গল্প ৫, জামানত আলী


গল্পঃ জামানত আলী

জামানত সাহেবের মনের অবস্থা তেমন ভাল বলা চলে না! আজ কয়েকদিন ধরে মনের এই বিক্ষিপ্ত অবস্থা চালু থাকায়, সব সময়েই চোহারায় কেমন একটা চিন্তার চাপ পড়ে আছে! যাই হোক, আজ দুপুরের কিছু আগে অফিসের টাকা পকেটে নিয়ে ব্যাংকে জমা দিতে শান্তিনগরের চিপাগলি থেকে বের হলেন! মোড় পার হয়ে বড় রাস্তায় উঠতেই কয়েকজন ৩য় লিঙ্গের (দুঃখিত এর চেয়ে আর ভাল শব্দ এই সময়ে মনে পড়ছে না!) মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায়!

এদের দুই জনকে জামানত সাহেব চিনেন, প্রতি মাসে এদের একজন মধুরানী অফিসে আসেন, জামানত সাহেবকে বড় করে সালাম দেন এবং একশত টাকা (মাসিক) নিয়ে চলে যান! কখনো কখনো জামানত সাহেব কথা বলেন, কত কি জানতেও চান! আজকের এই মধুরানীর দলের সাথে রাস্তায় দেখা হওয়াতে জামানত সাহেব দাঁড়িয়ে গেলেন! মধুরানী এগিয়ে এসে, সালাম দিয়ে দলের লোকদের বললেন, বাজা! আজ স্যারকে রাস্তায় গান শুনাবো!

জামানত সাহেব কিছুটা হতবাক হলেও ওদের ঢোলের শব্দে সম্ভিত ফিরে পান এবং নিজকেও এই এই বড় রাস্তার ধারে সবার সাথে নাচতে থাকাবস্থায় আবিস্কার করেন! দুনিয়া মে মজা লে ল, দুনিয়া তোমারি হ্যায়, দুনিয়া…! হাতের তালি আর ঢোলের শব্দে সেই এক বিরাট পরিবেশ! আহ, জামানত সাহেবের মন ভাল হয়ে যায়! দুনিয়ার কোন কিছুই ফেলনা নয়!

পাঁচশত টাকার বান্ডিল খুলে জামানত সাহেব, দুটো নোট মধুরানীর এক দলের সদস্যদের মাথা ঘুরিয়ে হাতে দিয়ে আবার ব্যাংকের পথে পা বাড়ান! টাকা পেয়ে মধুরানীর দলের সবাই জামানত সাহেবকে বাই বাই জানায়, খুশি মনে!

এদিকে কিছু দূর গিয়েই মনে পড়লো, যখন তিনি নেচেছিলেন, তখন বেশ কয়েকজন রাস্তার দর্শক মানুষ তার এই নাচ মোবাইলে তুলে নিচ্ছিলেন! এখন ব্যাংক অভিমুখে প্রবেশে মনে পড়লো, এই দর্শকগন যদি এই নাচাগানা মোবাইল থেকে অনলাইনে, ফেসবুক বা ইউটিউব চ্যানেলে তুলে দেন, তবে তো সারা বিশ্বে সাড়া পড়ে যাবে এবং এটা যে কেহ করবে না, তাও নয়! আজকাল এটাই তো ট্রেইন্ড!

ব্যাংক কাউন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে জামানত সাহেব ভাবছেন, দুনিয়ার সকলকে সামাল দিতে পারলেও, স্ত্রীকে কি করে এই বিষয়ে সামাল দিবেন! নেটের দুনিয়াতে তিনিও যে এটা দেখে ফেলবেন এতে কোন সন্দেহ নেই! ভাবনাতে আমানত সাহেবের চোখ বন্ধ হয়ে আসে!

ব্যাংকে যদি বিছানা থাকতো, আহ!

ফেবু লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/udraji/posts/10214142195503812