গ্যালারি

মুরগীর গোস্তের কোরমা


মুরগীর কোরমা। আপনি আমার এই ধরনের খাবার দাবার নিয়ে লেখায় বলেছিলেন, বিদেশে বসে খাওয়া যায় এমন একটা রেসিপি দিতে। আমার মনে হচ্ছে এই খাবার আপনি সহজে রান্না করে আমাদের বিদেশী ভাবীকে চমক লাগিয়ে দিতে পারেন। সব কিছু হাতের নাগালে পাবেন। তবে মামুন ভাই, আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি কিংবা আমার ওয়াইফ প্রফোশনাল রান্নাবিদ নই। আমরা রান্না করতে, খেতে ও মেহমান খাওয়াতে ভালবাসি।

একটা রেসিপি পোষ্ট বলতে যা বুঝায় সেটা আমি কখনো করতে চাই না কিংবা পারি ও না। ঘটনায় অবর্তে বলে গেলেই এবং ছবি দেখাতে পারলেই আমি মনে করি সবাই বুঝতে পারবেন। একটা দুই কেজি ওজনের মুরগী রান্না করতে, কত চামচ লবণ দিতে হবে তা আপনাকেই অনুমান করে নিতে হবে! হা হা…


ছবি ১; দেড় কেজি মুরগীর জন্য আদা (অর্ধেক কাপ), রসুন (অর্ধেক কাপ), পেঁয়াজ (এক কাপ) ও বাদাম (অর্ধেক কাপ), জিরা বাটা (১ চা চামচ), ধনে গুঁড়ো (১ চা চামচ) ও কাঁচামরিচ (তিন চারটা) নিয়ে ভাল করে গ্রাইন্ড করে নিন। মাঝারি সাইজের চা কাপ হতে হবে।


ছবি ২; কড়াইতে পরিমান মত তেল দিয়ে গরম করতে থাকুন। এতে দারুচিনি (৫/৬ টুকরো) এবং এলাচ (৪/৫টি) ছেড়ে দিন। কিছুক্ষন পর গ্রাইন্ড করা মশলা কড়াইতে দিন এবং ভাল করে নাড়তে থাকুন। মশলা ভাজা ভাজা করে ফেলুন। মশলা ভাজা ভাহা হল কিনা এটা বুঝার উপায় হচ্ছে, তেল কেটে উপরে উঠে যাবে।


ছবি ৩; এবার ধুয়ে ঝর ঝরে মুরগীর গোস্ত কড়াইতে ঢেলে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে পরিমান মত ১/২ কাপ গরম পানি ঢেলে ঢাকনা দিয়ে এষা এবং আয়লা’র সাথে খেলা ধুলায় লেগে পড়ুন (মামুন ভাই, লবণ দেন নাই! পরিমান মত লবণ দিয়ে যান। সাথে ২ চা চামচ চিনিও দেবেন)। ঠিক মিনিট বিশেক পর এসে ঢাকনা উল্টে দেখে যাবেন, মুরগীর গোস্ত মোজলো কিনা।


ছবি ৪; মামুন ভাই, এসে পড়েন! ঢাকনা খুলুন।


ছবি ৫; এই রকম একটা রং ধরবে! এবার এক কাপ তরল দুধ ঢেলে কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে হালকা দম দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।


ছবি ৬; ব্যস, খাবার জন্য রেডি – মুরগীর গোস্তের কোরমা! পানির মত সরল।


ছবি ৭; এই নিন পলাউ (এই রেসিপিটা আর একদিন দেয়া যাবে, এতে আমার ব্লগের সংখ্যা বাড়বে!)


ছবি ৮; দুই পদের আচার। ডান পাশেরটা আমের মিষ্টি আচার – এষা এবং আয়লা জন্য বিশেষ ভাবে বানানো।

আরে ব্লগার ভাই বোন বন্ধু, আপনারা কি দেখছেন? এশা ও আয়লা’র খাওয়া দাওয়া! হা হা হা।।।। আসুন, আপনি ও আসুন। এশা ও আয়লার সাথে আপনিও যোগ দিন।

খাদ্য কে কখন কোথায় খাবে? কার কপালে কি লিখা আছে এটা এক মাত্র উপরওয়ালাই জানেন।

Advertisements

12 responses to “মুরগীর গোস্তের কোরমা

  1. Namanor ugae ektu Ghee dile aro valo lugbe…. uuuummmmmmm

    Like

  2. আজ আপনার কাছ থেকে পোলাও রান্না করা শিখলাম।
    অনেক ধন্যবাদ সাহাদাত ভাই।

    Like

    • আপনাকেও ধন্যবাদ। অনেক ধরনের পোলাউ রান্না দেখানো আছে ব্লগে। পোলাউ লিখে সার্চ দিলে চলে আসবে।
      আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি, আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক। যদি দুনিয়ার একজন বাংলাদেশী/মানুষও আমাদের রেসিপি দেখে সামান্য তার কাজে লাগে তবেই আমরা মনে করব আমাদের চেষ্টা সফল।

      আপনাকে শুভেচ্ছা, আশা করি আগামীতেও আমাদের সাথে থাকবেন।

      Like

      • সরি ভাইয়া, মুরগীর কোরমা হবে। এটা নিয়ে একটু ভয়েই ছিলাম। কোরমার এ রেসিপিটা সামনে রেখে এবার ঈদে একটা ট্রাই করব।

        Like

        • ধন্যবাদ, ব্যাপার না। আশা করি কোরমা কেমন হল জানতে পারব…। কঠিন কিছুই নয়।

          Like

          • কোরমা কেমন হল জানি না। তবে কোরমা খানে ওয়ালা বেশ প্রসংশা করছিল। বুঝতে পারছিলাম না আসলে রান্না মজা হয়েছে না স্বান্তনা দিচ্ছেন।
            তাকে বলে দিয়েছি আপনার রেসিপি না পেলে রান্না করতে সাহস পেতাম না।

            ঈদের শুভেচ্ছা সাহাদাত ভাই।

            Like

            • হা হা হা…… বলেন কি! আপনি নিজে খেয়ে দেখেন নাই! আপনার কেমন লাগল তা জানতে চাই! তবে আমার মনে হল খানেওয়ালা বেশ খান্দানি! তার জন্য দোয়া থাকল।

              ভাল না হলে ভাল বলা মুস্কিল! এতএব, ধরে নিচ্ছি ভাল হয়েছে, আর রান্নায় আপনার ভালবাসা যখন মিশে ছিল তখন রান্না খারাপ হতেই পারে না!

              শুভেচ্ছা।

              Like

  3. কোরমা থাকলেই খাওয়া হয়ে যায় বেশি! হাঁসফাঁস অবস্থা হয় তখন। এই সব খাবার স্বাদে অপূর্ব, কিন্তু খাওয়ার পরে (বিশেষ করে রাতে হলে) যা একটা অবস্থা হয় -সামাল দিতে বেহাল দশা!!

    Like

  4. জিরা বাটা আর ধনে গুঁড়ো কোরমাতে? তার ওপর এতগুলি রসুন? এতো নুতন ধরনের “কোর্মা”. Authentic কোর্মাতে কোনক্রমেই জিরা ধনে যাবেনা. রসুনও যায়না – গেলেও খুবই সামান্য.

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ আপনাকে, হ্যাঁ উপকরন গুলো এমন হবে। আমরা ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি, কোরমার রঙ হয় সাদা কিংবা বাদামী। চলুন দেখে ফেলি।

      প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
      – চিকেন, দেড় কেজি (কিছু কম বেশী হবে বলে মনে হয়েছিল)
      – পেঁয়াজ বাটা, দুই টেবিল চামচ
      – পেঁয়াজ কুঁচি, এক কাপ দিয়ে বেরেস্তা বানিয়ে নিতে হবে
      – আদা বাটা, দুই টেবিল চামচ
      – রসুন বাটা, দুই টেবিল চামচ
      – জিরা গুড়া, ১ চা চামচ
      – কাঁচা মরিচ বাটা, তিন চা চামচ (ঝাল বুঝে)
      – গোল মরিচ বাটা, আধা চা চামচ (ঝাল বুঝে)
      – জয়ত্রী বাটা, হাফ চা চামচ
      – জয়ফল বাটা, এক চিমটি
      – বাদাম বাটা, হাফ কাপ
      – গরম মশলা (এলাচি কয়েকটা, দারুচিনি কয়েক পিস)
      – লবন, পরিমান মত (দিতে হবে দুই দফায়)
      – চিনি, এক চা চামচ বা কম
      – কিসমিস, এক টেবিল চামচ
      – দুধ, দুই কাপ বা টক দই (দুধ দিলে এক টেবিল চামচ লেবুর রস দেয়া দরকার)
      – কয়েকটা আস্ত কাঁচা মরিচ (পরিবেশনের আগে দিতে হবে)
      – তেল, এক কাপ কম বেশি (বেরেস্তা ভাজতেও লাগবে)
      – পানি (পরিমান মত)

      আরো ডিটেইলস এই লিঙ্কে দেখতে পারেন। http://wp.me/p1KRVz-Re

      পুরানো রেসিপি দেখার জন্য আবারো ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s