিল্লাচিল্লি করে থামাই। আবার কয়েকদিন পর যেই কোপাল সেই মাথা! ঝগড়া ঝাটি। বাঙ্গালীরা চাঁদে গেলেও ঝগড়া করবে! আমি নিশ্চিত। বাপী ভাই ভাল মানুষ, আমাদের মত নয়। পরিবার পরিজন নিয়ে প্রবাসে থাকেন বলে আরো বেশ শান্তশিষ্ট, আমারও ভাল লাগে বাপী হাসান ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিতে।

চা নিয়ে বাপী হাসান ভাইয়ের সাথে আড্ডায় বসে পড়ি। কত কি আলাপ। দেশ, কবিতা, হাসিনা, খালেদা কত কি বিষয়! বাপী হাসান ভাইয়ের কাছে জানতে পারি দেশে কে কে ইদানিং খুব ভাল কবিতা লিখেছেন! যাই হোক, এতদিন পরে দেখা হলে কথা কি শেষ হয়। প্রবাসে এক বাঙ্গালী আর একজন বাঙ্গালী পেলে কথা কি ফুরায়! গত তিন বছরে বাপী ভাই একটুও বদলে যান নাই। একদম আগের মতই। ভীষন আড্ডাবাজ। খাবারের কথা বলতেই, সোজা সাপ্টা কথা – গরম ভাতের সাথে সেই রসুন দিয়ে চিংড়ি রান্না চাই।

ভাগ্য ভাল আমার ফ্রীজে কিছু চিংড়ি মাছ ছিল, তবে পরিমান বেশী নয়। দুইজনের চলে যাবে হয়ত। আর রসুন তো আছেই। রাইস কুকারের পাওয়ার অন করি। বাপী ভাই সিএনএন দেখছিলেন। মিনিট বিশেকের মধ্যেই এমন একটা রান্না করে গরম গরম খেতে বসে পড়ি আমরা। বাপী ভাই আবার রাত সাড়ে দশটার ফ্রাইট ধরবেন। রাতে বাইরে থাকলে ভাবী মাইন্ড করবেন!

চলুন দেখা যাক, রসুন দিয়ে চিংড়ি!

পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কোয়া করে ছিলে তেলে ভাজি।


এক চামচ আদা বাটা, হাফ চামচ হলুদ, হাফ চামচ মরিচ ও সামান্য লবণ দিয়ে ঝাল দেয়া। বার বার নাড়াতে হবে যেন পুড়ে না যায়। রং বের হয়ে যাবে এবং ভাজার কারনে তেল উপরে উঠে আসবে।


খোসা ছড়ানো চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে দিতে হবে। তার পর পরিমান মত পানি।


কিছুক্ষন পর কয়েকটা কাঁচা মরিচ এবং একটু সময় জ্বাল। লবণ দেখে নিতে হবে ফাঁকে।


ব্যস হয়ে গেল। রসুন দিয়ে চিংড়ি মাছ রান্না। গরম ভাতের সাথে তুলনা নেই। রসুন গুলো দেখতে শক্ত মনে হলেও চাপ দিতেই গলে যাবে। রসুনের ঘ্রান শুনলেই অর্ধেক ভোজন হয়ে যাবে!

আমি নিশ্চিত, বাপী হাসান ভাই নিশ্চয় আগামী কাল রাতে এমন একটা রান্না করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবেন। ছোট ছেলেকে হয়ত বলবেন, নে মজার একটা খাবার খেয়ে দেখ!

Advertisements

2 responses to “রসুন দিয়ে চিংড়ি

  1. awesome 🙂 mouthwatering!

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s