প্রশ্ন ও উত্তর ১


দীর্ঘদিন অনলাইনে থেকে থেকে কিছু সময়ে আমি  নানান প্রশ্নের সমুখীন হয়ে থাকি, সেই সব প্রশ্ন আলাদা করে উত্তর দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না, ফলে চিন্তা ভাবনা করে এই এক জায়গাতে প্রশ্ন গুলো রেখে আমি উত্তর দিয়ে গেলাম, এতে আমাদের সময় বাঁচবে এবং অন্য কাজে আমরা মন দিতে পারবো! আমার চেষ্টা যদি আপনাদের ভাল লাগে তবে আনন্দিত হব। আপনাদের সময় কাটুক আনন্দে!

১।  আপনি কি এই সাইট চালিয়ে টাকা উপার্জন করেন?
উত্তরঃ না, আজ পর্যন্ত অনলাইন থেকে একটা কানা কড়িও উপার্জন করি নাই বা সেই চেষ্টাও করি নাই।  সাধারন মানুষের উপকার হবে ভেবে নানান সাইটে রেসিপি লিখতে যেয়ে নানান বাধার সম্মুখীন হয়ে এই সাইট শুরু করি এবং চলিয়েই যাচ্ছি, চালানোর ইচ্ছা আছে যতদিন বাঁচি।

২।  আপনি ফ্রী সাইট ইউজ করেন কেন?
উত্তরঃ ফ্রী সাইটের উদ্দেশ্য হল, আমি মরে গেলেও সাইট চলতে থাকবে (সহজভাবে চিন্তা করছি মাত্র)।

৩।  এই সাইট চালানোর মুল উদ্দেশ্য কি?
উত্তরঃ মানুষের ভালবাসা আদায়ের চেষ্টা মাত্র! আমার কাজে যদি কোন মানুষের উপকার হয় তবেই আমি খুশি। আমি জানি একদিন দুনিয়াতে থাকবো না, সে দিনো মানুষ এই সাইটে আসবে এবং আমার জন্য দোয়া করবে কিংবা আমাকে ভালবাসবে। আমার চেষ্টা/কষ্ট একদিন ভালবাসায় রুপান্তরিত হবেই।

৪।  আপনি কি নিজে সব রান্না করেন?
উত্তরঃ আমার চেষ্টা থাকে সব সময়ে, অনেক সময় অন্যের রান্নাও রেসিপি আকারে দিয়ে থাকি, উপস্থিত থেকে নিজে ছবি তুলি। তবে প্রায় রান্নায় (কিছু ছাড়া) আমার স্ত্রী আমাকে হেল্প করেন বা তার নিজের রান্নাও আমি আমার বলে চালিয়ে দিয়ে থাকি, তিনি এতে এখনো কিছু মনে করেন না, অবশ্য মাঝে মাঝে আমার উপর দম নেন, রেগেও যান! রেসিপি শেষে উনার নাম দেয়া থাকে, কৃতজ্ঞতায়! (এই বিষয়ে আর তেমন কথা না বলাই ভাল) তবে আজকাল তিনি আমাকে দিয়ে রান্না করাতে ভাল পান, কারন আমার রান্না নাকি একটু বেশি স্বাদ হয়!

৫।  রেসিপি/ রান্না খোঁজার উপায় কি?
উত্তরঃ খুব সহজ, রান্নার নাম বাংলায় কিংবা ইংরেজীতে লিখে সার্চ করুন। সার্চ ট্যাব হাতের বামের কলামে আছে! নুতন যারা রান্না দেখেন তাদের বেশির ভাগ গুগল থেকে আমাদের ঠিকানায় আসেন, আপনি ফলে গুগলে বাংলায় খাদ্যের নাম লিখলেও আমাদের ঠিকানায় আসতে পারেন। বর্তমানে প্রায় ১০০০ রেসিপি ও লেখায় আপনার পছন্দের রেসিপি থাক্তেই পারে, যদি তা আমাদের বাংলাদেশী বাঙ্গালী খাবার হয়ে থাকে!

৬।  আপনার সাথে যোগাযোগের উপায় কি?
উত্তরঃ আজীবন মোবাইলঃ 01911380728 বা ইমেইলঃ udraji@gmail.com ভাল হয়, আপনার কিছু জানার থাকলে মেইল করুন, সময় পেলেই জবাব দিয়ে দিবো। তবে আগেই ক্ষমা ছেয়ে নিচ্ছি, আমি যে পেশায় আছি, তা একটু জটিল এবং ব্যস্ততা বেশি, কাজেই জবাব পেতে দেরী হলে মাইন্ড করবেন না। মরে না গেলে জবাব দিয়েই যাব!

৭।  আপনার পেশা কি?
উত্তরঃ আমি নানান পেশায় দেশ বিদেশে কাজ করেছি, বলা চলে শুধু সরকারী চাকুরী ছাড়া আর বাকী প্রায় সব ধরনের কাজ করেছি, মোটামুটি হিসাব করলে হতে পারে আমি এই পর্যন্ত ২৫/৩০টা চাকুরী বদল করেছি। তবে আমাকে কেহ চাকুরী থেকে তাড়িয়ে বা বিদায় করে দেয় নাই, আমি নিজের ইচ্ছায় রিজাইন দিয়েই আসি, না পোষালে!  বর্তমান পেশা চাচার ম্যানপাওয়ার রিক্রুটিং এজেন্ট অফিস ও ট্র্যাভেল এজেন্সি চালানো, খুব পরিশ্রমের কাজ, অনেক সময় দিতে হয়!

৮।  আপনি তো রেস্তোরা ব্যবসাটা ভালো করতে পারতেন! এভাবে ভেবে দেখেছেন কখনো?
উত্তরঃ মাঝে মাঝে যে ইচ্ছা হয় না তা নয়! কিন্তু আবার নিজকে সামলে নেই, একটা ভাল মানের রেস্তোরাঁ খুলতে যে টাকার দরকার তা আমার নেই! তবে সামনে ইচ্ছা আছে, যদি নসিবে থাকে!

৯।  আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলুন।
উত্তরঃ মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম, তবে পারিবারিক একটা ভাব/ধার আছে, জীবনে ছোট ছোট বিষয় গুলো পরিবারিকভাবেই শিখেছি। নিজে বাবা হয়ে এখন আমার বাবা-মা’কে ভাবলে বুঝি সব! বাবা-মা সহজ সরল জীবন যাপন করেছেন, খারাপ কিছু করতে পারি না, বাবার চেহারা চোখে ভেসে উঠে! বাবা বেঁচে নেই, মা আছেন। খেতে বসলে সবার আগে উনার কথাই মনে পড়ে! মায়ের জন্য তেমন কিছু করতে পারছি না বলে একটা আফসোস মনের মধ্যে থাকেই। প্রায় ২০ বছর আগে বিয়ে করেছি, আমার স্ত্রী ভাল মানুষ (তবে রাগ বেশি, সাধারণ জ্ঞান কম, ইহকাল পরকাল কম বুঝেন)! আমাদের ছেলে দুইজন, বড়জন পনর, ছোট পাঁচ বছর! মুলত ২য় সন্তানের পিতা হবার পর বুঝতে পারি জীবন আসলে কত কঠিন! তবে উপরওয়ালা আমাকে নানাভাবে রক্ষা করে যাচ্ছেন, যখন যা দরকার তাই পেয়েছি/পাচ্ছি। জীবন নিয়ে আনন্দে আছি, তবে যদি আরো আরো লিখতে পারতাম, খুশি হতাম!

১০।  আপনার কি ভালে লাগে?
উত্তরঃ নিজের বিচারে আমি অস্থির ধরনের মানুষ, ফলে এক এক সময়ে এক এক বিষয় ভাল লাগে। তবে চিরন্তন ভাল লাগার বিষয় হচ্ছে, দুর কোন গাঁয়ের মাঠে একাকি দাঁড়িয়ে থাকা কোন গাছের ছায়ায় বসে এই ধরনীর সৌন্দর্য্য উপভোগ করা। সমুদ্র, পাহাড় দুটোই টানে!

১১।  আপনার পছন্দের খাবার কি?
উত্তরঃ চিকন চাউলের সাদা ভাত, যে কোন ভর্তা, নাগালে পাওয়া যে কোন মাছ, গোসত!

১২।  আপনার ইচ্ছা কি?
উত্তরঃ মা, স্ত্রী ও পুত্রদের নিয়ে যদি দুনিয়াটা ঘুরে বেড়াতে পারতাম।

১৩।  মাঝে মাঝে বেশি পোষ্ট দেন, বিরক্ত হন না?
উত্তরঃ প্রতিদিন একটা করে পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও সেটা পারি না, তবে মাঝে মাঝে একদিনে দুই/তিনটা পোষ্ট দিয়ে থাকি, সময় বাচানোর জন্য। যেহেতু জানি না কালকে কি হবে। যত বেশী রান্না, তত বেশী পোষ্ট – যত বেশি আইটেম রান্না করা যায়, ততই পোষ্ট লেখা যেতে পারে। আমি আসলে মাথায় এই চিন্তা নিয়েই ঘুরি।

১৪।  আপনি আপনার সেই একই ছবি আর কতদিন ব্যবহার করবেন?
উত্তরঃ এই ছবিটা দিয়ে আমি আমার জীবনের অনেক কিছুই প্রথম করেছিলাম, চাকুরী, পাস্পোর্ট ইত্যাদি সহ অনেক কিছু! ফলে এই ছবিটা আমার কাছে ট্রেড মার্ক মনে হয়।  অনলাইনের জগতে এই ছবি দিয়েই কত কি করেছি, ইয়াহু, হটমেইল সহ নানান কাজে এই ছবি ব্যবহার করেছি।  ফলে এই ছবির একটা আলাদা মায়া আছে আমার মনে।  আর আমি মনে করি, এই ছবি দেখে সারা দুনিয়ার অনেকে আমাকে চিনে থাকেন।  সাহাদাত উদরাজী নাম যাদের মনে থাকে না তাদের কাছে এই ছবিই আমার মার্ক।

১৫।  আপনি টিকটকের মত সাধারণ বিষয় নিয়ে ফেবুতে স্ট্যাটাস দেন, এটা আপনার সাথে যায় না, এমন কেন করেন?
উত্তরঃ আমি মনে করি টিকটক ফেইসবুকের মত আমাদের বর্তমান সময়ে জীবনের একটা অংশ। আমরা যেমনি ফেইসবুক নিয়ে মেতে থাকি তার মতই টিকটক একটা ভিজুয়াল দিক, যা নিয়ে মেতে থাকা যায়! ফেইসবুকের চেয়ে এটাও কম মননশীল নয়! মাত্র ১৫ সেকেন্ডে নিজকে ফুটিয়ে তোলা সহজ কাজ নয়। যারা এই কাজ করতে পারেন, তাঁরা আমি আপনার চেয়ে কম নয়, এরাই রিয়েল হিরো এবং আমি মনে করি এদের থেকে একদিন আমাদের অভিনয়ের শিল্পী বের হয়ে আসবে! অন্য দিকে অনেকে মনে করেন, এই টিকটক নিয়ে লেখাতে আমার অন্য সব সিরিয়াস লেখা এবং ‘গল্প ও রান্না’ সাইটের লেখা গুলো মাইর খায়। আমারো তা মনে হয়! তবে সিরিয়াস লেখা গুলো প্রায়ই বর্তমান রাস্ট্রের পরিচালকদের বিরুদ্ধে যায় বলে অনেকেই মনে করেন এবং আমাকে এই সব লেখা থেকে বিরত থাকতে বলেন, যদিও আমি সত্য বলতে পিছপা নই! পারিবারিক সামাজিক লেখা গুলোও অনেকে পছন্দ করেন না, পরিবার নিয়ে লিখলে সরাসরি অনেকে বলেন, এটা কি আপনার জীবনের ঘটনা বা কেহ কেহ আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, ‘হেতে এই সব কিল্লাই লেখছে, বা তোমাদের মধ্য কি ঘটছে?’! দীর্ঘ দিনের অনলাইনে থাকার কারনে, এই লাইন ছেড়ে দেয়াও সম্ভব নয়, মরা আগ পর্যন্ত এই লাইনে থাকতে চাই! টিকটক আমার কাছে মুলত একটা আশ্রয়, যে আশ্রয়ের আড়ালে আমি সঠিকভাবে আমার মুল কাজ গুলো করেই যাচ্ছি, আপনার চোখে সেটা পড়ছে না, মানে আপনি সঠিক অনলাইনের লোক নন!

(নিন্মের ৩টা প্রশ্ন অক্টোবর ২০১৪ইং সালে করেছিলেন বোন Lulu Ammansura ইনবক্সে, তখন ফেবুতে উত্তর দিয়েছিলাম, আজ চোখে পড়লো, আপনাদের জন্য সিরিয়াল দিয়ে তুলে দিলাম।  ফেবু লিঙ্ক এখানে!)

১৬।  কে কাকে রান্না শিখিয়েছে – আপনি ভাবি কে নাকি ভাবি আপনাকে?
– আমি আপনার ভাবীর (আমার স্ত্রীর) কাছ থেকেই রান্না শিখেছি! তবে আমার বিশাল ধৈর্য এবং পরিশ্রম এই বিষয়ে আমাকে আগে বাড়িয়েছে! মাঝে মাঝে উনার সাথে কাজ করতে গিয়ে আমার মাথার তার ছিড়ে গেলেও আমি আবার জোড়া লাগিয়ে কাজ করেছি।  হা হা হা, আপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে, স্বামী স্ত্রীর মতের মিল দুনিয়ার সেরা ঘটনা, কয়েক কোটিতে হয়ত এক দম্পতি পেতে পারেন!

১৭।  রান্নার প্রতি ভালোবাসা কেন?
– আমি এক সময়ে সাড়ে নয় বছরের জন্য প্রবাসী ছিলাম। রান্না না জানার জন্য আমি খাওয়া দাওয়াতে অনেক কষ্ট করেছি, তখন আবার নেট ছিল না, হাতের কাছে সব কিছু থাকলেও কখনো রান্না করতে পারি নাই ফলে কত কিছু খেয়েছি এমন কি না খেয়েও থাকতে হয়েছে। এই সব কথা মনে রেখেই এবং প্রবাসী, ব্যাচেলরদের বা নুতন রান্নাকারিদের সাহায্য করার জন্যই রান্নার প্রতি আমার ভাল্বাসা জন্মে। পরে আরো দেখলাম, নেটে বাংলায় ডিটেইলস দিয়ে কেহই রেসিপি লিখে নাই ফলে এই কাজটা আমিই শুরু করলাম। আমার রেসিপি গুলো বাংলা পড়তে জানা সবাই করতে পারবে। অন্যদিকে আমি মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি প্রযুক্তির কথা ভেবে ছবির ধারাবাহিকতা রক্ষা করি ফলে আমার রেসিপি সবার কাছে সহজে বোধগম্য এবং দেখেই রান্না করা যায়। এখন এই ভালবাসা এমন একটা পর্যায়ে গেছে যে, নেটে আমার হাজারের উপরে রেসিপি আছে, কি রান্না করতে চান আপনি, এই ভালবাসা এখন আর ভুলে যাবার নয়! হা হা হা।

১৮।  আপনি নিজেকে কি ভোজন রসিক মনে করেন?
– না আমি ভোজনরসিক নই, আমি খাদ্যরসিক! আমি বেশী ভোজন (মাত্রায় বেশি) করি না তবে সকল খাদ্য আমি খেয়ে দেখি এবং প্রায় সব খাবার খেতে পছন্দ করি, দেশি বিদেশি, প্রায় সব কিছুই! খাদ্য খাবার উপযুক্ত হলেই আমার চলে!

(আপনাদের আরো কোন প্রশ্ন থাকে তা হলে জানাতে পারেন)

চলবে…।।

2 responses to “প্রশ্ন ও উত্তর ১

  1. রান্নাতো অনেক হলো এবার বিভিন্ন মাছ কিভাবে কাটতে হয় তার ছবি সহ পদ্ধতি দিলে উপকৃত হতাম।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s