প্রশ্ন ও উত্তর ২


(6 Oct 2019) নিজের কাছে নিজের ইন্টারভিউ! চলুন শুরু করা যাক! মুলত প্রশ্ন গুলো ফেবুতে এক ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে নেওয়া, নিজের ইন্টার্ভিউ নিজে দিয়েছিলেম! প্রশ্ন নং ৩৯ ও ৪০ আমি সাহাদাত উদরাজী যোগ করেছি, এই দুই প্রশ্ন ছাড়া ইন্টারভিউ পূর্ন মনে হচ্ছিলো না! আপনি চাইলে এই প্রশ্ন গুলো কপি করে নিয়ে নিজেও এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে বসে যেতে পারেন, সাময়িক সময়ে নিজকে কিছুটা আবিস্কার করতে পারেন। মন্দ লাগবে না! উত্তর দিতে আমার ভাল লেগেছে! আসুন এবার আপনার পালা!)

১। প্রিয় গন্ধ?
– মায়ের মুখের। পান খাওয়া মানুষ গুলোর জন্য অনেক মায়া হয়!

২। শেষ কান্না?
– বিবাহের কয়েকদিন পর, যখন আমার স্ত্রী আমাকে মেয়ে সাজিয়ে আমার দাদীকে ডেকে বলল, দেখেন আপনার নাতী! আমার দাদী আর এই দুনিয়াতে নেই, রক্ষনশীল এই ভদ্র মহিলা সেদিন আমাকে দেখে কি ভেবেছিলেন, সেটা আমি কখনো জানতে পারি না!

৩। প্রিয় ফুল?
– জবা, রক্ত জবা।

৪। প্রিয় জীব?
– একুরিয়ামের পালা যে কোন মাছ।

৫। প্রিয় গান?
– অসংখ্য।, সময় পেলেই গান শুনি! ভাল না বুঝলেও পুরানো বাংলা হিন্দী সিনেমার গান গুলো ভাল লাগে!

৬। প্রিয় টিভি শো?
– এখন আর টিভি দেখি না, ইউটিউব দেখেই কুল পাই না!

৭। প্রিয় মানুষ?
– কেউ নাই।, তবে উপকারী মানূষ গুলো সব সময়েই মনে রাখি এবং এদের ভালবাসি।

৮। প্রিয় খাদ্য?
-সাদা ভাত, ভর্তা, মাছ মাংশ, মানে যা পাওয়া যায় আর কি!

৯। প্রিয় বই?
– এক সময়ে অনেক বই পড়তাম, এখন আর বই পড়ি না, ফলে বিশেষ কোন বইয়ের নাম বলা যাচ্ছে না। তবে একটা বই কথা এই লেখার সময়ে মনে পড়ছে, হ্যাঁ ইমদাদুল হক মিলনের বই, ‘পরাধীনতা’! এই বই পড়ে আমি একজন প্রবাসীকে চিন্তে পারছিলাম, প্রবাসীদের জীবন বুঝতে পারছিলাম। যদিও এর অনেক দিন পর আমি নিজেও প্রবাসী হয়ে গিয়েছিলাম। এই বইটার কথা এখনো মনে পড়ে!

১০। প্রিয় লেখক?
– কাজী নজরুল ইসলাম, উনাকে আমি এখনো আবিস্কার করি প্রতিদিন! সেই যুগেও তিনি যা ভেবেছেন, এখনো অনেকে তা চিন্তাও করতে পারেন না!

১১। রাতজাগা না ভোরে ওঠার দলে?
– ভোরে তো ঘুমাইতেই যাই! রাতে জেগে থাকতে ভাল লাগে, বিশেষ করে রাতের নিরবতা আমাকে টানে! আমি আনন্দিত হই! চাকুরী বা টাকা রুজির টানে এখন আর রাত জাগতে পারি না! সুযোগ থাকলে আমি নৈশকালীন কোন চাকুরী নিতাম। অবশ্য এই জীবনে কিছু জায়গায় রাতে চাকুরী করেছি, রাতের একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে, তা না দেখলে কাউকে বুঝানো যাবে না!

১২। সপ্তাহের ভালো দিন?
– যে কোন ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন, এখন শুক্রবার!

১৩। প্রিয় ঋতু?
– বর্ষাকাল, আমি বৃষ্টি পছন্দ করি! বৃষ্টিতে গাছ পালার একটা আলাদা আনন্দ হয়, সেটা আমি বুঝতে পারি!

১৪। প্রিয় জায়গা?
– গ্রামে সোজা রাস্তার ধারের তাল গাছের তলা, এখানে বসে দুরের ধানের শীষ দেখতে ভাল লাগে! ধান গাছের বাতাসে দোলা দেখে আমি আনন্দ পাই! সবুজ দেখার আনন্দ আলাদা।

১৫। কেমন মেয়ে পছন্দ?
– বিবাহিত ছেলেরা মেয়ে নিয়ে ভাবে কখন, টাকার ভাবনায় অন্য কোন চিন্তাই তো আর নাই!

১৬। স্কুলে ফিরে যাবেন?
– না৷ যদি পারেন বিবাহের আগের দিন গুলোতে নিয়ে যান, বিবাহ করবো কি না, তা নিয়ে কয়েকবার চিন্তার সুযোগ চাই!

১৭। কাকে চ্যালেঞ্জ করবেন?
– কাউকে না। আমি অপছন্দ করি এইসব।, যে কোন প্রতিযোগিতা অপছন্দ!

১৮। জীবনের অপূর্ণ আশা?
– বাবাকে সুখের দিন গুলোতে কাছে পেলাম না, তিনি পরপারে চলে গেলেন অসময়ে!

১৯। একদিন সম্ভব হলে…
– গরীব মানুষ নিয়ে আমার খুব কষ্ট হয়। একদিন সম্ভব হলে সারা দেশের গরীব মানুষকে এক বেলা পেট পুরে ভাল খাবার খাওয়াতাম। দারিদ্র দুরিকরনের সব চেষ্টা করতাম।

২০। যার মস্তিষ্ক দেখে ঈর্ষা হয়?
– নাম বললে চাকুরী থাকবে না, আমার খুব ইচ্ছা হয়, কি আছে উনার মস্তিষ্কে, যদি পড়ে দেখতে পারতাম!

২১। ভালোবাসা?
– হারিয়ে ফেলা সব মানুষের জন্য মাঝে মাঝে ভালবাসা উথলে উঠে!

২২। প্রিয় রঙ?
– সাদা!

২৩। প্রিয় মুভি?
– যখন যে মুভি দেখি সেটাই প্রিয় হয়ে যায়, তবে চয়েজ নিদিষ্ট করে বলতে পারবো না!

২৪। দিনের প্রিয় সময়?
– সকালের নাস্তা খেয়ে অফিসে যাবার সময় রিক্সায় বসে নানান চিন্তা করি, এই সময়টা বেশ কাটে!

২৫। মানুষের কোন গুনটি কাছে টানে?
– সময়জ্ঞান, সততা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি!

২৬। পরিবারের পর কাউকে বিশ্বাস করা সম্ভব হয়েছে?
– অনেক ধরা খাওয়া লোক আমি, ধরা খেতেই পছন্দ করি তবে আমি কাউকে ধরি না বা ধরতে চাই না, ফলে এখনো অনেকেই বিশ্বাস করি। বিশেষ করে আমার চেয়ে দরিদ্র বন্ধুদের আমি বেশী বিশ্বাস করি এবং তাদের অনেকেই বিশ্বাস ভংগ করেছে কিন্তু তবুও আমি তাদের এখনো বিশ্বাস করি! তাদের জন্য আমি সব সময়েই খোলা থাকি!

২৭। মৃত্যুর কথা মনে হয়?
– খুব হয়, মরতে ভীষণ ভয় করে, মৃত্যুর কথা মনে হলে সোজা হয়ে পড়ি! এদিকে সময়ও হয়ে আসছে! একটা আবদার থাকবে আপনাদের কাছে, আমার মৃত্যুর কথা শুনলে, আমাকে ক্ষমা করে দিবেন নিজ গুনে, অনলাইনে অনেক দিন ছিলাম, সেই আবদারে বলি, আমার মৃত্যু সংবাদ পড়লে আমার জন্য একটু বলবেন, ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না লিল্লাহে রায়েযুন!

২৮। কেমন মেয়ে বিয়ে করবেন?
– বিয়ে তো করে ফেলেছি।, এই প্রশ্ন অন্য কোন যুবককে করা যেতে পারে!

২৯। কাউকে ভালোবাসো কিন্তু বলা সম্ভব হয়নি?
– অনেককেই ভাল লাগে বা লেগেছিল কিন্তু ভাল্বাসার কথা বলা হয় নাই! এদের পেলে ভাল্বাসার কথা বলতে পারলে মন্দ লাগত না!

৩০। জীবন নিয়ে চাওয়া-পাওয়া?
– একটা কিছু থেকে প্রতি মাসে একটা নিদিষ্ট টাকা পাব (মানে আমাকে আর কিছু করতে হবে না) এবং সেই টাকা পুরাই স্ত্রীর হাতে দিয়ে আমি বলবো, আমাকে আর টাকার কথা বলো না, আমাকে একটু ঘুরে দুনিয়া দেখতে দাও, এই টাকাতেই সংসার চালাও, নিজেও চলো!

৩১। সাদা মেঘ নাকি নীলাকাশ?
– দুটোই, দুটো দেখার আলাদা আনন্দ আছে, সেটা সেভাবেই পেতে চাই!

৩২। আত্মহত্যা করার ইচ্ছা?
-হ্যাঁ, জীবনে মাঝে মাঝে বেকার হয়ে পড়ছিলাম, অর্থ কষ্টে তখন এই কাজ করতে ইচ্ছা হত! এখন আর ইচ্ছা হয় না!

৩৩। আমার যখন মনটা খারাপ হয়…
– খাবার দাবারে জোর দেই। ভাল ভাল হোটেল খুঁজে খেতে বসে পড়ি! খাবারে সুখ খুঁজি!

৩৪। প্রিয় অভ্যাস?
– বলবো না, যেহেতু বলতে বাধ্য নই! উত্তর দিতে হবে এমন তো কথা নেই!

৩৫। কোনো কিছু নিয়ে আফসোস?
– সামান্য, জীবনে সুখের দিনে বাবাকে কাছে পাই নাই! তিনি আজ বেঁচে থাকলে আনন্দ পেতাম। মায়ের যথাযত সেবা করতে পারছি না, এটাও আমাকে ভাবনায় ফেলে দেয়!

৩৬। জীবন নিয়ে নিজেকে দশ এর মধ্যে কত দিবেন?
– নিজেকে ১০ এ ১০ দিবো৷ কারণ আমি একজন জীবনযোদ্ধা,আমি একজন ফাইটার। এই বয়সেই যত দুঃখ কস্ট সহ্য করে সব বিপদ কাটিয়ে উঠেছি। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে অনেক মানুষই পারতো না। (এটা আমার বেলায় সত্য, তবে বিধাতার কাছে আমার শোকরিয়া জানাই তিনি আমাকে ফেলে দেন নাই, বার বার তিনি টেনে তুলেছেন!)

৩৭। কাদের বেশি পছন্দ?
– যারা ধান্দাবাজ নয় এবং বুঝদার! বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং সাধারন বিবেকবান মানুষ আমার পছন্দ!

৩৮। কেমন মানুষ অপছন্দ?
– লোভী মানুষ! আরো চাই মানুষ, আরো চাই মার্কা মানুষ সহ্য করতে পারি না! অন্যের জন্য যারা জায়গা ছেড়ে দেয় না, তারা কি করে মানুষ হয়! মানুষ মানেই তো আত্মত্যাগী হওয়া উচিত!

৩৯। ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ভাবনা?
– মরেই তো যাব, কিছু মানুষ যদি মনে রাখে বা কারো যদি কোন কাজে লাগি সেটাই ভবিষ্যৎ ভাবনা।

৪০। কি হতে ছেয়েছিলেন?
– আমি জীবনের এই পথ পাড়ি দিতে এক এক সময়ে একেক কিছু হতে ছেয়েছি! রাস্তার ধারের হকার, ক্যানভাসার, ফুটপাতের দোকানী, রেলের ড্রাইভার, নাইট গার্ড, ট্রাক চালকের সহকারী ইত্যাদি ইত্যাদি, কি হতে চাই নি! বস্তুত, আমার সারা জীবনের ইচ্ছা ছিল, একজন লেখক হই! বলা চলে, আমি মুলত একজন লেখক হতে চেয়েছিলাম! নানান ব্লগে, অনলাইনে কত কি লিখেছি, সেই সবকে লেখা না বলে যদি আমার চেষ্টা মনে করেন তবে আমি আনন্দিত হব!

(এক ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে নেওয়া, নিজের ইন্টার্ভিউ নিজে! প্রশ্ন নং ৩৯ ও ৪০ আমি সাহাদাত উদরাজী যোগ করেছি, এই দুই প্রশ্ন ছাড়া ইন্টার ভিউ পূর্ন মনে হচ্ছিলো না! আপনি চাইলে এই প্রশ্ন গুলো আপনার টাইমলাইনে কপি করে নিয়ে নিজেও এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে বসে যেতে পারেন, সাময়িক সময়ে নিজকে কিছুটা আবিস্কার করতে পারেন। মন্দ লাগবে না! উত্তর দিতে আমার ভাল লেগেছে! আসুন এবার আপনার পালা!)😁

এই লেখাটা ফেইসবুকে প্রকাশিত, লিঙ্ক এখানে, বেশ কিছু মজাদার কমেন্ট আছে।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s