Gallery

ভর্তাঃ কাঁচা কলা


একদম সাধারন এবং সহজ। কাঁচা কলা ভর্তা। আমি নিশ্চিত গরম ভাতের সাথে খেয়ে বলেতে পারেন, ওয়াও! আসুন দেখা যাক ছবি সমেত কাঁচা কলা ভর্তা। আপনারা একবার নিজ হাতে বানিয়ে টেষ্ট করতে পারেন।


ছবি ১ – কাঁচা কলার হালি এখন বিশ টাকা। ভাল ভর্তায় দেশী কাঁচা কলা হলে ভাল হবে।


ছবি ২ – ভাল করে সিদ্ব করুন। ডাকনা দিয়ে, ভাল করে সিদ্ব হতে হবে নতুবা মিহীন হবে না।


ছবি ৩ – কিছু পেঁয়াজ (পাঁচ কেজি ১৩০ টাকা) ও মরিচ কুচি করে নিন। লবণ নিন প্রয়োজন মত।


ছবি ৪ – কলা ছিলুন।


ছবি ৫ – সব কিছু প্লেটে জমিয়ে রাখুন।


ছবি ৬ – খাঁটি সরিষার তেল নিতে ভুলবেন না।


ছবি ৭ – মিহি করে মেখে ফেলুন।


ছবি ৮ – ব্যস, তেরী হয়ে গেল ‘কাঁচা কলার ভর্তা’।

এটা আসলে একদম গোলালু ভর্তার মতই। আমি এই ভর্তা খেয়েছিলাম বহু বছর আগে ময়মনসিংহে আমার বন্ধু ইকবালের বাড়ীতে। অনেক স্বাদ হয়েছিল। গত কয়েকদিন আগে আবারো কাকতালীয় ভাবে ময়মনসিংহে গিয়ে ইকবালের বাসায় সেই ভর্তা! স্বাদ মুখে লেগেছিল – ফিরে এসে গতকাল আমি নিজেই বাসায় বানিয়েছিলাম। আমার স্ত্রী তারিফ করেছেন! মাসাআল্লাহ!

বি দ্রঃ কলা সিদ্ব হবার ফাঁকে অন্য চুলায় কিছু কাঁঠালের বিচি (এখন কারো বাসায় কাঁঠালের বিচি নাই, এটা আমি মানি না) তাওয়ায় দিয়ে দিতে পারেন। কাঁঠালের বিচি দিয়েও নানা পদের ভর্তা বানানো যায়। তবে আজকের এই কাঁঠালের বিচি ভর্তার জন্য নয়, মছমছে ভাঁজা হলে – খোসা ছিলে জাব্বার কাটুন। বেশ মজাদার।

আমার ছেলে বলে, বাবা তোমার বুদ্বির তুলনা নাই! আমি হাসি, বুদ্বির কি দেখছস! ক্ষমতাসীনদের কাছে যেয়ে দেখ, এক একজন বুদ্বির ঢেকি! জাহাজ!

Advertisements

2 responses to “ভর্তাঃ কাঁচা কলা

  1. এই রেসিপিটা ১ জুলাই ২০১১, ৮:৫২ পূর্বাহ্ন এ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল চতুরে। আজ অনেকদিন পর কলার ভর্তা খেতে মন চাইলো তাই পুরাতন পোষ্ট স্টিকি করে দিলাম। এই রেসিপির সাথে যে গল্পটা ছিল তা এখানে তুলে দিলাম। ড. হাসান মাহামুদ তখন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় তেল ও গ্যাস রক্ষাকারী কমিটির ডাকা হরতালকে তিনি বলেছিলেন “টোকাইদের ডাকা হরতাল”। এই রেসিপিটা উনার জন্যি লিখেছিলাম! গল্পটা আবারো পড়ে দেখতে পারেন।

    আমাদের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাসান মাহামুদ নাকি বলেছেন, তেল ও গ্যাস রক্ষাকারী কমিটির ডাকা হরতাল হচ্ছে টোকাইদের ডাকা হরতাল। তার এই সংলাপ শুনে আমি তাজ্জব বলে গেছি। ক্ষমতায় গেলে মানুষের মাঝে কি করে এত পরিবর্তন এসে যায়! যাই হোক, আমি বরাবরই হরতালের বিপক্ষে। হরতালে আমার নিজের অনেক আর্থিক ও মানষিক ক্ষতি হয়। আমাকে অফিসে আসতেই হয়। তবে আমি এই হরতালকে সমর্থন দিয়ে গেলাম দুটি কারনে – ১। যে কোন চুক্তি জনসাধারণ কে জানাতে হবেই হবে ২। জনগনের সম্পদ চুরি হতে দেয়া যায় না। আমরা উত্তোলন না করতে পারি, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তো পাহারা দিতে পারব।

    যাই হোক নানা চিন্তায় দিন কাটে। ড. হাসান মাহামুদকে লুংগী পরে বাজারে যেতে বলি। প্রয়োজনে নকল দাড়ি গোঁফ লাগিয়ে যেতে পারেন! দ্রব্য মুল্যের উধ্বগতিতে আমরা (আপনার ভাষাত হয়ত ‘টোকাই’ হব) কি করে দিশেহারা হয়ে পড়ছি, তা তাকে স্বচোখে দেখার আমন্ত্রন জানাই। সাধারন ছোট চিংড়ী মাছের কেজিও এখন সাড়ে চারশত টাকা! তেলের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ফার্মের মুরগী কেজি একশত পয়তাল্লিশ টাকা, ফার্মের মুরগীর ডিম ডজন আশি টাকা। সামনে রোজা আসছে, আমাদের কি দশা হবে আল্লাহ মালুম! এখনি অনেক কিছু কেনার সাহস করি না, আগামীতে হয়ত আর বাজারেই যেতে পারব না!

    এমতাবস্থায় মাননীয় ড. হাসান মাহামুদ যদি আমার বাসায় আসেন তবে আমি একটা সাধারন ভর্তা বানিয়ে তাকে খাওয়াতে পারব। একদম সাধারন এবং সহজ। কাঁচা কলা ভর্তা। আমি নিশ্চিত গরম ভাতের সাথে তিনি খেয়ে বলেতে পারেন, আমি নিজেও একজন টোকাই!

    Liked by 1 person

  2. তৈরী করছি। দেখা যাক।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s